বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
কাওসার পারভীন
হঠাৎ দমকা হাওয়ায় বিদ্যুত সংযোগ চলে গেল। আমার হাতে ছিল একটি বই। মন দিয়ে বইটি পড়ছিলাম। মাঝপথে বাঁধা পড়াতে মেজাজটা একটু খারাপই হলো। যাই হোক, জেনারেটর চালু হতেই আবার বই নিয়ে বসলাম। এক বসায় বইয়ের সাতটি গল্প পড়ে শেষও করলাম ।
পড়ছিলাম উদীয়মান, সম্ভাবনাময় লেখক সুপন শাহরিয়ারের গল্পগ্রন্থ "অন্তর্ডুব"। পুরো বই জুড়ে লেখকের সংলাপ রচনার বৈচিত্রতা লক্ষ্যনীয়। ক্ষেত্রবিশেষে সাধারণ প্রচলিত আঞ্চলিক ভাষা ব্যবহার করেছেন লেখক, যা গল্পের মূল বক্তব্যকে আরো বেশী প্রাণবন্ত করেছে। বইয়ের শেষ গল্পটি দিয়েই শুরু করছি আমার পাঠ প্রতিক্রিয়া।
তরুণ দম্পতির নিত্য অভিমান, রাগ, অনুরাগ এবং অবশেষে সংসারটা ভাংতে গিয়েও শেষ পর্যন্ত টিকে গেলো। কি করে? কেমন ছিল সেই মায়ার জাদু! যে কারণে কোন এক বৃষ্টিভেজা মুহূর্তে মেয়েটি আবার ফিরে এলো অভিকের কাছে? এ প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যাবে 'মায়া' গল্পে। এই গল্পের প্রধান দুটি চরিত্র আনমনা আর অভিক। এ দুটি চরিত্রের সংলাপগুলোও ছিল বেশ উপভোগ্য।
ড্রেসিং আয়নায় প্রতিদিন মেয়েটি নিজেকে দেখে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে| নিজের অবয়ব বারবার দেখে, মুগ্ধ হয়| দুধে-আলতা-রঙা এই মেয়ের কী হলো হঠাৎ!! দরজা তালাবদ্ধ, জানালা বন্ধ এই ঘরটার ভেতরটা কেউ দেখেনা শুধু তার মা ছাড়া| কিন্তু কেন? নাহ! সব যদি বলে দেই আর মজা রইলো কই! শুধু এটুকু বলব বড় কষ্টগাঁথা এক বাস্তব প্রতিফলন "আয়নামুক্তি" গল্পটি।
"আবর্ত" গল্পে এসেছে নারীলোভী , পশুসম কিছু মানুষের কথা| এসেছে মেয়েদের অসহায়ত্বের কথা| আর সর্বোপরি যে বাস্তবতার পরিস্ফুটন ঘটেছে তা হলো বাবা মায়ের দন্দ্ব-সংঘাতময় দাম্পত্য জীবনের কারণে ঘৃনা এবং অন্তরজ্বালা থেকে উঠতি বয়সের একটি ছেলের বিপথে চলে যাওয়া তথা বখে যাওয়ার মাধ্যমে| এই গল্পের সার্থকতা এখানেই।
"ইশ্বর এবং কয়েকটি মানব চিত্র" গল্পে ভিন্ন ভিন্ন চিত্রে লেখক অবলীলায় বলে গেছেন সমাজের এমন কিছু তথ্য, যাতে পাঠক শিউরে উঠবেন, আহত হবেন এবং ভাববেন, কবে এ সমাজ আলোর মুখ দেখবে? কবে আমাদের মুখের বুলি সুন্দর হবে? যে বুলি বা গালিতে আমাদের মায়েরা অসন্মানিত হবেন না! এই গল্পে বারেক মাঝি অত্যাচারী শোষক পাকসেনার মুখে থুথু দিয়ে এবং নিজের জীবন দিয়ে বলে গেছে আর একজন মাকেও অসন্মানিত হতে দেয়া যাবেনা| শিক্ষনীয় এই গল্পটি পড়ে যদি ক্ষয়ে যাওয়া সমাজের বিবেকে সামান্যতম নাড়াও পড়ে, তাহলেই লেখকের এই গল্প সার্থকতা লাভ করবে আমার বিশ্বাস।
"মেয়াদোত্তীর্ণ"-- খুব কষ্টের একটি গল্প। আমরা জানি, বয়স বাড়লে মনের জোর অনেকাংশেই কমে যায়।সে ক্ষেত্রে একজন বৃদ্ধ যখন পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে প্রচণ্ড রকমের অবহেলা পেতে থাকেন তখন জীবন হয়ে ওঠে দুর্বিষহ। এমনি এক গল্পকথার মধ্য দিয়ে লেখক কাঁদিয়েছেন পাঠককে। সমাজ এবং পরিবার ব্যবস্থার পরিবর্তন, মন মানসিকতার পরিবর্তনের মাধ্যমে আমরা আশা করবো বার্ধক্যে এসে কারো জীবনে এমন পরিনতি যেন না ঘটে।
বইয়ের শুরুতেই যে গল্পটি রয়েছে--অত্যন্ত মনস্পর্শী, "স্নেহ"। বাবার স্নেহসিক্ত এক কন্যা স্বামীর ঘরে গিয়েও একই ভাবে আহ্লাদে আপ্লুত হতে চায়। সুশান তার স্ত্রীর সেই আবদার রক্ষা করেছে অবলীলায়। আশা করতে পারি এই গল্প প্রতিটি পাঠকের মাঝে সাড়া জাগাতে সক্ষম হবে এই কারণে যে, এদেশের মেয়েরা বেশির ভাগই স্বামীর ঘরে গিয়েই পাকাপোক্ত গৃহিণী হয়ে যায়। বাবা মায়ের স্নেহের পরশ মাখা স্মৃতি টুকুও এক সময় ভুলে যেতে বাধ্য হয়। সে দিক থেকে স্নেহ গল্পটি এক নতুন দিক নির্দেশনার জন্ম দিয়েছে বলে আমার বিশ্বাস। সুশান আর নীহার মত সফল যেন হয় প্রতিটি দম্পতির জীবন।
