বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
আমিঃদেখ দোস্ত মেয়েটা কত কিউট?
আকাশ:হারামি তুই মানুষ হবি কবে
বলতো?
আমিঃএমন করস কেরে দোস্ত।ক্রাশ
খাইসিতো।
আকাশঃতুই তো প্রতিদিনই কমপক্ষে ৫০
বার এই ক্রাশ নামক অখাদটি খাস।কিন্তু
আফসুস কুত্তার পেটে যেমন ঘি হজম হয়না
তোর পেটেও তেমন ক্রাশ হজম হয়না।
যাদের উপর ক্রাশ খাস পরে
দেখা যায় সব মেয়েই বুকিং।
আমিঃদোস্ত তুই আমাকে এইভাবে
অপমান করতে পারলি?
আকাশ:কেন?তুই কি ওবার মা থুক্কু
ওবামা নাকি যে তোরে সম্মান করতে
হইবো।
ঃদেখ দোস্ত এমন করিসনা।এইটা তো
আজকের লাস্ট ক্রাশ ৫০।একটু
দেখনা দোস্ত।
ঃআমি পারমুনা তুই দেখ।
অতঃপর বন্ধুর উপর রাগ করে নিজেই
গেলাম বালিকার সাথে কথা বলতে।
কাছে গিয়ে একটা কাশি দিয়ে
বল্লাম
ঃআপনার নাম কি?
মেয়েটি একটু হেসে উত্তর দিলো
ঃজ্বী মিস্টি।
ঃউফ দেখতেও কি মিস্টি(মনে মনে এই
কথাটা বলে
আরো কয়েকবার ক্রাশ খেলাম)আচ্ছা
একটা কথা জিজ্ঞেস করব।
ঃকরুন।
ঃরাগ করবেন নাতো।
ঃরাগ করার মতো নাহলে রাগ করবো
কেন?
ঃঅতঃপর আধা বুক সাহস নিয়ে বল্লাম
আপনার কি কোন বয়ফ্রেন্ড
আছে?
আমার কথা শুনে বালিকা খানিকটা
অবাক হয়ে বল্ল বয়ফ্রেন্ড কি?
এই কথা শুনে তো আমি খুশিতে মনে
মনে লাফাইয়া আসমানে উঠে
গেলাম।মেয়ে বয়ফ্রেন্ড বুঝেনা তার
মানে মেয়ে সিঙ্গেল।চান্স আছে।
আমি দেরি না করে সাথে সাথেই
বালিকার সামনে হাটু গেড়ে বসে
বল্লাম
ঃখুব ভালবাসি তোমায়।হবে আমার পথ
চলার সঙ্গি?
আমার কথা শুনে মেয়েটি যেন আকাশ
থেকে পড়ল।
ঃএমা ছি ছি কি করছেন এসব।উঠুন ইঠুন।
আমি ভাবলাম মেয়েটি হয়তো রাজি।
খুশিতে আমার মুখ ৫০০০
পাওয়ারের এনার্জি বাল্বের মতো
আলোকিত হয়ে গেল।
ঃভাইয়া আপনি কি করছেন এসব।আমি
বিবাহিত আমার দুইটা বাচ্চা আছে
আর
আপনি আমাকে ভালবাসার প্রস্তাব
দিচ্ছেন।
বালিকার থুক্কু আন্টির কথা শুনে আমার
আলো মুখ কালো করে অমাবস্যার রাত
নেমে এল।মন খারাপ করে ফিরে
গেলাম বন্ধুর কাছে।
আমার মন খারাপ দেখে আকাশ বল্ল
ঃকিরে দোস্ত এই মেয়েরও বয়ফ্রেন্ড
আছে?
ঃনারে দোস্ত।
ঃতাইলে মুখটারে এমন কালো কইরা
রাখছস কেরে?পার্টি দে দোস্ত
পার্টি।এই প্রথম কোন সিঙ্গেল
বালিকার প্রেমে পরছস।
ঃরাখ শালা তোর পার্টি।আমি
বয়ফ্রেন্ড নাই বলছি সিঙ্গেল কখন
বলছি?
আর বালিকা কে?আন্টি বল আন্টি।
ঃকি হইসে দোস্ত একটু বুঝাইয়া বলতো।
ঃআরে হারামি ঐ মেয়ে বিবাহিত।
দুইটা বাচ্চা আছে।
আমার কথা শুনে আকাশ এমন ভাবে
হাসতে লাগলো যেনো আমি মিষ্টার
বিন।
ঃঐ শালা এমনে হাসছ কেরে?
ঃকি করবো বল।দেশে এতো মেয়ে
থাকতে শেষে কিনা তুই বিবাহিত
আন্টির উপর ক্রাশ খাইলি।
কথাটা বলেই আবার হাসতে লাগলো
আকাশ
ঃঐ আমি কি করে জানবো ঐ মেয়ে
আন্টি না বালিকা?
ঃমামু এতো মেয়ের উপরে ক্রাশ খাউ
তুমি বালিকা আর আন্টির পার্থক্য
বুঝনা।
ঃঐ হারামি তুই চুপ করবি?
