বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
কিছুদূর গিয়ে পিছন ফিরে ছেলেটি
মেয়েটিকে একটা লাজুক দুষ্টু
হাসি উপহার দিয়েই দিল।
মেয়েটিও
যেন এর অপেক্ষায় ছিল। চোখ দুটো
ছোট করে মুখ ভেংচি দিয়ে
জানিয়ে দিলো "খবর আছে তোমার"
.
মেয়েটি তিন তলার উপর
ব্যালকনিতে
দাড়িয়ে ডাক দিল নিচে হেটে
যাওয়া ছেলেটিকে দেখে
.
>>এইযে মিস্টার
.
ছেলেটি অমনোযোগী ছিল হয়তো।
তাই একটা মেয়ের পিছু ডাক শুনেও
সাড়া দিলো না। মেয়েটি একটি
ঝাড়ি টাইপ ডাক দিলো। ফলে
ছেলেটি সাড়া দিতে বাধ্য হলো
.
>>এইযে এখানে কেউ ডাকছে শুনতে
পাচ্ছেন না?
>জ্বি শুনতে পাইনি হয়তো। বলুন
>>আপনার হলুদ জামা কোথায়?
>কোথায় আবার! বাসায়
>>তো সেটা পড়ে আসতে কি এমন
অসুবিধা? সেটা পড়লে কি হয়?
>কেনো? এটাতে কি সমস্যা বলুন
তো?
>>নীলে আপনাকে স্মার্ট স্মার্ট
লাগে। আর হলুদে কিউট বাবু বাবু
লাগে। বুঝালেন?
.
মেয়েটার এমন অদ্ভুত কথা শুনে
ছেলেটার হাসি পায় কিন্তু
ছেলেটা মেয়েটার চোখ আড়াল
করে
মুচকি একটা হাসি দেয়। হয়তো এই
হাসির মায়ায় কাউকে জড়াতে
চায়না বলেই চোখ লুকোনো হাসি
দেয়।
.
আর মেয়েটা? এই হাসিটুকু দেখার
জন্যই
প্রতিদিন বিকেলে এই সময়ে
ব্যালকনিতে দাড়িয়ে অপেক্ষা
করে
ছেলেটা এসে একটা মায়া জরানো
হাসি উপহার নিবে বলে।
.
আজ ছেলেটা আড়ালে হাসি দিয়ে
মেয়েটার অপেক্ষা কে উপেক্ষা
করে রাগিয়ে দিলো। ছেলেটা
আবার হাটা শুরু করলো
.
মেয়েটা রেগে টমেটো লাল হয়ে
কোমরে দুহাত রেখে চমৎকার রাগী
চাহনি নিয়ে ছেলেটার যাওয়া
দেখছে। আম মনে মনে ছক কসছে এর
প্রতিশোধ নেওয়ার। "যাবে কই
বাছাধন?"
.
কিছুদূর গিয়ে পিছন ফিরে
মেয়েটিকে এবার একটা লাজুক দুষ্টু
হাসি উপহার দিয়েই দিল।
মেয়েটিও
যেন এর অপেক্ষায় ছিল। চোখ দুটো
ছোট করে মুখ ভেংচি দিয়ে
জানিয়ে দিলো, "খবর আছে
তোমার"।
.
একটু পরিচয় দেয়া যাক। ছেলেটা হল
ইভান। আর মেয়েটা হলো বৃষ্টি।
দুজনেই
ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট এড়িয়াতে
থাকে। এদের দেখা বা পরিচয় হয়
একটা লং জার্নিতে।
.
ইভান বাস জার্নি বেশ ভালই পছন্দ
করে। আর সেটাতে যদি জানালার
পাশের সীট হয় তবে তো কোন কথাই
নেই। শীত ছুটি কাটিয়ে ফিরছিলো
যশোর থেকে। যশোর ক্যান্টনমেন্টে
ওর
মামা সপরিবারে থাকেন।
সেখানে
ছুটি কাটাতে গিয়েছিল।
বেড়ানো
শেষে বাসে করেই ঢাকা আসবে
বলে
গাড়িতে উঠলো।
.
