বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
"মোতিয়া"
স্মরণজিত চক্রবর্তী
------------------
(১ম পর্ব)
জায়গাটার নাম নীলিঘাটি। মধ্যপ্রদেশের পশ্চিমদ্বার ঘেঁষে বিখ্যাত মাণ্ডুর কাছের একটা ছোট গ্রাম। মহেশ্বর, ওঙ্কারেশ্বর, বাঘকেভ্স ইত্যাদি টুরিস্ট স্পটের ফাঁকে মানুষজন খবরই রাখে না এমন একটা ছোট্ট গ্রাম বিন্ধ্য পর্বতের গা ঘেঁষে রয়ে গিয়েছে।
টাপুও শোনেনি। তাই মিহিরদা যখন প্রথমে নীলিঘাটির কথা বলেছিল, ও অবাক হয়ে গিয়েছিল! নীলিঘাটি! গ্রাম! মান্ডুর কাছে!
মান্ডু তো সবাই চেনে। রানি রূপমতীর গল্পের সেই শহর। কিন্তু তার কাছেই নীলিঘাটি বলে কোনও গ্রাম আছে!
মিহিরদা ফোনের মধ্যেই হেসেছিল, বলেছিল, ‘‘টাপুবাবু, তুমি ওই সারাজীবন ইউরোপ-আমেরিকাই করে বেড়াও। আমাদের দেশটা আর দেখতে হবে না। শোন, এবার কিন্তু ঝোলাবি না। ভাল করে কাজটা করে দে। মান্ডু আর তার আশপাশের ওপর কিছু ফোটো তুলে ট্রাভেলগ লেখ। অস্ট্রিয়ান কাগজ। ভাল টাকা দেবে। তোর কথা আমিই বলেছিলাম ওদের। তুই লাস্ট মান্থ বলছিলি যে, তোর টাকার দরকার। তাই… পাখি আশা করি বারণ করবে না। আফটার অল তোর লাভ হবে এতে।’’
পাখি বারণ করলেও শোনার মতো অবস্থা নেই টাপুর। সামনে যে ব্যাপারটা ঘটতে চলেছে ওর জীবনে, তার জন্য টাকা লাগবে ওর। অনেক টাকা।
ক্যামেরাটা তাড়াতাড়ি করে কাঁধে ঝুলিয়ে গাড়ি থেকে নামল টাপু। দুপুরের সূর্য পশ্চিমে হেলেছে সামান্য। এই জানুয়ারির শেষেও তাপ বেশ।
গাড়িটা ওকে নামিয়ে দিয়ে ঘুরে আসবে ঘণ্টাতিনেক পরে। ড্রাইভার কেশবলালকে লাঞ্চ করতে হবে। নীলিঘাটিতে তেমন সুবিধের জায়গা নেই। তাই কিছু দূরে কোনও জায়গা থেকে খেয়ে আসবে।
তা আপত্তি করেনি টাপু। এখানে একটু সময় তো লাগবেই।
গাড়িটা পথের লাল-কমলা ধুলো উড়িয়ে চলে গেল। টাপু চারদিকটা একবার দেখল ভাল করে। কোনও মানুষজন নেই কাছে। সবটাই নির্জন। সামান্য হাওয়ার শব্দ শোনা যাচ্ছে শুধু। বড় ঘাস, নুয়ে থাকা গাছের পাতা আর এলোমেলো জঙ্গলের কানে কানে হাওয়া কি বলছে কিছু?
নীলিঘাটির এককোণে এই জায়গাটা। এমনিতেই মূল গ্রামটায় মানুষজন খুব কম। আর এইখানে তো কিছুই তেমন দেখতে পাচ্ছে না টাপু। শুধু কিছু পাখি আর ওই ফিসফিসে গোপন কথা বলে যাওয়া হাওয়া।
সামনে তেমন কোনও পথ নেই। শুধু লালচে মাটির রাস্তা বেঁকে গিয়েছে জঙ্গলের মধ্যে।
জঙ্গলটা ঘন নয়। শীতের থাবায় ব্রোঞ্জ রং ধরে রয়েছে। আকাশের দিকে হাত তুলে দাঁড়িয়ে রয়েছে সারি সারি শীর্ণকায় গাছ। ওই পথে পা রাখতে গিয়ে সামান্য থমকাল টাপু। এমন নিস্তব্ধ দুপুরে এ কোথায় এল ও!
