বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

কাউন্ট ড্রাকুলা-০১

"ভৌতিক গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X "কাউন্ট ড্রাকুলা" লেখক : ব্রাম স্টোকার অনুবাদক : তন্ময় বন্দ্যোপাধ্যায় ---------------------------- ১ ম পর্ব [ জোনাথন হার্কার লন্ডনের প্রসিদ্ধ আইনজ্ঞ মিস্টার হকিন্সের অধীনে কাজ করেন। ট্রানসিলভ্যানিয়ার কাউন্ট ড্রাকুলা লন্ডনে ভূ সম্পত্তি কিনতে চান। সেই ব্যাপারে কাউন্টের সঙ্গে কথাবার্তা বলার জন্য হকিন্স জোনাথনকে ট্রানসিলভ্যানিয়া পাঠালেন। ] * * * * * জোনাথনের দিনলিপি * * * * * ৩ রা মে বিসত্রিস: লন্ডন থেকে ট্রানসিলভ্যানিয়া দীর্ঘ পথ। ম্যুনিক থেকে পয়লা মে, রাত আটটা পঁয়ত্রিশে যাত্রা শুরু হল। পরদিন সকালে ভিয়েনা পৌঁছলাম। ছটা পঁয়তাল্লিশে পৌঁছনোর কথা। কিন্তু ট্রেন একঘণ্টার মতো দেরী করেছিল। ট্রেনে বসে বুদাপেস্টের যে দৃশ্য দেখছিলাম তা আমায় মুগ্ধ করেছিল এবং অস্পষ্ট এই ধারনায় উপনীত হয়েছিলাম যে পশ্চিমের কাছে বিদায় নিয়ে আমরা চলেছি পূবের দিকে। দ্যানিয়ুবের দীর্ঘ চমৎকার সেতুটি তূর্কী শাসন এবং ঐতিহ্যের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে। কেটে গেল বেশ কিছুটা সময়। রাতে ক্লাউসেনবার্গে পৌঁছে ' রয়েল' হোটেলে আশ্রয় নিলাম। নৈশাহারের তালিকায় উল্লেখযোগ্য সংযোজনটি হল এখানের সুস্বাদু আহার্য ' প্যাপ্রিকা'....লাল লঙ্কা দিয়ে রাঁধা মুরগীর ঝোল। খেতে বেশ, তবে এত ঝাল যে কেবল তৃষ্ণা পাচ্ছিল। পরিচারকের কাছে শুনলাম, কারপাথিয়ানের আশেপাশের প্রতিটি হোটেলেই এই সুখাদ্য মেলে। জার্মান ভাষায় ভাসা ভাসা জ্ঞান থাকায় এখানে আমার বেশ সুবিধে হয়েছিল। লন্ডনে থাকতে ব্রিটিশ মিউজিয়ামে গিয়ে ট্রানসিলভ্যানিয়া সম্পর্কে কিছু তথ্য সংগ্রহ করেছিলাম। কাউন্ট যে অঞ্চলের উল্লেখ করেছিলেন তা ট্রানসিলভ্যানিয়া, মোলদাভিয়া এবং বুকোভিনা রাজ্যের প্রান্তসীমায় কার্পেথিয়ান পর্বতশ্রেণীর মাঝে অবস্থিত। সেখানে অধিবাসীরা দাবি করে যে তারা এটিল্লা এবং হুন জাতির বংশধর। এমন হতেও পারে, কেননা হাঙ্গেরির প্রধান জাতি ম্যাগিয়াররা একাদশ শতকে যখন এই রাজ্য জয় করেছিল তখন তারা হুনদের সেখানে বসবাস করতে দেখেছিল। জাগতিক সমস্ত প্রকার কুসংস্কার আর কাল্পনিক আবর্তের লীলাক্ষেত্র এই কারপেথিয়ান পর্বতশ্রেণী। এবং এই একটি কারণে স্থানটি আমার কাছে খুবই আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে বলে মনে হয়েছিল। রাতে খাওয়া শেষ করে শুতে গেলাম। শয্যা যথেষ্ট সুখপ্রদ হওয়া সত্ত্বেও ভাল ঘুম হল না। নানা রকম দুঃস্বপ্নে বারবার ঘুম ভেঙে গেল। জানলার কাছে একটা কুকুর ক্রমান্বয়ে ডাকছিল। ' প্যাপ্রিকা' খাওয়ার টেবিলে কাঁচের যে জলপাত্র ছিল তার সমস্ত জলটুকু নিঃশেষিত করেও অনেক তৃষ্ণা নিয়ে শুয়েছিলাম। হয়ত তাই ভয়ঙ্কর সব স্বপ্ন দেখেছিলাম। ঘুম থেকে উঠতে একটু দেরী হয়েছিল কারণ শেষ রাতে বোধহয় ঘুম এসেছিল। তাড়াতাড়ি প্রাতরাশ সেরে স্টেশনে গেলাম, ট্রেনে উঠলাম। দু:খের বিষয় ট্রেন সময়মত ছাড়ল না, ছাড়ল বেশ দেরীতে। গাড়ি চলেছে প্রবহমান নদীর পাশ দিয়ে। চোখে পড়ছে খাড়া পাহাড়ের ওপর ছোট ছোট শৈল শহর কিংবা পুরনো দূর্গ। একের পর এক স্টেশনে গাড়ি থামছে। নানা ধরনের কত লোকের ভিড়....