বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
মিষ্টি মেয়ের গল্প
(৫২) সকাল সাড়ে আটটা। মিষ্টি মেয়েটার জন্য এই সময়টা হলো আদুরে ঘুমের সময়। কিন্তু সে আজ আদুরে ঘুমকে উপেক্ষা করে গোসল সেরে এখন ড্রেসিং টেবিলের সামনে। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব তাকে গোছগাছ সেরে নিতে হবে। প্রতিদিনের মতো আজও আম্মু বকা দিচ্ছে! তবে আজ আম্মুর চেয়ে যেন তারই তাড়া বেশি। এই দিনটার জন্য সে আজীবন অপেক্ষা করে আসছে। আজ যে তার বিয়ে, বোকা ছেলেটার সঙ্গেই। এতটা আনন্দ আগে কখনো হয়েছে বলে মনে পড়ে না। বাড়িতে ধুমধাম বাদ্যবাজনা না বাজলেও মনের মধ্যে ঠিকই বাজছে।
আচ্ছা, এত খুশি লাগার কারণ কী! শুধুই কি পাগলটাকে পাচ্ছি তাই! নাহ, আরও একটা কারণ আছে। সেটা হলো আজকের পরের জীবনটা হবে সম্পূর্ণ নতুন। বৈচিত্র্য আর রহস্যে ভরা এক জীবন! চুল আঁচড়াতে আঁচড়াতে এগুলোই ভাবছে মিষ্টি মেয়ে। এ ছাড়া আর কীই-বা করবে। হাতে কোনোই কাজ নেই। ১০টার দিকে বরপক্ষ আসবে। পারিবারিকভাবে বিয়ের পর্ব সেরে দুপুর থেকে আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। বোকা ছেলেটা নাকি নিজেই পছন্দ করে কিনে পাঠিয়েছে। কী সুন্দর! কদিন ধরে ওর সঙ্গে খুব কথা বলতে ইচ্ছা করছে। কিন্তু এসব ব্যস্ততার মধ্যে কারোরই সময় হচ্ছে না। এক কাজ করলে কেমন হয়! এখনই ফোন করি ওকে। কে জানে, ও হয়তো এখনো ঘুমাচ্ছে! এখনো ঘুমানো, না! তোমার ব্যবস্থা করছি দাঁড়াও। দোতলায় নিজ ঘরে বসেই কাজের মেয়েকে দিয়ে ডাক পাঠাল তার ভাইটাকে।
২.
জনাব বোকা ছেলে এখনো ঘুমাচ্ছে। শান্তির ঘুম। বহুদিন পর এই একটা রাত সে দুঃস্বপ্ন ছাড়া পার করল। এটাই তার জন্য যথেষ্ট। যদিও ঘুমের ঘোরে, কিন্তু তার চারপাশে ঘটে যাওয়া সবকিছুই সে আঁচ করতে পারছে। এমন আবছা ঘুমের মজাই আলাদা। নাহ, এইবার ওঠা লাগে। আলসেমির মাঝেও এক চোখ খুলল ছেলেটা। পাশে রাখা মোবাইলে পাঁচটা মিসড কল! তার হবু বউয়ের বাবা ফোন দিয়েছিলেন! —এত সকালে! কী মনে করে! ওদের কোনো সমস্যা হলো না তো!