আর বৃষ্টিও ওর ফুপি বাড়ি থেকে
ফিরছিলো বিয়ের অনুষ্ঠান শেষ
করে।
খুব সকাল নয় তখন। মোটামুটি ভাল
বেলা করে গাড়ি ছাড়ল। গাড়ি
ছাড়বে ছাড়বে করছে তখনই বৃষ্টি
নামের অজানা কেউ হুরমুর করে
গাড়িতে উঠলো।
.
ইভানের জানালার পাশের সীট আর
তার ভাগ্যে রইলো না। বেশ জোর
খাটিয়ে সীট দখলে নিলো বৃষ্টি।
পিছনের সীটে বৃষ্টির মা আর পিচ্চি
ভাইটা।
.
বাস ততক্ষণে নিজ গতিতে চলছে। আর
পাশাপাশি বসা দুজন পরস্পর পরস্পরকে
শত্রু তুল্য মনে করে যতটা সম্ভব দূরত্ব
বজায়
রেখে যে যার মত কাজ করছে।
.
বৃষ্টি কানে হেডফোন গুজে গান
শুনছিলো আর ফেজবুক ব্রাউজ
করতেছিল। বাহিরের দিকে কোন
খেয়ালই নেই তার।
.
ইভানের কিছুটা রাগ হলো।
জানালার
পাশের সীট নিলো অথচ প্রকৃতি
উপভোগ করছেনা। "ফাজিল মেয়ে"
মনেমনে এসব ভাবছিল ইভান।
.
নিজেও দেখবে না অন্যকেও দেখতে
দিবে না। ফাজিল মাইয়া। সেই তখন
থেকে যাচ্ছে তাই করে যাচ্ছে। কি
পেয়েছেটা কি? হুহ্। কিছু না বললেই
নয় এই বদ মেয়েকে। একবুক বাতাস
নিয়ে
মহাভারত বিজয়ের লক্ষে যখন সম্পূর্ণ
প্রস্তুত ইভান তখনই ওর সাজানো
পরিকল্পনায় এক ছলক পানি ঢেলে
দিল
শীতের ওই দমকা বাতাসটা।
.
হুমম বৃষ্টির চুল উড়ছে। সুকেশিনী
সুহাসিনীর
কাজল কালো উচ্ছাস বেহায়া কেশ
যে ইভানের মুখের উপর সাগরের
অশান্ত ঢেউ খেলে যাচ্ছে কোন
খেয়াল নেই তার। আর ইভান কেশ
মাতাল হয়ে ঘোরের মাঝে চুলের
ঘ্রাণ নিচ্ছিলো। মুহূর্তে উবে গেল
একটু আগের চিন্তা ভাবনা।
.
মেয়েটাকে দেখতে অপূর্ব।
জানালার বাহিরের ওই সুন্দর দৃশ্য
উপেক্ষা করে চোখে নিচু করে কিছু
অতৃপ্তি নিয়ে যেনো ফোনের
দিকে
তাকিয়ে আছে।
.
ইভানকে যেন এক অঘোর বিঃষন্ন
মায়া গ্রাস করে ফেলেছে। মন্ত্রমুগ্ধ
হয়ে ঘ্রাণ নিচ্ছিলো পাশে বসা
ফাজিল মেয়েটির চুলের। বুকের
ভেতর
এক আকাশ স্নিগ্ধ মেঘ এপাশ থেকে
ওপাশ চিনচিনে এক ব্যাথার সৃষ্টি
করে যাচ্ছে।
.
কিন্তু হঠাৎ ঠাস করে জানালা
বন্ধের
শব্দে বাস্তবে ফিরলো ইভান।
মেয়েটা জানালা বন্ধ করে চুল
গুটিয়ে নিয়েছে। চোখে যেন সহস্র
রাগ খেলা করছে মেয়েটির।
.
ইভানের মনটা খারাপ হয়ে গেল। না
পারছে কিছু করতে না পারছে কিছু
বলতে। চুপচাপ গুটি মেরে বসে আছে
ইভান। ওদিকে বৃষ্টি খোশ
মেজাজেই
আছে। ছেলেটাকে জব্দ করতে
পেরে।
কিছুক্ষণ পর একটা চুল ছিড়ে ইভানের
কপালে এসে পরলো।
সেটা আঙুলের ডগায় নিয়ে খেলা
করছিল আর বৃষ্টিকে দেখছিল।
.
বৃষ্টি খানিকবাদে সেটা আঁচ করতে
পেরে চুল ভাল ভাবে গুটিয়ে ওড়না
করে দিলো। মনটা খারাপ হলো
আবার। মনটা লুকোচুরি খেলছে ওর
সাথে।
.
