বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
--হ্যালো ভাইয়া!
--হ্যাঁ,ভাইয়া।বলো....!
--কেমন আছো?
--আলহামদুলিল্লাহ।তুমি কেমন আছো?
--আমিও ভালো আছি।
--মা কেমন আছে?
--ভালো আছে।
--কিছু বলবা?
--ভাইয়া......!
--হ্যাঁ,বলো কি বলবা?
--রাগ করবা নাতো?
--আরে দূর পাগল।রাগ করবো কেনো?
তুমি আমার লক্ষী ছোট ভাই না।
তোমার সাথে রাগ করবো কেনো।এখন
বলো কি বলবা?
--ভাইয়া আমার একটা শীতের জামা
লাগবে।আগেরটা ছিঁড়ে গেছে।
--তো,এতোদিন বলো নি কেনো?
--এতোদিন তো স্কুল বন্ধ ছিলো।
বাড়িতে ছেঁড়া কাপড় পরলেও সমস্যা
নেই।কিন্তু,স্কুলেতো সবাই ভালো
ভালো কাপড় পরে আসে।তাই........!
--হুমম।বুঝেছি।এখন বলো কোন রংয়ের
শীতের কাপড় আনবো?
--ভাইয়া লাল কালারের আনবা।
--আচ্ছা ভাইয়া।আমি কালই তোমার
জন্য লাল শীতের জামা নিয়ে আসবো।
--লাভিউ ভাইয়া।
--লাভিউ টু ভাইয়া।
--ভাইয়া আরেকটা কথা বলবো?
--হ্যাঁ বলো?
--তুমি আসলেই অনেক ভালো।
----->
নাহ!পাগলটার কথা শুনে আর চোঁখের
পানি ধরে রাখতে পারলাম।ফোনটা
কেটে দিলাম।ঝর ঝর করে কিছু আনন্দ
অশ্রু গাল বেয়ে টুপ টুপ করে মাটিতে
পরলো।
----->
এতোক্ষন কথা বলছিলাম আমার ছোট
ভাই মাহফুজের সাথে।মাহফুজ এবার
ক্লাস সেভেনে পড়ে। ছাত্র হিসেবে
যথেষ্ট ভালো।পড়াশোনার প্রতি
আলাদা
একটা ঝোঁক আছে তার।যেটা আমার
কাছে খুব ভালো
লাগে।
----->
আমি মাহিন।আমি যখন ক্লাস টেনে
পড়ি তখন আমার
বাবা মারা যান।তারপর টেনে-টুনে
কোন রকমে এসএসসি
পরীক্ষা দেই।তারপর আর পড়াশোনা
করতে পারি নি।বাবা
মারা যাবার পর পরিবারের বড় ছেলে
হিসেবে সব দায়িত্ব
এসে আমার কাঁধে পরে।এসএসসি
পাশের সার্টিফিকেট
দিয়ে গার্মেন্টস এ একটা চাকরি
জোগাড় করি এবং এই
চাকরি দিয়েই মা আর ছোট্ট
ভাইটাকে কোন রকমে খাইয়ে
পরিয়ে রাখছি।
----->
ছোট ভাইটাকে নিয়ে অনেক স্বপ্ন
আমার।একদিন সে
অনেক বড় হবে।
আমিতো পড়ালেখা করতেই পারিনি।
তাই আমার ভাইটাকে
পড়ালেখা করিয়ে একজন শিক্ষিত
মানুষ হিসেবে গড়ে
তুলবো।
----->
ডিউটি শেষে বসের কাছে গেলাম।
অনেকদিন যাবত এখানে
কাজ করায় বস আমাকে একটু অন্য চোঁখে
দেখেন।
--কেমন আছেন?(আমি)
--এইতো আছি।তুমি কেমন আছো?(বস)
--এই আছি।বস একটা কথা বলবো?
--জানি,বাড়ি যাবার কথা
বলবা,তাইতো?
--জ্বী বস।কিন্তু,আপনি কি করে
জানলেন?
