বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

মাটি থেকে ওঠানো হচ্ছে

"ছোটদের গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান নাসরুল্লাহ (০ পয়েন্ট)

X মেন্স সাইড-এ বসা সাম্বুর পত্রিকা পড়ার দৃশ্যটা খুব ভালো লাগতো কারণ একটু পরই মেয়েটা এসে বাবাকে জিজ্ঞেস করবে যে তিনি কী পড়ছেন, আর তারপর প্রশ্ন করে করে বিরক্ত করবে এবং শেষপর্যন্ত তা-ই পাবে যা ওর প্রাপ্য— বাবা চিৎকার করে উঠবেন, “কুমারী, তুমি বের হবে না আমি তোমাকে ছুঁড়ে বাইরে ফেলবো?” মেয়েটা জানতো না বাবার সাথে কেমন ব্যবহার করতে হয়, সাম্বুর ভীষণ অপছন্দ ছিল ওকে… অধীর আগ্রহে মেয়েটার ধমক খাওয়ার দৃশ্যের অপেক্ষা করতে করতে সাম্বু উইমেন্স ক্লাস-এ কান্না শুনতে পেল, সঙ্গে সঙ্গেই পায়ের আওয়াজ আর চিৎকার শোনা গেল, “বাতি জ্বালো! কারো কোনো দুর্ঘটনা ঘটেছে!” সিনেমা বন্ধ হয়ে গেল। মানুষজন এদিক-সেদিক সরে যেতে লাগলো। সাম্বু বিরতিতে বিরক্ত হয়ে কী হয়েছে দেখার জন্য একটা বেঞ্চের উপর উঠে দাঁড়ালো। ও দেখতে পেল ওর মাকে মাটি থেকে ওঠানো হচ্ছে। “এটা তো আমার মা! মাও কি মারা গেছে?” সাম্বু চিৎকার করে বেড়ার উপর দিয়ে লাফ দিলো। ও চেঁচিয়ে কাঁদতে শুরু করে দিলো। কে একজন তখন ওকে বললো, “উনি অজ্ঞান হয়ে গেছেন কেবল, আর কিছু হয়নি। গোল করো না।” কয়েকজন তাঁকে উঠিয়ে বাইরে নিয়ে গিয়ে প্যাসেজে শুইয়ে দিলো। আবার আলো জ্বালানো হলো, সবাই যার যার সিটে গিয়ে বসলো আর সিনেমাও চলতে লাগলো। মা চোখ খুললেন, তারপর উঠে বসে বললেন, “চল্, আমরা যাই।” “হ্যা, মা”— সাম্বু একটা জুটকা (ঘোড়া-টানা দুই চাকার গাড়ি) নিয়ে এসে মাকে ওঠালো। সে নিজেও যখন উঠে বসছিল তখন অন্ধকার হল থেকে পরিচিত গলা বলছিল, “কুমারী, তুমি বের হবে না আমি তোমাকে ছুড়ে বাইরে ফেলবো?” সাম্বুর মন খারাপ হয়ে গেল, সে কান্নায় ভেঙে পড়লো। মায়ের বিপর্যয় ছাড়াও আরেকটা ব্যাপার তাকে আঘাত করেছিল: বাবার সাথে চূড়ান্ত বিচ্ছেদ। ওরা পরদিন ছবিটা বদলে দিচ্ছিল। (আর. কে. নারায়ণ— ভারতের আন্তর্জাতিক ইংরেজি ভাষার লেখক আর. কে. নারায়ণের জন্ম ১৯০৬ সালে, চেন্নাইয়ে। তাঁর প্রথম উপন্যাস ‘সোয়ামি অ্যান্ড ফ্রেন্ডস’ প্রকাশিত হয় ১৯৩৫ সালে। আর. কে. নারায়ণের গল্প-উপন্যাস বিশ্বের বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হয়েছে। ১৯৫৮ সালে তিনি ‘গাইড’ উপন্যাসের জন্য ভারতীয় সাহিত্য একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮১ জন


এ জাতীয় গল্প

→ মাটি থেকে ওঠানো হচ্ছে

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now