বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

কাশফুলে জীবনের ছবি -৩

"উপন্যাস" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Sayemus Suhan (০ পয়েন্ট)

X দুপুরে খাবার টেবিলে ইশিকার কাছে বিষয়টা পরিষ্কার হলাম। হ্যা, ঐশী এসেছিলো। বাড়ির কেউ তাকে চিনেনা। আমার বন্ধু পরিচয় দিয়ে গতকাল এসেছিলো। সবার সাথে অনেক সময় কাটিয়ে গেছে। ইশিকাসহ আমার রুমেও সময় কাটিয়েছে। ‘হ্যারে নিশাত, তোর বন্ধুর বিয়ে হইছে?’ খাবার টেবিল থেকে উঠবো এমন মায়ের জিজ্ঞাসা। ইশিকা আমার দিকে হেসে হেসে উত্তর কামনা করছে সেটা দেখে আর উত্তরই দিলাম না। কেটে গেছে ছুটির দুই দিন, ভর্তি শেষ ইশিকার। ব্যস্ততা সেই আগের মতোই। প্রতিদিন বা প্রতিরাত যেকোনো সময়ই ঈশী আমাকে নয়তো আমি ঐশীকে ফোন বা ম্যাসেজ দিয়েই চলেছি। নিজেদের জড়তা কাটাতে পেরেছি। নিজেদের ভালোলাগা একই রকম করে নিতে চেষ্টা করেছি দু’জনই। পছন্দের সবকিছুই প্রায় একটাই করতে পেরেছি। এখন দু’জনের যোগাযোগ না হওয়াটাই অস্বাভাবিক। আমার বিষয়ে ঐশী প্রায় সবকিছুই জেনেছে আমার অজান্তেই আরো দুইদিন আমাদের বাসায় এসে। আমি ওর বিষয়ে যা জেনেছি তা শুধুই ওর নিজের বর্ণিত আর আমার বিশ্বাস। ঐশী আর বড়ভাই মিলে সংসার। বড়ভাই পেশায় শিক্ষক। বাবা মারা না গেলে বড়ভাইয়ের বিয়েটা এর মাঝেই হয়ে যেত। বাবা সারাজীবনই প্রায় নেশাগ্রস্থ ছিল। ওর মা মারা যাওয়ার পর বড়ভাই ঐশীকে মায়ের অভাব বুঝতে দেয়নি। মায়ের মৃত্যুকষ্ট আর বাবার অমূল্যায়ন দেখে বড়ভাই বাবাকে ভালোচোখে দেখতো না। এমনকি ওর মায়ের মৃত্যুর আগের মূহুর্তের ঔষধের টাকা দিয়েও নেশা করেছেন। এরপর থেকেই আলাদা বাসা ভাড়া নিয়ে ওরা দুজন থাকতো। পড়াশুনার দিক থেকে কেবল স্নাতক (সম্মান) শেষ। ফলিত রসায়ন। নিজের প্রতিটা ভালোলাগার সাথে তাকে মিলিয়ে নিতে এখন আর কষ্ট হয় না। ওর মতো হয়ে উঠেছি না হয় ওই আমার মতো হয়ে উঠেছে। যেকোনো বিষয়েই খোলামেলা বলা যায় বা বলে। ‘আমি আপনাকে আমার জীবনে জড়াতে চাই। জড়াবেন?’ কিছুটা সাহস করেই ফোনে বললাম একদিন। কোনো উত্তর নাই। কিছুক্ষণ পর ফোন বন্ধ করে রাখলো। প্রায় সতেরো দিন থেকে কোন যোগাযোগ হচ্ছে না। নিজেকে কোনোভাবেই ঠিক রাখতে পারছি না। ম্যাসেজের পর ম্যাসেজ, ফোনের পর ফোন, ফেসবুকের ম্যাসেঞ্জারে ম্যাসেজ……………… ফোন বন্ধ। ফেসবুক অফলাইন। হাজার সমস্যা হলেও তার বাড়ির ঠিকানায় যেতে নিষেধ আছে তার। তাই সেটাও পারছি না। শীতের সন্ধ্যা। হাজার চেষ্টা করেও পারলাম না একটু তাড়াতাড়ি বাসায় ফিরতে। প্রায় এগারোটা বেজে গেছে। মেডিক্যাল থেকে বেড়িয়ে ড্রাইভারকে ফোন দিতে গিয়ে ম্যাসেজ পেলাম-‘কথা বলবো।’ ফোন দিলাম। ফোনটা ধরেই-‘কাল দেখা করবো, সময় হবে আপনার?’ ভাষা খুঁজে পাচ্ছিলাম না। তবুও বললাম-‘হ্যা’ এরপর শুধু দেখা করার জায়গাটা বলে দিলো। ‘আর কিছু বলবেন?’ খুব দ্রুতগতিতে বললো ঐশী। ‘হ্যা বলবো।’ হাজার চেষ্টা করেও কথা আসছিলো না। ‘বলেন, চুপ করে আছেন কেন?’ ‘আমি শুধু উত্তর জানার জন্যই যাবো, আপনাকে দেখার জন্য নয়।’ অনেকটা সময় নিয়ে বললো-‘আপনার কী বিশ্বাস আমি আপনাকে উত্তর দেওয়ার জন্যই যাবো?’ ‘হ্যা।’ নিজের বিশ্বাস থেকেই উত্তর টা দিলাম। ‘যেখানে বেশি বিশ্বাস থাকে সেখানেই বেশি হতাশ হতে হয়, সেটা জানেন তো?’ হাসিমাখা কন্ঠেই বললো ঐশী। ‘এতোদিনে যা যা বলছো তোমার নিজের বিষয়ে সেগুলো মেনে নিয়েই আমি তোমার কাছে উত্তর জানতে যাব। আর বিশ্বাস তুমিও আসবে।’ হাসিটা বুঝতে পারলাম। বেশ কিছুক্ষণ পর বললো-‘দেখা যাক। আর আমি তো আপনাকে চিনতে পারবো কারণ আপনাকে দেখেছি আপনার বাড়ির ছবিতে। কিন্তু আপনি কিভাবে চিনবেন আমাকে?’ ‘পোশাকের বিবরণ আর সময়টা বলো।’ জানতে চাইলাম ঐশীর কাছে। ‘কৃষ্ণচূড়ার রং-এ রাঙানো সব পোশাক, আর অফহোয়াইট চাঁদর। ঠিক ঠিক বিকেল ৪ টা। বাকিটা খুঁজে নিবেন।’ সাথে সাথেই ফোন কেটে দিলো। শুধু কেটে দিয়েই শেষ নয়, বন্ধ। ঐশীর এটা অভ্যাসে পরিণত হয়ে গেছে মনেহয়। এদিকটা আসা হয় না খুব একটা। যদিও অনেক নিড়িবিলি তবুও। সেনানিবাসের মাঝের পরিপাটি রাস্তা দিয়ে হেটে চলেছি বিলের দিকে। ঠিক ৪টায় ঐশী দেখা করবে। সেনানিবাসের শেষপ্রান্তে বিলের পাড়ে গাছেঢাকা একটা জায়গা। জারুল গাছের পাতায় ছেয়ে গেছে এলাকা। তেমন কেউই নাই। অনেকটা দূরে দাড়িয়ে একটা ছেলে আর একটা মেয়ে গল্প করছে। হাতে ঘড়ি না থাকলে বোঝার উপায় নাই প্রায় ৪ টা বাজে। সন্ধ্যার কুয়াশাটা এখনোই অনুমান করা যাচ্ছে। বিলের পাড়েই বসে আছি। নিজের ভেতরের অস্থিরতা জীবনের প্রথম অনুভব করছি। বিলের হালকা স্রোত চোখে পড়ছে না জমে থাকা কচুরীপানার জন্য। নিজের ভেতরের অদৃশ্য স্রোতের সাথে মিল খুজে পেয়ে মনে মনেই হাসছি। এখন চারটা বেজে প্রায় পাঁচ মিনিট। ফোনটা হাতে নিয়ে ফোন দিলাম। রিসিভ হলো না। আবার ফোন দেওয়ায় কেটে দিলো। আশপাশ তাকালাম, না কেউ নেই। আবার ফোন দিবো এমন মূহুর্তে ম্যাসেজ আসলো। বুঝলাম, আর অপেক্ষা করে লাভ নেই। নিজের কতটুকু পরাজয় মাথা নিচু করিয়ে দেয় তা এই প্রথম অনুভব হলো। ফিরলাম মেডিক্যাল-এ। ডিসেম্বরের শেষ দিকের শীতকে জয় করার মতো মানসিক শক্তি থাকলেও শারীরিক শক্তিটা এই মূহুর্তে নেই বললেই চলে। সারাদিন সূর্যের মুখটাও দেখিনি। সন্ধ্যায় গুড়িগুড়ি বৃষ্টি যেন শীতটাকে আরোও যন্ত্রণাদায়ক করে তুলেছে। জানি অনেকটা পথ হেটে যেতে হবে। ড্রাইভারকে চলে যেতে বলেছিলাম। রাত যদিও কেবল ৯ টা হবে তবুও রাস্তা একেবারে ফাঁকা বললে ভুল হবে না। এপ্রোন আর মোবাইলটা ব্যাগের মাঝে নিয়ে হেটে চলেছি। বেশিক্ষণ লাগলো না শরীর ভিজে যেতে। দু’একটা রিকশা এসেও মাঝেমাঝে বলছে-‘স্যার যাবেন?’ উত্তর না পেয়ে আবার চলেও যাচ্ছে। জানি এভাবে ৩৫ মিনিট হাটা পথে বাসায় ফিরতে ফিরতে জ্বর নাহয় হাইপোথারমিয়ায় আক্রান্ত হবই। ‘আপনি আমাকে জয় করতে পারবেন, কিন্তু আমি আপনাকে সুখী করতে পাবো না। এই জন্যই আপনার সামনে যেতে পারলাম না। ক্ষমা করবেন। নিজের বিশ্বাস থেকেই বললাম-যদি কখনোও মনেহয় আমি আপনাকে সুখী করতে পারবো তাহলে নিজে গিয়ে আপনার কাছে নিজেকে সপে দিবো। সেটা আজ হোক বা শতবর্ষী স্বপ্ন হোক।’ ম্যাসেজটা এখনোও চোখের সামনে ভেসে বেড়াচ্ছে। নিজের প্রতি নিজের বিশ্বাসের ভঙ্গুরদশা আজ জীবনের প্রথম উপলব্ধি করছি।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮২ জন


এ জাতীয় গল্প

→ কাশফুলে জীবনের ছবি -৪
→ কাশফুলে জীবনের ছবি -৩
→ কাশফুলে জীবনের ছবি -২
→ কাশফুলে জীবনের ছবি -১

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now