বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

মুক্তিযুদ্ধ—০১

"যুদ্ধের গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X মুক্তিযুদ্ধ লিখেছেন - জয় কবির ১) পশ্চিম পাড়ার আকাশ ছেয়ে গেছে কালো ধোয়ায়। দূর থেকে দেখলে মনে হয় আকাশ ভেঙ্গে বৃষ্টি নামবে এখুনি। কিন্তু এ পাড়ার মানুষগুলো সেই কালো ধোয়ার সংকেত বুঝে গেছে বহু আগেই। ঘরবাড়ী ছেড়ে যে যেটুকু সম্বল সাথে নিতে পারছে, নিয়ে পালাচ্ছে। অন্ধ বুড়ী রাবেয়া খাতুন শুধু বসে ছিল তার ভাঙ্গা ঘরের উঠানে। তার পালাবার সামর্থ্য নেই। জমিলা তবুও দৌড়ে যায় তার কাছে। - নানী, ও নানী, পশ্চিম পাড়ায় মিলিটারি আইছে, সকলে পলাইতাছে, তুমি যাইবা না? - ক্যাডা? জমিলা? না রে বুবু, আমি কোন দিকে যাইতাম? আমি অন্ধ বুড়ী, আমারে কিছু করতো না, তুই পলা, তাড়াতাড়ি কর। - নানী গো, অরা জানোয়ার সব, কিচ্ছু মানেনা, তুমি চলো আমার লগে। - না রে বুবু, আল্লাহ ভরসা, তুই যা, দৌড়া। চোখ মুছে আগে বাড়ে জমিলা, এখন চিন্তা করারও সময় নেই। মনে মনে দোয়া করে আল্লাহর কাছে, যেন রাবেয়া খাতুনের কিছু না হয়। ঘণ্টা খানেক দৌড়োবার পর অনেক দূরের একটা গ্রামে ওর গ্রামের অনেকের সাথে দেখা হয় জমিলার। এখান থেকে আর পশ্চিম পাড়ার ধোয়া দেখা যায়না। বাচ্চা কাচ্চা নিয়ে মায়েরাও আর বেশী দূরে যাবার কথা ভাবতে পারছে না। যে যেখানে পারছে বসে পড়ছে। এই গ্রামের দরিদ্র মানুষগুলোও সাহায্য করছে খুব। যার কাছে যেটুকু খাবার কাছে আছে, তাই নিয়ে সবার কাছে যাচ্ছে, কথা বলছে, কেউ খেতে চাইলে তাকে ভাত, চিড়া মুড়ি খেতে দিচ্ছে। এখন আর কারও নিজস্ব বলে কিছু নেই, বিপদের এই দিনে মানবতা জেগে উঠেছে সবার মনে। এটা যে বাংলাদেশ, আমাদের সবার বাংলাদেশ। গ্রামের একমাত্র মসজিদটার সামনে পুরুষ মানুষরা বসে আছে। দূরে দাঁড়িয়ে দেখছে মেয়েরা। ইমাম সাহেব এই গ্রামের মাথা। উনি কথা বলে যাচ্ছেন, সবাই মন দিয়ে শুনছে। - তোমরা সবাই জানো পশ্চিম পাড়ায় কি হইছে। একটু আগে নবাব আলী আইছে ওইখান থিকা। সব জোয়ান মরদেরে গুলি কইরা মারছে, বৌ ঝি গোরে ধইরা লইয়া গেছে। বাড়িঘর কিচ্ছু রাখে নাই। সব জ্বালাইয়া দিছে। বিকালের দিকে পূর্ব পাড়াতেও না কি ঢুকবো ওরা। আমাগো গেরাম অনেক দূরে, কিন্তু কাইল এক সময় এইখানেও আইতে পারে। কাজেই আমাগো তৈরি থাকতে হইবো। আজকে রাইতে দশ পনেরো জন মরদ গেরাম পাহারা দিবা। আমিও থাকুম সারা রাইত। কিন্তু কথা সেইটা না। এইভাবে মাইর খাইয়া, ধাওয়া খাইয়া গেরাম ছাইড়া, বাড়িঘর ছাইড়া আর কতদূরে যামু আমরা? এইভাবে পইড়া পইড়া আর কত মাইর খামু? শুনছি পূর্ব