তড়িঘড়ি করে উঠে বসল সে। চিন্তায় বুক কাঁপছে তার। সঙ্গে সঙ্গেই বেজে উঠল ওর ফোন। কাঁপা গলায় সে বলল, ‘স্লামালিকুম আব্বা।’ ‘বাবাধন, এখনো ঘুমাও নাকি!’ ‘নাআআ! ইয়ে মানে, এই তো উঠলাম আর কি...’ ‘বলছি কি, বিয়ে তো এখনো হয়নি, তা তুমি আব্বা বলে ডাকলা কেন?’ ‘ওহহো সরি আঙ্কেল। আর ভুল হবে না।’ ‘হে হে, ঠিক আছে, অবশ্য আর ভুল করার সুযোগও পাবা না।... ‘জি জি, তা ঠিক।’ ফোনের ওপ্রান্ত থেকে মেয়েলি চাপা হাসির শব্দ শুনতে পেল ছেলেটা। কিছু একটা তো গড়বড় আছেই। মনে মনে ভাবল সে। ‘আচ্ছা আব্বা আপনার পাশে কি আপনার মেয়ে?’ এবার অট্টহাসিতে ফেটে পড়ল দুজনেই। ‘দে দে ফোনটা আমাকে দে।’ ফোনটা নিল মেয়েটা। ছেলেটা ভাবছে হচ্ছেটা কী! ‘এই তুমি আব্বার গলা চেন না ভালো কথা, কিন্তু আমার ভাইটার গলা ভুলে গেলে কিভাবে!’ আবারও হেসে উঠল মেয়েটা। ‘সব সময় এ রকম ফাজলামি করো ঠিক আছে, তাই বলে আজকেও!’ ‘কেন বেবি! আজকের দিনটা কি খুব স্পেশাল?’ ‘নাহ। রাখলাম।’ ‘রাগ করলা! আরে শুনো...’ আর কিছু বলার আগেই লাইনটা কেটে গেল। মেয়েটা আর ফোন দিতে গেল না। যাই ঘটে যাক, অভিমানী ছেলেটা আগামী এক ঘণ্টা আর ফোন ধরবে না।
৩.
এখন রাত সাড়ে এগারোটা। সারা দিন ঘোরের মধ্যে থাকার পর, মিষ্টি মেয়েটা আর বোকা ছেলেটা এখন বেশ খানিকটা স্বাভাবিক। এখন তারা পৃথিবীর প্রাচীনতম মানব-মানবী। আজ তাদের স্বর্গীয় আবেগটা পরিণত হবে অতি পার্থিব একটা চাহিদায়! মিষ্টি মেয়েটা আর বোকা ছেলেটা এখন অন্ধকার ঘরে একই বিছানায়! দুজনেই তাকিয়ে আছে জানালার দিকে। বাইরে বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে। কিন্তু বৃষ্টি হচ্ছে না। আদৌ হবে কি না বোঝা যাচ্ছে না। ‘ওগো শুনছ!’ ‘হুম।’ ‘বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে।’ ‘হুম।’ ‘বাজ পড়বে নাকি!’ ‘হুম।’ ‘বাজ পড়লে খুব ভয় পাই আমি।’ ‘হুম।’ বোকা ছেলেটা এখনো উদাসীন। মিষ্টি মেয়েটা না পেরে নিজেই ওর হাতটা ধরে নিজের কাঁধের পর এনে ছেড়ে দিল। ‘আমাকে আজ কেমন দেখাচ্ছিল?’ ‘এই তো ভালোই।’ ‘ভালোই মানে! ঠিক করে বলো।’ ‘মোটামুটি।’ ‘আমাকে বাজে দেখাচ্ছিল!’ পাগলি মেয়েটা ঠোঁট ফুলিয়ে তাকিয়ে আছে বোকা ছেলেটার দিকে। তার চোখ ছলছল করছে। বোকা ছেলেটা এতক্ষণে টের পেল সে কী ভুল করেছে। ‘আরে আমি তা বলিনি তো বাবু!’ ছেলেটা আবেগে জড়িয়ে ধরে মেয়েটাকে। ‘সত্যি বলতে তোমাকে মেকআপ ছাড়াই বেশি সুন্দর লাগে। যেমনটা এখন লাগছে। প্রতিদিন সকালে উঠে আমি ঠিক এ রকমই দেখতে চাই তোমাকে। কী দেখতে পাব তো?’ ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি শুরু হয়ে গেল বাইরে। আহ্লাদি মেয়েটা এখন পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী মেয়ে।
