বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

মিষ্টি ঝগড়া

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান পারভেজ (০ পয়েন্ট)

X মিষ্টি ঝগরা By- Adnan Tahsir Riyan . - ইরু !!! - বল। - ইয়ে মানে..... - কি হলো?বল !! - তোর ফিজিক্স গাইডটা দেয়া যাবে? - কি! - ফিজিক্স গাইড। - এটা বলতেই তুই এতক্ষণ লাগালি?ব্যাগে আছে,গিয়ে নিয়ে নে। -খেপিস কেন?যাচ্ছি। ইরার মেজাজটা আগুনের মতো গরম হয়ে যাচ্ছে।আদনানের মুখ দেখে মনে হচ্ছিল খুব সিরিয়াস কিছু বলবে ।ইরুর রুমে এসে ফিজিক্স গাইডটার কথা বলতে এতটা সিরিয়াস হবার কিছু নেই।ওর হাবভাব দেখে ইরার কেমন কেমন লাগে।ছেলেটা গত একমাসে অনেক বদলে গেছে।ইরাকে দেখলেই কেন যেন মুখ লুকানোর চেষ্টা করে।পালিয়ে যায়।একান্তই বাধ্য না হলে কথাও বলে না।ইরার কাছে ওর এই আচরণ অস্বাভাবিক লাগছে।ছেলেটা ওর প্রেমে পড়লো না তো? আদনান এসে নদীর পারে বসলো।আজ ও যে কান্ডটা করেছে তাতে ইরা যে আশ্চর্য হয়েছে তাতে কোন সন্দেহ নেই।ওর ইচ্ছে করছিল ইরাকে জোরে জোরে বলবে,"আমি তোকে অনেক ভালোবাসি আমার জান্টুশ পাখি,তুই কি আমায় একটুখানি ভালোবাসবি ইরু?"কিন্তু ওর ভয় লাগে।ইরা যদি রাগ করে?যদি ওর সাথে বন্ধুত্ব ও না রাখে?না,সে যন্ত্রণা ও সহ্য করতে পারবে না।ইরার থেকে দূরে থাকতে পারবে না ও। নদীর পারে ঝিরিঝিরি বাতাস বইছে। ওপারের কাশবনটার উপর দিয়েও হাওয়া বয়ে যাচ্ছে।আকাশে পেঁজা তুলোর মতো সাদা মেঘ উড়ে যাচ্ছে।বাতাসে ভালোবাসার কড়া ঘ্রাণ।ইরা এখানে না থাকলেও ইরাকে আদনানকে ওর পাশে অনুভব করতে পারে।বাতাস যতবার ছুয়ে দিয়ে যায় কেমন একটা শিহরণ লাগে।ইরা ওর সমস্ত মনটা জুড়ে ছেয়ে আছে।আবেশে হারিয়ে যাচ্ছে অয়ন।চোখদুটো বন্ধ করতেই কে যেন হাত দিয়ে ওর চুলগুলো এলোমেলো করে দেয়।চোখ খুলে দেখে কেউ নেই।আপন মনেই হাসে আদনান।ওর তখন "ভালোবাসি বড় ভালোবাসি" গানটা খুব মনে পড়ে।সন্ধ্যা হয়ে এসেছে।আদনান উঠে বাড়িতে চলে আসে। ইরা আদনানের অদ্ভুত আচরণের কথা এখনো ভুলতে পারছে না।ইরা আদনানকে বুঝতে চেষ্টা করছে,তবুও বুঝতে পারছে না।এতদিন ধরে ওর সাথে আছে তবুও ওকে বুঝতে পারলো না।ইরা জানালা দিয়ে চাঁদের দিকে অপলক নয়নে তাকিয়ে থাকে।আজকের চাঁদটা খুব সুন্দর।পূর্ণিমার আলোয় সবটা উজ্জল দেখা যাচ্ছে।ইরার এসময় খুব ইচ্ছে করে আদনানের হাত ধরে বসে থাকতে। হয়তো তখন আদনান বলবে, - ইরু তুই ওভাবে চাঁদের দিকে কি দেখিস? আমায় তো ওভাবে দেখিস না।