চুলটা হাতে নিয়ে ভাবলো একটা
পোষ্ট করা যাক ফেবুতে। হুম যেই
ভাবা
সেই কাজ। পোষ্ট করে দিলো।
.
"মেয়েদের চুলই বুঝি হয় জানালার
পাশে বসে ছেলেদের মন ছুঁয়ে
দিতে"
.
অপরিচিত তেমন কেউ নেই
ফ্রেন্ডলিস্টে। এককেজনের
কমেন্টের
রিপ্লে দিচ্ছিলআর হাসছিল।
একটুপর মিটিমিটি চোখ করে
ইভানের
দিকে তাকালো। জোর করে হাত
থেকে ফোন নিয়ে দুজনের মাঝে
ফাকা জায়গায় রাখলো। কি মনে
করে ঝড়ের বেগে মোবাইলটা
হাতে
তুলে একবার ফোনের দিকে
তাকিয়ে
বড় বড় চোখ করে তাকালো ইভানের
দিকে। ইভান একটু ভড়কে গেলো ওর
চাহনি দেখে।
.
>>এই চেহারা আবার এত লুকানোর কি
আছে হ্যা? নাকি মেয়েরা এসে
তুলে
নিয়ে যাবে?
>কিসব বলছেন আপনি? কি
লুকিয়েছি?
.
বৃষ্টির ফোন দেখিয়ে বলল
>> এইটা কার আইডি চিনেন??
ইভান যেন কিছু জানেই না এমন ভাব
করে বলল
>মেয়ে আইডি
.
এবারে একটা ঘুসি ইভানের মুখের
উপর
তাক করে বলল
>>আমি সেইটা জিজ্ঞেস করছি?
বলছি
এই আইডির সাথে কথা হয়নি কখনো?
>হুম হয়েছে তো
>>একটা ছবি দিলে কি এমন হতো?
>আমি ছবি দেইনা ভার্চুয়ালে
>>হুম আজ তো খুজে বের করলাম
এবার প্রতিশোধ নিবো
.
>কি প্রতিশোধ আবার?
>>দুজনে একসাথে সেলফি তুলবো।
>এই এই কি করছেন? আপনার মা
পিছনে।
তিনি কি বলবেন? ছাড়ুন, দুরে সরুন
>>না তুলতে দিলে কিন্তু চিৎকার
করবো।
"একটাহলুদ শার্ট হলে কিন্তু দারুন হতো
কেপশন থাকতো সেলফি with পিচ্চি
বাবু হিহিহি" সেলফি তুলতে তুলতে
বলল বৃষ্টি
.
অতঃপর সেলফি প্রতিশোধ নেওয়া
শেষে বলল
>>এবারে শাস্তি আছে
>আল্লাহ বাচাও আমারে। এই মেয়ের
কি কোন লজ্জা সরম নাই? এভাবে
কেউ
কথা বলে গায়ে পরে?
>>ওই একদম চুপ
>চুপ
>>একটু আগে কি লিখছিলেন আমায়
নিয়ে?
>কই কি? কিছু দেই নি তো
>>চুল খুব আদর দিছে না?
>কই? না না দেইনি
>>হু বাসে পাশে বসা সুন্দরী মেয়ে
দেখলে আর মাথা ঠিক থাকেনা।
তাই
না? আপনারা সব ছেলেরাই এক। হুহ
>এইযে কে সুন্দরি হ্যা? কে সুন্দরি?
আয়নায় নিজেকে দেখছেন? যেইনা
মেয়ের চেহারা, নামম রাখছে
পেয়ারা
>>কিইইইই? আমি মোটেও পেয়ারা
না।
আমি বৃষ্টি হু
>........
>>......
.
এভাবেই মিষ্টি ঝগড়ার মধ্য দিয়ে
শেষ
হয় বাস জার্নি। অতঃপর দুজনে দুই দিক।
.
কেউ ভাবতেই পারেনি যে আবার
দেখা হবে দুজনের। সেদিনের পর এমন
চলছে ওদের। প্রতিদিন বিকেলে
ক্যান্টনমেন্ট থেকে বের হতে
বৃষ্টিদের বাসার সামনে দিয়ে
যেতে হয়। আগেও হয়তোবা যেত
কিন্তু
তখন পুরোই অচেনা ছিল দুজন। এখন
প্রতিদিন হাসি আর চোখ রাঙানি
বিনিময় হয়।
.