"অন্তর্ডুব" - বইয়ের নামগল্প এটি। ইভটিজিং একটি সামাজিক ব্যাধি। সেই ব্যাধি মহামারি আকার ধারণ করে কখনো কেড়ে নেয় অকালে একটি জীবনকে। কখনো কেড়ে নেয় ভাইয়ের আদরের বোনটিকে। কেড়ে নেয় আদরের কন্যাটিকে। বিপর্যস্থ করে দেয় স্নেহ-মমতায় ঘেরা একটি সুখী পরিবারকে, এমনি একটি গল্প "অন্তর্ডুব"। যে সমাজে মেয়েরা নিরাপদ নয়, যে সমাজের অবক্ষয় দেখতে হয় একজন ভাইকে অসহায় ভাবে, নিথর করে দেয় শত শত জীবনকে সেই সমাজ ব্যবস্থা কবে, কিভাবে বদলাবে তা কেবল সময়ের অপেক্ষা।
প্রতিনিয়ত ঘটে যাওয়া, ঘটতে থাকা এমনই অতি সাধারন ঘটনাগুলি অসাধারণ হয়ে ফুটে উঠেছে লেখক সুপণ শাহরিয়ারের কলমের ছোঁয়ায়। লেখকের সংলাপ রচনার বৈচিত্রতা আমার ভালো লেগেছে। অসাধারণ শব্দশৈলীতে একধরনের সম্মোহনী শক্তিতে গল্প বলে যাবার দক্ষতা রয়েছে লেখকের। গল্পের কাহিনী, ঘটনা প্রবাহের প্রয়োজনেই নারী পুরুষের সম্পর্কের কথা লেখক সহজ সাবলীলভাবে বলে গেছেন এবং খুব স্বাভাবিকভাবেই জীবনের বাস্তবতাকে তুলে ধরতে চেয়েছেন প্রতিটি গল্পে।
শুভ কামনা রইলো লেখক সুপণ শাহরিয়ার-এর জন্য।
হিমেল রহমান
রিভিউ লিখতে ভালোবাসি। কিন্তু যখন রিভিউ লেখার ভাষা-ই থাকে না, তখন কী দিয়ে শুরু করা উচিত? এটা ঠিক রিভিউ নয়, শুধু একটু অনুভূতির বহিঃপ্রকাশ। ভবঘুরে একটা ছেলের জীবনের উপাখ্যানের একাংশ দিয়ে 'জোছনাবন্দী'র শুরু। নিজের জীবনের কিছু খণ্ড ঘটনার সাথে মিল পেয়ে আকৃষ্ট হই, এরপর থেকে পরের বইটার অপেক্ষা করেছিলাম। গল্পগুলো কাঁদিয়েছে, ভাবিয়েছে। চলমান জীবনের অপ্রকাশিত আর আড়ালের গল্পগুলো এত কাছ থেকে আর এত সুক্ষ্ণভাবে বর্ণনা করেছে যে, ওগুলোকে ঠিক গল্প মনে হয় না। মনে হয় আমাদেরই কথা, চোখে আঙুল দিয়ে প্রতিটা গল্পে জীবনকে দেখিয়েছে। আমি কী লিখব বুঝতে পারছি না।
আর কিছু হোক বা না হোক, ভাইয়া অবশ্যই তাঁর অভিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছবেই ইনশাআল্লাহ !
আমি অনেক পড়ি, যাদের বেশির ভাগই [থৃলার, ফ্যান্টাসি, ভৌতিক বা রিলেটেড সব] কৌতুহল আর ভালো লাগা থেকে। আর ভালোবাসা থেকে পড়ি কয়েকজনের লেখা [অন্যতম তরী, প্রসেন, সুপণ, শোভন]..
যখন গল্প মানেই রোমান্টিক, থৃলার আর কল্পনা-তখন বাস্তববাদী কথাগুলোকে অবলীলায় বলে সত্যি সত্যিই লেখকের দায়িত্ব পালন করেছে। আর হলফ করে বলতে পারি, ভাইয়া নিজের সৃষ্ট লেখার ধরণেই বড় হবে-অনেক বড়।
.
জীবনধর্মী গল্পগুলোর প্রকৃত স্বাদ পেয়েছি তরী ভাইয়া আর Shupon [সুপণ] ভাইয়ার গল্প থেকে। গুলিয়ে ফেলছি সব। একটাই কথা, 'অন্তর্ডুব' বইটি পড়ে দেখুন।
রফিকুল ইসলাম রিপন
আবছা অন্ধকার ঘর, একটি শূন্য চারপায়ী, হুমড়িয়ে পড়া তীক্ষ্ণ কিন্তু মোলায়েম একগুচ্ছ আলোক রশ্মির অবাধ বিচরণ আর ঝুলে থাকা এক জোড়া পা-একাকিত্ব ! প্রচ্ছদের গভীরতা একটা অন্যরকম আবেশ জড়ানো। জীবনের প্রতি বিতৃষ্ণা আর জীবন নামের কণ্টকিত পথে ক্রমাগত হারতে হারতে যাঁর পথ চলা-জীবনকে তাঁর চেয়ে বেশি কে জানে? হোছট খাওয়া জীবনের উপাখ্যান নিয়ে ইতোমধ্যেই লিখেছেন 'জোছনাবন্দী'। আকস্মিকভাবেই জায়গা করে নেয় পাঠক হৃদয়ের গহীন থেকে গহীনে। সাহিত্যের কানাকড়ি অর্জন করা আর একটা যুদ্ধক্ষেত্রে নিজেকে টিকিয়ে রাখা-দুটোই একই সূত্রে গাঁথা। পার্থক্য শুধু 'মসি' আর 'অসি'।
জীবনের একাংশ আর তার বিস্তৃত মর্মস্পর্শী ঘটনাপ্রবাহ-লেখকের দ্বিতীয় প্রয়াস 'অন্তর্ডুব'। আকারে খুব বড় না হলেও কয়েকটা পাতা জুড়েই পাঠককে মুগ্ধ করতে, ভাবাতে একের পর এক অনবদ্য গল্প রচিত হয়েছে, পুরোটাই এক টুকরো জীবন।
পিতৃগৃহ থেকে প্রেম নামক এক নমনীয় কিন্তু অসীম শক্তির টানকে উপেক্ষা করে বাইরে পা বাড়ানো মেয়েটির প্রতি কেবল ঘৃণা আর রাগ থাকে-ব্যক্তি, পরিবার আর সমাজের। ক'জনই দেখি সেই মেয়েটির ভবিষ্যতের ছক আঁকার যুদ্ধ? চাইলেই সে না পারে পিতৃগৃহে পা রাখতে আর না তো সব ভুলে কারো বুকে মাথা রাখতে। এক অমীমাংসিত দোরগোড়ায় এসে শেষে স্বামীর মাঝেই নিজেকে একটু একটু করে ছোট করে স্নেহপিপাসী হয়ে ওঠে। বলছিলাম 'স্নেহ' গল্পটি নিয়ে।
.