জঙ্গলটা বড়ও নয়। সামনে একটা বড় গাছের পাশ দিয়ে রাস্তাটা ডানদিকে বেঁকে গিয়েছে। টাপু বাঁক ঘুরতে গিয়েও চমকে উঠল। একটা গিরগিটি সরসর করে লেজ টেনে দৌড়ে গেল সামনে দিয়ে। আর শুধু গেলই না, একটা গাছের গুঁড়ির উপর উঠে ঘাড় ঘুরিয়ে যেন দেখল টাপুকে। টাপুর বুকটা কেঁপে উঠল। এমন লাল রংয়ের চোখ হয় গিরগিটির!
জঙ্গলের আরও ভিতরে যেতেই এবার বাড়িটা দেখতে পেল টাপু। না, ঠিক বাড়ি নয়। ছোট একটা প্রাসাদ। টাপু পা চালিয়ে এগিয়ে গেল সামনে।
বড় পাঁচিল দিয়ে ঘেরা প্রাসাদটার গায়ে কয়েকশো বছরের শ্যাওলা। সামনে একটা বিশাল তোরণ। সেটা পার হয়ে ভিতরের প্রকাণ্ড খোলা চত্বরে গিয়ে দাঁড়াল টাপু।
এমন ভাঙাচোরা কিন্তু সুন্দর প্রাসাদ কোনওদিন দ্যাখেনি ও। দুপুরের রোদে একমুঠো সৌন্দর্য অবহেলায় ফেলে রেখে কেউ যেন চলে গিয়েছে কোথাও।
প্রাসাদটা বেশ বড় হলেও অধিকাংশই ভাঙাচোরা। শুধু শুকনো ফোয়ারা আর ভাঙা পরিদের ওইদিকে একটা দরজা দেখা যাচ্ছে। লোহার বড় দরজা। সারা গায়ে ফুলের কাজ।
টাপু এদিক-ওদিক তাকাল। কেউ তো নেই! তবে কি ওদের চিঠি পায়নি? মিহিরদা যে বলল, খবর দেওয়া আছে, তবে! দেখে তো মনে হচ্ছে না এখানে কেউ আছে।
আচমকা খা খা শব্দে একটা পাখি ডেকে উঠল দুপুর ভেদ করে। আবারও বুকটা কেঁপে উঠল টাপুর। কী অদ্ভুত পাখির ডাক এটা! কোন পাখি এমন করে ডাকে!
শব্দটা যেমন ভেসে উঠেছিল তেমনই আবার ডুবে গেল দুপুরের নির্জনতায়। টাপু সময় নিল একটু। এদিক-ওদিক তাকাল আবার। তারপর এগিয়ে গেল দরজাটার সামনে।
পুরনো পিতলের বড় একটা লাঠি ঝুলছে দরজাটার সামনে। টাপু ভাল করে দেখে সেটা ধরে টানল। আর দূরে কোথাও আবছাভাবে গং শুনতে পেল ও। কেমন বিষণ্ণ, সময়ের ভারে নুয়ে পড়া শব্দ যেন ভেসে এল কয়েক শতাব্দীর ওপার থেকে।
আচমকা ঘড়ঘড় শব্দ করে সামনের দরজার পেটের ভিতর থেকে আর-একটা দরজা খুলে গেল। টাপু পিছিয়ে এল একটু।
ছোট দরজা দিয়ে এবার বেরিয়ে এল একজন বয়স্ক মানুষ। রোগা, বেঁটে, মুখে অসংখ্য ভাঁজ আর মাথায় ইয়াব্বড় একটা পাগড়ি।
‘‘কেয়া চাহিয়ে বাবু?’’ লোকটার গলার স্বর পাথুরে, ক্লান্ত। চোখদুটো এই হলদেরঙা দুপুরের মতোই নিস্তব্ধ।
‘‘অ্যাপয়েন্টমেন্ট থা। আমি ছবি তুলতে আসব বলেছিলাম।’’
‘‘ও…’’ লোকটা তাকিয়ে রইল টাপুর দিকে।
টাপুর অস্বস্তি হল। লোকটা যেন পাথরের হয়ে গিয়েছে। চোখের পলক পড়ছে না।
‘‘আপ সমঝ রহে হ্যায়?’’ টাপু ভুরু তুলল।
লোকটা বলল, ‘‘জরুরি হ্যায় কেয়া?’’