সন্ধ্যার আগে আগে বাসায় ফিরে
দেখে ইভানের সব জামা কুটিকুটি
করে কাটা। এখানে সেখানে
ছড়ানো সারা বেডরুমে।
.
আম্মুকে জিজ্ঞেস করলে মুচকি
হেসে
পাস কাটিয়ে চলে গেলো। ছোট
বোনকে জিজ্ঞেস করে যা বলল
তাতে মাথায় হাত। পাশের বাসার
বৃষ্টি আপু এসে নাকি সব কাঁচি দিয়ে
কুটিকুটি করে কেটে গেছে। বলে
গেছে "কাল থেকে যদি হলুদ জামা
না
পরে যায় বাকি একটা নীল
জামাটার
ও খবর করে দিবে।" আম্মুও নাকি
তাতে
সায় দিয়েছে।
.
পরদিন সকাল
.
মাথায় অনেকক্ষণ কে যেন হাত
বুলাচ্ছে। ইভানের আম্মু মনে করে
হাতটা বুকে নিয়ে বলল
>আরেকটুপর উঠি আম্মু
.
ইভান যে আচমকা এমন করবে ভাবতেই
পারেনি বৃষ্টি। দ্রুত হাত ছাড়িয়ে
নিলো লজ্জায়। ধরা পরেনি তো
সে!
>>এইযে মিস্টার কে আপনার আম্মু হু?
.
অপরিচিত মিষ্টি কন্ঠের
চেঁচাচেচি
শুনে লাফিয়ে উঠল ইভান।
>একি আপনি কেন? এখানে এলেন
কিভাবে? আম্মু, আম্মু কই তুমি?
>>এই এই কি করেন কি? আক্কেল নাই
কোন? এভাবে ডাকে কেউ? আম্মুকে
ডাকার কি হলো?
বৃষ্টি অকপটে এমন ভাবে এসব বললো
যেন দুজনের মাঝে কত জানাশুনা
আছে।
.
>এখানে কেন আসলেন?
>>কাল কি বলেছিলাম মনে আছে?
>কি?
>>বিকেলে বের হবো। এই
পাঞ্জাবীটা পরে বেড় হবেন। মনে
থাকে যেন। আর বেশি আম্মু আম্মু
করবেন না হু
>হু আপনি কে যে এত কথা শুনবো?
.
বা হাতে কলার চেপে ডান হাতে
মুখের উপর ঘুসি একে বৃষ্টি হুংকার
দিয়ে বলল
>>আমি কে সেটা বিকেলে যদি
বের
না হন তাহলে বুঝতেই পারবেন তখন
.
কলার ছেড়ে দিয়ে চলে গুনগুন করে
শাষাতে শাষাতে
চলে গেল বৃষ্টি।
ইভান ভাবছে, কে এই রমণী?
সারা দিনরাত
ওর পিছন লাগে কেন
এতো?
কি এর রহস্য?
কি চায় সে ইভানের কাছে?
ইহা মানবী। অতুলনীয় কোন মানবী এর
রহস্যের কোন অন্ত নেই।
এর রহস্যে ডুবে দিন দিন অন্তহীন হয়ে
যাচ্ছে ইভান।
.
উপরে উপরে সবকিছুতে
অনিচ্ছুক মনে হলেও ইভান মনে মনে
কিন্তু বেশ উপভোগ
করছে মেয়েটার সান্নিধ্য।
মেয়েটার
কথা বলার ভঙ্গি, হাটা চলা,
লাজুকতা, চপলতা, সরলতা, চোখদৃষ্টি,
পছন্দ অপছন্দ, শাষণ বারণ, রাগ অভিমান
সব কিছুই।
.
সেদিন ওরা কিছুটা ঘুরাঘুরি শেষে
মার্কেট করতে গেল। ইভানকে গুনে
গুনে পাঁচটা বিভিন্ন ডিজাইনের হলুদ
টিশার্ট কিনে দিল বৃষ্টি।
.
>আচ্ছা এতোগুলি কার জন্য কিনা
হচ্ছে? এগুলো কেউ পড়লে তো তাকে
বাচ্চা বাচ্চা লাগবে।
>>এত কথা কে বলতে বলছে শুনি?
