বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
লিগোয়েশন
-আবদুল্লাহ ইউশা।
১.
প্রফেসর ফারদিন হাসান তার ল্যাব কাম রিডিং রুমে স্টাডি টেবিলের সামনে বসে আছেন। ধ্যান করার ভঙ্গিতে বসলেও তিনি মাথা নাড়াচ্ছেন ক্ষণে ক্ষণে। তার মেজাজ প্রচুর খারাপ। কারণ হলো অনেক সময় ধরে একটা ধপ ধপ আওয়াজ তার চিন্তায় বাঁধা দিচ্ছে। স্টাডি টেবিলের উপর রাখা প্যাডে কিছু লিখে তিনি লেখাটি একবার পড়লেন। তারপর হঠাৎ করেই প্যাড থেকে যে পৃষ্ঠায় লিখেছিলেন ঐ পৃষ্ঠাটি ছিড়ে ময়লা ফেলার ঝুড়িতে ফেলে দিলেন।
-সুমি!
-হ্যাঁ বলো।
ফারদিন হাসানের ডাক শুনে রান্নাঘর থেকে জবাব দিলেন তার স্ত্রী।
-এতো শব্দ হচ্ছে কিসের?
-লিও বল খেলছে।
-ওকে বাইরে গিয়ে খেলতে বলো।
-বাইরে গিয়ে খেলা যাবে না।
-কেন?
-বাইরের পরিবেশ ভালো না।
-কিন্তু এভাবে তো কাজ করা যাচ্ছে না।
-তুমি একটু ওকে নিয়ে বাইরে যেতে পারো না? সারাদিনই তো ঘরে বসে থাকো। যাও এখন ওকে নিয়ে একটু পার্ক থেকে ঘুড়িয়ে আনো।
মিসেস সুমির কথা শুনে ফারদিন হাসান একটু সচকিত হলেন। আসলেই তো… অনেকদিন ধরেই তার ভার্সিটি আর বাসা ছাড়া কোথাও বের হননি। যে ইকুয়েশনটা মিলাতে পারছেন না সেটা বাইরে গিয়ে খোলা হাওয়ায় একটু বেড়ি্যে আসলে হয়তো ধরতে পারবেন। এই ভেবে লিওকে নিয়ে বের হয়ে পড়লেন প্রফেসর।
২.
লিওকে নিয়ে ফারদিন হাসান রাস্তায় হেঁটে বেড়াচ্ছেন। তার নির্দিষ্ট কোথাও যাওয়ার প্ল্যান নেই। লিও তার বাবার হাত ধরে আছে। মাঝে মধ্যে দুয়েকটা লাফ-ঝাপ ও দিচ্ছে। লিওর বয়স ৩ বছর। বয়স অল্প হলে কি হবে… এই ছেলে যা দেখে সব পুংখানুপুঙ্খ মনে রাখতে পারে। অপর দিকে ফারদিন হাসানের বয়স ৩৫ বছরের মতো হলেও তার ইদানিং অনেক কিছুই মনে থাকে না।
রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে লিও তার বাবাকে বলল…
-আব্বু আইসক্রিম খাবো!
-আইসক্রিম? কোথায়?
-ঐযে ঐ দোকানে!
-আচ্ছা চলো। কোনটা খাবে?
-পুতুল আইসক্রিম খাবো।
ফারদিন হাসান লিওকে আইসক্রিম কিনে দিয়ে পাশে একটি ছোট পার্কে গেলেন। সেখানে একটি বেঞ্চে বসতে না বসতেই লিওর আরেক আবদার।
-আচ্ছা বাবা, আমাকে একটা লিগো কিনে দেবে যেটা দেখতে এই পুতুলটার মতো?
আইসক্রিম দেখিয়ে জিজ্ঞেস করে লিও।
প্রফেসর আবার তার গবেষণা নিয়ে চিন্তা করছিলেন। তাই লিও কি বলছে প্রথমে বুঝতে পারেননি। তাই লিওকে আবার বলতে হলো তার আবদার।
-আচ্ছা দেবো কিনে। এখন তুমি খেল গিয়ে। আমি এখানে বসে আছি। বেশি দুষ্টামি করবে না।
যাকে বলা হয়েছে সে কি আর মানার লোক? একদৌড়ে সবার প্রথমে স্লাইডে উঠলো লিও।
এদিকে লিও নিজের অজান্তেই ফারদিন হাসানের মনে আশার আলো জাগিয়ে তুলেছে। লিগোর কথা শুনে ফারদিন হাসানের মাথায় নতুন ধারণার জন্ম নেয়। তিনি বুঝতে পেরেছেন যে কাজ তিনি কাগজে কলমে করতে পারবেন না সেখানে তাকে লিগোই সাহায্য করতে পারবে। তাই লিওকে খেলতে পাঠিয়ে নিজে চিন্তা করতে লাগলেন।
৩.
সংখ্যা! বড়ই রহস্যময় জিনিস। এই মহাবিশ্বের প্রতিটি বস্তুকণায় সংখ্যার অস্তিত্ব আছে। আছে অনুপাত ও সমীকরণ। সংখ্যা ছাড়া আজ মানুষ একটা ক্ষুদ্র দিনও চলতে পারে না। জীবের প্রতিটি কোষ, অণু কোন জায়গায় কতোটি করে থাকবে আর তার অনুপাত কতো হবে তার উপর ভিত্তি করেই জীবের গাঠনিক ভিত্তি গড়ে উঠেছে। “ফি” এর অনুপাতের কথাই ধরা যাক। পৃথিবীর সব জীবের ক্ষেত্রে এই অনুপাতটি লক্ষ্য করা যায়। আরো রয়েছে কোষের অভ্যন্তরে এর প্রভাব। প্রতিটি কোষের ঝিল্লি সমান সংখ্যক গ্লাইকোলিপিড ও গ্লাইকোপ্রটিন অণুর সমন্বয়ে গঠিত। এই অনুপাত বা সমীকরণে কোনো পরিবর্তন আসে তাহলে সেই কোষ আর বাঁচতে পারে না।
তাহলে সংখ্যা বা সমীকরণ থেকে প্রাণ সৃষ্টি করা যাবে না কেন?