শিক্ষাজীবনের প্রাথমিক ধাপটা শুরু হয় পরিবার থেকে। মানবিক মূল্যবোধ, উন্নত মানসিকতা আর যথার্থ চারিত্রিক বিন্যাস। জগৎ সংসারের অদৃশ্য কিন্তু সুনিয়ন্ত্রিত এক 'আবর্তে' মূলের দিকেই যায় প্রতিটি জীবসত্তা। নীচ মানসিকতার কিছু মানুষের হীনতার গল্প, স্বামীগৃহে নিজেকে পতিতাপল্লীর এক আকর্ষণীয় রমণী করে তোলার যুদ্ধ, অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার আপ্রাণ প্রচেষ্টা নিয়ে গল্প 'আবর্ত'। সাধারণ পাঠকের চোখে গল্পটির বিষয়বস্তুকে নিতান্তই সাধারণ মনে হতে পারে। রূপক নামকরণ, পরিপূর্ণভাবে প্রাত্যহিক জীবনের সাথে সামঞ্জস্যতা, ভাষাগত দিক থেকে পর্যন্ত ব্যক্তিপর্যায়ের মিলবিন্যাসের বিবেচনায় চমৎকার কিংবা তর্কের জায়গায় থাকবে 'আবর্ত'।
.
নারী উত্তক্তকরণ-একটি ঘৃণ্য সামাজিক ব্যাধি। যার প্রভাবে তিল তিলে করে ঝরে পড়ে ঘুণে ধরা একটি পরিবার। হীন মানসিকতার এসব মানুষের মুখোমুখি হওয়ার আরেক নাম 'ভুল'। আর সেই ভুল শুধরানো কিংবা শাস্তিস্বরুপ বেছে নিতে হয় একটাই পথ...
লোকলজ্জা আর ঘৃণা থেকে পরিত্রাণ পেতে একটি মেয়ের আর্তনাদ নীরব থেকে নীরবতর হওয়ার গল্প 'অন্তর্ডুব'।
.
নারী হয়ে জন্ম নেয়ার আরেক রহস্য কি রূপ যৌবনে কেবল পুরুষকে আকৃষ্ট করা কিংবা লালসার শিকার হওয়া? আর যখন একটু একটু করে ধর্মীয় অনুশাসন মানার কথা আসে, তখন মনের দিক থেকে সেটাকে কতটা গ্রহণ করে একটি মেয়ে? 'আয়নামুক্তি'র বাচনভঙ্গি, বাস্তবতার সাথে মিল গল্পটিকে একটি অনন্য জায়গায় রাখলেও বলবো-লেখক চাইলে একটি ইতিবাচক সমাপ্তি দিতে পারতেন।
.
পৃথিবীতে আগমনের প্রথম থেকেই আমরা মুখোমুখি হচ্ছি কিছু অনাকাঙ্খিত, চরম আকাঙ্ক্ষিত বাস্তবতার। সৃষ্টির সূচনালগ্ন থেকেই ভিন্নতর জীবন প্রবাহ বিদ্যমান আজ অবধি। একেকটি অবস্থানে সৃষ্টিকর্তা একেক টুকরো জীবন রেখেছেন। অক্ষম বাবা আর পরিবারের বোঝা মেয়েটির স্বামীর সংসারে অনিশ্চয়তা নিয়ে টিকে থাকার লড়াই, মানবিকতা থেকে পাশবিকতায় রূপান্তর, অকথ্য গালি সহ্য করে জীবনে সংগ্রামে টিকে থাকার গল্প, দরিদ্রতার কষাঘাতে স্কুলবয়সী ছেলের চায়ের কাপের সাথে সমান্তরাল জীবন আর মায়ের সম্মান নিয়ে কথা বলায় গর্জে ওঠা ভীতু মানুষের ক্ষণিকে নিশ্চুপ হয়ে যাওয়া নিয়ে 'ঈশ্বর এবং কয়েকটি মানবচিত্র'।
.
বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে সবার কাছে বোঝা হয়ে ওঠার পর নিজেকে নিতান্তই তুচ্ছ মনে হয়। তখন একাকী পৃথিবীতে একটু সহানুভূতি পরম কাম্য আর হুটহাট মাথা গরম করে কর্তৃত্ব ফলানো পরম কম্ম হয়ে ওঠে, সেটা কখনো কখনো হয় চরম ভুল। তখন সত্যিই নিজেকে 'মেয়াদোত্তীর্ণ' মনে হয়, গল্পটি 'মেয়াদোত্তীর্ণ'।
.
মায়া-জগতে বেঁচে থাকার লড়াই কিংবা মৃত্যুকামী হয়ে ওঠার একমাত্র কারণ। ভার্চুয়ালের বদৌলতে একটু একটু করে গড়ে ওটা প্রণয় কাহিনি, পরস্পর সন্ধি, পরিণয়ে আবদ্ধ হওয়া আর তারপর অনাকাঙ্খিত বিবাদে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার গল্প-তারপর পুনরায় আলিঙ্গনে আবদ্ধ হওয়া, চক্রাকারে এক দুষ্টমিষ্টি প্রেম আর মাঝে জীবন নিয়ে লেখা 'মায়া' গল্পটি। এরই মাঝে পাঠকের চোখ ঝাপসা হয়ে আসবে অনেকবার, প্রতিবারই মুছতে হবে পরের গল্পের জন্য। 'মায়া' গল্পের পরপরই সমাপ্তি আর পাঠকের গহীনে একটা মৃদু আলোড়ন।
.
