বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

কালাপানির আন্দামানে চ্যাপ্টার- ৩ বাকি অংশ

"সাইমুম সিরিজ" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X একটা দুঃখ গুমরে উঠল আহমদ মুসার হৃদয়ে। সরল, সহজ ও অনড় আদর্শ-নিষ্ঠ লোকটাকে চেন্নাইতে কিছু সাহায্য করতে পারলেও এখানে তার জন্যে কিছুই করতে পারল না সে। ভাবল আহমদ মুসা, কাল হাইওয়ের উপর কাদাওয়ালা গাড়ির যে দাগ তারা দেখেছিল, সেটা ছিল লোকটাকে হত্যা করে ওদের ফিরে যাওয়ার চিহ্ন। ওদের অনুসন্ধান করার জন্যে তাড়াহুড়া করে ফিরে না এসে যদি তারা সাগর কূলে যেত, তাহলে কালকেই তারা ইয়াহিয়া আহমাদুল্লাহর লাশ পেয়ে যেত। একটা বিষয় আহমদ মুসর কাছে খুবই স্পষ্ট হয়ে গেল, মাদ্রাজে যারা ইয়াহিয়ার উপর আক্রমণ করেছিল এবং যারা আন্দামানে তাকে হত্যা করল তারা একই গ্রুপ। এর অর্থ যারা আন্দামানে হত্যাকা- চালাচ্ছে, যারা আহমদ শাহ আলমগীরকে কিডন্যাপ করেছে এবং যারা রাবেতার স্থাপনা ধ্বংস করে দিয়েছে, তারা আন্দামানের কোন বিচ্ছিন্ন গ্রুপ নয়, ভারতের মূল ভূখ-ে কার্যরত কোন ষড়যন্ত্রেরই একটা অংশ। এবং এটাই যুক্তিযুক্ত হতে পারে যে, ভারত-উদ্ভুত কোন ষড়যন্ত্রেরই নতুন বিস্তার ঘটেছে আন্দামানে। এটাই যদি ঘটনা হয়, তাহলে এটা আন্দামানবাসী, বিশেষ করে আন্দামানের মুসলমানদের জন্যে খুবই দুর্ভাগ্যজনক। এই দুর্ভাগ্যের মোকাবিলা হবে কঠিন। দরজায় নক হলো এ সময়। আহমদ মুসা হাত ঘড়ির দিকে তাকাল। দেখল সকাল ৭টা পার হয়ে গেছে। সাতটার সময় গংগারাম তার গাড়ি নিয়ে আসার কথা। নিশ্চয় নকটা সেই করেছে। আহমদ মুসা টেবিলের উপর থেকে লকারটা টেনে নিয়ে দরজা আনলক করার সুইচ টিপে দিয়ে বলল, ‘এস গংগারাম।’ কিন্তু গংগারাম নয় দরজায় দেখতে পেল সেই সৌম্যদর্শন বৃদ্ধকে, যাকে কিছুক্ষণ আগে আহমদ মুসা বাগানে দেখেছিল। ‘আসতে পারি মি. বেভান বার্গম্যান?’ দরজা থেকে বলল সৌম্যদর্শন বৃদ্ধটি। আহমদ মুসা উঠে দাঁড়াল। বলল, ‘ওয়েলকাম স্যার।’ বৃদ্ধ এল। আহমদ মুসা তাকে সোফায় বসিয়ে নিজে বসল। বৃদ্ধ বসেই বলে উঠল, ‘আমি হাজী আবদুল আলী আবদুল্লাহ। আমার এই হোটেল ‘সাহারা’ আপনাকে স্বাগত। কাল বিকালে এসেছেন, কিন্তু খোঁজ নেবার সময় করতে পারিনি। কোন অসুবিধা নেই তো?’ গংগারাম কথিত হোটেল মালিকের হঠাৎ মুখোমুখি হয়ে এবং তার মুসলিম পরিচয় পেয়ে একটু আনমনা হয়ে পড়েছিল আহমদ মুসা। উত্তর দিতে একটু দেরি হলো। যখন উত্তর দিতে যাচ্ছিল, ঠিক সেই সময় আবার দরজায় নক হলো। আহমদ মুসা দরজার দিকে একবার তাকিয়ে হাজী আবদুল আলী আবদুল্লাহকে ‘মাফ করবেন স্যার’ বলে উঠে দাঁড়িয়ে দ্রুত দরজার দিকে এগুলো। দরজা খুলে দেখল গংগারাম দাঁড়িয়ে। আহমদ মুসা ফিরে তাকাল হাজী আবদুল আলী আবদুল্লাহর দিকে। বলল, ‘জনাব ট্যাক্সি ক্যাব-এর গংগারাম এসেছে। তাকে একটু পরে আসতে বলি?’ ‘না তা কেন? আমার তেমন কোন কথা নেই। আসতে বলুন গংগারামকে। আমাদের গংগারাম খুব ভাল ছেলে।’ বলল হাজী আবদুল আলী আবদুল্লাহ। ‘ধন্যবাদ স্যার’ বলে গংগারামকে নিয়ে আহমদ মুসা চলে এল। আহমদ মুসা বসল তার সোফায়। গংগারাম বসল একটা সোফার পাশে কার্পেটের উপর। ‘কি করছ গংগারাম! সোফায় বস।’ বলল দ্রুত কণ্ঠে আহমদ মুসা। ‘থাক মি. বার্গম্যান, কার্পেটেই থাক। খুব লাজুক ছেলে আমাদের গংগা। গুরুজনদের সামনে সে চেয়ারে বসে না।’ আবদুল আলী আবদুল্লাহ বলল। হাসল আহমদ মুসা। বলল গংগারামকে লক্ষ্য করে, ‘তুমি তো ঠিক সময়ে আসনি গংগারাম।’ ‘ম্লান হাসল গংগারাম। বলল, ‘স্যার আমি একটু ওদিকে গিয়েছিলাম। এই লোকই তো কাল কিডন্যাপ হয়েছিল স্যার।’ গম্ভীর হলো আহমদ মুসর মুখ। আহমদ মুসা টেবিলের খবরের কাগজটি টেনে নিয়ে ইয়াহিয়া আহমাদুল্লাহর ছবি গংগারামকে দেখিয়ে বলল, ‘হ্যাঁ গংগারাম, এ লোকটি সেই লোক।’ ‘ও, তোমরা আজকের রহস্যজনক মৃত্যুর খবরের কথা বলছ? ও তো ইয়াহিয়া আহমাদুল্লাহ। আহা, সে নীরব, শান্তিপ্রিয় একজন ধর্মপ্রচারক, শিক্ষাবিদ।’ বলল হাজী আবদুল আলী আবদুল্লাহ। ‘আপনি তাকে চিনতেন, জানতেন?’ জিজ্ঞাসা করল আহমদ মুসা হাজী আবদুল্লাহকে লক্ষ্য করে। ‘সে বহুবার এখানে আমার কাছে এসেছে। যে রাবেতা কমপ্লেক্সে সে চাকুরি করতো, সে ট্রাস্টের আমি একজন ট্রাষ্টি ছিলাম। আমি সাধ্যমত নিয়মিত কিছু সহযোগিতা করতাম। সেটাই সংগ্রহ করতে সে মাঝে মাঝে আসত। সে আন্দামানেরই ছেলে, আমাদেরই ছেলে। তাছাড়া সে ভারতের অন্যতম স্বাধীনতা সংগ্রামী আন্দামানে দ্বীপান্তরিত ও মৃত আহমাদুল্লাহ ইবনে ইয়াহিয়ার বংশধর।’ আবদুল আলী আবদুল্লাহ বলল। ‘ধন্যবাদ জনাব। আমি নিউজটা পড়েছি। আমি উদ্বেগ বোধ করছি। আমি নিশ্চিত এটা মেরে ফেলার ঘটনা। ভাল লোকটির এমন পরিণতি হলো কেন?’ বলল আহমদ মুসা। ‘তুমি বিদেশী এ কথা বলছ, কিন্তু আমাদের পুলিশ এ কথা বলে না। এ ধরনের মৃত্যু আরও ৩৫টি ঘটেছে। কিন্তু পুলিশ পরিষ্কারভাবে এসব মৃত্যুকে নিহত বলছে না। মৃত্যুর ঘটনার উপর শুধু প্রশ্ন তুলে রাখছে, প্রশ্নের সমাধান করছে না।’ বলল হাজী আব্দুল্লাহ। তার কণ্ঠে হতাশা ও উদ্বেগ। ‘এ ধরনের আরও ৩৫টি মৃত্যু ঘটেছে?’ চোখে-মুখে কৃত্রিম আতংক টেনে বলল আহমদ মুসা। ‘আপনার ভয়ের কোন কারণ নেই। এই মৃত্যুগুলো বিশেষ শ্রেণী থেকে হয়েছে ও হচ্ছে।’ বলল হাজী আবদুল্লাহ। ‘কেমন?’ আহমদ মুসার জিজ্ঞাসা। ‘মৃত্যুর শিকার যুবকরা সবাই মুসলমান। এর মধ্যে মোপলা বংশোদ্ভুত যুবকের সংখ্যাই বেশি। অবশিষ্টের মধ্যে কিছু ভারতীয়, কিছু মালয়ী বংশোদ্ভুত। সবচেয়ে বড় ঘটনা এক জনপ্রিয় যুবকের কিডন্যাপ হওয়া। সেও মোঘল বাদশাহদের বংশোদ্ভুত একজন মুসলিম যুবক।’ ‘আহমদ মুসার চোখে-মুখে কৃত্রিম ভয় ও বিস্ময়ের চিহ্ন। বলল, ‘সাংঘাতিক ব্যাপার? মুসলিম যুবকদের এই অব্যাহত হত্যার ঘটনার কারণ কি? কারা জড়িত?’ ‘আপনার মত আমাদেরও প্রশ্ন এটাই। এ প্রশ্নের জবাব পুলিশ কিংবা সরকার কেউ দিচ্ছে না।’ হাজী আবদুল্লাহ বলল। ‘আপনি মুসলিম কম্যুনিটির একজন নেতৃস্থানীয় লোক। আপনার অভিমত কি? আপনি কাদের সন্দেহ করেন?’ বলল আহমদ মুসা। ‘আমরা আশংকা করছি একটা বড় ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। এ ষড়যন্ত্রের কি উদ্দেশ্য, এর পেছনে কে বা কারা আছে আমরা জানি না। আমরা চরম আতংক ও অনিশ্চয়তার মধ্যে আছি। আমি যুবক নই, বোধ হয় এ কারণেই এখনও ইয়াহিয়া আহমাদুল্লাহর পরিণতি থেকে আমি বেঁচে আছি।’ বলল হাজী আবদুল্লাহ। হাজী আবদুল্লাহ থামতেই গংগারাম বলে উঠল, ‘যারাই এর পেছনে থাক, তারা আন্দামানের বাইরে থেকে এসেছে। আমি খোঁজ নিয়ে জানলাম, কাল যারা ইয়াহিয়া আহমাদুল্লাহকে কিডন্যাপ করেছে, তাদেরকে সেখানে উপস্থিত অনেকেই দেখেছে। তাদের পোশাক, কথা-বার্তা, আচার-আচরণ আন্দামানীদের মত নয়।’ ‘একথা তুমি পুলিশকে বলেছ গংগারাম।’ দ্রুত কণ্ঠে বলল আহমদ মুসা। ‘বলে কিছু হবে না স্যার। কালকে দুজন পুলিশের সামনে কিডন্যাপের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ দুজন অন্যদিকে মুখ ঘুরিয়ে রেখে কিডন্যাপের সুযোগ করে দিয়েছে।’ গংগারাম বলল। তার কণ্ঠে ক্ষোভ। ‘গংগারাম ঠিকই বলেছে। হঠাৎ করেই পুলিশের মধ্যে এই পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। এই যে তিন ডজন রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনা ঘটল, পুলিশ তার কিছুই বলতে পারছে না। আহমদ শাহ আলমগীর নিখোঁজ হবার ব্যাপার নিয়ে কয়েকদিন একটু নড়াচড়া করে এখন একেবারে চুপ হয়ে গেছে।’ বলল হাজী আবদুল্লাহ। বলতে বলতে হাজী আবদুল্লাহ উঠে দাঁড়াল। বলল, ‘আপনার অনেকখানি সময় আমি নিয়েছি। খুব ভাল লাগল আপনার সাথে কথা বলে। আপনাকে আমেরিকান মনেই হচ্ছে না- চেহারায় নয় কথাতেও নয়। কোন বিদেশীকেই দেখিনি আমাদের ব্যাপারে আমাদের সাথে এমন আন্তরিক হতে। ধন্যবাদ।’ আহমদ মুসাও উঠে দাঁড়াল। হাজী আবদুল্লাহকে দরজা পর্যন্ত এগিয়ে দিয়ে ফিরে এসে বসতে বসতে বলল, ‘তুমি ঠিকই বলেছিলে গংগারাম। হোটেল মালিক হাজী সাহেব সত্যি ভাল লোক।’ ‘ধন্যবাদ স্যার।’ বলে একটু থামল গংগারাম। একটু ভাবল। তারপর বলে উঠল আবার, ‘স্যার, আপনার কক্ষে কি আর কেউ এসেছিল?’ ‘না তো। কেন বলছ?’ জিজ্ঞাসা আহমদ মুসার। ‘আমি আসার সময় করিডোরের ওপ্রান্ত থেকে দেখলাম হোটেলেরই একজন বাসিন্দা সোমনাথ শম্ভুজী আপনার দরজার দিক থেকে করিডোরে উঠল। মনে হলো আপনার রুম থেকে বেরিয়ে গেল।’ গংগারাম বলল। আহমদ মুসা একটু ভ্রুকুচকালো। তারপর বলল, ‘সব ফ্লোরের ডিজাইন ও দরজাগুলো তো একই রকম। ভুল হতে পারে। কেমন বয়স ভদ্রলোকের?’ ‘পঞ্চাশ বছরের মত হবে।’ ‘যাক। নাস্তা করেছ তুমি?’ ‘না স্যার। আপনি তৈরি হোন। আমি নিচে গিয়ে নাস্তা করে নেব।’ ‘আমি নাস্তা করিনি। চল নাস্তা করে নেই।’ ‘স্যার, প্রোগ্রাম ঠিক আছে তো?’ ‘হ্যাঁ গংগারাম। তবে প্রোগ্রামে আরও একটা আইটেম যোগ হয়েছে। আমি আহমদ শাহ আলমগীরের বাড়ি থেকে ইয়াহিয়া আহমাদুল্লাহর বাড়িতেও একটু যাব। অসুবিধা নেই তো?’ উঠে দাঁড়াতে দাঁড়াতে বলল আহমদ মুসা। ‘স্যার কি সাংবাদিকও?’ ‘কেন বলছ?’ ‘এই যে এত খোঁজ খবর নেন। আবার খোঁজ নিতে বা জানতে যাবেন। ট্যুরিষ্টরা তো দেখি, চারদিকে কি হচ্ছে, সে দিকে কোন ভ্রুক্ষেপই করে না।’ বলল গংগারাম। হাসল আহমদ মুসা। বলল, ‘সাংবাদিকতার চাকুরী করি না। কিন্তু সাংবাদিকের চরিত্র আমার আছে।’ ‘তার সাথে নিশ্চয় সমাজ সেবকের চরিত্রও।’ ‘কেমন করে?’ হেসে বলল আহমদ মুসা। ‘কোন ট্যুরিষ্ট বা সাংবাদিক কোন অপহৃতকে উদ্ধারের জন্যে ছোটে না, আপনি সেটাও করেন।’ বলল গংগারাম। ‘তুমি খুব বুদ্ধিমান ছেলে গংগারাম। তোমার আরও বড় কিছু করা উচিত ছিল।’ বলে হাঁটতে শুরু করল দরজার দিকে। নাস্তার ও খাওয়ার ব্যবস্থা এই দ্বিতীয় তলাতেই। গংগারামও হাঁটতে শুরু করল আহমদ মুসার সাথে।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৯৮ জন


এ জাতীয় গল্প

→ কালাপানির আন্দামানে চ্যাপ্টার- ১ বাকি অংশ
→ কালাপানির আন্দামানে চ্যাপ্টার- ২ বাকি অংশ
→ কালাপানির আন্দামানে চ্যাপ্টার- ৩ বাকি অংশ
→ কালাপানির আন্দামানে চ্যাপ্টার- ৪ বাকি অংশ
→ কালাপানির আন্দামানে চ্যাপ্টার- ৫ বাকি অংশ
→ কালাপানির আন্দামানে চ্যাপ্টার- ৬ বাকি অংশ

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now