--তুমিতো বাড়ি যাওয়ার ছুটি ছাড়া
আর কিছুর জন্য
আমার কাছে আসো না।সেই অনুমানেই
বললাম আরকি।
--বস আমার দুইদিনের ছুটি লাগবে।আর...!
--আর কি?
--কিছু টাকা লাগবে।
----->
বস আর কিছু না বলে তিন হাজার টাকা
বের করে দিলেন।
আমি টাকাগুলো নিয়ে বসকে একটা
ধন্যবাদ জানিয়ে
বেড়িয়ে পরলাম।উদ্দেশ্য কাপড়ের
দোকান।
----->
অনেক্ষন ঘুরে ছোট ভাইয়ে জন্য একটা
লাল শীতের
জামা,একটা ফুল হাতা গেন্জি আর
মায়ের জন্য একটা
চাদর কিনলাম।
একটা সস্থির নিঃস্বাস ফেললাম।
তারপর সেখান থেকে
বাসায় এসে রাতে খাওয়া দাওয়া
করে ঘুমিয়ে পরলাম।
----->
পরেরদিন......!
----->
খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠলাম।নাস্তা
করে একটু
বেড়োলাম।একটা কাজ ছিলো কাজটা
সেরে বাসায়
আসলাম।তারপর দুপুরে গোসল করে
খেয়ে বাড়ির
উদ্দেশ্য রওনা দিলাম।রাত প্রায় নয়টার
দিকে বাস এসে
বাসস্ট্যান্ডে থামলো।
----->
বাস থেকে নেমে সোজা হাঁটা
দিলাম।এখান থেকে আরও
দুই কিলোমিটার দূরে আমাদের বাড়ি।
কিছুদূর যেতেই মনে
পড়লো গাড়িতে কাপড়ের ব্যাগটা
রেখেই নেমে পরেছি।
আবার ঘুরে এক দৌড়ে বাসস্ট্যান্ডে
আসলাম।এসে
দেখলাম বাস এখনো আছে।ভিতরে
উঠে দেখি কাপড়ের
ব্যাগটা আমার ছিটের পাশেই আছে।
যাক বাবা বাঁচলাম।
নাহলে ছোট ভাইয়ের কাছে মুখ
দেখাতে পারতাম না।
----->
দৌড়ানোর কারনে একটু ক্লান্ত হয়ে
গেলাম।তাই একটা
টং দোকানে বসে একটু বিশ্রাম
নিলাম।কিছুক্ষন পরে
আবার হাঁটা দিলাম।উদ্দেশ্য বাড়ি
পৌঁছানো। দীর্ঘ দুই কিলোমিটার পথ
হাঁটার পর অবশেষে বাড়ি
পৌঁছালাম।
----->
ঘরে প্রবেশ করতেই ছোট ভাইটা পড়ার
টেবিল থেকে
উঠে এসে জড়িয়ে ধরলো।রান্না ঘর
থেকে মা ছুটে
এলো।ছোট ভাইটার হাতে তার
কাপড়ের ব্যাগ দিলাম।
আর মায়ের হাতে তার জন্য কেনা
চাদরের ব্যাগটা
দিলাম।
----->
নতুন কাপড় পেয়ে ছোট ভাইটা আনন্দে
আত্নহারা।
মায়ের দিকে তাকিয়ে দেখি মা
ব্যাগ থেকে চাদরটা বের
করে চাদরটার দিকে একদৃষ্টিতে
তাকিয়ে আছে।চোঁখে
পানি ছল ছল করছে।
আমিও অনুভব করলাম আমার চোঁখ থেকে
দু ফোঁটা অশ্রু
গড়িয়ে পরছে।
এটা কোন কষ্টের অশ্রু না।এটা আনন্দের
অশ্রু।শুনেছি
মানুষ নাকি শুধু কষ্টেই কাঁদে না,কিছু
কিছু সময় আনন্দেও
কাঁদে।
আজ কথাটির প্রমান পেলাম।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now