বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

কিশোর পাশা ইমন-০১

"রোমাঞ্চকর গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X কিশোর পাশা ইমন থ্রিলার পর্ব ১ এক. “পাছাতে বানরের হাড্ডি না থাকলে এমনটা করে না কেউ,” বিরক্ত হয়ে বলল সাব্বির। চোখ দিয়ে আগুন ঝরছে। ওর দিকে তাকিয়ে দুঃখের হাসি হাসল মেগান, “ছেড়ে দাও। ছ্যাচড়া লোকে দেশটা ভরে গেছে।” ছ্যাচড়া লোকদের ওপর ক্ষোভ মেটাতেই কি না কে জানে, গায়ের জোরে সিগারেট টানল সাব্বির। দিনকাল খারাপ। তরুণ প্রজন্মের জন্য দিনকাল আরও বেশি খারাপ। সাথে তরুণী থাকলে দিনকাল এখন শুধু খারাপ না, রীতিমত ভয়ঙ্কর। তাছাড়া মেগান ঠিক বাঙালী পোশাক-আশাকের ধার ধারে না। উটকো লোকজন এরকম মেয়েদের সামনে ঝামেলা করার সুযোগ কোনদিনই ছাড়েনি। রেস্তোরাঁতে খেয়ে বেরোচ্ছিল তারা। তিনজন পাংকু যুবকের সাথে মেগানের ধাক্কা লেগে গেছিল। ধাক্কা লেগে গেছিল বলার চেয়ে তারা ধাক্কা দিয়েছিল বলাটাই বেশি যৌক্তিক। বেচারি ছিটকে ফুটপাতে পড়ে গিয়েছিল একদম। যে তরুণ ধাক্কা দেওয়ার ছলে ওর শরীরে হাত বুলিয়ে দিয়েছিল, তাকেই দেখা গেল বীরদর্পে ভ্যানিটি ব্যাগটা তুলে আনতে। বলল, “সরি আপু।” পা থেকে মাথা পর্যন্ত জ্বলে উঠেছিল সাব্বিরের। সরাসরি গিয়ে চার্জ করেছিল তাকে। কিন্তু তারা তিনজনই বা পিছিয়ে যাবে কেন। রীতিমত হৈ-হট্টগোল লাগিয়ে দিয়েছিল। সবগুলো চুল জেল মেরে ‘খাড়া’ করিয়ে রাখা ছোকরা বলেছিল, “সুন্দরী মেয়ে নিয়ে হাঁটার সময় তো রাস্তা দেখ না। ফিগারের ওপর চোখ থাকলে দেখবেই বা কি করে?” আরেকজন পাংকু সাথে সাথে বড় ভাইয়ের ভূমিকা নিয়ে ফেলেছিল, “ওই মিয়া, ওই! মাইয়া কি লাগে তোমার? থাকো কোথায় তোমরা? বাসা কোনটা?” এই পাংকুর হাতে বাঁধা ব্যান্ডেজ। মানুষ পিটিয়ে ভালোই অভ্যস্ত, একনজর দেখেই যে কেউ বলে দেবে। অবস্থা বোঝা হয়ে গেছিল সাব্বিরের। এলাকার পোলাপান। একদম সিলেবাস মেনে চলছে। প্রথমে ইস্যু বানাবে, তারপর ফাঁপড় নেবে। সবশেষে ছেলে আর মেয়েকে আলাদা করে ফেলবে। ছেলের কপালে রাম-প্যাদানী জুটবে। মেয়ে চলে যাবে হোটেল রুমে। তবে একা নয়। এলাকার ছেলেপুলেদের একটা গ্রুপ যাবে তার সাথে। ভর সন্ধ্যাবেলাতে এরকমটা দেদারসে হচ্ছে। কথা না বাড়িয়ে ফুঁসতে-ফুঁসতে সরে এসেছে ওরা। কিছুদূর এসেই একটা সিগারেট ধরিয়েছে সাব্বির। মেজাজ খারাপ থাকলে ঘন-ঘন সিগারেট খাওয়া হয় তার। “প্ল্যান মত সব করেছ তো? হোটেলের ব্যাপারে তো কিছু বললে না ভেতরে।” মেগানের দিকে তাকিয়ে রাগ অর্ধেক হয়ে গেল সাব্বিরের। সেজেছে মেয়েটা। এমনিতেই ববকাট চুলে অসম্ভব সুন্দর লাগে তাকে। এখন সেই চুলের এক গোছা আবার মুখের ওপর এসে পড়েছে। চোখ ফেরানো যাচ্ছে না। অজান্তেই এক চিলতে হাসি ফুটল ওর মুখে। “সবকিছু ঠিক আছে। মহেশখালির রিসোর্ট এখন ভর্তি হয়ে আছে। না হলে সরাসরি ওখানেই চলে যেতাম।” “সেটা আগেই বলেছ। আমি বুঝেছি ঝামেলাটা। কিন্তু হোটেল নিয়ে আবার সমস্যা করে বস না। একেবারেই ভেগে গেছি কিন্তু আমি।” ওর হাতব্যাগের দিকে তাকিয়ে হঠাৎ মনে পড়ল সাব্বিরের, “দেখেছ? হারামজাদাগুলোর জন্য ভুলতে বসেছিলাম। তোমার তো কেনাকাটা করতে হবে।” “যাবো। সময়ের খুব অভাব নাকি আমাদের?” “তা না। তবে সময় নষ্ট করে পরে পস্তাতে চাই না। ভুলে যাচ্ছ, আজকের রাতটা শুধু আমাদের?” শয়তানি হাসি দিচ্ছে সাব্বির। সেদিকে তাকিয়ে লাজুক হয়ে গেল মেগান। উঠে দাঁড়াল, “হয়েছে। চল তাহলে। তোমার অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে একবার ফার্মেসীতেও ঢুঁ মারতে হবে ফেরার পথে।” জবাব দিল না সাব্বির। তার কোলে ছিটকে পড়েছে একটা কিছু। খুবই ছোট। দুই আঙুলে ধরা যায় এমন। আলতো করে সেটা ধরে তুলল ও। চোখের সামনে এনে দেখল। “এটা তোমার?” দুই পাশে মাথা নাড়ল মেগান, “না তো। আমার মেমরি কার্ড আমার ফোনের মধ্যেই আছে।” কিছুক্ষণ একদৃষ্টে তাকিয়ে থাকল সাব্বির ওটার দিকে। ওর কোলে আসলো কোথা থেকে? ওপরে তাকিয়ে রাতের কালো আকাশ ছাড়া আর কিছু দেখতে পেল না। ওপর থেকে পড়ার প্রশ্নই আসে না। “তোমারই হবে। তোমার তো আবার বুক-পকেটে জিনিসপাতি রাখার অভ্যাস। গোল্ডফিশ একটা!” হাল্কা হাসল সাব্বির। বুক-পকেটে ঢুকিয়ে রাখল মেমরি কার্ডটাকে। উঠে দাঁড়াল সে। “চলো। আর ফার্মেসীতে যেতে হবে না। ও জিনিস আমার সাথেই আছে।” দুই. হোটেল আভাটিয়াতে উঠেছে ওরা দুইজন। শপিং শেষে রুমে ফিরে এসে দুইজনই ক্লান্ত। কফির অর্ডার দিয়েছে নিচে। তারপর কাপড় ছেড়ে মেগান অ্যাটাচড বাথে ঢুকে গেছে। গোসল করবে। পাতলা একটা গেঞ্জি পরে সাব্বির ল্যাপটপের সামনে বসে আছে। ডাটা কেবলের সাথে মোবাইল লাগানো। স্ক্রিনের দিকে মনোযোগ নেই। মনোযোগ পড়ে আছে অ্যাটাচড বাথের ভেতরে। অন্তর্বাস ছাড়া আর কিছু না পরেই মেগান বাথরুমে গিয়েছে। বের হওয়ার সময় সেটুকুও থাকবে না। তারপর এই ডাবল-রূমের উপযুক্ত ব্যবহার করা হবে। বিছানাপত্র গোছানো হয়ে গেছে। অগোছালো করার কাজটুকু বাকি। বাসা-বাড়ি ছেড়ে হোটেলবাসী হওয়ার কারণ আছে। সাব্বিরের বাবা ফিরোজ মাহমুদ প্রভাবশালী ব্যবসায়ী। মেগানের