বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

কিছু স্মৃতি

"স্মৃতির পাতা" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Merina Afrin Mou (০ পয়েন্ট)

X অনেক দিন পরে গ্রামের বাড়ি আসলাম। কত দিন হবে? বছর দেড় এর কম না। বাড়িতে কেউ থাকে না সবাই ঢাকা থাকে তাই কোন ধরণের বিশেষ উৎসব বা শোক ছাড়া বাড়ি আসা হয় না। এখন আসার কারণ হল আগামী শুক্র বার কাজিনের বিয়ে সেই জন্য। দুপুরে খাওয়ার পরে একাই আনমনে হাঁটতে হাঁটতে একটি রাস্তার পাশে এসে থমকে দাঁড়ালাম। এই ভর দুপুরে কোথায় জানি ঘুঘু পাখি ডাকছে। ঘুঘু পাখির ডাক বড় অদ্ভুত কেন জানি বুকের ভিতর হু হু করে উঠে। . রাস্তাটা আমার পূর্ব পরিচিত শুধু পরিচিত না এই রাস্তার প্রতিটি বাক আমার মুখাস্ত। রাস্তাটি অনেকটা ইংরেজি অক্ষর ( Y ) এর মত। বেশ কিছু টা পথ এক সাথে এসে শেষে দুই মাথা দুই দিকে চলে গেছে। এই ( Y ) এর ঠিক ফাকের মাঝে বেশ কয়েকটা তুলা গাছ আছে। তুলা গাছ গুলোর ফুল গুলো থাকে টক টকে লাল। ফুলের মৌসুমে গাছের নিচে মনে হয় কেউ লাল গালিচা বিছিয়ে দিছে। . গরমের দিনে এই যায়গায় সব সময় প্রচুর লোক থাকে কারণ এখানে প্রচুর বাতাস থাকে সব সময়। নাহ সব কিছু ঠিকি আছে এই তো সেই কোনায় একটা মাচা আছে বসার জন্য। আগে একটু সময় সুযোগ পেলেই গ্রামের বাড়ি চলে আসতাম। ওর সাথে দেখা করার জন্য সব সময় মনটা ছটফট করত। এই তুলা গাছ গুলো হল আমাদের বিচ্ছেদের এক মাত্র সাক্ষী। মনোবিজ্ঞানীদের মতে স্থান অনেক স্মৃতিকে মনে করিয়ে দেয়।আমার বেলও তাই হল। . বেশ পুরাতন কিছু কথা মনে পরে গেল। আমি তখন অনার্সে পড়ি ও ইন্টারে। সুযোগ পেলেই গ্রামের বাড়ি এসে ওর সাথে দেখা করতাম। হাসতাম, চিমটি কাটতাম, সুযোগ পেলেই কিস করতাম। আমাদের বাড়ি যাওয়ার দুইটা রাস্তা ছিল। তবে আমি সাধারণত আমাদের বাড়ি যাওয়ার জন্য এই রাস্তাটা ব্যবহার করতাম কারণ এই like ইমোটিকন রাস্তার এক দিকে ওর বাড়ি যাওয়ার রাস্তা আরেক দিকে আমার। চলে যাওয়ার সময় শুধু বার বার ওর দিকে ফিরে তাকাতাম। সেও তাকাত আমার দিকে। . ওকে কত বার বলেছি এই চল না আমাদের বাড়িতে ও সব সময় বলত এখন না এক বারে লাল শাড়ি পরে ব্যাগ সুটকেস নিয়ে চলে আসব। আমিও সেই আশায় থাকতাম। কত যে স্বপ্ন ছিল আমাদের চোখে কোত যে পরিকল্পনা তার হিসেব নেই। . যেমন বিয়ের পরে আমাদের শোবার ঘরে মাথার বালিশ থাকবে একটা আর কোলবালিশ থাকবে না। ও শুধু আমার কথা শুনে হাসত আর বলত তুমি একটা পাগল। সত্যি পাগল ছিলাম ওর জন্য। ওকে সামান্য একটা ফুল দিলেও সেটা নষ্ট করত না আমিও না বইয়ের চিপায় রেখে শুকিয়ে রাখতাম। এখন ও হয়ত বইয়ের পাতা খুজলে কিছু ফুল পাওয়া যাবে। . খুব ভালই ছিল সেই সময়ের দিন গুলো সব কিছু ক্যামন জানি সোনালি সোনালি মনে হত। কত রাত যে কোলবালিশ জরিয়ে ধরে ওর কথা মনে করেছি তার হিসেব নেই। সত্যি পাগল ছিলাম কোলবালিশের সাথে কথাও বলেছি ওকে কল্পনা করে। হটাত করেই এই দিন শুনি ওর বিয়ে কোন ভাবেই আটকান যাবে না। তখন মাত্র ছাত্র কি আর করতে পারি। শেষ দেখা করার জন্য বাড়ি গেলাম। যে দিন ওর সাথে আমার দেখা হওয়ার কথা সেই দিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ওর কলজের ক্যাম্পাসে বসে ছিলাম কিন্তু ও আসে নি। সেই সময় ওর পার্সোনাল মোবাইল ও ছিল না সেই সময় যে যোগাযোগ করব। . তার পরে যে দেখা হয়নি তানা দেখা হয়েছে তবে ও দেখেছে কিনা জানি না আমি দেখেছি। ওর বিয়ের দিন যখন ওকে উঠিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল তখন। সেই ( Y ) রাস্তার তুলা গাছ গুলোর কাছে। কি কারণে জানি সে দিন ওকে বহন কারী গারিটা ৫ সেকেন্ডের জন্য থেমেছিল তখন দেখেছিলাম লাল শাড়ি পড়া ও বরের পাশে বসে আছে মাথা নিচু করে। দুই জনকেই বেশ মানিয়েছে। গারিটা অন্য দিকে চলে যাচ্ছে অথচ এই গারিটার যাওয়ার কথা ছিল আমার বাড়ির রাস্তায়। . নাহ পুরাতন কথা মনে করে চোখ ঝাপসা করার কোন কারণ নেই। আসলেই মণ আজব এক জিনিষ কোন কনট্রোল নাই নিজের খায় নিজের পরে আর গান গায় আরেক জনের। শুনেছিল পৃথিবীটা নাকি গোল কার সাথে শুধু একবার দেখা হয় না ঘুরে ফিরে কয়েকবার দেখা হয়। ওকে দেখলে শুধু একটা কথা জানতে চাইব। তোমার শোবার ঘরে কি একটা বালিশ?


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮৯ জন


এ জাতীয় গল্প

→ কিছু স্মৃতি
→ শায়খ আলবানী (রহ:)-এর বৈচিত্র্যময় জীবনের কিছু স্মৃতি
→ মনে পড়ে আজও বাবা-মার কিছু স্মৃতি
→ একটি রাত,একটি মেয়ে,কিছু স্মৃতি,,
→ কিছু স্মৃতি

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now