বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

কিশোর পাশা ইমন -০৪

"রোমাঞ্চকর গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X ছয়. “বুলশিট!” সার্ভিস স্টোরের দরজা ঠেলে বের হয়ে এল সাব্বির। “কাম অন! আর কোন প্রমাণ দিতে হবে? আমি আর তুমি একই ব্যক্তিত্ব।” “সেক্ষেত্রে তুমি মিস্টার হাইড। আমি ডক্টর জেকিল। ইউ আর দ্য ইভল ওয়ান।” ঝাঁঝিয়ে উঠল সাব্বির। “তোমার ডানে!” ঘুরেই লোকটাকে দেখতে পেল ও। দরজা খুলে বের হয়ে আসছে। বিন্দু মাত্র দেরী না করে মাথা বরাবর গুলি করল তাকে। আনাড়ি হাতে লাগল না ঠিক। গলাতে বিঁধেছে বুলেট। গরু জবাই করলে যেমনটা হয়, তেমন শব্দে করিডোর ভরে গেল। বদ্ধ জায়গাতে বিকট শব্দ হয়েছে গুলির। “হোটেল সিকিউরিটি দল বেঁধে ছুটে আসছে সিঁড়ি বেয়ে। টেক দ্য লিফট।” “কারেন্ট নাই। ভুলে গেছ?” বিরক্ত হয়ে বলল সাব্বির। “ম্যাটার না। টবের নিচে হাত দাও, ছয় ইঞ্চির একটা ছুরি পাবে। দরজা সামান্য ফাঁক করে ভেতরে ঢুকে পড়। লিফটা আছে ঠিক এক ফ্লোর নিচে। অনায়াসে দাঁড়াতে পারবে ওটার ওপর।” টবের নিচে ছুরিটা পাওয়া গেল। দরজা ফাঁক করে হাঁটু উচ্চতাতে থেমে থাকতে দেখল ও লিফটের ছাত। লাফিয়ে চড়ে বসল ওটাতে। ছুরি ফেলে দিয়েছে ফোকর দিয়ে। দরজা আবারও হাত দিয়ে আটকে দিতে হল কসরত করে। “মেইনটেন্যান্স লাডার আছে। বেয়ে-বেয়ে নিচতলা পর্যন্ত নেমে পড়।” নিস্তব্ধ লৌহঘরের দিকে তাকিয়ে ঢোক গিলল সাব্বির। এর চারপাশে ক্লিয়ারেন্স ভলিউম আছে। সেদিকেই মেইনটেন্যান্স ল্যাডার। কোমরে পিস্তল গুঁজে মই আঁকড়ে ধরল ও। ফোনটা পকেটে রেখে দিয়েছে। হ্যাং আপ করেনি। দুই হাতে নিজের ওজন ছেড়ে দিতে তীব্র ব্যথার একটা ঢেউ ভাসিয়ে নিয়ে গেল ওকে। বুক থেকে আসছে। রক্তে ভেসে যাচ্ছে ক্ষতস্থান। কিছুটা নেমে আসার পর ওপরের লিফটের দিকে ভয়ে ভয়ে তাকাল সাব্বির। ক্লস্ট্রোফোবিয়া তার নেই, কিন্তু যে কোন মুহূর্তে কারেন্ট চলে আসতে পারে। তখন নিচতলা থেকে কোন একজন লিফটা ডেকে নেওয়ার জন্য সুইচ চাপলে নেমে আসবে লিফট। তখন যদি ও মেইনটেন্যান্স ক্লিয়ারেন্সের বাইরে থাকে তাহলে কি হবে তা নিয়ে ভাবতে চাইল না আর। নিচতলাতে নেমে এসে মোবাইলের আলোতে ছুরিটা খুঁজে বের করল আবার। তারপর হাল্কা চাড় দিয়ে দরজা ফাঁকা করে হাত দিয়ে টেনে খুলে ফেলল ওটা। বের হয়ে এসেছে নিচতলার লবিতে। মেইনগেটের ওদিকে বেশ কয়েকজন মানুষের উদ্বিগ্ন চিৎকার শোনা যাচ্ছে। ওদিকে যাওয়া যাবে না। পকেট থেকে মোবাইলটা বের করল সাব্বির। “নাও হোয়াট? আ’ম ট্র্যাপড।” “শান্ত হও। রান্নাঘরটা কোনদিকে জানা আছে তোমার?” “হুঁ।” “ওদিকে চলে যাও। কুইক।” পেছন দিয়ে ছুটল সাব্বির। কোমরে গুঁজে নিয়েছে পিস্তল। মাজল ঠা-া হয়ে গেছে ওটার। “ভেরি