বিচিত্র তাদের সাজপোশাক। স্লোভাকদের বড় অদ্ভুত দেখতে....মাথায় তাদের লম্বা টুপি, ময়লা সাদা তাদের পাজামা, পায়ে বুট, চুল তাদের ঘাড় অবধি লুটিয়ে গেছে আর কুচকুচে কালো তাদের গোঁফ। সন্ধ্যার আলো আঁধারিতে চিত্তাকর্ষক বিসত্রিস নগরীতে পৌঁছলাম এবং কাউন্টের নির্দেশমতো ' গোল্ডেন ক্রোনে' হোটেলে উঠলাম। সেকেলে সরাইখানা এটি, পরিচালিকা এক বয়স্কা মহিলা। তার সাজপোশাক গেঁয়ো ধরনের। তাঁকে আমার পরিচয় দিলাম। তিনি আমার হাতে দিলেন ড্রাকুলার চিঠি। দেখলাম, চিঠিতে লেখা আছে: " প্রিয় বন্ধু, আপনাকে অভ্যর্থনা জানাই। কাল বিকেলে একটা ঘোড়ার গাড়ি ব্যুকোভিনা যাবে। আপনার জন্য একটি আসন সংরক্ষিত থাকবে। বারগো গিরিপথে আমার গাড়ি আপনার জন্য অপেক্ষা করবে। আপনি সেই গাড়িতে আমার কাছে আসবেন। আশা করি লন্ডন থেকে এতটা পথ আপনি নির্বিঘ্নেই এসেছেন। আজ রাতে আপনার সুনিদ্রা কামনা করি। আমার মনোরম রাজত্বে আপনার দিন সুখেই কাটবে, এ বিষয়ে বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই। ..... ড্রাকুলা ৪ঠা মে যাত্রাকালে হোটেল পরিচালিকা আমাকে বললেন, " তুমি কি আজই যাবে? না গেলেই নয়? " আমি বললাম, " একটা বিশেষ কাজেই যাচ্ছি। আমায় যেতেই হবে। আচ্ছা কেন বলুন তো আপনি আমায় সেখানে যেতে নিষেধ করছেন?" সরাইখানার মহিলা বললেন, " জানো আজ কত তারিখ? " বললাম, " আজ চৌঠা মে।" তিনি এতই উত্তেজিত হয়েছিলেন যে জার্মান ভাষা পর্যন্ত ভুলে গিয়ে পাঁচমিশালী ভাষায় বললেন, " তুমি কি জানো আজ সেন্ট জর্জের উৎসবের পূর্বসায়াহ্ন? মধ্য রাত্রিতে ঘড়িতে যখন ঢং ঢং করে বারোটা বাজবে তখন পৃথিবীর পুঞ্জিভূত অমঙ্গল মানুষকে গ্রাস করবে। জান, তুমি কোথায় যাচ্ছ? সেখানে যে যায় সে আর ফিরে আসে না।" আমি অবিশ্বাস করছি দেখে একসময় তিনি আমার সামনে নতজানু হয়ে শেষবারের মতো সেখানে না যাওয়ার জন্য আমায় অনুরোধ করলেন। আমি অত্যন্ত অস্বস্তি বোধ করছিলাম। অবশেষে তিনি আমার গলায় কালো সুতোয় বাঁধা ক্রুশ ঝুলিয়ে দিয়ে বললেন, " তোমার মায়ের দিব্যি, এটি খুলো না।" ৫ ই মে।। গাড়ি এল। যাত্রীরা একে একে গাড়িতে উঠল। হোটেলের লোকেরা ফিসফিস করে কি যেন বলছিল। কয়েকটি শব্দ কানে এল....'শয়তান ', ' নরক', ' ডাইনী '। সরাইখানার দরজার সামনে ভিড় জমে গিয়েছিল। সকলেই আমাদের দিকে তাকিয়ে দু আঙুল দিয়ে ক্রুশ চিহ্ন আঁকছিল। কৌতূহলের বশে এক সহযাত্রীকে প্রশ্ন করলাম, " ওরা অমন করছে কেন?" প্রথমে তিনি চুপ করেছিলেন। পরে আমায় জিজ্ঞেস করেছিলেন, " মশাই আপনি কি ইংরেজ? " আমি ইংরেজ শুনে তিনি বললেন, " অমঙ্গলের হাত থেকে প্রিয়জন যাতে রক্ষা পায় সেই শুভ কামনায় তারা ওরকম