আমার
এক ভাইয়াকে
দিবো, বিলটা দিয়ে দিন।
.
হুলুদ রংটা তেমন পছন্দ নয় ইভানের।
তবে
কেউ হলুদ পরলে অসাধারণ লাগে।
বৃষ্টি প্রতিটা
জামা ইভানকে দাড় করিয়ে সামনে
ধরে দেখে পছন্দ করছিল।
>>হ্যা এটা দারুণ মানাবে।
.
ইভান ভেবেছিল এগুলো বুঝি ওর জন্যই
কিনছে বৃষ্টি। কিন্তু যখন শুনলো এক
ভাইয়ের জন্য, তখন মুখটা কালো হয়ে
গেল।
.
মার্কেট শেষে যখন বেড় হচ্ছিল তখন
ইভান বললো,
>নিজের জন্য কিছু কিনবেন না?
>>আর কি কিনবো? এগুলোতো সবই
আমার জন্য
যার জন্য কিনা সে তো আমারই
>না মানে সেটা না। বলছি নিজের
জন্য??
>>নাহ্ আজ নয়। অন্য আরেকদিন
.
সারা রাস্তা ইভানের মুখের দিকে
তাকানো যায়নি। কি কালো মুখ
করে
রেখেছে। যেন অনেকটা কষ্ট কালো
মেঘ হয়ে ঘিরে রেখেছে ওর
চারিপাশ। তার উপর শপিং ব্যাগ
গুলি
ইভানকে ধরিয়ে দিয়ে খালাশ বৃষ্টি
.
>>চলুন হেটে যাওয়া যাক বাকিটুকু
>হুম আচ্ছা
.
দুজনেই চুপ করে হাটছে। কেমন
অস্বস্তি
লাগছে দুজনেরই। শেষমেশ বৃষ্টিই
নিরবতা ভাঙলো
.
>>কিছু বলার নেই?
>হুম, কি বলবো?
>>কিছু বলার নেই?
>নাহ তো
.
বৃষ্টি কিছুটা হতাশ হয়ে আনমনে
আকাশ
দেখতে দেখতে হাটছে। ভাবছে
"বোকাটার কি কিছু বলার নেই? বুঝে
না কিছু? এরকম বোম্ব হয়ে থাকার
মানে হয়?
"পাশে এত সুন্দর একটা মেয়ে
থাকতেও
যেন চোখে দেখেনা। কোথায়
লাইন
মারবে, সুন্দরিকে পটাতে লেগে
যাবে।
"তা না সাধু একটা। হুনো বিড়াল,
কানা।
.
এসব ভাবতে ভাবতেই হঠাৎ ভারসাম্য
হারিয়ে পরে যাচ্ছিলো বৃষ্টি। খপ
করে এক হাতের উপর ধরে নিল ইভান।
আর বৃষ্টি নখ দিয়ে খামচে ধরলো
ইভানের পাঞ্জাবী। দুজনেরই
চোখের
মিল হলো। দুজন দুজনার চোখের ভাষা
পড়ছে। ঠিক যেন ছাদনাতলায় শুভদৃষ্টি
হচ্ছে
.
বৃষ্টির খুব রাগ হলো।
"চোখ তো ঠিকই বৃষ্টির জন্য
ভালবাসা
দেখালো। মুখে বললে কি হয়? গাধা
একটা
.
আর ইভান? কোন এক ডুবন্ত জাহাজের
সাঁতার না জানা মহাসমুদ্রের
নাবিকের মত বৃষ্টির চোখের প্রেমে
হাবুডুবু খাচ্ছে। আর ভাবছে
"তোমার কিছু হয়নি তো?
"সুন্দরি, তুমি খুব রেগে আছো আমার
উপর জানিতো আমি। আমিতো
তোমাতে অবুঝ বিভ্রান্ত।
"তুমি এভাবে তাকিয়ে কেন আছো?
এভাবে তাকায় কেউ? আমিতো ডুবে
যাবো।
"ও, তুমিতো তাই চাও যেন আমি ডুবে
অন্তহীন হই তোমার প্রেমে।
.
