বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

মিঃ নুডলস এর গল্প

"জীবনের গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান জাহিদুল ইসলাম (০ পয়েন্ট)

X ঢাকা থেকে রাজশাহী যাচ্ছিলাম।বাসে পাশের সিটে বসা একটা তরুন।অগোছালো টাইপের।কেমন ঘোলাটে চোখ।বসতে কেমন লাগছিলো।তবু বসলাম।যথা সময়ে বাস ছেড়ে দিলো।আমি আবার চুপচাপ থাকতে পারি না।কিন্তু পাশে বসা ছেলেটার সাথে কথা বলতেও ইচ্ছে করছে না।বাস যখন যমুনার ওপর তখন থাকতে না পেরে প্রশ্ন করলাম ভাই কোথায় যাচ্ছেন..? , ছেলেটা চোখ তুলে চাইলো।ভয়ানক পিপাসিত চোখ গুলো।শুকনো ঠোটে হাসি ফুটিয়ে বললো,রাজশাহী।তারপর আবার চুপ করে বাহিরে তাকিয়ে রইলো।আমি আবার জানতে চাইলাম,রাজশাহী আপনার বাসা? ছেলেটা না তাকিয়েই বললো,না।আমার এখন কেউ নেই রাজশাহী। : তবে কেনো যাচ্ছেন? : পুরনো স্বপ্নের সমাদি দেখতে। বলে কি ছেলেটা? পাগল নাকি..?? ছেলেটা এখনো বাহিরে তাকিয়ে।জানালার বাহিরে আকাশ দেখা যাচ্ছে।আকাশে একটা চিল বা অন্য পাখি ওরছে।দুরে একটা জনপদের চিহ্ন....... কখন ঘুমিয়ে পরেছিলাম জানি না।জেগে ওঠলাম সিরাজগঞ্জে খাবার খাওয়ার জন্য বাস থেমেছে বলে।কিছু খাওয়ার জন্য নেমে পরলাম।ছেলেটা কিন্তু নামলো না।আচ্ছা ও কি খাবে না? ক্ষুদা পায় না ওর? নাহ!! এত কেনো ভাবছি? আসলে না ভেবেও পারছি না।ছেলেটা কেমন যেনো।একটা মোহ মাখা চরিত্র।সারা রাস্তা বাহিরে তাকিয়ে ছিলো।একদম চুপচাপ।কি যেনো খুজে বেড়ায় আকাশে... কেনো যেনো বাসে ওঠার সময় ওর জন্য একটু খাবার কিনে আনলাম।ও কে ডাকলাম। : নাও।খেয়ে নাও।বাস ছেড়ে দিবে এখুনি। ও মুখ তুলে চাইলো।বললো : কি এসব? : কলা আর রুটি। : আচ্ছা এখানে নুডলস পাওয়া যায়? অবাক হলাম।এখন কেউ নুডলস খায়? বললাম : এখানে তো নুডলস নেই ভাই।কলা রুটি খেয়ে নাও। ছেলেটা হাসল।কলা রুটি গুলো হাতে নিয়ে বসে রইল। :খাবে না? : না। বললে রাগ করবেন? অবাক হলাম।বলে কি ছেলেটা? :না হবো না।কিন্তু কেনো খাবে না বলবে? : আমি আসলে আজ রাতে কিছু খাবো না।প্রতি বছর এ রাতে কিছু খাই না। : কেনো? : দশ বছর আগে এই রাতে কিছু না খেয়ে গিয়েছিলাম রাজশাহী।কারো হাতে একটু নুডলস খাওয়ার লোভে।আজও তাই যাচ্ছি।এই দেখুন।আজ ও সাথে করে নুডলস নিয়ে যাচ্ছি। দেখলাম হীমে ঠান্ডা হওয়া এক বাটি নুডলস।একটা গল্পের আশায় নড়েচরে বসলাম। : গল্পটা বলবে আমায়? : কোন গল্প? : এই যে নুডলসের গল্পটা। : শুনে কি করবেন? : কিছু না।এমনি এমনি বলা যাবে না? ছেলেটা চুপ করে রইলো।তারপর অন্ধকার জানালা দিয়ে বাহিরে চোখ রেখে বললো : গল্পটা পরাজয়ের।মজা পাবেন না। : তবু ও বলুন। ছেলেটা ফিরে তাকাল।চোখে ওর দশ বছর আগের স্বপ্নরা গিজগিজ করছে.... : আমি প্রতিবছর এই দিনে রাজশাহী যাই।রাজশাহীর চিড়িয়াখানায় টিলার মত একটা জায়গা আছে না? তার নিচে দেয়াল ঘসে একটা বেঞ্চ আছে।