বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
সকাল বেলা। বাজার থেকে ফিরে গোছল সেরে খেয়ে দেয়ে অফিস যাবার জন্য তৈরি হয়েছি । নীচের গেটে শব্দ। মা বলল, দ্যাখ তো বাদল, কে এল।
সিঁড়ি বেয়ে নীচে নেমে এলাম। একতলায় অ্যাডভোকেট নাজমূল করিম ভাড়া থাকেন। সাধারণত কেউ এলে ওদেরই কেউ একতলার গেট খুলে দেয়। নাজমূল করিম সাহেব গতকাল পরিবার নিয়ে দেশের বাড়ি বেড়াতে গেছেন। আগামীকাল ফেরার কথা। পিকলুকে মিস করছি। পিকলু নাজমূল করিম সাহেবের ছেলে। ক্লাস সেভেনে পড়লেও পিকলু সঙ্গে আমার বেশ ভাব। পিকলুকে ঘুড়ি ওড়ানোর কলাকৌশল শেয়ার করতে করতে স্মৃতিকাতর হয়ে পড়ি।
টিনের গেটটা খুললাম। কাপড়ের বোচকা হাতে একজন বৃদ্ধা দাঁড়িয়ে। পরনে কালো পাড় সাদা শাড়ি। ঘোমটার নীচে মুখটি বেশ ফরসা। চোখে কালো ফ্রেমের চশমা। মুখেচোখে এককালে শ্রী থাকলেও এখন কুঁচকে গেছে। কপালে পাকা চুলও চোখে পড়ল। বৃদ্ধাকে আমি এর আগে কখনও দেখিনি। বললাম, কাকে চান?
বৃদ্ধা খনখনে কন্ঠে বলল, এইটা তৈয়বের বাড়ি না?
তৈয়ব মানে, তৈয়বুর রহমান?
হ।
হ্যাঁ। তৈয়বুর রহমান আমার বাবা। আপনি ভিতরে আসুন।
না, তুমি আগে তৈয়বরে ডাকো।
আমি কি বলতে যাব। থমকে গেলাম। আমার বাবা গতবছর মারা গেছে। বৃদ্ধা বাবাকে চেনে অথচ বাবা যে গত বছর মারা গেছে তা জানে না। বললাম, মানে ... বাবা তো মারা গেছে।
মারা গেছে? কবে? বৃদ্ধা তীক্ষ্মকন্ঠে জিগ্যেস করে।
গত বছর।বললাম।
হায় আল্লা, কও কি ... আমারে কেউ খবর দিল না। বৃদ্ধা আর্তনাদ করে উঠল।
ততক্ষণে মা দোতলার বারান্দায় এসে দাঁড়িয়েছে। বলল, কে রে বাদল?
আমি চিনি না মা। মুখ ফিরিয়ে বললাম।
মরিয়ম বু না? বলে মা চেঁচিয়ে বলল।
হ, আমি মরিয়ম। বৃদ্ধা মাথা নেড়ে বলে।
দাঁড়াও। আমি আসছি।
একতলার সিমেন্টের উঠানটি রাস্তা থেকে বেশ কিছুটা উঁচু। বললাম, আপনি ভিতরে আসেন। বলে বৃদ্ধার হাত ধরলাম। ধরেই চমকে উঠলাম। বৃদ্ধার হাত ভীষণ ঠান্ডা। আর ভেজা। যেন মরা মাছ ছুঁয়েছি।
মা নীচে নেমে এল। বৃদ্ধাকে জড়িয়ে ধরে বলল, কত বছর পর তোমারে দেখলাম মরিয়ম বু। আমাগো একদম ভুইলা গেছ। বলে আমার দিকে তাকিয়ে মা বলল, মরিয়ম বু তোর আব্বার ফুপাত বোন। জগদীশপুর থাকে।
ও।
আমি ঘড়ি দেখি। অফিসের দেরি হয়ে যাচ্ছে। বললাম, মা, আমি গেলাম।
মা বলল, আচ্ছা, তুই যা। চল, বুবু, ওপরে চল। তেমারে কতদিন পর দেখলাম । সেই বিয়ে পর একবার দেখছিলাম।
গলিতে নেমে এসে একটা সিগারেট ধরালাম। বেশ ঝকঝকে রোদ উঠেছে। সকালের দিকে অবশ্য মেঘলা ছিল। আমার অফিস কাছেই। আমার ভাগ্য ভালো। এইচএসসি-র পর ঢাকা শহরে পড়াশোনা করলেও নিজের মফঃস্বল শহরেই একটা প্রাইভেট ব্যাঙ্কে চাকরি পেয়ে গেছি। বাবা গত বছর মারা যাওয়ার পর ছোট্ট সংসারে আমি আর মা। আমার অবশ্য বড় এক বোন আছে। শাপলা আপার বিয়ে হয়ে গেছে।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now