অভিমান
(৫৩) :: -আমি তোমাকে ভালবাসি তুমি কি আমার হবে.....? হঠাৎ এই প্রস্তাব শুনে একটু ভ্যাবচাকা খেয়ে যায় রীতু...... লাইফে অবশ্য ছেলেদের কাছ থেকে, অনেকগুলো প্রপোজ পেয়েছে.... কিন্তু এটা অন্য সবগুলোর থেকে ব্যতিক্রম.... বুঝতে পারছে না কি করা উচিত...! নিজের মধ্যে অহংবোধ ও জেগে উঠছে..... উঠাই স্বাভাবিক, দেখতে প্রচন্ড সুন্দরী সে, বলতে গেলে ধনী বাবার অতি আদরের দুলালী, লেখাপড়ায় ও মোটামুটি প্রথম দিকের স্টুডেন্টদের মধ্যে একজন... আর স্বাভাবিক ভাবেই... অহংবোধের কারণে রীতুও অন্য প্রস্তবগুলোর মত এই প্রস্তাবও অতটা গায়ে নেয় না..... কিন্তু , সবেমাত্র এস,এস সি পরীক্ষা দেওয়ায় এখন তার হাতে অফুরন্ত অবসর, আর এই সময়ে একজনকে কাছেপিছে ঘুরতে দেখার মজা নেওয়ার সুযোগটা সে হাতছাড়া করতে চাইল না.... তাই সে কিছুক্ষণ ভেবে প্রপোজালটা এক্সেপ্ট করে নিল.... এই ভেবে যে, আর যাই হোক না কেন, ওকে দিয়ে টাইম পাস তো করা যাইতে পারে..... .
অন্যদিকে , প্রপোজালকারী ছেলেটা হল রাইক.... নামটার মত ওর জীবনটাও বড় অদ্ভুত, রাইকও বড়লোক বাবার একমাত্র আদরের সন্তান.... তবে লাইফের ব্যাপারে সে অতটা ভাবে না.... পড়ালেখায় ও তেমন ভাল না, কারন সে ভাবে পড়ালেখা আর বাঁধাধরা জীবন তার জন্য নয়, তবে মাত্র কিছুদিন আগে তার সাদাকালো জীবনে রংতুলির রঙিন ছোঁয়া নিয়ে আসলো রীতু... রীতু ওদের পাশের বিল্ডিং এ থাকত.... প্রথম দেখাই তেই সে প্রচন্ড ভালবেসে ফেলে রীতুকে..... যার বিরহ সহ্য করতে না পেরে মনের সব সাহস একত্র করে আজ সে রীতুকে প্রপোজ করল.... আর রীতুও গ্রীণ সিগনাল দিয়েছে..... তাই রাইকের আজ মনে হচ্ছে যেন, পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী মানুষটা হয়ত সে...... এভাবেই শুরু হয় রাইক ও রীতুর পথচলা..... রাইক রীতুকে আর জীবনের থেকে বেশি ভালবাসত....
. আর, রীতুর কাছে এটা অনেকটা ফাইজলামীর মত..... বলা যায় অনেকটা টাইমপাস! কারণ, সবদিক থেকে গুণী হওয়ায় রীতুর দেমাকী মনের কাছে, রাইকের ভালবাসায় সিক্ত মনের অনুভূতিগুলোর তেমন কোন মূল্যই নেই, তার উপর রাইক পড়ালেখায় অমনযোগী, যার মানে তার ভবিষ্যত ও অনেকটা অস্পষ্ট.... তাই, সম্পর্কটার প্রতিও রীতুর তেমন আগ্রহই ছিলনা... এ ছিল তার জন্য শুধুই ছলনা.... ভালই চলছিল এই ছলনাময়ী ভালাবাসার অভিনয়..... হঠাৎ একদিন রাইক রীতুকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়, ফ্যামিলি স্ট্যাটাস একই হওয়ায়, এতে কোন সমস্যাই ছিল না.... কিন্তু রীতু রাইকের এই প্রস্তাবকে সম্পূর্ণ ফিরিয়ে দেয়...