‘‘মতলব!’’ টাপু অবাক হল।
‘‘মতলব আজ না হি আতে তো অচ্ছা হোতা।’’
‘‘আরে!’’ টাপু বিরক্ত হল, ‘‘এর মানে কী? আমি তো অ্যাপয়েন্টমেন্ট করেই এসেছি।’’
লোকটা তাকাল টাপুর দিকে। তারপর তেমনই পাথর গড়়ানো গলায় বলল, ‘‘আইয়ে ফির, লেকিন…’’ লোকটা সরে দাঁড়াল দরজা থেকে, ‘‘আওয়াজ না কিজিয়েগা, রানিবিটিয়ার কষ্ট হবে।’’
মাথা নামিয়ে প্রাসাদের মূল অংশের মধ্যে ঢুকল টাপু। বড় বাড়িটার এই অংশ তাও কিছুটা ভাল আছে। বাকিটা তো মনে হচ্ছে যে কোনও সময়ে পড়ে যাবে।
বিশাল উঠোনের মধ্যে দাঁড়াল টাপু। পায়ের তলায় এবড়ো-খেবড়ো পাথর। কালচে শ্যাওলা ধরা। লোকটা কষ্ট করে আবার বন্ধ করে দিল দরজাটা। তারপর পা টেনে টেনে এসে দাঁড়াল ওর সামনে, ‘‘আমার সঙ্গে আসুন।’’
পা ফেললেও যেন তার শব্দ শুনতে পাচ্ছে টাপু। বড় দালান পার হয়ে লোকটা ওকে নিয়ে গেল একটা ঘরে।
‘‘নাচঘর,’’ লোকটা ক্লান্ত গলায় টেনে-টেনে বলল, ‘‘আপ রুকিয়ে থোড়ি দের, পর আওয়াজ মত্ করনা!’’
লোকটা পা টেনে টেনে চলে গেল একটা বন্ধ দরজা ঠেলে।
ভাল করে এবার চারদিকটা দেখল টাপু। নাচঘর! ঘরের ভিতর গাছের চারা গজিয়ে গিয়েছে। মাকড়সার জালে এসে ছিন্নভিন্ন হচ্ছে শেষ দুপুরের আলো। ধূলিধূসর হয়ে গিয়েছে সব।
হঠাৎ টাপুর পকেটের মোবাইলটা খ্যানখ্যান করে বেজে উঠল। আর নিমেষে কাচের মতো টুকরো টুকরো হয়ে ভেঙে গেল দুপুরটা। টাপু দ্রুত পকেট থেকে বের করল মোবাইল ফোন। অচেনা নম্বর। ও লাইনটা কেটে দিয়ে ফোনটা পকেটে ঢোকাল।
আবার সব স্তব্ধ আর স্থির। হাওয়ার নরম শব্দ, গোপন কথার মতো ঘুরছে চারদিকে।
তার মাঝেই টাপু শুনল কোথায় যেন রিনঠিন শব্দ জেগে উঠল একটা। কীসের শব্দ এটা? নিজের অজান্তেই কেঁপে উঠল টাপু। নাচঘরে এমন নূপুরের শব্দ আসছে কোথা থেকে!
‘‘আপ!’’ নূপুরের শব্দের মতোই ঘরের স্থির হাওয়ার ভিতর ঢেউ তুলে এবার ভেসে এল একটা গলা।
পিছন ফিরে হতবাক হয়ে গেল টাপু। কোথা থেকে এল এই মেয়েটা! লম্বা গোলাপি ঘাগরার উপর হলুদ একটা কুর্তির মতো জামা।কাটা-কাটা চোখ-মুখ। গলার লালচে পাথরে হারটা আঙুলে ঘোরাতে ঘোরাতে ওর দিকে তাকিয়ে রয়েছে মেয়েটা! ঘরের ফাটল দিয়ে আসা সূর্যের আলো মেয়েটার চুলে পড়ে অজস্র সোনালি রেখায় ভেঙে গিয়েছে। টাপু অবাক হয়ে দেখল, মেয়েটার চোখদুটো কী ভীষণ নীল!