নাইস। প্যারালাল ইউনিভার্স, না? আমার সাথে কনট্যাক্ট করছ কি করে ওপার থেকে?” “মাইক্রোসেলুলার চিপস দিয়ে। তোমার মোবাইলে ঢুকিয়েছ যেটা।” “একেবারে গাঞ্জা। এই আইডিয়া দিয়ে সিনেমা বানালে ফ্লপ খাবে প্রোডিউসার।” “কারণ লোকে জানে না একেকটা সেলফোন দিয়ে কি করা সম্ভব। শুধু দরকার কম্প্যাটিবল একটা মডিউল।” “আর একটা নিউক্লিয়ার রিঅ্যাকটর। ম্যাগনেটিজমকে কাজে না লাগালে প্যারালাল ওয়ার্ল্ডের সাথে কানেক্ট হওয়া যায় না। প্রচুর বিদ্যুৎশক্তি দরকার সেজন্য।” “তোমার কি ধারণা সিক্সটি ওয়াটের একটা লাইট জ্বালাতে সিক্সটি ওয়াট পাওয়ার লাগে? গ্রো আপ। তোমাদের ওয়ার্ল্ড অনেক পিছিয়ে।” “তার অর্থটা কি?” “প্রতিটি ডিভাইস, যা তোমরা ব্যবহার কর, তোমাদের ধারণার চেয়েও কম কারেন্ট নিয়ে চলতে পারে। পুরো পৃথিবীতে পঞ্চম এক ধরণের ম্যাগনেটিজম আছে। নিক্সন ম্যাগনেটিজম। এটার কথা তোমরা জানো না দেখেই হাজার বছর পিছিয়ে আছো। সরকার সব পণ্যের ভ্যাট বসায়, তাই না? এই নিক্সন ম্যাগনেটিজমকে বলতে পারো কারেন্টের ভ্যাট। তোমার যখন লাগবে মাত্র এক ওয়াট পাওয়ার, সেখানে তোমাদের ব্যবস্থা করতে হচ্ছে ছয়শ থেকে সাতশ ওয়াট। প্যারালাল ওয়ার্ল্ড তোমাদের থেকে কখনই বিচ্ছিন্ন না।” “তাহলে তো ইলেকট্রিক্যাল আর ইলেক্ট্রনিক্সের সব সূত্র ভুল প্রমাণিত হয়ে যাবে।” “ছাগলের মত কথা বল না। আরেকবারের মত বলতে বাধ্য হচ্ছি, তোমাকে আরও ব্রাইট ভেবেছিলাম আমি। সূত্রগুলো ঠিকই আছে। পার্সেন্টিজ হারে কিছু বাড়লে বা কমলে কোন সূত্রতেই ইফেক্ট পড়ছে না। তোমরাও সে অনুপাতেই সবকিছুর হিসেব করছ। অজান্তেই।” “তারমানে, বাকি বিদ্যুতশক্তি সম্পূর্ণ অপচয় হচ্ছে?” “না। নিক্সন ম্যাগনেটিজমের ধাক্কাতে উধাও হয়ে যাচ্ছে। এখন তোমাকে পুরো বিষয়টা কিভাবে কাজ করে তা বলতে গেলে রাত কাবার হয়ে যাবে। এত সহজ জিনিস না। এই একটা জিনিস আবিষ্কার করার জন্যই বিজ্ঞানী নিক্সন একটা অস্কার পেয়েছিলেন।” “ফাক অফ। বিজ্ঞানী আবার অস্কার পায় কি করে? নোবেল পেলে একটা কথা ছিল।” “উনি কি ডেট্রয়েটে অভিনয় করেন, যে নোবেল পাবেন? অস্কার প্রাইজ দেওয়া হয় শান্তির জন্য যে কোন কৃতিত্বপূর্ণ কাজ করার জন্য। এদেশ থেকে সত্যজিত রায় অস্কার পেয়েছিলেন সাহিত্যে।” প্যারালাল সাব্বির বলে যাচ্ছে ফোনের ওপাশ থেকে, “কিছুই জানো না দেখছি!” “আমাদের এখানে হলিউড মুভি বানানোর জন্য বিখ্যাত। ডেট্রয়েট না। আর নোবেল প্রাইজ পেয়েছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।” “হলিউডে জাহাজ আর অটোমোবাইল নির্মান কারখানা আছে এখানে। যাই হোক, একটু ওলট পালোট হতেই পারে। আমি এখানে এজেন্সীতে কাজ করি আর তুমি ওই জগতে এক ভ্যাগাবন্ড প্রেমিক। লজ্জার ব্যাপার।” রান্নাঘরের দরজা ধাক্কা