বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
অনেকক্ষণ ধরে মোবাইলের রিংটোন'টা বেজেই চলছে ,কল রিসিভ করার সময় পাচ্ছি না। একটা ছবি আকঁছি।
৫ বার কল আসার পর ভাবলাম কলটা রিসিভ করা দরকার। মোবাইল হাতে নিয়ে নাম্বার দেখে আমি হার্টএট্যাকের রোগী। শারমিন কল দিয়েছে।আজ আমার খবর খারাপ।আজ হয়তো আর বাসায় থাকা যাবেনা।
ভাবতে ভাবতে আবার কল এলো, হার্টবিটের মাত্রা দিগুন থেকে তি-গুন হয়ে গেলো। বনিতা বনিতা করে কলটা রিসিভ করলাম।
- হ্যালো।
- আর হ্যালো বলার দরকার কী ? কল রিসিভ না করলেও পারতে।
- সরি শারমিন , আসলে হয়েছে কি - ছবি আকাঁয় ছিলাম তো তাই।
- ছবি আকঁতে ছিলে বলে আমার কল রিসিভ করার সময়ও তোমার কাছে নাই।
-মোবাইল সাইলেন্ট ছিলো তাই বুঝতে পারিনি।
- মোবাইল এখন সাইলেন্ট থাকবেই, কারন আমি কল দিয়েছি বলে কথা তো।
- বিশ্বাস কর শারমিন , সত্যি মোবাইল সাইলেন্ট ছিলো।
- তোমাকে করবো বিশ্বাস! আমাকে কি পাগলা কুকুরে কামড় দিয়েছে নাকি। যে তোমাকে বিশ্বাস করবো।
- জানি তুমি আমায় বিশ্বাস করবেনা।
- কীভাবে করবো বলো। সকাল ১১টায় আমার সাথে দেখা করার কথা, আর এখন দুপুর ১২টা বাজে।
এই সেরেছে! আজ শারমিনের সাথে দেখা করার কথা, বলছিলাম সকাল ১১টায় দেখা করবো আর এখন বাজে ১২ টা। শালার ছবি আঁকার নেশায় সময় কীভাবে গেলো বুঝতেই পারলাম না।
আজ কপালে শনি আছে, জানি না গেলে কী করবে।
আর কিছু না ভেবে শার্ট একটা হাতে নিয়ে বললাম- তুমি একটু দাড়াও আমি আসছি।
বলেই কলটা কেটে দৌড় দেওয়ার চেষ্টা করলাম। দরজা খুলতেই আমি শেষ, মনে হয় কিছুক্ষণের মধ্যেই আমি মারা যাবো।
আচ্ছা মেয়েরা কী ? তাদের দেখলে প্রেমিকের হার্টবিট বেড়ে যায় কেনো।
শারমিন আমার দরজার সামনে দাড়ানো। বুকে একটু সাহস নিয়ে বললাম- আরে তুমি একেবারে বাসায় চলে এলে যে।
- দেখতে এলাম, কোন মেয়ের সাথে ফষ্টিনষ্টি করছো।
- কি আবুল তাবুল বলছো এসব , আমি আবার কোনো মেয়ের সাথে এমন করলাম।
- আমি আবুল তাবুল বলছিনা। তুমি আমায় ধোকা দিছো।
- মানে কি এসবের!
- তোমার শরীরের কাপড় কোথায় ?