**নিজের মতামত: তার্কিক ব্যক্তি 'তক্ষক'কে 'টিকটিকি' বলে মানতেও নারাজ হন। বইটি বাস্তবিকভাবেই প্রাত্যহিক জীবনপ্রবাহ নিয়ে। তাই প্রয়োজনে কিছু শব্দের প্রয়োগ, বিন্যাস-বিশেষ করে যৌনতা ব্যাপারটাকে সুনিপুণভাবে তুলে ধরাকে অনেককেই খারাপ চোখে দেখতে পারেন। তাঁদের জন্য একটাই কথা; যখন জীবন নিয়ে লিখতে হয়, তখন সেটা হতে হয় এক টুকরো জীবন। সেখানে কাব্যিকতার ছড়াছড়ি জীবনধর্মী না হয়ে কবিদের খোরাক হয়, লেখক সেদিকটা ভেবেই জীবনকে তুলে ধরতে চেয়েছেন। কেবলই আমার, একজন সাধারণ পাঠকের মত।
নিঃশঙ্ক অনল (ফেসবুক-নাম)
উদীয়মান এই গল্পকার নিজ অভিজ্ঞতার আলোকে জীবনবোধের যে মাত্রা ছঁুয়েছেন তা সত্যিই বিস্ময়ের উদ্রেক করে । লিখনশৈলীর অনন্যতা , শব্দচয়নে পটুত্ব আর সাবলিল উপস্থাপনয় পাঠক হৃদয়ে ঠঁাই করতে পারবেন বলে আমার বিশ্বাস ।
.
এবার বিভিন্ন গল্প সম্পর্কে একটু আভাস দেওয়া যাক ।
.
'স্নেহ'
এক তরুণ দম্পতির কথোপকথন দিয়ে গল্পটা শুরু । শুরু থেকে শেষ অবধি যেটা মনে করিয়ে দেয় সেটা তাদের হৃদয়ের অটুট বন্ধনের কথা । এই দুজন নিজেদের হৃদয়-পথের যোগাযোগ অবিচ্ছিন্ন রাখতে গিয়ে মেয়েটাকে তার পরম প্রিয় আপনজনের সাথে যোগাযোগের ইতি টানতে হয়েছে । কিছু পেতে গেলে কিছু ছাড়তে হবেই । আরও যেটা মর্মস্পর্শী সেটা সুশানের অনাবিল ভালোবাসা আর গভীর মমত্ববোধ প্রেয়সীর প্রতি । আজকাল যেটা কাব্য উপন্যাসেই কেবল পেয়ে থাকি ।
.
.
'অন্তর্ডুব'
অন্তর্ডুব গল্পটার সার্থকতা এখানেই নিহিত --- এটা সমাজের এক চিরাচরিত আখ্যান চিত্রের নিদারুণ মর্মভেদী বাস্তবতাকেই বুকে ধারণ করে আছে ।
.
নারী যে চিরকালের অবহেলিত আর নিষ্পেসিত তারই সার্থক চিত্রায়ন এ গল্প । মাংস , এই মাংসের প্রতি মনুষ্যকুলের যে লোভ তা পশুকুলের চেয়েও ঢের বেশি । মাংসাশী নরকুলের তৈরি যূপকাষ্ঠের বলি হতে হয় এক নিরুপায় বোনকে । আর ভাই হয়েও যে বোনের এমন আত্মহননকে ঠেকাতে পারে নি --- এর মতো অসহায়ত্ব আর কী হতে পারে !
.
.
'ঈশ্বর এবং কয়েকটি মানবচিত্র'
লেখনীর অমরত্ব তখনই আসে যখন সে জীবনের অতি দরদে লালিত আবেগ অনুভূতির বাণীরূপদানে যথেষ্ট সচেতন । অস্পৃশ্য আর নিপীড়িত শ্রেণির অন্তর্যন্ত্রার এক খন্ডচিত্র লেখক প্রগাঢ় মমতায় অংকিত করেছেন ।
.
জীবিকার দায়ে প্রতিটা মানুষই নানা রকমের বিভিন্ন মাত্রার নিগ্রহ এবং দুর্ভোগ সহ্য করে । তারই রূপায়ণ এ গল্প।
.
ময়না চরিত্র এ সমাজের সেই হতভাগিনীর যার মর্মভেদী আত্মহাহাকার কেবলই অবহেলা পায় --- সেটা হোক স্বামী কিংবা বাবার সংসারে ।
.
বারেক মাঝির মাতৃভক্তির যে পরাকাষ্ঠা দেখতে পাই তা সত্যিকার অর্থে শ্বাস কেড়ে নেওয়ার মতো । সে জানে কী পরিণতি হবে --নরপিশাচ হানাদার বাহিনীর সাথে এহেন প্রতিবাদের । তারপরও বলিষ্ঠ এ প্রতিবাদ তার অনন্য সত্বার পরিচয় বহন করে ।
.
.
'মেয়াদোত্তীর্ণ'
বাইরের অবয়ব যেখানে তারুণ্য আর যৌবন হারিয়েছে সেখানে ভেতরের তারুণ্য তেমন তাল মেলাতে পারে না । তাল মেলাতে গেলে বাইরের অবয়বেরও সমান সাড়া প্রয়োজন । ভেতর-বাইরের এই যুগপৎ বোঝাপড়াতেই দেহঘড়ি কার্যত সচল।
.
মেয়াদোত্তীর্ণ আমাদের এরকমই ইঙ্গিত দেয় । বৃদ্ধ তার নশ্বর দেহের সকল চলৎশক্তি সামর্থ্যই হারিয়ে অকেজো , বোঝা পরিবারের সবার কাছে। এ চির অমোঘ নিয়ম খন্ডনের ক্ষমতা মানুষকে দেওয়া হয় নি ।
.