ওখানে বসি।পাশে বসে থাকা স্বপ্নটাকে শুভ জন্মদিন বলি।তারপর নুডলস গুলো গপগপ করে খাই।জানেন নুডলস খেলে আমার মাথা ব্যাথা করে।তবু খাই।বছরে এই দিনটা আমি আমার দশ বছর আগের দিনটার মত করে কাটাই।পদ্মার পাড়ে যাই।আনসার ক্যাম্পে ফুচকা খাই। পদ্মার চরে শুয়ে শুয়ে আকাশ দেখি।যেমনটা দশ বছর আগে দেখেছিলাম আমার হারানো স্বপ্নের কোলে মাথা রেখে.... লাল একটা আকাশ।রক্তের মত লাল।আচ্ছা আকাশ কি লাল হয়? কি উত্তর দিবো ভাবছি।ছেলেটা এবার হু হু হু করে হাসল।পাগলটা তো অনেক হাসতে পারে।আবার বলতে শুরু করল ও... : এই একটা দিন আমি ওকে দেই।ওর রান্না করা নুডলস কল্পনা করে খাই।যদিও সারা বছর আমি নুডলস খাই না।আমার মাথা ব্যাথা করে। আমি জানতে চাইলাম। গল্পটার চরিত্র গুলো বললে না কেনো? : বিশেষ কিছু কারনে।তারমধ্যে প্রধান কারনআমি চাই না আপনার মনে ওর সম্পর্কে কোন খারাপ ধারনা হোক। , :ও কে ছাড়লে কেনো?বা ও তোমাকে ছেড়ে গেলো কেন? : আমি ছেড়েছি আমি ওকে সুখি দেখতে চাই বলে।আর ও চলে গেছে ওর পরিবারকে সুখে রাখতে চায় বলে। কত সহজ উত্তর!! ছেলেটা আবার মুখ ফিরিয়ে নিলো।একটু পরে ও বললো : মেয়েটার খুব সুন্দর চুল ছিলো।বাদামি চুল।পদ্মার চরে আামরা যখন যেতাম।ও আমার হাতটা ধরে থাকত।বাতাসে ওর চুল গুলো ওড়ত।।।। ,কথা গুলো বলতে বলতে ওর চোখ গুলোতে আমি যেনো পদ্মার চরে ওদের দেখতে পেলাম।।। বাস থেকে নামার সময় ওকে আমার কার্ড দিয়ে এসেছিলাম।ও কার্ড দেখে বললো : আপনি ইঞ্জিনিয়ার? : হুম। কেনো? : মেয়েটার ও একটা ইন্জিনিয়ার ছেলের সাথে বিয়ে হবার কথা ছিলো। বলে হু হু করে হেসে ওঠল।.... সারা রাত বাসে এসে যখন বাসায় পৌছলাম। আদরের বউটাকে দেখে মন থেকে সব ক্লান্তি ভুলে গেলাম।আজ দশ বছর দেখতে দেখতে কেটে গিয়েছে।অথচ আজো প্রথম দিনের মত ভালোবাসি ওকে।দুপুরে খাওয়ার টেবিলে ফোনটা এলো।সেই নুডলস পাগল ছেলেটার ফোন।রাজশাহী মেডিকেল কলেজে আছে।আমাকে দেখতে চায়।আচ্ছা বিপদ তো। বউকে নিয়ে গেলাম।বাহিরে বসিয়ে ছেলেটাকে দেখতে গেলাম।রক্তাত হয়ে পড়ে আছে বেডে।বুকের পাশে এখনো তাজা রক্তের ছোপ। : কি করে হলো? : ওরা আমার ব্যাগটা নিতে চেয়েছিলো। দেই নি তাই.... : দিলেই পারতে।তাহলে তো আর এত কস্ট পেতে হতোনা। : কি করে দেবো।ওটাতে যে আমার নুডলসটা... অবাক হয়ে তাকিয়ে ছিলাম।কিছু বলতে পারি নি।তারপর বহু দিন পর।আমি আর আমার বউ গিয়েছিলাম পদ্মার চরে।হঠাৎ মনে পরে গেলো নুডলস পাগলার কথা।হাসতে হাসতে বললাম ঘটনাটা বউ কে।বউ হাসলো কি না বুঝতে পারলাম না।শুধু দেখলাম ওর খোলা চুল গুলো ওরছে।বাদামি রংয়ের চুল।ও দুরে তাকিয়ে।দুরে একটা আকাশ।আকাশটা কেমন লাল মনে হচ্ছে...


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮৭ জন


এ জাতীয় গল্প

→ মিঃ নুডলস এর গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now