সেরেছে তাড়াতাড়ি বের হতে গিয়ে শার্ট পড়তে ভুলে গেলাম। সন্দেহ আরো দিগুন।
আমায় ধাক্কা দিয়ে দরজা লাগিয়ে দিলো।
দরজা লাগিয়ে রুমের মধ্যে কি জানি খুঁজছে। মেসে তাকি, তবে আলাদা আলাদা রুম আমাদের সবার।
এখন যদি জিজ্ঞেস করি কি খুঁজছো, তাহলে আমাকে এখানেই শেষ করে দিবো। গার্লফ্রেন্ডরা কি এমন হয়, যে বয়ফ্রেন্ড'কে খুন করতে দ্বিধাবোধ করেনা।
শারমিনের আমার রুম খোঁজাখুঁজি শেষ, কিন্তু আপসোস রুম থেকে কোনো মেয়ের চিহ্নও বের করতে পারলো না। তাই মন খারাপ করে বিছানায় বসে আছে।
আমিও একটু ফাইজলামি করার জন্য কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করলাম- এই শারমনি একটু জল দিবা।
- এই খবরদার তুমি আমার সাথে কথা বলবা না।
- ওকে বলবোনা।
- কি পেয়েছ আমায়? আমি শুধু তোমার জন্য অপেক্ষা করবো, আর তুমি বাসা থেকে বলবা দাড়াও আসছি।
-................ ( আমি নিরব )
- কি হলো কথা বলোনা কেনো ?
- তুমি না করলে তাই কথা বলছিনা।
- ওকে কথা বলা লাগবেন।
বলেই অন্যদিকে মুখ ঘুরিয়ে নিলো, কান্নার আওয়াজ শুনতে পেলাম।
এই একটাই সমস্যা, কিছু হলেও কান্না করে দিবে। আর আমার কান্না শব্দটা একদম ভালোলাগেনা। কি আর করা, এখন রাগ না ভাঙ্গালে শারমিন আর আমার সাথে কথা বলবেনা।
আর তার রাগ ভাঙ্গানোর টিপস আমার জানা।
আমিও কাছে গিয়ে পিছন দিক থেকে জড়িয়ে ধরলাম।
নিজেকে ছাড়ানোর ব্যর্থ চেষ্টা করেও শারমিন আমার থেকে নিজেকে ছাড়াতে পারছেনা, আর একটা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলছে- ছাড়ো আমায় ছাড়ো বলছি। তুমি আমাকে ছুঁবে না বলছি।
- জড়িয়ে ধরবো ছাড়বোনা, দেখি তুমি কি করো।
- আমি তোমার কে ? যে আমাকে জড়িয়ে ধরতে হবে।
- তুমি আমার সব, তাই তোমায় জড়িয়ে ধরবো, চুমু খাবো ইত্যাদি ইত্যাদি আরো কতকিছু।
বলেই একটা চুমু খেলাম গালে।
- আমি যদি তোমার সব হতাম, তাহলে ঠিকই ১১টা সময় আমার সাথে দখা করতে আসতে।
- সরি শারমিন আর ভুল হবেনা, এই দেখো কান ধরছি।
- হাসিব, আমি তো তোমার কাছে তেমন কিছু চাইনি। শুধু একটু সময় চেয়েছি,
যে সময়টা আমাদের দুজনের।
যে সময়টা শুধুই তুমি আমার।
যে সময়টা তোমার কাধে মাথা রাখার,
যে সময়টা তোমার হাত ধরে থাকার।
যে সময়টা তোমার হাত ধরে হাটার।
আমি তো আর কিছুই চাইনা হাবিব।
- সরি শারমিন, আর কোনোদিনও ভুল হবেনা। আজ থেকে তুমি যা বলবে তাই হবে। তুমি যেভাবে বলবে সেভাবে হবে। এবার খুশি তো।
- প্রমিস করো।
- প্রমিস, আজ থেকে তুমি যেভাবে বলবে সেভাবে হবে, আর আমি শুধু তোমার চুমু খাবো।
বলেই একটা চুমু দিয়ে দিলাম, পাল্টা হিসাবে একটা লম্বা লিপ কিস পেলাম।
এভাবেই চলছে আমাদের ভালবাসা,
বেঁছে থাকুক ভালবাসা, বেঁচে থাকুক ভালবাসার প্রিয় মানুষগুলো
লেখক:- অলিভার কুইন(শুভ)।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now