.
'মায়া'
মায়ার বঁাধন রক্তের বঁাধনকেও হার মানায় । মায়াজাল ছিন্ন করে অন্য সম্পর্কে জড়ানোটা প্রায় অসম্ভব ই ।
.
আনমনা আর অভিক তাই ই পাঠককে মনে করিয়ে দেয় আরেকবার । লেখক বিভিন্ন ঘটনার মধ্য দিয়ে বিচিত্র অনুভূতির নিশ্ছিদ্র বন্ধনে আবদ্ধ মানব মানবীর প্রণয়লিলা সার্থকভাবে উপস্থাপন করেছেন ।
.
প্রণয়গ্রন্থি যদি একবার আঁটসঁাট গঁেথেই যায় সাধ্য কি তুচ্ছ মানুষের তার মোহাবেশ কাটিয়ে ওঠার !
.
মানুষ কতবার ই তো আত্মহননের চূড়ান্ত সীমায় এসেও ফিরে যায় বারবার ---এতটাই গ্রন্থি ; একটাই বন্ধনে আবদ্ধ আমৃত্যু ; মায়া নামক মরীচিকার শৃংখলে ।
.
.
.
এই তরুণ লেখকের লেখনীর দীর্ঘায়ু কামনা করছি । সেই সাথে পরবর্তী গ্রন্থ পাঠের প্রত্যাশা ।
কামাল আহমেদ
তরুণ গল্পকার সুপণ শাহরিয়ার এর দ্বিতীয় গল্পগ্রন্থ "অন্তর্ডুব"। খুব সাধারণ, সহজ ভাষায় এঁকেছেন জীবনের চিত্র।আবর্তঃ মানুষের সমগ্র জীবনটাই একটা গোলক ধাধা। নিজের ইচ্ছায় অথবা পরিস্থিতির স্বীকার-বারবার একই জায়গায় ফিরে ফিরে আসে।
এই গল্পে পুরুষ চরিত্র তিনটি- ১। ম্যানেজার মোহাম্মদ আলী ২। গোডাউন কিপার খন্দকার মিজানুর রহমান ৩। মিজানুর পূত্র রিমন। এই তিনজনের একটাই পরিচয়- তারা পুরুষ। মানুষ না। এই গল্পে নারী চরিত্র দুটি- ১।লাইজু ২। শাহানা বেগম। ঘুরে ফিরে তাদের একটাই পরিচয়- তারা মেয়ে, মহিলা। মানুষ না। পুরুষকে খুশি রাখা, পুরুষের মনোরঞ্জন করাই তাদের কাজ, একমাত্র ধর্ম।
পুরুষ শাসিত সমাজে নারীর অসহায়ত্বের কথা, অপরাগত্বের কথা অত্যন্ত চমৎকার ভাবে ফুটে উঠেছে এই গল্পে।(এই গল্পের ৩৩ নম্বর পৃষ্ঠায় ১৭ নম্বর লাইনে লেখক বলেছেন,"... ... লেখকের হাত থেকে বেরোতে দেখলেই তাদের মাথা গরম হয়ে যায়।"
হবেইতো। যে জাতীয় কথা পাঠক অহরহ শোনে, অনেকে পরিচিত মহলে চর্চাও করে, সে কথাটা লেখকের বলাতে দোষ নেই। তবে সাধারণে
যেমন করে বলে লেখকের তেমন বলাতে করে দোষ আছে বলে আমি মনে করি। অসাধারণ ভাবে, কাব্যিক স্টাইলে, শৈল্পিকতার আশ্রয়ে বলা বা
লেখার ক্ষমতা, দক্ষতা অর্জন করেছেন বলেইতো আপনি লেখক।)অন্তর্ডুবঃ শ্রেয়ণ ইন্তেখাব নামের এই যুবক প্রতিদিন তার বুবুর সাথে কলেজে আসা যাওয়ার পথে বখাটেদের দ্বারা ইভটিজিংয়ের স্বীকার হয়।
প্রচণ্ড রাগ, জিদ লাগা স্বত্ত্বেও তারা ঐ বখাটেদের কিছু বলে না। একদিন শ্রেয়ণ অসুস্থ হলে তার বুবু একাই কলেজে যায়। ওইদিন ফেরার সময় একটা ঘটনা ঘটে যায়- বখাটেদের একজনের গালে চড় লাগায় শ্রেয়ণের বুবু। ফলস্বরূপ, পরেরদিন বখাটেরা বুবুকে তুলে নিয়ে যায়। সারারাত আটকে রেখে ধর্ষণ করে বুবুকে। অপমান-জ্বালা সইতে না পেরে বুবু গলায় ওড়না পেঁচিয়ে সিলিং ফ্যানের সাথে ঝুলে পড়ে। সূত্রপাত হয় একটি হৃদয়বিদারক গল্পের---"সিলিং ফ্যানের সাথে ঝুলে আছে বুবুর নিষ্প্রাণ শরীর। পায়ের পাতা দুটো ঝোলানো শূন্যে, বেড থেকে ঠিক চার আঙুল উপরে। তাঁর শরীরে নীল- সাদা রঙের সালোয়ার কামিজ।নীল কামিজের একটা প্রান্ত মৃদু বাতাসে উড়ছে, মৃদু মৃদুই উড়ছে।নাকের বাঁ ছিদ্র থেকে বেরিয়ে নিচের দিকে নেমে এসেছে একটা চিকন রক্তের ধারা, আপাতত জমাট বেধে খয়েরী বর্ণ ধারণ করেছে সে রক্তের ধারা। ..."আয়নামুক্তিঃ ড্রেসিং আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে খুটিয়ে খুটিয়ে দেখা, আয়নায় প্রতিফলিত মূর্তির সাথে কথা বলা প্রিতুর শখ। প্রতিদিন গভীর মনোযোগের সাথে এই কাজটি করে সে। প্রতিদিন কলেজ আসা যাওয়ার পথে সে লক্ষ্য করে- পুরুষেরা কামার্ত চোখে তার দিকে তাকিয়ে থাকে। বাস্তবে সম্ভব না হলেও কল্পনায় তাদের লালা সমৃদ্ধ জিহ্বা দিয়ে চাটতে থাকে প্রিতুর আপাদমস্তক। বোরখা জিনিশটা প্রিতুর একদম পছন্দ না। তবুও মায়ের আদেশ, অনুরোধে এবং পরিস্থিতি বিবেচনা করে প্রিতু একদিন তার সুন্দর শরীরটাকে কালো বোরখায় ঢেকে ফেললো।
প্রিতু যেদিন থেকে বোরখা পড়া শুরু করলো সেদিন থেকে তার প্রতিবিম্বটা তার সাথে আর কথা বলে না। কিন্তু সে তার অবয়বটাকে ক্রমাগত জিজ্ঞেস করে যেতেই থাকলো। অবয়বটা কোনো জবাব দিলো না। একদিন বরং উল্টো প্রশ্ন করে বসলো,"তুই আয়নার সামনে এসেছিস কেনো? সবাই আয়নায় নিজের চেহারা দেখতে আসে, নিজের সৌন্দর্য
দেখতে-তুই কী দেখতে এসেছিস? কী দেখতে এসেছিস- নাক? ঠোট? চিবুক? চোয়াল? গ্রীবা? বুক? কোমর? নিতম্ব? এখন তোর কিচ্ছু নেই..."
