বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

মনের ময়লা পর্ব ২

"জীবনের গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Fahim (০ পয়েন্ট)

X ......মনের ময়লা ........ বুধবার বেলা এগারোটা নাগাদ সাদা বাড়িটার প্রধান ফটকের সামনে এসে দাঁড়াতেই গাড়ি থেকে লাফিয়ে নামল চার বছরের ছোট্ট আরিফা। সোজা গিয়ে ওঠলো রায় গিন্নীর কোলে একেবারে। জানো দাদী সেই পুতুলটাকে নিয়ে এলাম এবার। তোমায় বলেছিলাম না। উৎসাহী পাড়া প্রতিবেশীরা এসে ভিড় জমিয়েছে এতক্ষণে। রায় বাড়ি বড় ছেলের আলামিন ফিরল তিন মাসের বাচ্চাকে সঙ্গে নিয়ে। আরিফাকে একটু আদর করে কোল থেকে নামিয়ে দিয়ে এগিয়ে গেলেন রায় গিন্নি। কই দেখি দাদু ভাইকে আমার। আলামিন তখন চাঁদোরে মোড়া পুঁচকে টাকে তুলে দিলো মায়ের কোলা, মুখে গর্বের হাঁসি। ওমে দুধের মতন ফর্সা হয়েছে যে, মায়ের রং পেয়েছে একেবারে। একপাশে মাথায় আঁচল তুলে দাঁড়িয়ে ছিল অন্তরা। শহরের মেয়ে হলেও গ্রামের শশুর বাড়িতে এলে পুরানো রীতি রেওয়াজ গুলো মেনে চলে। সালাম করলো শাশুড়ি মাকে। সবাই মিলে খুব আনন্দ করে নতুন অতিথিকে বরন করে তুলল ঘরের ভিতরে। খালি ভীড়ের মধ্যে কয়েকটা উড়োকথা কানে এলে আরিফার। ছেলেটা যে সূর্যের মত গায়ের রঙ, মেয়েটা কালো কেন?? মায়ের মত ফর্সা হয়েছে ছেলেটা। মেয়ের হলে কাজে দিত। বিয়ের সময় পাত্র জুটবে কেমন করে!??? এদিক ওদিক চেয়ে দেখলো কয়েকবার আরিফা, কিন্তু মন্ত্যবকারি দের চিনতে পারল না ঠিক। এখানে সবাই তো ওর আপনের লোক। সেদিন সন্ধ্যা বেলায় বই খাতা নিয়ে মেয়েকে পড়তে বসালো আলামিন। সামনের একটা নামি ইস্কুলে প্রবেশিকা পরীক্ষা। বিছানার একপাশে আপন মনে খেলা করছে তিন মাসের আরিফ। অন্তরা নিচে ঘরোয়া কাজ করে। মেয়ের গোমড়া মুখটা অনেক্ষণ ধরে লক্ষ্য করেছে আলামিন। জিগ্সাসা করেই ফেলল এবার, কি রে গাড়িতে তো ভাইকে কোলে নিবি বলে বায়না করলি খুব। এখানে একবারও আদর করলিনা যে??? আরিফার মুখে তখন কালো মেঘের ঘনঘটা। মনটা খারাপ করে বললো ভাই ফর্সা কিন্তু আমি কেন কালো বাবা??? আলামিন অবাক হয়ে গেল মেয়ের কথা শুনে, সহজ ভাষায় বোঝালো তারপরে, বাচ্চারা কেউ বাবার মতন কেউ মায়ের মতন হয়। তুই হলি ছোট্ট আরিফা আর ভাই হলো ছোট্ট আরিফ। কি ভালো না??? তাহলে যে ওরা যে বললো কালো হলে আমার নাকি বিয়ে হবে না। কালো হওয়াটা কি খুব খারাপ বাবা??? আলামিন বুঝতে পারল সমস্যা গুরুত্বটা। পুরানো পন্তী কিন্তু মানুষ স্বভাবগত ভাবেই তুলনা টেনেছেন। তার ছেলে আর মেয়ের মধ্যে। কিন্তু আরিফার এর ছোট মনে প্রভাব পড়েছে বিশাল।। মেয়েকে কোলে টেনে নেয় আলামিন বলে তুই যেমন মাটি দিয়ে পুতুল বানভাসি, তেমনি আমাদের কে তৈরি করেছেন কে বলতো?? আল্লাহ। তাহলে?? আল্লাহ সবাইকে যদি এক রকম হত তাহলে কি দেখতে ভাল লাগতো বল?? কেউ ফর্সা তো কেউ কালো। আরিফা চুপ করে থাকে। বাবার কথায় যুক্তি আছে বটে। আচ্ছা আল্লাহ নিজেও কেমন সেটা কেউ বলতে পারে না। কাবা ঘরটাতো কালো এটাকে তো সবাই পছন্দ করে। এতক্ষণে হাঁসি ফোটে আরিফার মুখে, নিজের মত কাউকে পেল তাহলে। এই কদিন আগেও তো সবাই হাজ্জ করে আসলো। তাহলে কালো রঙের মানুষকে নিয়ে এত আপত্তি কিসের?? আরিফার ছোট্ট মাথায় ঢোকেনা কিছুতেই??? দু বছর পরে। স্কুল থেকে ফিরেই কাঁধের ব্যাগটা সজারে বিছানায় ছুড়ে ফেলল আরিফা। অবাক হয়ে জিগ্যেস করল অন্তরা, কিরে এত রাগ কিসের??? বাবা বকেছে,,!!! আরিফকে কোলে নিয়ে ঘরে ঢুকল আলামিন। জুতোর ফিতে খুলতে খুলতে বলল কই আমি কিছু করিনি তো। কিছুই বুঝতে পারছেনা কেউ?? বাথরুমে ঢুকে নকলটারও চালিয়ে দিল আরিফা। চিৎকার করে বলল, কতবার বলেছিনা তোমাদের ভাইকে আমার ই স্কুলে পাঠাবে না একদম। ব্যাপারটা হল যে এই অফিস ছুটি থাকলে কোনো কোনদিন বাজার থেকে ফেরার পথে আরিফাকে স্কুল থেকে নিয়ে আসে আলামিন। অন্য দিনের মতই আজও ছোট্ট আরিফ গিয়েছিল আপুকে আনতে। কিন্তু তুলোর মত নরম বলটাকে পেলে ছাড়তে চান না আরিফার স্কুলের আপুরা কেউ। আজও গোলগান আরিফেকে কোলে নিয়ে চটকাচ্ছিলো অনুরাধা আপু। মাঝখানে হঠাৎ কি মনে হতে রাগানোর ছলে বলে ফেললেন আরিফাকে তোর ভাই কিন্তু অনেক সুন্দর দেখতে তোর চেয়ে আর খুব ফর্সা ........... চলবে ..........


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮৭ জন


এ জাতীয় গল্প

→ মনের ময়লা পর্ব ২
→ মনের ময়লা পর্ব১

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now