আমার বড্ড হিংসে হয়। - তোকে তো সবসময় দেখি !! আজ চুপটি করে চাঁদের দিকে তাকিয়ে থাক। - চাঁদ কিন্তু আমাদের মাঝে তৃতীয় ব্যক্তি হয়ে দাড়াচ্ছে। - চুপ একদম চুপ।কথা বললেই চাঁদটা হারিয়ে যাবে।দেখ চাঁদটা আমাদের দিকে চেয়েই মিটিমিটি হাসছে। - না।আমার ইরুকে দেখে ওর হিংসে হচ্ছে।ও আমার ইরুর মতো সুন্দর না তাই। - সত্যিই?চিরকাল আমি তোর কাছে এতটা সুন্দর থাকবো তো? - থাকবিই তো !!! - আমার হাত দুটো শক্ত করে ধরে থাক।আমি তোর চোখের দিকে একদৃষ্টে তাকিয়ে থাকতে চাই। - কেন? - তোর চোখ দিয়ে তোর হৃদয়ে প্রবেশের রাস্তায় ঢুকে গিয়ে হৃদয়ের দরজাটা বন্ধ করে দেব।যাতে আর কেউ সেখানে ঢুকতে না পারে। -আচ্ছা । আদনান ইরার রুমে এসে ঢোকে।ইরা জানালা দিয়ে চাঁদের দিকে একনজরে তাকিয়ে আছে।বাতাসে চুলগুলো উড়ছে। চাঁদের আলোয় ওকে অপূর্ব লাগছে দেখতে। ঠিক কোন এক পরীর মতো। -ইরু। আদনানের ডাকে ইরা চমকে ওঠে।ওর হাতে ধাক্কা লেগে টেবিলে থাকা গ্লাসটা পড়ে ভেঙে যায়।ইরা তাড়াহুড়ো করে ভাঙা গ্লাসটা তুলতে যায়,অমনি ওর হাত কেটে যায়। - ইরু !!!কি করছিস?ইশ দেখি হাতটা দেখা। কতটা কেটে ফেলেছিস! - না তেমন কিছু না তো...... - চুপ থাক।তুই জানিস না,তোর মধ্যে আমার প্রাণটা আটকে আছে?তোর ব্যাথা লাগলে তারচেয়ে শতগুণ বেশি আমার ব্যাথা লাগে। - কেন আদনান? - কারণ আমি তোকে ভালোবাসি জান্টুশ পাখি।অনেক বেশি।নিজের চেয়েও বেশি। ইরা হতভম্বের মতো আদনানের দিকে তাকিয়ে থাকে।অয়ন বুঝতে পারে ঝোকের মাথায় আসল কথা বলে ফেলেছে। - সত্যি ভালোবাসিস? - হ্যা সত্যি।এক সত্যি দুই সত্যি তিন সত্যি । - ওরে পাগল আমায় আগে বলিসনি কেন? - বলতে চেয়েছি,পারিনি।আমি ভাবতাম তোকে একথা বললে তুই আমায় ছেড়ে চলে যাবি।আমি তোকে ছাড়া একমুহূর্ত বাঁচতে পারবো না। - নিজের বৌকে আই লাভ ইউ বলতে এত কষ্ট? পাগল ছেলে !!আই লাভ ইউ টু মাই জান্টুশ পাখি।তোর থেকেও বেশি ভালোবাসি। - একদম না।আমি তোকে বেশি ভালোবাসি। - না আমি বেশি ভালোবাসি। ওদের ঝগড়া চলতেই থাকে।বৈবাহিক জীবনে একটু মিষ্টি ঝগড়া হবে না তা কি হয়?বিয়ের পরে এতটা ভালোবাসাই যখন হতে পারে তখন একটু আধটু ঝগড়া তো হবেই.......


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮৬ জন


এ জাতীয় গল্প

→ মিষ্টি ভালবাসার মিষ্টি ঝগড়া
→ ভালবাসার মিষ্টি মিষ্টি রাগ-অভিমান-ঝগড়া
→ দুষ্ট মিষ্টি ঝগড়া "বন্দুত্বেই শান্তি"
→ মিষ্টি ঝগড়া
→ মিষ্টি ঝগড়া
→ চলতে থাকবে দুষ্ট মিষ্টি ঝগড়া
→ দুষ্টু মিষ্টি ঝগড়া

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now