করে থাকে।" অজানা অচেনা একজন যাত্রীর প্রতি তাদের এই সহানুভূতিতে তাদের প্রতি ভালবাসায় ভরে উঠল আমার মন। রক্তকরবী আর কমলালেবু গাছে ঘেরা হোটেলের উঠোনে আমাকে শুভেচ্ছা জানানোর জন্য তারা দাঁড়িয়ে আছে। গাড়ি ছাড়ল। আপেল, প্লাম আর চেরী গাছের জঙ্গলের মধ্য দিয়ে সরু পথ ধরে গাড়ি এগিয়ে চলল। আশেপাশের রমণীয় দৃশ্যে আমার আতঙ্ক অপগত হল। সবুজ ঘাসের ওপর ঝরে পড়েছে নাম না জানা রকমারি ফুলের পেলব পাপড়ি। সমতল পথ ছেড়ে গাড়ি একসময় অসমতল পথ নিল। ক্রমে এগিয়ে এল সূর্য ডোবার ক্ষণ। গাঢ় নীল আর বেগুনী রঙে অপরূপ হয়ে উঠল দূরের পাহাড়গুলি। যাত্রীরা শীতে কাঁপছে। বারগো গিরিপথে পৌঁছলাম। সহযাত্রীরা একে একে আমায় বিদায় সম্ভাষণ জানাল। নিশ্ছিদ্র অন্ধকারের মাঝে জ্বলছে দু চারটি জোনাকি। হঠাৎ মেঘ সরে গেল। এক মুঠো চাঁদের আলোয় বালি চিকচিক পথের অনেকটা দেখা গেল। গাড়োয়ান ঘড়ির দিকে তাকিয়ে বলল, " এক ঘণ্টা আগেই আপনি পৌঁছে গেছেন।" কাউন্টের গাড়ি না আসা পর্যন্ত আমায় এই নির্জন পথের ধারে দাঁড়িয়ে থাকতে হবে? ভাগ্য ভালো, আকাঙখিত গাড়িটি এল সঙ্গে সঙ্গেই। মেঘ সরে গেল। চাঁদের আলোয় দেখলাম, কয়লার মত কালো চারটি তেজী ঘোড়া গাড়িটি টেনে এনেছে। ড্রাইভার অস্বাভাবিক লম্বা। কালো টুপিতে তার মুখের অনেকটা ঢাকা পড়েছে। এক মুখ বাদামী দাড়ি, উজ্জ্বল দুটি চোখ, ঝকঝকে দাঁত এবং লাল টুকটুকে ঠোঁট। সে খুব কম কথা বলে। আমায় বললে, " আপনার মালপত্র আমার হাতে দিন। কাউন্ট আমায় বিশেষ করে বলে দিয়েছেন যেন আপনার কোনও অসুবিধে না হয়।" কনকনে শীতের রাতে অজানা পথে এগিয়ে চলল ঘোড়ার গাড়ি। মাঝেমাঝে চালকের চাবুকের শব্দ কানে আসছে। কেটে গেল বেশ কিছুটা সময়। দেশলাই জ্বেলে ঘড়ির দিকে তাকালাম। বারোটা বেজেছে। গা ছমছম করছে। কোন কৃষকের খামার থেকে সম্ভবত একটা কুকুর আর্তনাদ করে উঠল। কুকুরটা কি ভয় পেয়েছে? তার ডাক থামার সঙ্গে সঙ্গে আরেকটি , তারপর আরেকটি এইভাবে ভেসে উঠল অনেকগুলো কুকুরের কান্না। দূরে দপদপ করে জ্বলছে নীল আলো। ড্রাইভার গাড়ি থামাল এবং এগিয়ে চলল ঐ আলোর দিকে। সহসা একপাল নেকড়ে গাড়ি ঘিরে ফেলল। ঘন আঁধারে জ্বলজ্বল করছে ওগুলোর চোখ। ভয়ে আমার গলা দিয়ে স্বর বেরোল না। এত শীতেও ঘামছি। একটা ঘোড়া কাঁপতে কাঁপতে পড়ে গেল। মরিয়া হয়ে ডেকে উঠি, " ড্রা....ই....ভা....র"! লোকটি ফিরে এল এবং এমন একটা ভাব করল যেন আমার ভয় পাওয়ার কোনও সঙ্গত কারণ সে খুঁজে পাচ্ছে না। তাকে দেখে নেকড়েগুলো একে একে চলে গেল। আবার গাড়ি চলতে শুরু করল। ৫ ই মে।। বোধহয় ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। নিদ্রাচ্ছন্ন ভাবটা কাটতে দেখি বিরাট এক জীর্ণ প্রাসাদের সামনে গাড়ি এসে দাঁড়িয়েছে। (চলবে) ------------ ।। একাকী কন্যা ।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৭৫ জন


এ জাতীয় গল্প

→ কাউন্ট ড্রাকুলা-০১

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now