বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
প্রায় ৬ মাস পর রাফি কোমা থেকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসলো ৷ ৬ মাস আগে এক কার এ্যাক্সিডেন্টে রাফির অনেক খারাপ অবস্থা হয়েছিল ৷ ডাক্তাররা অনেক চেষ্টায় তাকে সুস্থ করতে সক্ষম হয়েছিল ৷রাফির বাবা-মা সারাদিন কাজ ফেলে শুধু রাফির পাশেই দিনের পর দিন, রাতের পর রাত বসে থাকতো ৷
হসপিটালের বেডে শুয়ে রাফি লক্ষ্য করলো বাইরে বৃষ্টি হচ্ছে, উঠে গিয়ে জানালাটা একটু ফাঁক করে বৃষ্টি দেখতে দেখতে অতিতের কথা মনে করতে লাগলো ,
ঠিক এমন সময়ই প্রিয়া তার সাথে প্রত্যেকটা দিন ব্যায় করতো , বৃষ্টিতে ভিজতো, হতো খুনসুটি ৷
প্রিয়ার সাথে রাফির ছোটবেলার থেকেই পরিচয় , পাশাপাশি ফ্লাটে থাকার কারনে ৷ একে অপরকে বন্ধুত্ব থেকে ভালবাসার সূচনা বা আবিষ্কার তারা বুঝতে পেরেছিল ৷
ছোটবেলায় রাফির গিটারের সেই "তুমি আর তো কারও নও, শুধু আমার" গান শোনার ঘরে থাকতে পারতো না ৷ নানা অজুহাতে চলে আসতো ছাদে ৷ ওখান থেকেই তাদের আবেগের সূচনা ৷
*রাফির গান গাওয়ার মাঝে প্রিয়া দিকে তাকানো
*প্রিয়ার সামনের দিকে চলে আসা এলোমেলো চুলগুলো সরিয়ে দেওয়া
*নয়তোবা আবেগী চোখে দুজন দুজনার দিকে তাকিয়ে থাকা
*মুচকি হাসা
আবেগি জগতে পদার্পন করা ৷ যা সেই ছোট্ট ছোট্ট দুইটি মানুষরুপি পাখির নিত্যদিনের সঙ্গি ছিল ৷ দুষ্টু মিষ্টি প্রেম চলতে থাকলো স্কুল থেকে কলেজ, কলেজ থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত ৷ তারপর তারা মনস্থির করলো বিয়ে করবে ৷
দুপরিবারের সম্মতি নিয়েই তাদের বিয়ে হয়েছিল ৷ তবে, বিয়ের ছয় মাস পর রাফির কার এ্যাক্সিডেন্ট ৷
তারপরের কাহিনী রাফির অজানা ৷ সেই সময় রাফি মৃত্যুর সাথে লুকোচুরি খেলছিল, বাহ্যিক জগতের বাইরে তার অবস্থান ছিল ৷এই ৬ মাসে অনেক কিছু পরিবর্তন হয়ে গেল ৷ প্রিয়া রাফিকে ডিভোর্স দিয়ে অন্য কোথাও বিয়ে করলো,
তার ভাষ্যমতে "একজন পঙ্গু, অচল ব্যাক্তির সাথে সে সারাজীবন থাকতে পারবে না "
,
বৃষ্টি দেখতে দেখতে রাফির চোখ দিয়ে পানি ঝরে পড়লো ৷ আজ অবশ্য সে বাড়ি যেতে পারবে ৷ একটু অসুস্থ থাকলেও আশংকামুক্ত ৷৷
তার ঘরে গিয়ে দেখল সব আগের মতই আছে ৷ দেওয়ালে সাটানো তাদের ছবি , বেডের পাশে টি-টেবিলে প্রিয়ার পছন্দের মগটি, ড্রেসিংটেবিলের ড্রয়ারে রাখা মেকাপ, কাজল ৷ আলমারিতে ভর্তি শাড়ি, থ্রিপিস ৷ শুধুমাএ একজনই বদলেছে সে বল প্রিয়া ৷৷৷
.
অনেক অনুরোধের পর প্রিয়া রাফির সাথে দেখা করার জন্য মনস্থির করলো ৷ তবে মাএ দশ মিনিটের জন্য ৷
রেষ্টুরেন্টের শেষ কোনায় একটি খালি জায়গায় আলাদাভাবে তাদের টেবিলটা সাজানো হয়েছে ৷ পাশেই কাঁচের জানালা ৷ জানালা দিয়ে রাফি নিত্যদিনের মানুষের কার্যকালাপ দেখতে লাগলো ৷ এমন সময় প্রিয়া আসলো ৷
(প্রিয়া রাকিবের চোখে চোখ না রেখেই বসে পড়ল৷ ওয়েটার এসে তাদের ফালুদা, আইসক্রিম, কোকাকোলা দিয়ে গেল)
রাফি― কেমন আছো?
.
প্রিয়া ― আছি, ভাল ৷
.
রাফি ― কত কিছু বদলে গেছে তাইনা (হাসি) , আমার চোখের দিকে তাকাতেও হয়তো তোমার ঘৃনা করছে ৷
.
প্রিয়া ― (চোখ ছলছল করছে )
.
রাফি ― (কাঁদো কাঁদো কন্ঠে) কেন করলে এমন??
.
প্রিয়া ― সত্যি বলতে বাবার জন্য বাধ্য হয়েছি ৷
.
রাফি ― কেমন? ???
.
প্রিয়া ―না বোঝার কি আছে ? তোমার আগে আমার জীবনের প্রথম পুরুষ , যে আমাকে জীবনের থেকেও বেশি ভালবেসেছে ৷ তার কথা কি অমান্য করবো?
.
রাফি ― আর আমার বাবা ?
আমার বাবা আমাকে কাধে করে চিড়িয়াখানা নিয়ে গিয়েছিল, নিজের ঘরে টিভি না দিয়ে আমার ঘরে দিয়েছিল, নিজের জন্য একটি জামা আর আমার জন্য দশটি জামা ,
আর আমি (চোখ দিয়ে পানি বের হয়ে গেল)
আমি একমাএ অকৃতজ্ঞ ছেলে ৷ তোমার জন্য তার সাথে হাজারবার তর্ক করেছি ৷ তাকে ছোটলোক বলেছি , তোমার সাথে বিয়ে করতে মানা করাই হাজার গালমন্দ করেছি, দিনের পর দিন কথা বলা বন্ধ করেছি ৷
.
প্রিয়া ― (তারও চোখ দিয়ে পানি পড়ছে)
.
রাফি ― যা ভুল করেছি তা সংশোধন করার একটি সুযোগ দিয়েছে আল্লাহ, এ সুযোগটা হাতছাড়া করতে চাইনা ৷
তুমি কখনও আমার ছিলেই না, যা ছিল তা হলো মরিচীকা ৷
এই নাও ডিভোর্স পেপার , সাইন করা হয়ে গেছে ৷ এটাই চেয়েছিলে না?? যাও আজ থেকে তুমি মুক্ত ৷ আর কখনও তোমাকে বিরক্ত করবো না
আমি আমার বাবা - মা কে সেবা করে এবং তোমার স্মৃতি আকড়ে ধরে আজীবন বেঁচে থাকতে পারবো ৷
এই বলে রাফি চলে গেল, প্রিয়া একদৃষ্টিতে রাফির দিকে তাকিয়ে থাকলো, তবে রাফি তাকালো নাহ,
চলে গেল আজীবনের মতন প্রিয়াকে ৷
খাঁচার পাখিকে মুক্ত করে দিল ৷৷
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now