বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
সেতারা ফুপু আর্তস্বরে বলল, হায় হায়। কও কি ভাবী ! মরিয়ম তো পাঁচ বছর আগে মারা গেছে।
মারা গেছে! কি কও সেতারা বু? বলে মা আমার দিকে তাকাল। আমি থ। মরিয়ম ফুপু মারা গেছে মানে?
হ। পাঁচ বছর হইল। সালমা গো বাড়িও জগদীশপুরে। আমরা তখন জগদীশপুরে বেড়াইতে গেছিলাম। সালমাও মরিয়মরে চিনে।
হ। চিনি। বলে সালমা মাথা নাড়ল।
মনিরুল ভাই এলেন। অনেকটা ভিজে গেছেন। মাকে সালাম করলেন। তারপর সব শুনে মনিরুল ভাইও বললেন: মরিয়ম ফুপু মারা গেছেন পাঁচ বছর আগে। তখন মনিরুল ভাইও জগদীশপুরে ছিলেন। কবর দেওয়ার সময়ও ছিলেন।
মা আমার দিকে অবিশ্বাসের চোখে তাকিয়ে রইল। ফিসফিস করে বলল, এরা কি কয় রে বাদল? তাইলে আমাগো বাড়িতে কে আইল?
আমি আর কি বলব। এতগুলো লোক কি আর মিথ্যে কথা বলবে?
হঠাৎ আসা বৃষ্টিটা কমে এসেছে। যত শিগগির সম্ভব বাড়ি যাওয়া দরকার। বিদায় নিয়ে বেরিয়ে এলাম। বাসস্টপ পর্যন্ত ছাতা নিয়ে মনিরুল ভাই এলেন। ঝিরঝির বৃষ্টির মধ্যে বাসে ছাড়ল। বাসে মায়ের সঙ্গে তেমন কথা হল না। দুজনে গভীর চিন্তায় ডুবে ছিলাম। মা কেবল একবার বলল, এরা কি কইল রে বাদল। মরিয়ম বু নাকি বাঁইচা নাই। তা হইলে কে আইল?
বাড়ি না-ফেরা পর্যন্ত কিছু বলতে পারছি না। বললাম।
বাস থেকে নেমে হাঁটছি। ততক্ষণে আবার ঝরঝরে রোদ উঠেছে। তখনও ঘোর কাটেনি। মরিয়ম ফুপুকে আমি গতকাল দু-বার স্পর্শ করেছি। দু-বারই অত্যন্ত শীতল অনুভূতি হয়েছে। মরিয়ম ফুপুর চোখের দৃষ্টিও কেমন নিষ্প্রাণ। মাথায় একটি প্রশ্ন ঘুরছিল: মরিয়ম ফুপু যদি মারাই যাবেন তা হলে আমাদের বাড়ি যে এসেছে সে কে? কেন এসেছে? মরিয়ম ফুপু বাবাকে খুব ভালোবাসত। বাবা মুগের ডালের খিচুরি আর ধনে পাতা দিয়ে রুই মাছ খেতে ভালোবাসে বলে রাঁধল। মায়ের কাছে বিয়ার গয়নাগাঁটি খোঁজ নিল।আশ্চর্য! কাল রাতে ঘরে খুটখাট শব্দ পাচ্ছিলাম। যেন কেউ কিছু খুঁজছে। মরিয়ম ফুপু আমাদের বাড়ি আসার পর থেকেই অদ্ভূত সব ঘটনা ঘটছে। পিকলুকে দেখলাম গতকাল মাঝ রাতে জোছনার ভিতর নীচের উঠানে দাঁড়িয়ে থাকতে। ... এসব ভেবে আমার কেমন শীত-শীত করতে লাগল।
আমি আর মা পাশাপাশি হাঁটছি। দূর থেকে দেখলাম বাড়ির গেটের সামনে পিকলু দাঁড়িয়ে। ওকে দেখে স্বস্তি পেলাম। পিকলুর পরনে হলুদ গেঞ্জি আর নীল হাফ প্যান্ট। হাতে নাটাই। স্কুলের মাঠে যাচ্ছে বলে মনে হল।
কাছে এসে বললাম, কি রে, তোরা কখন এলি?
একটু আগে। বলে মিষ্টি হাসল। তারপর বলল, দেখ না বাদল ভাই, দাদুবাড়ির হাট থেকে নতুন নাটাই কিনেছি।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now