বসে বসে ফারদিন হাসান এসব কথাই ভাবছিলেন। মানুষ রোবট বানাতে পারলে সাইবর্গ বানাতে সমস্যা কোথায়?
লিওর খেলা শেষ করে তাকে নিয়ে বাসায় এসে কাজে বসে গেলেন ফারদিন হাসান। সারাদিন ইন্টারনেট ঘেটে আর নিজের যা জ্ঞান ছিলো তা কাজে লাগাতে শুরু করলেন।
লিওর পরের জন্মদিনে তিনি লিওকে একটি উপহার দেন, নড়াচড়া করতে পারা একটি লিগো। সবাই মনে করেছিলো লিগোটি বাজার থেকে কেনা ইলেকট্রনিক টয়। কিন্তু লিও লিগোটি মিলানোর পর বুঝতে পারলো এটা নতুন কিছু। কারন এই লিগোর মানুষটি শুধুমাত্র লিগো মিলানোর পরই নড়াচড়া করে।
এই লিগোটি ছিলো প্রফেসর ফারদিন হাসানের সফলতার প্রথম ধাপ। লিও লিগোতে মজা পেয়ে প্রায় সারাদিনই বাবার পাশে ঘুরঘুর করতো আর লিগোয়েশন প্রক্রিয়া দেখতো। হয়তো সবকিছু ঠিকঠাক ভাবেই চলতো যদিনা একটি রোড এক্সিডেন্টে ফারদিন হাসান মারা যান আর লিও মানুষের সমুদ্রে হারিয়ে যেত।
৪.
১৫ বছর পর।
সান্দ্রা প্রতিদিনই একটি ছেলেকে দেখতে পায় ওদের এলাকার লাইব্রেরীর আশেপাশে। প্রথম প্রথম মনে করতো ছেলেটা ওর পিছনে ঘোরে হয়তো। কিন্তু একদিন কলেজে যাওয়ার সময় বুঝতে পারলো ব্যাপার ভিন্ন। ছেলেটাকে দেখলো একটা বইয়ের দোকান থেকে জোর করে বের করে দেয়া হচ্ছে আর প্রচুর অপমান করা হচ্ছে। সান্দ্রা দেখলো ছেলেটা কোনো প্রতিবাদ করলো না। নীরবে ওর পাশ থেকে প্রস্থান করে। সান্দ্রার খুব কৌতুহল হয়। তাই দোকানের মালিকের কাছ থেকে জানলো ছেলেটার বই পড়ার খুব ইচ্ছা। প্রথম দিকে বাকি রেখে বই কিনতো। কিন্তু কতোদিন আর এভাবে দোকান চালানো যায়। তাই আজ বাধ্য হয়েই ওকে বের করে দিতে হয়েছে।
পরদিন সান্দ্রা লাইব্রেরীতে বসে আড়চোখে ছেলেটাকে দেখতে লাগলো। সস্তা জিনসের প্যান্ট আর একটা নোংরা টি-শার্ট পড়নে, যা লাইব্রেরীর পরিবেশের সাথে অত্যন্ত বেমানান। সান্দ্রা ঠিক করলো আজ ছেলেটার সাথে কথা বলবে। ছেলে যেই লাইব্রেরী থেকে বের হয়ে রাস্তায় নামলো অমনি পিছন থেকে সান্দ্রা ডাক দিলো
-এই যে, শুনছেন?
ছেলেটা ঘুরে তাকিয়ে আশপাশে দেখলো কথাটা ওকে উদ্দেশ্য করে বলা হয়েছে কিনা।
তারপর কথা না বলে দাঁড়িয়ে রইলো। সান্দ্রা কাছে গিয়ে বলল
-আপনার নামটা জানতে পারি?
-কেন?
-আসলে অনেকদিন ধরেই আপনাকে প্রতিদিন লাইব্রেরীতে আসতে দেখছি। আমিও আসি। তাই ভাবলাম পরিচিত হয়ে নেই।
-ও আচ্ছা।
-তো আপনার নামটা?
-লিও।
-ওহ! নামটা একটা বিখ্যাত ক্যারেক্টার এর। জানেন?
-হেনরি রাইডার এর “শী” বইয়ে আছে।
-ওমা! জানেন দেখি। বাই দা ওয়ে আমি সান্দ্রা। কিসে পড়েন?
-গ্যারেজে কাজ করি।
সান্দ্রা এরকম একটা উত্তর আশা করেনি। ছেলেটা শুরু থেকেই কেমন যেন চাঁপা স্বভাবের।
-আমি মহিলা কলেজে ইন্টার সেকেন্ড ইয়ারে পড়ি।
সান্দ্রা সেধে নিজে থেকেই সব বলে যাচ্ছে। আর লিও অবাক হয়ে তার কান্ডকারখানা দেখছে।
-ইয়ে মানে আমার কাজ আছে। যেতে হবে।
-ওহ। আহ! স্যরি। নাইস টু মিট ইউ। কালকে দেখা হবে।
-আচ্ছা। (না হলেই ভালো হয়!) লিও মনে মনে বললো।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now