বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
২.
করপোরেট জীবনে ছুটি খুব একটা পাওয়া যায় না । এবার তিনদিনের ছুটি পাওয়াতে বন্ধু অরুণের সাথে বেড়াতে চলে এলাম মধুপুরে । মধুপুর গ্রামটি সত্যিই সুন্দর । অরুণ যতটুকু বলেছিল তার চেয়েও বেশী । সে এ গ্রামেই জন্মেছে । পৃথিবীতে কিছু স্বপ্নাবিষ্ট মানুষ জন্মায় যারা কখনো তাদের শিকড়কে অস্বীকার করে না । অরুণ তাদেরই দলে । তার কাছে এ গ্রামের কথা এতো শুনেছি যে , এখানে এসে মনে হচ্ছে মধুপুরকে আমি অরুণের চেয়েও ভাল চিনি ।
ট্রেন থেকে নেমেছি সেই দুপুরবেলা । এখন গরু গাড়িতে করে চলেছি অরুণদের বাড়িতে । বাইরে থেকে দেখলে মনে হয় গরুর গাড়িতে চড়া খুবই আরামের । কিন্তু গরু গাড়ি যে এতঝাকি খায় , না চড়লে বুঝা যায়না । তীব্র ঝাকিতে আমার মাথাব্যথা শুরু হয়েছে । অরুণ আমার পাশে বসে একনাগাড়ে কথা বলেই যাচ্ছে । শেষে বিরক্ত হয়ে বললাম
--কি রে ? আর কত দূর?
--এইতো দোস্ত , এসে পড়েছি । আর আধঘন্টাখানেক ।
-- আরও আধঘন্টা ! প্রচুর ক্ষুধা লাগছে রে । এখন কি করি ?
-- চিন্তা করিস না ,বাড়িতে ফোন কইরা দিছি । সব রান্না রেডী । খাইয়া খাইয়া পেট বানাইছস বটে একখান ! দোস্ত এখন থেকে একটু কম খাওয়া শুরু কর । ডায়েট করা শুরু কর ।
--এত কথা বলিস না । এখন চুপ কর , মাথা ব্যথা করছে ।
বিকেলের আগেই পৌছে গেলাম অরুণদের বাড়িতে । অরুণের চাচা রহিম উদ্দিন আগেই দাড়িয়ে ছিলেন রাস্তায় এসে । গাড়ি থেকে নেমেই চাচাকে সালাম দিলাম, চাচা হাসি মুখে বললেন,
--এতক্ষণে আইলা তোমরা ।
--আর বইলেন না চাচা , গরুর গাড়িতে চড়ে মাথা ব্যাথা করতাছে ।
--নতুন উঠলে একটু আধটু মাথা ব্যথা করেই । লও লও ভিতরে লও।
অরুণদের বাড়িটা সুন্দর । শুধু সুন্দরই না ,সজানোও বটে । উঠোনের এক কোণায় ফুলের বাগান , ফুল ফুটে আছে সেখানে । আর এতেই এ বাড়ির সৌন্দর্য বেড়ে গেছে বহুগুণে । কিছু অচেনা ফুলের গন্ধে বাড়ি ভরে গেছে । আমি বললাম ,
-- এটা কি ফুলের গন্ধরে?
--কি জানি । চল আগে হাতমুখ ধুয়ে আসি ।
বাড়ির পাশেই বিরাট পুকুর । আমরা পুকুর থেকে হাতমুখ ধুয়ে খেতে বসে গেলাম । খাওয়া শেষে অরুণ আমায় ঘুরতে নিয়ে বের হল ।
রাত তখন দশটা । হারিকেনের আলোয় অরুণ আর আমি বিছানা ঝাড়ু দিয়ে ঘুমানোর আয়োজন করছি । অরুণ হঠাৎ বলল
--সকালে আমার আবার ফজরর নামাজ পড়ার অভ্যাস আছে , তুই পড়বি নাকি ?
--আমার যা ঘুম । হাতি দিয়েও টেনে তুলতে পারবি কিনা সন্দেহ । ডাক দিয়ে তুলতে পারলে যাব ,ডাকিস ।
দুজনে শুয়ে কথা বলতে বলতে কখন যে ঘুমিয়ে গেছি জানিনা । ঘুম ভাঙল অরুণের ডাকে ।
--দোস্ত উঠ ,উঠ । সকাল হয়ে গেছে । নয়টা বাজে । উঠ ।
বিছানায় উঠে দেখি সকাল হয়ে গেছে । রোদের আলোয় ঝলমল করছে চারপাশে । অরুণ গম্ভীর মুখে দাড়িয়ে আছে বিছানার পাশে ,বলল
--আজকেই ঢাকা চলে যাব । উঠ । রেডি হয়ে নে ।
আমি অবাক হয়ে বললাম
--কিরে কি হয়েছে ? এসেছি তিনদিন থাকব বলে । আর তুই আজই চলে যাবি ? কিছু কি হয়েছে?
-- না কিছু হয়নি । এখন রেডি হয়ে নে । দুপুরের ট্রেন ধরতে হবে ।
আমি অবাক হয়ে অরুণের দিকে তাকিয়ে রইলাম । ভাবলাম হয়তো অরুণের সাথে তার চাচা বা চাচীর ঝগড়া হয়েছে । কথা না বাড়িয়ে বিছানা থেকে উঠে সোজা পুকুর পাড়ে চলে এলাম । হাত মুখ ধুয়ে পুকুর থেকে উঠেই দেখি অরুণের চাচা দাড়িয়ে
--তোমরা না কি আজই চইলা যাইতাছ ?
--অরুণতো তাই বলল । আচ্ছা চাচা কি হয়েছে যে অরুণ চলে যেতে চাচ্ছে ?
--কি জানি । বুঝবার পারলাম না । তুমি মনে কিছু লইও না , ও একটু এমনই । তয় পরে আরেকবার সময় কইরা আইস ।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now