বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

মায়ের সেক্রিফাইজ

"স্মৃতির পাতা" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Merina Afrin Mou (০ পয়েন্ট)

X - মা চাঁদটা কি অনেক সুন্দর? (রকিব) - হ্যাঁ বাবা,অনেক সুন্দর। - ওহ।তারাগুলো বুঝি খুবই চমৎকার,তাই না মা? - হুম বাবা।জ্বলজ্বল করছে চাঁদের চারপাশে। . রকিব সাহেরা বানুর ছোট ছেলে।দেখতে খুবই সুন্দর।কিন্ত সে অন্ধ।একটা দূর্ঘটনায় তার দুটো চোখ সে হারিয়ে ফেলেছে।রকিবের বয়স ১১ বছর।সে আর আগের মতো চারদিকে ছোটাছুটি করে বেড়াতে পারে না। . এমন একটা সময় ছিলো যখন হাসি,খেলায় পুরো বাড়িটাকে একাই মাতিয়ে রাখতো সে।আজ সেগুলো শুধু অতীত স্বৃতি বৈ কিছুই নয়।এখন শুধু বাড়ি ও তার চারপাশটা হাহাকার করে।অপূর্ণতা বিরাজ করে সবসময়। . রকিব এখন শুধু বসেই থাকে।পাঠশালা নেই,খেলা নেই,কাজও নেই।সবগুলো যেন তার কাছ থেকে ছুটি নিয়েছে।এগুলোর জন্য মাঝে মাঝে সে হুহু করে কেঁদে উঠে।কিন্তু কি বা করার আছে! ডাক্তার সাহেব বলেছিলেন,চোখ পেলে রকিবের চোখে ট্রান্সফার করা যেতে পারে।কিন্তু আজ অবধি সেটা পাওয়া যায় নি। . - মাগো, মা। - কি বাবা? - আমি কি আর কখনো চোখে দেখতে পারবো না? ছেলের এমন কথায় সাহেরা বানু কেঁদে উঠেন।কিন্তু বুঝতে দেন নি যে তিনি কাঁদছেন।তাইতো তাড়াতাড়ি করে চোখ দুটো মুছে উত্তর দিলেন, - পারবে বাবা পারবে। - সত্যি বলছো মা! আমি আবার দেখতে পারবো"আমি খেলতে পারবো! পাঠশালা যেতে পারবো! - হুম বাবা,সবই করতে পারবে। . সাহেরা বানু জানেন না আসলেই তার কথাটুকু কতটা সত্যি।তবুও ছেলেকে আশা দিয়ে রাখলেন তিনি।যাতে কিছুটা সময়ের জন্য প্রশান্তিতে কাটাতে পারে রকিব।রকিবও আশায় থাকে , কখন আবারো সে দেখতে পারবে। . রিপোর্টটা হাতে পৌঁছেছে সাহেরা বানুর। হাতে তার বেশি সময় নেই।তাকেও চলে যেতে হবে এই সুন্দর পৃথিবী ছেড়ে।যে কথা তার স্বামী শরীফ মিয়া ছাড়া আর কেউ জানে না।জানাতে নিষেধ করেছেন তিনি।যাতে কেউই কষ্ট না পায় আগ থেকে।মুখে লুকিয়ে মাঝে মাঝে কাঁদেন শরীফ উদ্দীন। . - মা,আমি কিন্তু চোখ খুলেই তোমাকে আগে দেখতে চাই। (রকিব) - দেখবি বাবা দেখবি।(ছলছল চোখে সাহেরা বানু) অনেক খুশি হলো রকিব,যখন শুনলো তার অপারেশনের জন্য চোখ পাওয়া গেছে।ছেলের মুখে হাসি দেখে নিজেরো ভালো লাগে সাহেরা বানু। ছেলের সুখেই যেন তার সুখ। . সাহেরা বানু তার প্রানপ্রিয় স্বামীর সাথে পরামর্শ করলেন।কিন্তু শরীফ মিয়া কোনক্রমেই রাজি হচ্ছিলেন না।কি আর করা! সাহেরা বানুর হাতে তো বেশি সময় নেই।তিনি তার ছেলের চোখেই বেঁচে থাকতে চান। . সাহেরা বানুর ছেলে+মেয়েরা এসেছে।সবাই জানে আজকে তার ভাইয়ের চোখ অপারেশন।সে আবার আগের মতো সংসারটাকে মাতিয়ে রাখবে।সবার চোখে মুখে শান্তির আভাস।কিন্তু এমনি সময় শরীফ মিয়া যেন কেমন হয়ে গেছেন। প্রিয় পত্নীকে হারানোর বেদনা যে কতটুকু যে হারায় শুধু সেই বুঝতে পারে। . অপারেশন থিয়েটারে মা ছেলে দুজনই।শরীফ মিয়া কাঁদছেন।লুকিয়ে লুকিয়ে কাঁদছেন।হঠাৎ তার এই কান্না টের পেয়ে যায় তার মেয়ে মালিহা।নিরুপায় হয়ে সবটা বলে দিতে বাধ্য হন তিনি।কি আর করা মালিহার! কান্না সমুদ্রে সেও ডুবতে লাগলো। . সময় শেষ সাহেরা বানুর।তাকে চিরনিদ্রায় রাখা হয়েছে। আজকে চোখ খুলবে রকিব।অনেকখানি সুস্থ সে।চোখ খুলেই সে তার মাকে পেলনা।কান্না করতে থাকে ছোট বালকটি।অবশেষে তাকে নিয়ে যাওয়া হয় সেই কবরস্থানে। যেখানে নতুন করে দাফন করা হয়েছে সাহেরা বানু নামে একজন মাকে। . রকিব কিছুই বুঝতে পারে নাহ।সে শুধু কাঁদছে।জানতেই পেলো না,সে কার চোখ দিয়ে পৃথিবীর আলো দেখছে।মায়ের আত্মত্যাগ শুধুই এমনি হয়।শেষটুকু দিয়ে চলে গেলেন না ফেরার দেশে।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৯১ জন


এ জাতীয় গল্প

→ মায়ের সেক্রিফাইজ
→ "মায়ের সেক্রিফাইজ"

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now