প্রিতুর অসুখটা তখন থেকেই শুরু হলো- ক্রমেই সে মানসিক ভারসম্য হারাতে শুরু করলো। তার বারবার মনে হতে লাগলো, কেন তাকে সৃষ্টিকর্তা এত রূপবতী করে সৃষ্টি করলেন? আর সেই রূপ কেন তাকে ঢেকে ঢুকে সবার দৃষ্টির আড়াল করে রাখতে হবে? একদিন দেখা গেলো-সাদা ধবধবে শরীরের প্রিতু নামের এই মেয়েটি সম্পূর্ণ বিবস্ত্র হয়ে একটা ধাতব দণ্ড হাতে নিয়ে ফুপিয়ে ফুপিয়ে কেঁদে চলছে এবং গভীর একাগ্রতা নিয়ে ভেঙে চলেছে ড্রেসিং আয়নার গ্লাস। *ইভটিজিং, যৌন হয়রানি বন্ধে নারীর যেমন পর্দা করার প্রয়োজন আছে, তেমনি প্রয়োজন আছে পুরুষের চোখ এবং মনের পর্দার। তবে আমাদের সমাজ শুধু নারীর শরীরের
পর্দার কথাই বলে থাকেন। যে পুরুষ কুদৃষ্টি নিয়ে নারীর দিকে তাকালো তার কোনো দোষ নেই। সব দোষ নারীর। তার চেহারা সুন্দর কেন? পুরুষ নিজে থেকে তার দৃষ্টিভঙ্গি না বদলালে
নারীর শরীরের পর্দা তার দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে পারবে না।ঈশ্বর এবং কয়েকটি মানবচিত্রঃ নিজের মা'কে নিয়ে কেউ আপত্তিকর কথা বললে, গালিগালাজ করলে তা যে কারো জন্যই অসহ্যকর, অপমানজনক একটা বিষয়। স্বাধীনতার ৪৫ বছরে
পা রেখেও একটি জায়গায় আমরা পরাধীন রয়ে গেছি। ঘৃণ্য পাকিস্তানিদের সাথে একটি জায়গায় আমাদের বড্ড মিল। বিষয়টা আমাদের জন্য বিরাট লজ্জার। কোন জায়গায় মিল সেটা আমি বলবো
না? সব বলে দিলে আর মজা রইলো কই? শুধু বলবো পাঠক গল্পটি পড়ুন।মেয়াদোত্তীর্ণঃ মানুষ আসে মানুষ যায় পৃথিবীর নিয়ম। মায়ের কোল জুড়ে আসা শিশুটা একদিন বড়ো হয়। ধনে, জ্ঞানে, বিদ্যা-বুদ্ধিতে, ক্ষমতায় অপ্রতিরোধ্য, পৃথিবীতে অত্যাবশ্যকীয় একজন হয়ে ওঠে।
কিন্তু এই পৃথিবীতে কোন কিছুই নশ্বর না। সব কিছুর প্রয়োজন একদিন ফুরায়। অতি ক্ষমতাবান মানুষটাও একদিন তার সব ক্ষমতা হারায়। পৃথিবীতে তার প্রয়োজন ফুরায়। তার জায়গায় আরেকজন আসে।
এভাবেই চলছে পৃথিবী, চলবে ।মায়াঃ আনমনার সাথে তার স্বামী অভিকের ঝগড়া হয়েছে। যেনতেন ঝগড়া না- আজ ওদের ছাদটাই আলাদা হয়ে গেলো।
অভিক তার শেষ কর্তব্য হিসেবে একটা রিকশা দাঁড় করিয়ে আনমনাকে তুলে দিলো। দুজন চলে গেলো দু দিকে।
এবার লেখক কী করলেন- পাঠককে বসিয়ে দিলেন বিচারকের আসনে। প্রথমে শুরু হলো আনমনার জবানবন্দি নেয়া-তারপর অভিক। এবার পাঠিক হয়তো কিছু একটা রায় দিবেন। কিন্তু অভিক আর আনমনা
সে সুযোগ পাঠককে দিলো না। তারা ফিরে এলো একে অপরের কাছে। সম্ভবত এরই নাম মায়া। এ কেমন মায়া? কেমন যাদু? জানতে হলে পড়তে হবে মায়া।বাংলা সাহিত্যাকাশে সুপণ শাহরিয়ার এর উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করছি।
মাহাথির তুষার
https://www.facebook.com/mahatir.tu...