ঃওকে টপিক চেঞ্জ।
ওহ সরি পরিচয়টাই তো করানো হয়নি।
আমি ইমাদ।এইবার ঢাবিতে
পদার্থ বিজ্ঞান নিয়ে তৃতীয় বর্ষে
পড়ি।আমার নামটা শুধু
ইমাদ বললে ভুল হবে বলতে হবে ক্রাশার
ইমাদ।প্রতিদিন ৫০ টা ক্রাশ
না খেলে আমার পেটের খাবার হজম
হয়না।কিন্তু আফসুস আজ পর্যন্ত
কোনো সিঙ্গেল মেয়ের উপর ক্রাশ
খাইতে পারলাম না।আর আকাশ হলো
আমার লেংটা কালের বন্ধু।আমি
বুঝিনা হারামিটা এতো ভদ্র কেন।আজ
পর্যন্ত এই হারামিটার মুখে শুনলাম না
দোস্ত আমি ক্রাশ
খাইসি।মাঝে মাঝে ইচ্ছা করে
শালারে জোর কইরা ক্রাশ নামক
অখাদ্য গিলাই দেই।কিন্তু পারিনা।
কারন ক্রাশ এমন এক অখাদ্য যা
জোর করে কাউকে গিলানো যায়না।
কথায় কথায় অনেক কথা বলে ফেললাম
চলুন এবার গল্পে ফিরে যাই।
আকাশ বার বার টপিক চেন্জ বলেও বার
বার আমার ওই মেয়ের উপর ক্রাশ
খাওয়া নিয়ে পচাচ্ছিল।তাই
আকাশের সাথে রাগ করে বাড়ি চলে
আসলাম।বাড়িতে এসে দেখি মেহমান
আসছে।সবাইকে সালাম দিলাম।কিন্তু
একি?এত কিউট একটা মেয়ে বসে আছে?
আমি আবার ক্রাশের সাগরে
হাবুডুবু খেতে লাগলাম।কিন্তু সেই
ক্রাশ ও বেশিক্ষন স্থায়ী
হলোনা।মায়ের কাছ থেকে জানতে
পারলাম ঐ মেয়ে সম্পর্কে আমার
ভাতিজি হয়।ইয়া খোদা আমার
কপালে কি কোনো মেয়ে নাই?
একবালতি কষ্ট আর আফসোস নিয়ে রুমে
গিয়ে দরজা বন্ধ করে দিলাম।মনের
কষ্টে ফেসবুকে লগিন করে মেসেজ
চেক করতে লাগলাম।হঠাৎ দেখি
একটা মেয়ের আইডি থেকে মেসেজ
আসছে।আইডি এর নাম অস্পর্শী
অদ্রিতা।মেসেজে লিখছে
হাই,মিস্টার ক্রাশার কেমন আছেন?
আমি তো সেই
লেভেলের খুশি।মনে হয় আকাশে
উড়ছি।সাথে অবাকও হলাম মেয়েটি
আমার ক্রাশার নামটা কিভাবে
জানলো?যাই হোক ফার্স্ট টাইম কোন
মেয়ে আমাকে মেসেজ দিলো আমি
সাথে সাথে রিপ্লে দিলাম
: হালো,আমি ভাল আছি আপনি?
মেয়েটি অনলাইনেই ছিলো।মেসেজ
চেক করে প্রায় সাথে সাথেই রিপ্লে
আসল
ঃআমিও ভাল আছি।কি করেন?
ঃটিভি দেখি।আপনি?
ঃবসে আছি।
ঃভালো।আচ্ছা আপনি আমার ক্রাশার
নামটা কিভাবে জানলেন?
ঃ জানি কোন একভাবে।
ঃকিভাবে জানেন সেটা কি বলা
যাবে?
ঃসরি।সেটা সিক্রেট।
ঃ তাই?
ঃ হুম।
এভাবেই একটু একটু করে রোজ কথা হয়
আমাদের।কথাবার্তা
একসময় আপনি থেকে তুমি,তুমি থেকে
তুই তে চলে আসে।আমরা একে
অপরের সাথে সব কথা শেয়ার করি।
আমি মাঝে মাঝেই আকাশকে
মেয়েটির কথা বলি।আকাশ আমার কথা
শুনে মিটিমিটি হাসে।আমি
বুঝতে পারিনা এই হাসির রহস কি?
একদিন আমি আকাশকে বল্লাম দোস্ত
আমি মেয়েটার সাথে দেখা করে
প্রপোজ করলে কেমন হয়?আমার কথা শুনে
আকাশ রীতিমত ভেবাচেকা খে গেল।
ঃ না দোস্ত এই কাজ করিসনা।
ঃ মেয়েটি যদি রিজেক্ট করে তখন?
কিন্তু আমি নাছোরবান্দা।আকাশ
কিছুক্ষন চুপ করে থেকে বল্ল দোস্ত
একটা কথা বলব প্লিজ রাগ
করবিনাতো?
ঃকি কথা আগে বল?
ঃ না আগে বল রাগ করবিনা?
ঃওকে।রাগ করবোনা বল।
ঃ আসলে অস্পর্শি অদ্রিতা আইডিটা
আমার।আসলে তোর লাইফে কোন
মেয়ে
নেই তাই তোর খুব কষ্ট আমি জানি।তাই
আমি চেয়েছিলাম তোর কষ্টটা
যাতে একটু হলেও কম করতে পারি।কিন্তু
আমি ভাবতে পারিনি তুই
ইমোশনাল হয়ে যাবি।প্লিজ দোস্ত
ক্ষমা করে দে আমায়।
কথাগুলো বলেই কেদে ফেল্ল আকাশ।
আমি কি বলব বুঝতে পারছিনা।
হারামিটা এতো ভালবাসে কেনো
আমায়।আমি
আকাশকে জড়িয়ে ধরে বল্লাম শালা
হারামি এত ভালবাসিস কেনো
আমায়।কথাটা বলেই অনুভব করলাম আমার
চোখেও পানি চলে এসেছে।চির অমর
হোক এ বন্ধুত্ত।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now