দিয়ে খুলে ফেলল সাব্বির, “আমি এখানে।” “জানি, আমিও রান্নাঘরে। একটু আগে লিফটে করে নামছিলাম তোমার সাথে।” একটু থেমে ওপাশের কণ্ঠটা যোগ করল, “আমার ওয়ার্ল্ডে।” “গুড। কোনদিকে এবার?” “পেছনে দেখ। হ্যাঁ, বামের দরজাটা। খুলে বেরিয়ে যাও।” দরজাটা দেখতে পেল সাব্বির। নব ধরে ঝাঁকালেও নড়ল না, “ক্র্যাপ। লকড।” “ইউ নো হোয়াট টু ডু।” “আপনি এখানে কি করছেন?” স্টোররুম থেকে বের হয়ে এসে অবাক হয়ে প্রশ্ন করল একজন শেফ। ঝটকা দিয়ে কোমর থেকে পিস্তল বের করল সাব্বির। দুই চোখের মাঝে তাক করেছে তার। ভয়ে ওখানেই কাঠ হয়ে গেল লোকটা। “বানচোতটাকে গুলি করার কোন দরকার দেখছি না।” ফোনের অন্যপাশ থেকে বলল কণ্ঠটা। “জানি আমি।” নিচু কণ্ঠে তাকে উত্তর দিল সাব্বির। তারপর হাঁক ছাড়ল বাবুর্চির দিকে, “ঢুকে পড়ুন। কুইক!” “কো-কোথায়?” “যে ফুটো থেকে বের হয়েছেন, সেখানেই... আহ, তাড়াতাড়ি করুন!” সেকেন্ড দুয়েক ভেবে আস্তে করে আবারও স্টোররুমে ঢুকে পড়ল লোকটা। বাইরে থেকে ছিটকিনি তুলে দিল সাব্বির। তারপর ফিরে এল সেই আগের দরজাটার কাছে। দ্বিধা-দ্বন্দ্বের কোন কারণ নেই, প্রকা- এক লাথিতে নব সহ ছিটকে খুলে ফেলল দরজা। পিস্তল আবারও কোমরে ফিরে গেছে। বাইরের জনগণের মনোযোগ আকৃষ্ট করতে চায় না। দ্রুত হেঁটে হোটেলটা থেকে সরে যেতে থাকল ও। দূরে পুলিশের সাইরেন শোনা যাচ্ছে। বড় রাস্তাতে উঠে এসে হাঁটা দিল রাতের অন্ধকার লক্ষ্য করে। “ট্রেল ফলো করবে না পুলিশ?” “ফেলে এসেছ কিছু?” “হাজারটা জিনিস, থ্যাংকস টু ইউ। হাতের ছাপ, ডিএনএ স্যা¤পল সহ।” “বাবার ক্ষমতা ব্যবহার করতে পারো। নাহলে দাঁত মুখ খিঁচে লুকিয়ে থাকো। কিডন্যাপের পাল্টা কেস দিয়ে দেবে তোমার বাবাই। ভাবার কিছু নেই। এছাড়াও একটা বেটার অপশন আছে অবশ্য...” “মেগানকে পাচ্ছি কোথায়?” মাঝপথেই বাঁধা দিল সাব্বির, “তোমার কথা মত চলেছি, মেগানকে ফিরিয়ে দাও।” “ডানে তাকাও।” ল্যাম্পপোস্টের নিচে অবসন্নভাবে একটা মেয়েকে বসে থাকতে দেখল ও। ফোন পকেটে পুড়তে পুড়তে ছুটে গেল ওদিকে। ওকে দেখে উঠে দাঁড়ানোর চেষ্টা করল মেয়েটা। পারল না। সামান্যতেই পা হড়কেছে। আবারও ফুটপাথে বসে পড়ল ও। দুই হাতে জড়িয়ে ধরল ওকে সাব্বির। তারপর দাঁড় করালো শক্ত করে। নিজের বুকের কাছ থেকে রক্ত গড়িয়ে পড়ছে এখনও। অবশ হয়ে আসছে জায়গাটা। খেয়ালই হচ্ছে না এখন তার। “মেগান, তুমি ঠিক আছো?” “আমরা হোটেল থেকে বের হলাম কখন, বেবি?” আবারও নেতিয়ে পড়তে শুরু করেছে মেয়েটা। বিস্ফোরিত চোখে সাব্বির দেখল মেগানের গলার চামড়া লালচে হয়ে আছে।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৩২ জন


এ জাতীয় গল্প

→ কিশোর পাশা ইমন -০৪

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now