বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
মোহাম্মদ আব্দুল কুদ্দুস পত্রিকা অফিসে কাজ করে । বড় কাজ না,ছোট কাজ চা বানানো,সম্পাদক সাহেবের জন্য সিগারেট এনে দেয়া । ড্রাইভার গাড়িতে তেল নেবে সঙ্গে যাওয়া,যাতে তেল চুরি করতে না পারে । এই ধরনের টালটু ফালটু কাজ । কুদ্দুসের বয়স বাহান্ন ।বাহান্ন থেকে ষেল বাদ দিলে থাকে ছয়ত্রিশ ।
ষোল বছরে মেট্রিক পরীক্ষা দেবার পর (পুরো পরীক্ষা দিতে পারেনি,ইংরেজী ১ম পৈ পর্যন্ত দিয়েছিল) গত ছয়ত্রিশ বছর ধরে সে নানান ধরনের চাকরী করেছে । সবই টালটু ফালটু চাকরী । অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি,কিছুদিন সে একটা চোরের এসিসস্টেন্ডও ছিল ।
নিতান্ত ভদ্র ধরনের চোর । সুন্দর চেহারা । স্যুট পরে ঘুরে বেড়াত । শান্তিনিকেতনি ভাষায় কথা বলতো । বোঝার কোন উপায় ছিল না লোকটা বিরাট চোর । কুদ্দুস যেদিন বুঝতে পেরেছে সেইদিনই চাকরি ছেড়ে দিয়ে বায়তুল মোকাররম মসজিদে গিয়ে মসজিদের খতিবের মাধ্যমে তওবা করেছে । চোরের সঙ্গে বাস করে চারশ টাকার মত জমিয়েছিল,তার অর্ধেক মসজিদের দান বাক্সে ফেলে দিয়েছে । ইচ্ছা ছিল পুরোটাই দিয়ে দেয়,না খেয়ে থাকতে হবে বলে দিতে পারেনি ।
গত ছয়ত্রিশ বছরে যে সব চাকরী কুদ্দুস করেছে তার তুলনায় পত্রিকা অফিসের চাকরিটা শুধু ভাল না,অসম্ভব ভাল । দেশ বিদেশের টাটকা খবরের সঙ্গে যুক্ত থাকার মত সৌভাগ্য বাংলাদেশের কটা মানুষের আছে? সকালবেলা ঘুম থেকে উঠেই বিনা পয়সায় খবরের কাগজ পড়া যাচ্ছে । এই সৌভাগ্য তো সহজ না,জটিল সৌভাগ্য । প্রতিদিন সকালবেলা খবরের কাগজটা হাতে নিয়ে নিজের সৌভাগ্যে কুদ্দুস নিজেকেই ঈর্ষা করে । যুবক বয়সে সে একবার গণক দিয়ে হাত দেখিয়েছিল । গণক বলেছিল-শেষ বয়সটা আপনার মহাসুখে কাটবে । বিরাট সম্মান পাবেন ।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now