টাপু তাকিয়ে রইল। নিস্তব্ধ দুপুরের মধ্যে এ কার সামনে দাঁড়িয়ে রয়েছে টাপু! এ কোন রাজকন্যা!
(২)
‘‘ওখানে কি তুমি কোনও রাজকন্যা পাবে?’’ ঝাঁঝিয়ে উঠল পাখি।
টাপু বসে বসে ক্যামেরার স্ট্র্যাপটা ঠিক করছিল। ও মুখ না তুলে বলল, ‘‘মিহিরদার অ্যাসাইনমেন্ট। অস্ট্রিয়ার একটা ট্রাভেল ম্যাগাজ়িনের জন্য কাজটা করতে হবে। এগজটিক লোকেল চায় ওরা। আমি তো ল্যান্ডস্কেপ্সে তুলি। তাই আমায় বলেছে, বারো হাজার ইউরো দেবে। অল্প টাকা নয়।’’
‘‘টাকা? টাকাই সব?’’ পাখি তর্ক ছাড়ল না। বলল, ‘‘তুমি তো এমন ছিলে না টাপু! সব্বাই চলে আসবে। এত কিছু আয়োজন করতে হবে, প্ল্যান করতে হবে। সেখানে তুমিই চলে যাবে! বিয়েটা কি আমার একার হচ্ছে?’’
টাপু স্ট্র্যাপের বাক্লনটা খুলে আবার নতুন করে ফাঁস লাগাতে লাগাতে বলল, ‘‘আরে বাবা! বিয়ের আগের দিন তো ফিরেই আসছি। এত ভাবছ কেন?’’
‘‘ভাবব না!’’ পাখি এসে বিছানায় বসল। কাঁধের ব্যাগটা নামিয়ে রেখে বলল, ‘‘তুমি কি পাগল! বিয়ের আগের দিন আসবে! তোমার কোনও ভরসা আছে? প্রতিটি অ্যাসাইনমেন্টে দশ-বারোদিন লেট করে ফেরো… আমি কি জানি না কিছু?’’
টাপু আরও কিছু বলতে গেল, কিন্তু পাখি শুনল না। ওর হাত থেকে কেড়ে নিয়ে ক্যামেরাটা রাখল বালিশের উপর। বলল, ‘‘লুক হিয়ার, আমাদের অত টাকারও দরকার নেই, কেমন?’’
‘‘সেটা তোমার বাবাকে বোলো,’’ টাপু বালিশে হেলান দিল, ‘‘মনে নেই লাস্ট ডিসেম্বরে তোমার মায়ের জন্মদিনে একঘর লোকের সামনে কী বলেছিল? ‘পাখি, তুই এ কাকে বিয়ে করবি? এত ছোট হিরের আংটি কেউ দেয়! এগুলো ড্রিল বিটের হিরে নয় তো?’ আমি কিন্তু ভুলিনি! হ্যাঁ, মানছি, লাস্ট দেড়বছর আমার তেমন কাজ হয়নি। তা বলে আমি কি কাজ করি না নাকি!’’
‘‘তার মানে বাবা কী বলল, সেটা তুমি ধরে বসে থাকবে?’’ পাখি আবার উঠে দাঁড়াল।
‘‘দ্যাখো, মিহিরদা আবার আমায় কাজ দিতে শুরু করেছে। ছাড়ব কেন? আমি ঠিক চলে আসব সময়ের আগে, তুমি কেন চিন্তা করছ?’’
‘‘আবার এক কথা! চিন্তা করব না!’’ পাখি হতবুদ্ধি হয়ে গিয়েছে, এমনভাবে মাথা নাড়ল, ‘‘আরে! এমনিতেই আমরা লিভটুগেদার করি বলে তোমার বাড়ির লোকজনের আপত্তি ছিল। আমায় তারা কী ভাবে, সেটা আর নতুন করে বলছি না। আমি সেটা মেনেও নিয়েছি। তেমনই আমারও বাড়ির কারও কিছু গ্রাজ থাকতে পারে। সেটা তুমি স্পোর্টিংলি নিতে পারলে না! বাবাকে ভুল প্রমাণ করতে তোমাকে দৌড়তে হবে? আর শুধু বাবাই বা কেন? আমার বন্ধুবান্ধব! জানো তো আমাদের ছোটবেলার স্কুলের পুরনো গ্রুপটার সঙ্গে আবার যোগাযোগ হয়েছে। ওরাও আসতে শুরু করেছে।’’
‘‘হ্যাঁ জানি,’’ ছোট্ট করে বলল টাপু।
‘‘এই যে আমি এয়ারপোর্ট যাচ্ছি লাবণ্যকে আনতে, ও জানতে পারলে কী বলবে!’’