বাবা ধর্মযাজক। ফিরোজ সাহেব ধনাঢ্য এবং সব ধনাঢ্য ব্যক্তিত্বের মতই তিনি উদারমনা। তবে সব ক্ষেত্রে নয়। ছেলের জীবন কতটুকু লাগামছাড়া হতে পারবে তা তিনিই ঠিক করে দেন। খ্রিস্টান একটা মেয়েকে বিয়ে করা পর্যন্ত লাগামছাড়া হওয়ার দিকে তাঁর অনুমতি নেই। মেয়েকে ছেলের পছন্দ হয়েছে তা বেশ। তিনি তরুণ বয়েসের গরম রক্তের ব্যাপারটা বোঝেন। একুশ বছর বয়েসে ভার্সিটির ম্যামকে বাথরুমে আটকে রেখে কি বলাৎকার তিনি করেননি? করেছেন। ছেলেকে বাথরুমে যেতে হবে কেন? অসংখ্য হোটেল আছে। একটাতে উঠে পড়লেই তো পারে। কয়েকদিন মৌজমাস্তি করে মেয়েটাকে লাখ-দশেক টাকা ধরিয়ে দিয়ে রাস্তা মাপতে বলবে। কেস খতম। টাকা তো কোন সমস্যা না। তা না, ছেলে হয়েছে মহাপুরুষ। পৌরুষত্ব বাঁচিয়ে চলেছে। তখনই তিনি সন্দেহ করেছিলেন, এ ছেলে বংশের নাম ডোবাবে। আধ-ন্যাংটো মেয়েকে বউমা হিসেবে মেনে নিতে তাঁর সমস্যা নেই। সমস্যা হল, ছেলের বান্ধবী মেয়েটা আধ-ন্যাংটো খ্রিস্টান। ব্যবসায়িক মহলে এই মেয়েকে পুত্রবধূ হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া যাবে না। লোকজন আড়ালে হাসবে। আড়ালে হাসতেই পারে। নিজের চরিত্র রীতিমত পাখা লাগানো হলেও তাঁর গেটআপ আরব শেখের মত। লোকজন ডাকে সুফী সাহেব। সুফী সাহেবের পুত্রবধু হতে হলে কিছু যোগ্যতা থাকা লাগে। মেগানের মধ্যে ওসব কিছু নেই। বাবাকে টাইট দেওয়ার উপায় সাব্বির বের করে রেখেছিল। কিন্তু তাতে করে সমস্যার অর্ধেকটা মিটবে। মেগানের বাবার দিকটা দেখা হবে না। নিকোলাস সানতানা পেশাতে পাদ্রী নন শুধু, মনেপ্রাণেও তাই। পাদ্রীর মেয়ে ধর্মের দিকে টুকটাক ঝুঁকবে এটাই বাবারা আশা করে। তা না করে মেয়ে পছন্দ করেছে এক মুসলিম ছেলেকে। মেয়েরই বা কি দোষ? পোড়া দেশে খ্রিস্টান ছেলের আসলেই আকাল পড়েছে। যেদিকে তাকানো যায় মুসলিম। এর মধ্যে ঝাঁ চকচকে এক মুসলিম যদি বংশমর্যাদা আর টাকার জোর দেখিয়ে মেয়েকে পটিয়ে ফেলে তাতে আশ্চর্যের কি আছে? আজীবনই এদের শত্রুপক্ষ মনে করেছেন নিকোলাস। মহান পিতা জিসাস ক্রাইস্টের সন্তান তারাও, অথচ সেটুকু পর্যন্ত স্বীকার করতে চাইবে না। চার্চ-টার্চকে পাত্তা দেয় না এরা, উপহাস করার বেলাতে আছে। তাদের ঘরে ঢুকবে তাঁর মেয়ে? জীবন থাকতে না। একই দিনে সাব্বির আর মেগান তাদের বাবাদের সাথে কথা বলেছিল। নিজেদের প্রেমের সম্পর্কটাকে ব্যাখ্যা করতে। ফিরোজ সাহেব সাথে-সাথে এক প্রাইভেট ইন্সভেসটিগেটরকে ফোন লাগিয়েছেন। নিকোলাস সাহেব ফোন লাগিয়েছেন তাঁর পুলিশ কমিশনার