বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
লাশ
"রহস্য" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Md Jewel (০ পয়েন্ট)
X
>লাশ……
-
কিছুক্ষণ আগে অকারণেই নীরাকে খুন করেছে রাজ। আসলে রাজের মাথায় সমস্যা আছে। ও হঠাৎ হঠাৎ মানুষ মেরে গুম করে ফেলে। বাইরে সে খুব ভালো মানুষ। কিন্তু খুনের নেশা চেপে গেলে সে অমানুষে পরিণিত হয়। নীরার কোন দোষ ছিল না। মেয়েটা সেজে গুজে বের হতে চাচ্ছিল। হাতে নীল নখপালিস, কপালে লালটিপ, মুখে হালকা মেকআপ ইত্যাদি নিয়ে সে তার ঘরে রেডি হচ্ছিল। হঠাৎই রাজ আচমকা নীরার ঘরে ঢুকে নিঃসংষভাবে ওকে খুন করে। কোন কথা বলার সময় দেয় না! সরাসরি গলাটা কেটে দেয়। তারপরেই রাজ লাপাত্তা। কে নীরাকে খুন করল, কেউ ঘুনাক্ষরেও টের পাই না……
একটু ফ্লাশব্যাক……
ঝির ঝির বৃষ্টি। শীতের শুরুর দিক। হঠাৎ কোথা থেকে যেন কাকভেজা হয়ে রফিক সাহেবের ঘরে কলিংবেল বাজায় রাজ। রফিক সাহেবের সাথে ওর পূর্ব শত্রুতা। তেমন কিছু নই, হালকা একটু গ্যাঞ্জাম কথা কাটাকাটি। তাতেই রাগ হয়ে যায় রাজের। পূর্ব খুনের অভিজ্ঞতা নিয়ে সে চলে যায় তার বাড়ি। দড়জা খোলার পরেই হাতে থাকা রোলার দিয়ে সোজা মাথায় বাড়ি মেরে দেয়। প্রথম মারেই লোকটা অজ্ঞান হয়ে মাটিতে পড়ে যায়। এর পরে তার শরিরের বিভিন্ন অঙ্গ কেটে টুকরো টুকরো করে তারই বাড়িতে ফেলে চলে যায়……
-
--আম্মু আম্মু……
চিৎকার দিয়ে ওঠে রাজ। সে খেতে বসেছিল। কিন্তু প্লেটে নীরার নীল নখপালিস ওয়ালা নখ দেখতে পেল স্পষ্ট! ভয়ে চিৎকার দিতেই তার মা ছুটে এল……
--কি হয়েছে বাবা?
--প্লেটের ভিতর ওটা কি?
--ওটা তো মুরগের হাড্ডি বাবা……
রাজ খাওয়া বাদ দিয়ে ওঠে যায়। ওর রুম আলাদা। একেবারে ছাদে। ছাদের তিন ভাগের একভাগ জিড়ে রুমটা। সে দড়জা দিয়ে ভিতরে ঢুকে যায়। হঠাৎ রাজের ফোনে আননোউন নাম্বার থেকে ফোন আসে……
--হ্যালো কে……?
--কি লাভ হল রফিককে মেরে?
--কে আপনি?
--নীরা মেয়েটার তো কোন দোষ ছিল না……
--কে আপনি?
--রোলারটা তো ফেলে আসছেন! ওটা দিয়ে যদি পুলিশ আপনার খোজ বের করে ফেলে?
রাজ ফোন কেটে দেয়। সে ঘামতে থাকে। গত দুটা মূত্যুরই সাক্ষি আছে! ওটাকেও খতম করতে হবে……
আবারও ফোন বেজে ওঠে…………
--হ্যালো……
--ফোনটা কেটে দিলেন কেন?
--কে আপনি?
--দড়জা খোল……
হঠাত দড়জায় কড়াঘাতের শব্দ পাই রাজ। সে ভয় পেয়ে যায়। ওর রুমে আসতে হলে ওদের নিচ থেকে তিনতলার ঘর পর্যন্ত সবগুলো পাড়ি দিয়ে আসতে হবে। তাছাড়া ছাদে আসার কোন ব্যবস্থা নেই। কিভাবে আসল লোকটা?
বাইরে থেকে ওর মায়ের ডাক শুনতে পাই……
--জ্বি আম্মু?
--খুলতে এত সময় লাগে?
--শুনতে পাইনি……
--ঠিকমত তো খেলি না! এই দুধটুকু খেয়ে ঘুমিয়ে পড়িস……
একগ্লাস দুধ রেখে চলে যায় রাজের মা। রাজ দুধের দিকে তাকিয়ে দেখে, একগ্লাস তরতাজা রক্ত! সে ছুরে ফেলে দেয়। রক্তে ছড়িয়ে যায় পুরো ফ্লোর। এতটুকু রক্ত কি করে যেন অনেকক্ষাণি হয়ে গেল।
আবার ফোনটা বেজে ওঠে। এবারে রিসিভ করার সাহস পাইনা রাজ। সে ভয়ে কুকরে যায়। কিন্তু ফোন একাই বলতে থাকে……
--কি হল, দড়জা খুলুন। আমাকে দেখবেন না? ড্রিল ঠিক করতে হবে না?
রাজ ফোনটা ছুড়ে মারে। ভেঙ্গে চুরমার হয়ে যায় ওর ফোন……
ঠিক তখন কারেন্ট চলে যায়। রাজ দ্রুত ড্রয়ার থেকে ওর পিস্তলটা বের করে। সে স্পষ্ট দেখতে পাই, আটকানো দড়জার ভিতর দিয়েই একটা লোক ভিতরে ডুকছে! হ্যা, অন্ধকারেও স্পষ্ট বুঝা যাচ্ছে। সে রফিক সাহেব! কিন্তু কি করে এটা হতে পারে??
রাজ গুলি ছুরে। লোকটার শরিরের ভিতর দিয়ে গুলি চলে যায়। লোকটা হাসতে থাকে। রাজের দিকে এগিয়ে আসতেই রাজ দৌড়ে পালায়……
তিনতলা, দুতলা, একতলা হয়ে গাড়ি বের করে দ্রুত স্টার্ট দিয়ে চালাতে থাকে সে। পিছনে রফিক সাহেব। আর একটু হলেই ধরবে। রাজ প্রাণপনে গাড়ি চালাতে থাকে……>
হঠাৎ গাড়ির আয়নাতে দেখতে পায়, নীরা ভিতরে বসা। গলাকাটা, হাতে বড় বড় নীল নখপালিস ওয়ালা নখ, বড় বড় দুটি চোখ। গাড়ি থামিয়ে দড়জা খোলার চেষ্টা করে রাজ। দড়জাটা লক করা। কিছুতেই খোলা যাচ্ছে না। গাড়ির সামনের কাচ ভেদ করে তার ভিতর দিয়ে ডুকছে রফিস সাহেব, পিছন থেকে নীরা রাজের গলার দিকে তার বড় বড় নখ বাড়িয়ে দিচ্ছে। রাজ চিৎকার করছে, কিন্তু গলা দিয়ে শব্দ বের হচ্ছে না। রফিক সাহেব আর নীরা উচ্চস্বরে হাসছে। খিলখিল করে হাসছে……~
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now