‘‘কে লাবণ্য?’’ টাপু অবাক হল, ‘‘আমায় আগে বলোনি তো!’’
‘‘কেন বলব? আমায় আজকাল কোন কথাটা বলো তুমি? এই যে যাবে, সেটা আজ বলছ! যাওয়ার ঠিক আগে! এটা কি ইয়ার্কি নাকি!’’ পাখি চোয়াল শক্ত করল, ‘‘আর আফটার ফিফটিন ইয়ার্স পর দেখা হবে আমার সঙ্গে লাবণ্যর। ক্যান ইউ বিলিভ দ্যাট? ও এসে কী দেখবে যে, তুমি রাত্রিবেলা বেরিয়ে গেলে?’’
‘‘আরে মহা মুশকিল! আমি কি অমিত রায় নাকি যে, লাবণ্য আসবে বলে কাজকর্ম শিকেয় তুলে বসে থাকব!’’ টাপু বিরক্ত হল, ‘‘কাজ ইজ় কাজ। আমি কথা দিয়েছি, আমায় করতে হবে। প্লাস আই লাভ ইউ টু। আমারও তোমায় বিয়ে করার ইচ্ছে আছে। আমি ঠিক চলে আসব।’’
‘‘ঠিক আছে যাও। দ্যাখো যা পার করো… দেখি কোন রাজকন্যা অপেক্ষা করে আছে ওখানে!’
‘‘আপ?’’ মেয়েটি আবার জিজ্ঞেস করল।
ঘোর ভাঙল টাপুর, ‘‘জি ম্যায়…’’
‘‘টুরিস্ট?’’ মেয়েটা হাসল। ঘরের ভিতর যেন ঝরঝর করে ঝরে পড়ল মুক্তো। বলল, ‘‘এখানে তো আসে না টুরিস্ট তেমন… তা কে ঢুকতে দিল আপনাকে এখানে?’’
টাপু নিজেকে গোছাল এবার, তারপর বলল, ‘‘আসলে আমি এসেছি কলকাতা থেকে। ট্রাভেল ফোটোগ্রাফার। একজন বয়স্ক মানুষ আমাকে এখানে দাঁড়াতে বললেন। হয়তো চাবি নিয়ে আসতে গিয়েছেন।’’
‘‘বয়স্ক মানুষ!’’ মেয়েটা সামান্য ভুরু কুঁচকে তাকাল। তারপর আবার ঝরঝর করে ঝরে পড়ল মুক্তো, ‘‘ও বংশীকাকা! আর কীসের চাবি! সবই খোলা আছে। শুধু উপরের একটা ঘর বন্ধ। বাকি তো আপনি দেখতেই পারেন, যাবেন নাকি?’’
‘‘আপনি আমায়…’’ টাপু কথা শেষ না করে তাকাল মেয়েটির দিকে।
‘‘হ্যাঁ। নিশ্চয়ই… অবশ্য আপনার আপত্তি না থাকলে…’’ মেয়েটা এবার এগিয়ে এল কাছে।
টাপু ভাল করে দেখল। মেয়েটার চোখের মণিতে কেউ যেন শরতের আকাশ গুলে দিয়েছে। এমন নীল হয় কারও চোখ!
টাপু সম্মোহিতভাবে বলল, ‘‘চলিয়ে…’’
মেয়েটা তাকাল টাপুর দিকে। তারপর আলতো করে ধরল ওর হাত, ‘‘আসুন।’’
অদ্ভুত চন্দন-গন্ধ আসছে মেয়েটার থেকে! টাপু ডুবে যাচ্ছে নরম গন্ধের মধ্যে! ও সম্মোহিতের মতো এগিয়ে গেল মেয়েটির সঙ্গে। আর মেয়েটির প্রতিটা পদক্ষেপে, গোটা দুপুর জুড়ে ছড়িয়ে পড়তে লাগল নুপূরের টুকরো-টুকরো রিনঠিন শব্দ!
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now