রাইকও নিজের নিষ্পাপ ভালবাসার অধিকার নিয়ে ক্রমাগত রীতুকে অনুরোধ করতে থাকে.... এক পর্যায়ে রীতু রাইককে চড় দেয়...... এতে মহাকালের এই স্থিরবিন্দুটিতে এসে রাইক যেন নিজের গালকে বিশ্বাস করতে পারছে না...... একসময় সে মাথা নিচু করে রীতুর সামনে থেকে চলে গেল, বিরক্ত হয়ে রীতুও সেদিন বাসায় ফিরে যায়, পরদিন সকালে, ঘুম থেকে উঠার পর রীতু দেখল, তার রুমের জানালার পাশে একটা চিঠি, আর একটা গিফট বক্স.... জানালাটাও আধখোলা..... কৌতুহলী মনে সে চিঠিটা পড়তে শুরু করে ..........
. হাই! বাবু , আমি জানি, আমি তোমার তুলনায় কিছু না, কোথায় তুমি আর কোথায় আমি, কিন্তু তুমি কি জানো, আমি তোমায় কতটা ভালবাসি? নিজের থেকেও বেশি!!!, দেখেছ! আজ আকাশটা কত্ত নীল, আর জানো! আমি যখন তোমায় এ কথাগুলো লিখছি, এই অন্ধকার রাতটার তারাগুলো কত্ত সুন্দর করে জ্বলছে.... তারাগুলো আমায় ডাকছে, বাবু! জানো বাবু!! আমি মরতে চাই না, কিন্তু তুমি যে আমায় বড্ড ঘৃণা কর.... আমাকে নিজের যোগ্য মনে কর না, জানো, সেই ঘৃণা আর অবহেলা সহ্য করে বেঁচে থাকার শক্তি আমার নেই... আমার কিউট শালীটার জন্য একটা চকলেট বক্স কিনছিলাম, আর তোমার কাজিন অনন্যার জন্য একটা ব্রেসলেট, ও ওটা আমার কাছে চাইছিল.... আমার শেষ গিফটগুলো ওদের দিয়েদিও প্লিজ! আর গিফট পেপারে মোড়া ডাইরীটা শুধু তোমার জন্য, আর অনেক বেশি ভালবাসা.... জানো বড্ড অভিমান হচ্ছে তোমার উপর, তুমি কেন বুঝলা না বল তো, আমি যে তোমায় অনেক বেশি ভালবাসি.... বাবু"! তুমি তখন বুঝবা, যখন আমি আকাশে চলে গিয়ে, বৃষ্টি হয়ে ঝরে পড়ে তোমার সব দুঃখ মুছে দিব, আর সূর্য হয়ে তোমার সম্পূর্ণ জীবনকে আলোকিত করে রাখব.... আর, এখন তো আমি তোমায় সারাদিন - সারারাত ধরে দেখব, তুমি রাগ করবে না তো!!! বাবু! আমি তোমায় অনেক মিস করব..... তাইতো, পৃথিবীর অন্য পাড়ে আমি তোমার জন্য অপেক্ষা করে আছি বাবু..... "!!
-- রাইক,
. চিঠিটা পড়ে শেষ করার আগেই, রীতুর চোখে শিশিরবিন্দু জমতে দেখা গেল..... ওর হাত কাঁপছে! ছেলেটা তাকে এতটা ভালবাসল, আর সে কিনা বুঝতেই পারে নি..... পাশের বিল্ডিং এ চিৎকার চেঁচামেঁচি শোনা যাচ্ছে... কিন্তু রীতুর পায়ে ত দাঁড়াবার শক্তিই নেই........ .
বাস্তব পৃথিবীর রীতুরা জানে না, রাইকের মত ছেলেরা বড্ড অভিমানী হয়.... তাদের কাছে ভালবাসাটাই বেঁচে থাকার মাধ্যম..... জীবনের বিনিময়ে হলেও তারা শুধু ভালবাসতেই জানে........!