বন্ধুকে। বাবার স্টাডি রুম ঘেঁটে রাত-বিরেতে প্রাইভেট ইনভেসটিগেটর ব্যাটার ফোন নম্বর উদ্ধার করেছে সাব্বির। তারপর তাকে পাকড়াও করে ডাবল টাকা ঘুষে দিয়েছে। সময় চেয়েছে একদিন। সাবধানের মার না রেখে পাল্টা এক প্রাইভেট ইন্সভেসটিগেটর হায়ার করে বাবার গোয়েন্দার পেছনে তাকে লেলিয়ে দিয়েছে। গোয়েন্দার পেছনে গোয়েন্দা ঘুরবে। করুক এখন গোয়েন্দাগিরি! মেগানের বাবার সোর্স এত সহজ কিছু না। এদেশের পুলিশ কাজের না হলেও কমিশনার দোস্ত থাকলে তারা কাজের। শত-শত পুলিশকে ঘুষ গেলানো মেগানের কাজ না। কাজেই ওই একদিন সময়টাকে কাজে লাগাচ্ছে তারা। কাল সকাল পর্যন্ত বাইরে পালিয়ে থাকতে হবে। এরপর সোজা মহেশখালী নামক এক দ্বীপে। বঙ্গোপসাগরের বুকে ভেসে থাকা এক দ্বীপ। তার মধ্যে আছে রিসোর্টটা। বন্ধু নাফিস সেখানকার কেয়ারটেকার থেকে মালীর দায়িত্ব পালন করে। একাই একশ। একটা রুম বন্দোবস্ত হয়ে গেল। পালানোর সময় মেগান আর সাব্বিরকে খালি হাতে পালাতে হল। নাহলে সাব্বিরের দারোয়ান যে ঘুঘু, মিনিট দশেকের মধ্যে বাবার কানে পৌঁছে যেত খবরটা। তারপর আধ-ঘণ্টার মধ্যেই একদল পুলিশ এসে শিল্পপতির ছেলেকে বাড়ি ফিরিয়ে নিয়ে যেত। মেগানের ক্ষেত্রেও কথাটা খাটে। কাজেই শপিংমল ঢুঁড়ে-ঢুঁড়ে জামাকাপড় থেকে টুথপেস্টটা পর্যন্ত কিনতে হল ওদের। বড়-বড় ট্রাভেল ব্যাগও। “অ্যাবোর্ট! অ্যাবোর্ট! অ্যাবোর্ট!” ভ্রু কুঁচকে ল্যাপটপের স্ক্রিনের দিকে তাকাল সাব্বির। ব্যাপারটা আবারও শুরু হয়েছে! এবার তার ল্যাপটপ স্ক্রিনে! তিন. আড়চোখে একবার বাথরুমের দরজার দিকে তাকাল সাব্বির। ভেতর থেকে মেগানের নগ্ন শরীরটা যে কোন সময় বের হয়ে আসবে। তবে তা নিয়ে এখন আর ভাবছে না সে। ল্যাপটপের দিকে আবার তাকাল। সরে যায়নি। পুরো স্ক্রিনজুড়ে ক্রস চিহ্নটা থেকে গেছে। স্পীকার থেকে অনবরত একটা শব্দই বের হচ্ছে। অ্যাবোর্ট! অ্যাবোর্ট! অদ্ভুত উচ্চারণভঙ্গি। অনেকটা ‘আর্বোট আর্বোট’ জাতীয়। এমনটাই হয়েছিল মাঝে একবার। অদ্ভুত ধরণের মেমরি কার্ডটা মোবাইলে ঢুকিয়েছিল তখন। শপিং কমপ্লেক্সেই ডিনার সারতে বসেছিল ওরা দুইজন। মেমরি কার্ডটা পরীক্ষা করে দেখার জন্য সেখানেই নিজের ফোনে ঢোকায় সাব্বির। সাথে-সাথে স্ক্রিনে ক্রস চিহ্ন ফুটে ওঠাতে ভয় পেয়ে গেছিল। মোবাইলটা নতুন। ভাইরাসে ধরলে সমস্যা। এমনিতেই গার্লফ্রেন্ড নিয়ে ভেগে যাচ্ছে, নতুন কোন উৎপাতের দরকার নেই। তাই তখনকার মত মেমরি কার্ডটা খুলে রেখেছিল। হোটেল রুমে এসেও একই ঘটনা ঘটছে দেখে অবাক না হয়ে পারল না। ক্রস