এবারে দুজন দুজনাকে ছেড়ে দিলো।
মনেই ছিলনা যে এটা ছাদনাতলা নয়
এটা। পরন্ত বিকেলের পথা না শেষ
হওয়ার রাস্তা। শুভদৃষ্টি কালের
ব্যাপ্তি ২/৩ সেকেন্ড ছিল হয়তো।
তবে এর প্রগাঢ়তা অপরিসীম
.
স্বাভাবিক হয়ে হাটতে লাগলো
দুজনই। বৃষ্টি বুঝে নিলো এই গাধাকে
দিয়ে কিছু হবে না।
.
>>জানেন, আমার না খুব ইচ্ছে ছিল.....
নীল শাড়ী পরে নীল পাঞ্জাবী
পড়া
কোন অবুঝ বাবু বাবু টাইপ ছেলের
হাতে শাড়ীর আচল গুঁজে দিয়ে নদীর
পাশের কাশবনের মাঝ দিয়ে এরকম
গোধূলি বিকেলে হাটতে
>তো বাধা কিসের? হাটবেন
>>আরে সমস্যা আছে একটা
>কি সমস্যা?
>>সেই গাধা ছেলেটা তো বুঝেই
না
এটা
>কি বললেন? আমি গাধা?
>>এই মিস্টার? আপনাকে কে বললো
গাধা?
.
>এইরে ধরা পরে গেলাম মনে হয়।
ইভান
কাঁচুমাচু সুরে বললো, না মানে
বুঝিয়ে বললেই তো হয়। তাছাড়া
নিজে বললেই তো পারেন
>>হ্যা আমি মেয়ে হয়ে লজ্জা সরমের
মাথা খেয়ে তাকে প্রেম প্রস্তাব
করতে যাবো? আর ছেলে হয়ে
হাবলুটা
ঘাস কাটবে তাইনা?
.
>এইযে মুখ সামলে কথা বলুন
>>আরে আজবতো আপনাকে কিছু
বলছি
নাকি?
>হু
>>ভীতু
>মোটেও না
>>তাহলে এতদিনে মেয়েটাকে
বলতো। বলে ফেলুন না
>যদি এক্সেপ্ট না হয়?
>>হবে তো
>না মানে ভয় করে তো
.
এবার বৃষ্টির মাথাটা একটু গরম হলো।
তিরিক্ষি মেজাজে আগুন ঝরা দৃষ্টি
নিয়ে বললো
>>এত ভয়ই যদি করে, তো প্রেম করতে
কেন আসছো?? হু
.
ইভান কি বলবে বুঝতে পেলো না।
কথা
ঘুরিয়ে বলল
>কালকে একবার বের হবে?
>>খুব জিজ্ঞাসু দৃষ্টি নিয়ে বললো
কেন?
ইতোমধ্যে বৃষ্টির বাসার সামনে
দুজনে চলে আসছে।
>তোমার বাসায় চলে আসছি
>>বৃষ্টি অপেক্ষায় ছিল ইভানের
জবাবের। খেয়াল করে বলল ও হ্যা
চলে
আসছি। তাইতো
.
অতঃপর যখন বাসায় ঢুকতে যাচ্ছিল
তখন
বৃষ্টির হাতে একটা শপিং ব্যাগ
ধরিয়ে দিয়ে বললো কাল কথা হবে
.
আবার সেই তিন তলার উপর
ব্যালকনিতে দাড়িয়ে ডাক দিল
মেয়েটা নিচে হেটে
যাওয়া ছেলেটিকে দেখে
.
>>এইযে মিস্টার
পিছন ফিরে মাথা ঝাকিয়ে চোখ
বিকিয়েছ নির্বাক প্রশ্ন
>কি হইছে?
হাতে একটা নীল শাড়ি দেখিয়ে
বললো
>>এসবের মানে কি?
ছেলেটির নির্লিপ্ত জবাব
>কাল তোমার ইচ্ছে পুরণ করবো।
তৈরি
হয়ে থেকো কিন্তু
.
মেয়েটি একথা শুনেও সন্তুষ্ট না। তার
যে হাসিটা পাওয়া হয়নি।
>>পারবনা আমি
.
কিছুদূর গিয়ে পিছন ফিরে
এবার একটা লাজুক দুষ্টু
হাসি উপহার দিয়েই দিল।
যেন এর অপেক্ষায় ছিল বৃষ্টি। চোখ
দুটো
ছোট করে মুখ ভেংচি দিয়ে
জানিয়ে দিলো, "খবর আছে
তোমার"
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now