মেঘ ঢেকেছে মন
(৫৪) এক জীবনে অনেক প্রশ্নই এড়িয়ে যাওয়া হয়. . অনেক কথাই না বলা রয়ে যায়. . অনেক বিদায়ের আগেই জানান দেয়া থাকে না. . অনেক আবেগই অপ্রকাশ্য থেকে যায়. . অনেক মেসেজই আনসিন থেকে যায়. . অনেকবারই কাউকে ডাকতে গিয়ে মুখ দিয়ে কথা বেরোয় না. . অনেক কিছুই ফেরত দেয়া হয় না আর. . আবার সব ফেরত দিলেও কী জানি হয়ত কিছু রয়ে যায়. . অনেক বারই মোবাইলের স্ক্রিনে কারো নাম দেখে দীর্ঘশ্বাস লুকোনো যায় না. . অমুক গানের সুর শুনে অনেক কথাই মনে পড়ে একা একা হাসি/কান্না পায়. . কারো হাতে লেখা দলাপাকানো চিরকুট কিংবা সাধারণ একটা দুইটাকার চকলেটের খোসা কিংবা কারো একটা চুলের ক্লিপ বারবার ময়লার ঝুড়িটায় ফেলতে গিয়েও ফেলা হয় না. . চলতে,ফিরতে ট্রেনে-বাসে-রাস ্তায় প্রায়ই কিছু চেহারা পরিচিত মনে হয়,খুব মিল থাকে কারো সাথে,একটু পরপরই আড়চোখে দেখে নেয়া হয় 'এই সে নয় তো!'. . মন খারাপ করা মেঘলা দিনে না চাইলেও প্রায়ই চুপকথারা এসে গাল ভিজিয়ে দিয়ে যায়. . এমন হাজারো অনেক কিছু আমাদের 'একান্ত আপন কিছু'. .এই সমস্ত কথা,সব আবেগ,সব স্মৃতি মনের মধ্যে তাদের জায়গাটা ঠিক আলাদা করে রাখবে,আমরা আগলে রাখব তাদেরকে. . সেখানে তাদের রাজ্য, আর কারো আনাগোনা নেই সেখানে. . উদাস চেহারা দেখে চারপাশের প্রশ্ন যখন নাড়িয়ে দিবে,তখন খুব স্বাভাবিক মুখ করে আমরা বলব, "কই,কিছু ভাবছি না তো. ."/"ধুর!কিছু হয়নিতো. .এমনি. ."/"হ্যাঁ,ভাল আছি তো,আমায় দেখে বুঝি মনে হচ্ছে খারাপ আছি?" বাইরের জগতে খোলসে ঢাকা শামুক হয়ে থাকব, আবার মনে মনে হয়ত ঠিকই অঞ্জন দত্তের মত গাইব, 'একদিন বৃষ্টিতে বিকেলে মনে পড়ে যাবে সব কথা, কথা দিয়ে কথাটা না রাখার ফেলে আসা চেনা চেনা ব্যথা. .' যা ই ঘটুক,শুধু আমার আমি টা জানবে সবটা. .তার সাথেই মনে মনে সব বোঝাপড়া চলবে. . আর কেউ নয়,কখখনো নয়,কোনদিন নয়. . আমার ভেতরের এই আমি টাকে ভালবাসতে হয়. .যত কষ্টই হোক,একে সব ঝড় থেকে বাঁচিয়ে রাখতে হয়. .বাইরের জগতে প্রকাশ করা ঠিক নয় যে,আমি দুর্বল। আমার আমি'র সাথে লুকোচুরি খেলা যাবে না. .ফাঁকি দেয়া যাবে না. . 'শেষের কবিতা'র লাবণ্যের মত মনে জোর নিয়ে বলতে হবে, "মোর লাগি করিও না শোক- আমার রয়েছে কর্ম,রয়েছে বিশ্বলোক। মোর পাত্র রিক্ত হয় নাই, শুন্যেরে করিব পূর্,এই ব্রত বহিব সদাই।" -অর্পিতা তিথি
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now