অন্তর্ডুব বইটা পড়তে আমার আড়াই ঘন্টা লেগেছে। রাত সাড়ে এগারোটার দিকে বসেছি, আরেকবার একটার দিকে উঠেছি। মাঝখানের সময়টায় আপনি আমাকে ডুবিয়ে রেখেছেন মোটা কাভারের একটা কালো প্রচ্ছদের বইয়ে। গ্রন্থভুক্ত সবগুলো গল্পই খুব ভালো লেগেছে। আপনি সমাজের এককেটা দিককে তুলে ধরেছেন। আমাদের ঈশপ আপনি। গ্রন্থভুক্ত "আয়নামুক্তি", "আবর্ত", "মেয়াদোত্তীর্ণ", "মায়া".... এগুলো অনন্য সাধারণ সৃষ্টি। মায়া পড়ে ভেতরে অদ্ভুত এক আনন্দ আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছি। মেয়াদোত্তীর্ণটা চোখ দুটোকে ঝাপসা করে দিয়েছে। আবর্তের শেষ দিকে পরিবারের ব্যাপারটা যেনো আমাদের অনেকের সাথেই মিল রয়েছে।
সর্বোপরি, প্রত্যেকটা সিড়ি বেয়ে উঠে যাচ্ছেন আপনি আর ক্রমে আলোকিত হচ্ছেন। শত শত হাজার কোটি শুভ কামনা রইলো।
ভালো রিভিউ দিতে পারি না। দেবার খুব ইচ্ছা থাকলেও জ্ঞান স্বল্পতা আর সাহিত্যে হাত দূর্বল থাকায় এরকম একটা বইয়ের রিভিউ দেয়া আমার পক্ষে অসম্ভব।তৃপ্তির একটা ঢেকুর তুললাম বইটা পড়ে। বইয়ের অলংকরণের ধরন যেমন অনন্য সাধারণ, তেমনি লেখকের প্রত্যেকটা গল্পই অসাধারণ। প্রত্যেকটা গল্পই সমাজের কোনো একটা দিককে তুলে ধরেছে। তাঁর "জোছনাবন্দী" বইটা যেমন আমাকে কয়েক ঘন্টা বন্দী করে রেখেছিলো, তেমনি তাঁর "অন্তর্ডুব" বইটা আজ কয়েকটা ঘন্টা আমাকে ডুবিয়ে রেখেছে। বিশেষত,
গ্রন্থভুক্ত "আবর্ত", "আয়নামুক্তি", "মেয়াদোত্তীর্ণ", "মায়া" এবং "স্নেহ" গল্প ভিন্ন ভিন্ন স্বাদ দিয়েছে। পড়তে পড়তে একবারও মনে হয়নি, এটা কোনো নতুন লেখকের বই। গল্পের প্রকাশভঙ্গি আর শব্দগত অলংকরণের ধরণ দেখে বারবারই মনে হয়েছে, বুড়ো কোনো ফেমাস রাইটারের বই পড়ছি।
তাঁর জোছনাবন্দী বইয়ের পর এবার অন্তর্ডুব।
যেন, আমাদের নেত্রকোনার বালিশ আর বগুড়ার দই...দুটো তৃপ্তিসহকারে খেয়ে এখন দাঁত খিলি করছি।একজন বইপোকা হিসেবে সাজেস্ট করতে পারি, চোখ বুজে বইটা কিনে বাড়িতে কয়েক ঘন্টা ডুবে থাকুন, তৃপ্তির একটা ঢেকুর তুলুন।
দীপ খান
ভাই, এই বইটির প্রতিটি ছোট গল্পের টপিকস আমাদের সমাজকে, আমাদের দৃষ্টিভংগিকে নাড়া দিয়ে গেছে প্রবল ভাবে।..... লিখতে থাকুন।
আহমেদ মাশরাফী
তৃপ্তির ঢেকুর তুলে এক নতুন লেখকের লেখা দ্বিতীয় বই শেষ করলাম|
বইয়ের নাম: অন্তর্ডুব।
লেখক: সুপণ শাহরিয়ার।
আমার নিজের একটা খারাপ দিক আছে-সেটা হলো, লাইব্রেরীতে গেলেই বিখ্যাত লেখকদের বই খুঁজি| ইচ্ছা হলে যা একটু অখ্যাতদের অদ্ভুত অদ্ভুত নামের বইগুলোর পাতা উল্টাই|
সুপন শাহরিয়ারের প্রথম বই "জোছনাবন্দী" মেলায় এম্নিতেই বই হাতড়াতে হাতড়াতে হাতে এসে গিয়েছিলো| প্রথম বইটি পড়েই লেখককে চিনে নিয়েছিলাম| একেকটা গল্প অসাধারণ| কিছু গল্প কাঁদিয়ে দিয়েছে| কাকতালীয়ভাবে দেখি আমার এক মামাতো ভাইয়ের সাথেও লেখকের ভালো যোগাযোগ| সেই ভাইটির কাছ থেকে আজ সকালের দিকে "অন্তর্ডুব" বইটা পেলাম| মেলায় যেতে পারিনি, কিন্তেও পারি নি|
পুরোটা বই বলা যায় এক নিঃশ্বাসে পড়লাম| দুইয়েকটা গল্প মনটাকে প্রচন্ড খারাপ করে দিয়েছে|
কি বলবো আর, কে জানে লাইব্রেরীর হুমায়ূন-জাফরের বইগুলির ফাঁকে ফাঁকে আর কত সুপন শাহরিয়ার বসে আছে|
বইটা মন ছুঁয়ে গেলো| বইয়ের একেকটা গল্প একেকভাবে নিজেকে আলোড়িত করেছে|
সাথে আছি, সুপন শাহরিয়ার| আছি, হাজারো নতুন লেখকদের পাশে| ওদের মধ্যেও ঘুমিয়ে আছে হাজারো হুমায়ূন, হাজারো শরৎ- সুপন আমাদের হাতে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন।
ফারহানা আফরোজ