চিহ্নটা পরীক্ষা করে দেখার জন্য মনিটরের কাছে চোখ নিয়ে এসেছে, প্রায় সাথে সাথে কালো হয়ে গেল ল্যাপটপ স্ক্রিন। তারপর দুপ করে নিভে গেল হোটেল রুমের প্রতিটা আলো। বাথরুমের ভেতরে মেগানের হুম-হাম করে মৃদু কণ্ঠে করা গান বন্ধ হয়ে গেল। মিষ্টি কণ্ঠটা একবার ডাকল, “সাব্বির?” তারপর সেদিক থেকেও কোন সাড়াশব্দ নেই। গলা চড়িয়ে জবাব দিল ও, “লোডশেডিং, মেগান। জেনারেটর চালু হয়ে যাবে যে কোন সময়।” জেনারেটর চালু হয়ে গেছে। মৃদু ঘরঘর শব্দ হচ্ছে নিচের কোথাও থেকে। আলো ফিরে এসেছে ঘরে। আগের মত উজ্জ্বল নয়। কেমন যেন মিটমিটে। ল্যাপটপ এখনও বন্ধ। মনে করার চেষ্টা করতে থাকে সাব্বির, আগে ল্যাপটপ স্ক্রিন বন্ধ হয়েছিল? নাকি লোডশেডিংয়ের সাথে সাথে বন্ধ হয়েছিল ল্যাপটপ? লোডশেডিং হলেই বা ওটা বন্ধ হবে কেন? ব্যাটারিতে ভালোই চার্জ ছিল। পাওয়ার সুইচ চেপে ওটাকে অন করার চেষ্টা করতে থাকল সাব্বির। কাজ হল না খুব একটা। চার্জার লাগানো আছে। কিন্তু ল্যাপটপ অন হচ্ছে না। ঠিক ভয় না, কিন্তু অদ্ভুত এক ধরণের অস্বস্তি চেপে ধরল ওকে ওখানে। হঠাতই খেয়াল করেছে, বাথরুমের শাওয়ারের শব্দ থেমে গেছে। “মেগান?” কোন সাড়া নেই। পুরোনো আমলের একটা করে গ্র্যান্ডফাদার ক্লক থাকে এদের প্রতিটা রুমে। সেটা টিক-টিক শব্দ করছে। ঘরের একমাত্র শব্দ। খাট থেকে নেমে গেল সাব্বির। বাথরুমের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, “মেগান!” বিছানার ওপর থেকে মোবাইল ফোনটা বেজে উঠল। চিৎকার করে বাজছে ওটা। কানে খুব চাপ ফেলছে অদ্ভুত নিস্তব্ধতায়। মোবাইল হাতে নিয়ে থমকে গেল সাব্বির। ডাটা কেবলের সাথে ল্যাপটপে সংযোগ দিয়েছিল ও। এখন সংযোগ নেই। খুলল কিভাবে? ডিসপ্লেতে ভেসে আছে আননোন নাম্বার। ইতস্তত করে রিসিভ করল ও। “আর বোট।” পরিচিত একটা কণ্ঠ উচ্চারণ করল অন্যপাশ থেকে। “ফোর সিক্স নাইন জিরো।” “হোয়াট দ্য...” “ফোর সিক্স নাইন জিরো?” “হু দ্য হেল আর ইউ!” “আর বোট। নাইটস্ট্যান্ডের কাছে যাও।” বিছানার পাশে ছোট্ট একটা টেবিল। নাইটস্ট্যান্ড। সব হোটেলরুমেই এটা কমন জিনিস। টেলিফোন দেয় অনেকে ওটার ওপর। তাছাড়াও মোবাইল, চাবি, মানিব্যাগ এসব দরকারি জিনিস নাইটস্ট্যান্ডের ড্রয়ারে রেখে দেওয়া যায়। হাতের কাছে থাকে সবকিছু। কাজের আসবাব। সন্দেহের চোখে নাইটস্ট্যান্ডের দিকে তাকিয়ে আছে সাব্বির। “নিচের ড্রয়ারটা খুলে দেখো। একটা পিস্তল আছে ওখানে।” “হোয়াট?” এবার রীতিমত আর্তনাদ করে উঠল সাব্বির। “ওপেন ইট।” মন্ত্রমুগ্ধের মত ড্রয়ারটা খুলল