পাড়ার রহিম শেখ বিরাট লাঠিয়াল। সে আছে না কি আমাগো মধ্যে? এদিক ওদিক তাকিয়ে উঠে দাঁড়ায় রহিম শেখ। দশাসই শরীর তার,তাগড়া জোয়ান,পেটানো শরীরের প্রতিটা মাংস পেশীতে শক্তির ঝিলিক। হাতে তার প্রিয় লাঠিটা। সবাই চোখ তুলে রহিম শেখকে দেখে। - রহিম শেখ,সারা জীবন তো লাঠির খেলাই খেললা, এইবার সময় আইছে লাঠির আসল শক্তি দেখানির। পারবা না এই লাঠি দিয়া কয়ডা মিলিটারির মাথা ফাডাইতে? রহিম, গেরামের সাহস আছিলা তুমি। তুমার ডরে গেরামে ডাকাইত পড়তো না। তুমার দলবল কই? খাড়াইতে কও। দেহি কয়জন আছে। আর আমাগো গেরামের জওয়ানেরাও খাড়াও। যতক্ষণ সময় পাওন যায়,রহিমের দলের লগে লাডি চালান শিখো। শুনো মিয়ারা,ঐ যে অসুইক্ক্যা কুত্তাডা আছে না, অরে একটা ঢিল মারো, কুই কুই কইরা উইঠা যাইবো গা, আরেকটা ঢিল মারো, আর কুই কুই করবো না, আরেকটা মারলে তুমারে কামড়াইতে আইবো। একটা অসুইক্ক্যা কুত্তা যদি মাইর সহ্য না করে, আমরা মানুষ হইয়া এই অত্যাচার সহ্য করুম কেন? পুরুষ মানুষ হইয়া পইড়া পইড়া মাইর খামু কেন? তুমাগো রক্তে আগুন নাই? শইলে ত্যাজ নাই? বেজন্মাগুলার সর্বনাশ করার সাহস নাই? যারা আমাগো মা বইনের সর্বনাশ করছে,আমাগো বাড়িঘরে আগুন দিছে, আমাগো ভাইয়েরে গুলি কইরা মারছে,তাগো বিচার ক্যাডা করবো? কও মিয়ারা। তোমার ভাইয়ের খুনিরে কি অন্য কেউ মারবো,না তুমি মারবা? তুমি বাঁইচা থাকতে তুমার ভাইয়ের রক্তের বদলা নিবা না? জনা বিশেক মানুষ উঠে দাঁড়ায়। রক্তে তাদের খুনের নেশা,চোখে আগুন। এর মাঝে বৃদ্ধ হামিদ আলী কথা বলে ওঠে। - ইমাম সাব,এরা লাডি লইয়া বন্দুকের গুলি ঠেকাইবো কেমনে? বেঘোরে মরবো তো। খামাখা পুলাডিরে মারতে চাইতাছো কেন? এগো হাতে বন্দুক থাকলে না কথা আছিল। ইমাম সাহেবের চোখ জ্বলে ওঠে ভাটার মত। এদের মত কিছু লোক সব সময়েই থাকে,যারা প্রতিটা কাজে একটা খারাপ দিক বের করে কাজের উদ্যমটা নষ্ট করে দিতে চায়। - হামিদ মিয়া,তাইলে আমি কি কইলাম এতক্ষণ? এমন কইরা বইয়া বইয়া মাইর খাইবা? পলাইয়া কত দূর যাইবা? মিলিটারি চতুর্দিকে। একদিকে না একদিকে ধরা খাইবাই। সেই জন্য মরার আগে যদি একটা মিলিটারিও মাইরা যাইতে পারি,সেইটাতেই আমার দেশের দায় শোধ হইবো,আমার ভাইয়ের,মায়ের,বইনের রক্তের ঋণ শোধ হইবো। বিকেলের আগেই রহিম শেখের দল কয়েকটি দলে ভাগ হয়ে গ্রামের জোয়ান ছেলেদের লাঠি চালানো শেখানো শুরু করে দেয়। এক খণ্ড বাংলাদেশ তৈরি হয় প্রতিরোধের জন্য।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৩৩ জন


এ জাতীয় গল্প

→ মুক্তিযুদ্ধ—০১

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now