একুশে ফেব্রুয়ারি উদযাপন উপলক্ষে নানা আয়োজনে স্কুল থেকে আজ দেরীতেই ফেরা হল। ক্লান্তিতে ভেঙে পড়েছি একেবারেই। মাত্র খেতে বসেছি এমন সময় ফোন এলো স্কুল থেকে, আমার নামে বই এসেছে সুদূর খুলনা থেকে। জানি প্রিয় গল্পকার সুপণ শাহরিয়ার বই পাঠাবে। বললাম রেখে দিতে, শনিবার নেবো। কিন্তু ফোনটা রাখতেই মনে হলো এ যে "অন্তর্ডুব"! এই বইয়ের অপেক্ষায় আমি কী করে দীর্ঘ শুক্রবার কাটাবো? আবার ফোন দিলাম, স্কুল কতক্ষণ খোলা থাকবে? জানালো পাঁচটা পর্যন্ত। বললাম আসছি। ব্যস কোথায় গেলো ক্লান্তি!!! খাওয়া, নাওয়া সেরে দিলাম ছুট। অতঃপর বই এখন আমার হাতে। ছাত্রীর বাসায় বসে পোস্ট লিখছি। এরপরই পড়া শুরু। নিঃসন্দেহে ভাল লাগার মুহুর্ত। আর বইটি সম্পর্কে আগে থেকেই জানা, অসাধারণ মানবিক কিছু গল্প এতে লিপিবদ্ধ আছে, যা প্রত্যেকেরই মন ছুঁয়ে যাবে।
ধন্যবাদ সুপণ শাহরিয়ার।
কাওসার পারভীন
"নীহাকে খাইয়ে দিতে দিতে অন্য অন্য দিনের মতো সুশানের রাগ কখন যে পড়ে গেছে ! ঠিক এ মুহূর্তে সুশানের রাগ পানি হয়ে গেছে"... "
"পরদিন ভোরে দাদুকে খুঁজে পাওয়া গেলো আমাদের পুকুরে সিঁড়ির গোড়ায় ভেসে উঠেছিল দাদুর মৃত শরীর" -- পড়ছিলাম লেখক সুপন শাহরিয়ারের "অন্তর্ডুব" বইটি। আজই হাতে পেলাম। লেখকের "জোছনাবন্দী" বইটিও পড়েছিলাম। আমি জানি এবং আমার বিশ্বাস "জোছনাবন্দী"র মতো এই বইটিও পাঠকপ্রিয়তা পাবে। অসাধারণ শব্দ শৈলীতে এক ধরনের সম্মোহনী শক্তিতে গল্প বলে যাবার দক্ষতা রয়েছে লেখকের। অমর একুশে গ্রন্থমেলায় বইটি পাওয়া যাচ্ছে। "অন্তর্ডুব" বইটির সাফল্য কামনা করছি। অনেক অনেক শুভ কামনা রইলো লেখক সুপন শাহরিয়ারের জন্য।
হিমু আহমেদ জুবেল
বিকেলেই কুরিয়ারের দোকান থেকে বইটা নিয়ে আসি। বাসায় ফিরেই আমি #সুপণ ভাইয়ের দ্বিতীয় গ্রন্থ "অন্তর্ডুব" এ ডুবে যাই।
#অন্তর্ডুব একটা গল্পগ্রন্থ। যাতে মোট সাতটা গল্প আছে। এটার কয়েকটা গল্প সম্পর্কে কিছু বলতে ইচ্ছে হচ্ছে।
#স্নেহ
বইটির প্রথম গল্প স্নেহ। গল্পটা খুব ভালো লেগেছে। সুশান আর নীহা নামের প্রেম করে পালিয়ে বিয়ে করা দম্পতিকে নিয়েই গল্প। নীহা পালিয়ে বিয়ে করার কারণে তার বাবার স্নেহ ভালোবাসা থেকে হয়ত চিরজীনের জন্য বঞ্চিত হয়ে যায়। কিন্তু এখনো নীহার চোখের সামনে ভেসে উঠে তার বাবার স্নেহ। সেই স্নেহটা সে খুঁজে তার স্বামীর কাছে ।
#অন্তর্ডুব
এই গল্পটার নামেই গল্পগ্রন্থটির নাম। গল্পটা সত্যি অসাধারণ। কেমন ভালো লাগছে তা বলতে পারব না।
এতে উঠে এসেছি আমাদের সমাজের কিছু বিভৎস্য চিত্র। তেমনি এটিতে প্রকাশ পেয়েছে এক তরুণ লেখকের লেখক স্বত্তা। একজন লেখকের মাথায় যখন গল্প চলে আসে তখন সে কোন অবস্থায় বা কোন পরিবেশে আছে সেটা মাথায় না নিয়েই সে গল্প লিখে যায়।
#ঈশ্বর_এবং_কয়েকটি_মানবচিত্র
এই গল্পটাও খুব খুব ভালো লেগেছে। আমাদের সমাজের মনুষ যেকোনো কারণে কারো মাকে উদ্দেশ্য করে পৃথিবীর নিকৃষ্টতম গালি দেয়। আর সেই গালি শুনে অন্য মানুষটা নিরব থাকে। গালিদাতাকে কিচ্ছু বলে না হয়ত চাকুরি চলে যাবে এই ভেবে, মার খাবে এই ভেবে। আমাদের মধ্যে যখন অবস্থা তখন লেখক বারেক মাঝিকে ফুটিয়ে তুলেছেন এক প্রতিবাদী চরিত্রে।.....
#মায়া
অনেক কমন একটা প্লট নিয়ে গল্পটা লিখা। লেখনী আর বর্ণাতেই শুধু বৈচিত্র্য পরিলক্ষিত হয়েছে। সত্যি বলতে কি গল্পটা আমার তেমন ভালো লাগেনি।
এখন লেখক সম্পর্কে কিছু কথা বলি :
ভাইয়ের লেখার হাত দারুন। আর দোয়া করি তিনি আরো অনেক বড়ো হবেন। দোয়া করি উনার ফেসবুক আইডিতে About me তে লেখা শেষ লাইটা "নন্দিত কথাশিল্প স্বার্থক নাট্যকার প্রখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা সুপণ শাহরিয়ার আর নেই " লেখকের এমন প্রার্থনা যেনো বাস্তবে হয়।
[ নির্মাণাধীন ]
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now