ও। চকচকে একটা পিস্তল আসলেই শুয়ে আছে সেখানে। কি আশ্চর্য! এটা এল কখন? আগে থেকেই ছিল এমনটা সম্ভব না। এখানে ওর পোর্টেবল হার্ডডিস্কটা রেখেছিল। ভেতরেই আছে ওটা। পিস্তলের পাশে। পোর্টেবলটা রাখার সময় পিস্তল ছিল না, পরিষ্কার মনে আছে ওর। কি হচ্ছে এগুলো ওর সাথে? “বেরসা থান্ডার। থার্টি এইট ক্যালিবার। বাস্তবই এটা। তুলে নাও দ্রুত।” পুরো দুই সেকেন্ড পিস্তলটার দিকে তাকিয়ে থাকল সাব্বির। নাক কুঁচকে গেছে, “নো ওয়ে। প্রথমতঃ এরকম ফালতু চেহারার পিস্তল ধরার কোন সখ নাই আমার। দ্বিতীয়তঃ তোমার মার্ডার উইপনে আমার হাতে এভিডেন্স ফেলতে চাইছো তো? তা হবে না। তুমি আমার কোন শালাবাবু লাগো না যে প্রতিটা কথাই আমাকে ‘ইয়েস স্যার’ বলে শুনতে হবে। ফোনটা আমি ছেড়ে দিচ্ছি।” “ফোনটা ছেড়ে দেওয়ার আগে বাথরুমে মাথাটা সেঁধিয়ে আসার সুমতি হোক তোমার। জন্মদিনের পোশাক পরে তোমার গার্লফ্রেন্ড ওখানে আছে কি?” থমকে গেল সাব্বির। এই লোক এতকিছু কি করে জানে? “ভাবছ এত কিছু কি করে জানি? ভেবে দেখো, সবকিছুর ব্যাখ্যা কি আমার গলাই দিচ্ছে না? আমার তো জানার কথা ছিলই। না জানলেই বরং অবাক হওয়া উচিত ছিল তোমার।” ফোনের অন্যপাশের কণ্ঠ শুনতে পাচ্ছে না এখন সাব্বির। ছুটে গেছে অ্যাটাচড বাথের দিকে। নব ঘোরাতেই খুলে গেল দরজা। মেগান কি দরজা বন্ধ না করেই ঢুকেছিল? হতে পারে। অ্যাটাচ বাথে ঢোকার দরজা একটাই। সেটা আছে তাদের রুমের ভেতরে। বয়ফ্রেন্ড বসে আছে সেখানে। দরজাতে তালা দেওয়ার কোন কারণ মেগানের ছিল না। ভেতরে সাদা রঙের ব্রা আর পেন্টি সাজানো আছে দেওয়ালের র‌্যাকে। শাওয়ার বন্ধ করা। মেগানের শরীরের গন্ধ এখনও ভেসে বেড়াচ্ছে মাঝারি আকারের বাথরুম জুড়ে। শুধু মেগান নেই এখানে। “কি চান আপনি আমার কাছে? মেগান কোথায়?” অজান্তেই ছিটকে বাক্য-দুটো বের হয়ে আসল সাব্বিরের গলা থেকে। কানে ফোন চেপে ধরেছে। “কি চাইছি সেটা তো বোঝা সহজ। নাইটস্ট্যান্ডের ভেতর থেকে পিস্তলটা তুলে এনে তিনজনকে গুলি করবে তুমি। নাহলে মেগানের সাথে দারুণ একটা সময় কাটাবো আমি। সময়টা পুরোপুরি উপভোগ করবে মেয়েটা। নিজে থেকেই সহযোগিতা করবে আমাকে ওসব করতে। কেন, তা তো বুঝতেই পারছ?” স্তব্ধ হয়ে গেছে সাব্বির। বুঝতে না পারার কোন কারণ নেই। ফোনের অন্যপ্রান্তের গলাটা সাব্বিরের খুব পরিচিত। ওর নিজের কণ্ঠ ওটা।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৩০ জন


এ জাতীয় গল্প

→ কিশোর পাশা ইমন-০১

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now