বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

কালাপানির আন্দামানে চ্যাপ্টার- ১ বাকি অংশ

"সাইমুম সিরিজ" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X দীর্ঘ এই বক্তব্য দেয়ার পর একটু থামল আহমদ মুসা। শেষ কথাগুলো বলার সময় আবেগে তার কণ্ঠ ভারী হয়ে উঠেছিল। একটু থামার পর আহমদ মুসা আবার বলে উঠল, ‘আমি কি করতে পারব তা আমি জানি না। কিন্তু সব দেখার জন্যে, বোঝার জন্যে এবং সম্ভব হলে কিছু করার জন্যে আমি সেখানে যেতে চাই।’ ‘সত্যি আহমদ মুসা সেখানে তোমার যাওয়া উচিত। ভারতের গণতান্ত্রিক সরকার অনেক দিক দিয়েই দক্ষ, কিন্তু সংখ্যালঘু বিশেষ করে মুসলিম সংখ্যালঘুদের প্রশ্ন আসলে সরকারের আইন সেখানে অকার্যকর হয়ে পড়ে। আমার মনে হয় ভারতের শিবাজী সেনার মত রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ভয়ংকর কোন গ্রুপ সেখানে তৎপর রয়েছে। বাইরে বা ভেতর থেকে প্রতিবাদ বা প্রতিকার দাবী করে কোন লাভ হবে না। তোমার মত কেউ সেখানে যাওয়া দরকার।’ থামল প্রেসিডেন্ট। একটু ভাবল। তারপর আবার বলল, ‘একটা জিনিস আমি বুঝতে পারছি না। আমি জানতাম ভারতের মধ্যে সবচেয়ে সাম্প্রদায়িক-সম্প্রীতির এলাকা হলো আন্দামান। হঠাৎ সেখানে এই উৎপাত শুরু হলো কেন? আহমদ মুসা, তুমি সেখানে যাচ্ছ। দেখ, কোন প্রকার সাহায্যের দরকার হলে আমাকে বলবে। কোন মুসলিম দেশের পক্ষে সেখানে সাহায্য করা কঠিন। কিন্তু আমেরিকা পারবে। তার উপর তুমি যাচ্ছ আমাদের নাগরিক পরিচয়ে।’ ‘ধন্যবাদ মি. প্রেসিডেন্ট।’ ‘ওয়েলকাম আহমদ মুসা। তাহলে এখনকার মত আমি উঠছি।’ বলে প্রেসিডেন্ট উঠে দাঁড়াল। আহমদ মুসাও উঠে দাঁড়াল। প্রেসিডেন্ট হ্যান্ডশেকের জন্য হাত বাড়াল আহমদ মুসার দিকে। বলল সেই সাথে, ‘তুমি পাসপোর্টটা এখনি জর্জ জনসনকে দিয়ে দেবে। আর মনে থাকে যেন, আন্দামান থেকে ফিরে সপরিবারে আসছ আমেরিকায়।’ ‘ইনশাআল্লাহ।’ বলল আহমদ মুসা। প্রেসিডেন্ট আহমদ মুসার হাত ছাড়ল না। হাত ধরে রেখেই কথা বলতে বলতে এগুলো ঘরের দরজার দিকে। তার আগেই প্রেসিডেন্টের পার্সোনাল ও সিকিউরিটি ষ্টাফরা ঘরে প্রবেশ করেছে। জেফারসন হাউজ। আহমদ মুসা তার ঘরে ব্যাগ গুছিয়ে নিচ্ছিল। ঘরে ঢুকল একসাথে হাইম বেঞ্জামিন ও বারবারা ব্রাউন। দুজনেই সালাম দিল আহমদ মুসাকে। বারবারা ব্রাউনের পরনে প্যান্ট, কোর্ট কিন্তু মাথা ও গলায় রুমাল জড়ানো। আহমদ মুসা সালাম নিয়ে ব্যাগ রেখে গিয়ে জড়িয়ে ধরল বেঞ্জামিনকে। স্বাগত জানাল বারবারা ব্রাউনকে। আহমদ মুসা কিছু বলতে যাচ্ছিল বারবারা ব্রাউনকে। কথা আটকে গেল। ঘরে প্রবেশ করল বেঞ্জামিনের আব্বা ড. হাইম হাইকেল এবং বেঞ্জামিনের দাদী ম্যাডাম হাইম। তাদের পেছনে পেছনে কামাল সুলাইমান। আহমদ মুসা বেঞ্জামিনকে ছেড়ে দিয়ে এগিয়ে গেল ম্যাডাম হাইমের দিকে। তার আগেই ড. হাইম হাইকেল ও ম্যাডাম হাইম সালাম দিয়েছে আহমদ মুসাকে। আহমদ মুসা সালাম দিয়ে অভিনন্দন জানাল ম্যাডাম হাইমকে। বলল, ‘দাদী, আপনি কষ্ট করে এসেছেন কেন? আমি তো যাবার পথে আপনার সাথে দেখা করে যাব ঠিক করেছি।’ ‘তুমি তো আমার কাছে গেছ ভাই। আমি তো আসিনি। তাই সুযোগ নিলাম। আমার এটা সৌভাগ্য।’ বলল ম্যাডাম হাইম। ভারী কণ্ঠ তার। ‘দাদী এভাবে বলে না। আমি আপনার নাতীর মত।’ ‘সেটা বয়সে। কিন্তু ওজনে তুমি তো হিমালয়ের মত। তোমাকে কৃতজ্ঞতা জানাতে এসেছি ভাই।’ ‘কেন কৃতজ্ঞতা, কিসের কৃতজ্ঞতা দাদী?’ ‘তুমি আমার পরিবারকে বাঁচিয়েছ শুধু নয়, আমাদেরকে অবিশ্বাসের অন্ধকার থেকে বিশ্বাসের আলোতে নিয়ে এসেছ।’ আহমদ মুসা ম্যাডাম হাইমের দুহাত চেপে ধরে বলল, ‘দাদী কথাটা ঠিক হলো না, আলোর পথে নিয়ে আসার মালিক আল্লাহ। তার একটা দয়ার প্রকাশ এটা।’ ‘ঠিক ভাই। কিন্তু তুমি না হলে তাঁকে তো আমরা পেতাম না। তুমি সোনার ছেলে ভাই।’ বলে চুমু খেল আহমদ মুসার কপালে। আহমদ মুসাকে ছেড়ে ম্যাডাম হাইম তাকাল বারবারা ব্রাউনের দিকে। বলল, ‘ব্রাউন বোন, ওটা ভাইকে দাও।’ বারবারা ব্রাউন তাড়াতাড়ি ব্যাগ থেকে ছোট একটা মোড়ক বের করে আহমদ মুসার দিকে এগিয়ে দিয়ে বলল, ‘ভাই সাহেব, এটা নতুন অতিথি আমাদের ভাতিজার জন্যে আমাদের দাদীর পক্ষ থেকে।’ ‘ধন্যবাদ’ বলে মোড়কটি নিয়ে বলল, ‘আমি খুলে দেখতে পারি তো।’ সবাই হেসে উঠল। খুলল আহমদ মুসা মোড়কটি। মোড়ক থেকে বেরিয়ে এল একটা ক্রেষ্ট। সোনার তৈরি মিনার সিম্বলের উপর একটি সোনার অর্ধচন্দ্র। অর্ধচন্দ্রের ভেতরে তারকার আদলে সোনার তার দিয়ে লেখা ‘আহমদ আব্দুল্লাহ’ নাম। ‘চমৎকার’ উচ্ছসিত কণ্ঠে বলে উঠল আহমদ মুসা। বিস্ময়-বিমুগ্ধ আহমদ মুসা। বলল ডক্টর হাইম হাইকেলের দিকে তাকিয়ে, ‘জনাব, চমৎকার এ আইডিয়া। ইসলামের ইতিহাসের অনেক কথাকে এর মধ্যে বেঁধে ফেলা হয়েছে। ধন্যবাদ দাদী, ধন্যবাদ সকলকে।’ বলল আহমদ মুসা। হাইম পরিবারের সকলের মুখ আনন্দে উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে। কিছু বলতে যাচ্ছিল ড. হাইম হাইকেল। এ সময় কুরআন শরীফের একটা আয়াত আবৃত্তি করতে করতে ঘরে প্রবেশ করল বুমেদীন বিল্লাহ। থেমে গেল হঠাৎ হাইম হাইকেল। ঘরে প্রবেশ করে ড. হাইম পরিবারকে দেখে হোঁচট খাওয়ার মত থেমে গেল সে। সালাম দিল সকলের উদ্দেশ্যে। বলল, ড. হাইম হাইকেলকে লক্ষ্য করে, ‘স্যার কেমন আছেন। খুব খুশি হলাম আপনাদের সবাইকে দেখে।’ ‘ধন্যবাদ। আমরা ভাল। কিন্তু বিল্লাহ তোমার মুখে আগে থেকে উপছে পড়া খুশি দেখছিলাম। তার কারণ কি? আহমদ মুসার সাথে মক্কা-মদিনায় যাওয়ার সৌভাগ্য হচ্ছে সেই জন্যে?’ বলল ড. হাইম হাইকেল হাসতে হাসতে। ‘না স্যার। তার চেয়ে বড় একটা আনন্দ সংবাদ পেয়েছি।’ বুমেদীন বিল্লাহ। ‘এর চেয়েও বড় আনন্দ? কি সেটা?’ জিজ্ঞাসা ড. হাইম হাইকেলের। ড. হাইকেলের কথা শেষ হতেই আহমদ মুসা বলল, ‘তুমি তো সৌদি রাষ্ট্রদূতের সাথে দেখা করে আসছ না? ঐ ব্যাপারেই বোধ হয় তিনি কিছু জানিয়েছেন?’ হাসল বুমেদীন বিল্লাহ। বলল, ‘হ্যাঁ ভাইয়া, আমি কনসোলার অফিস থেকে আসছি। সৌদি রাষ্ট্রদূত আমার জন্যেই অপেক্ষা করছিলেন। আপনার চিঠি তাকে দিতেই হয়নি। তার আগেই তিনি বললেন, আহমদ মুসার জন্যে সুখবর আছে। তিনি যে প্রস্তাব করেছিলেন, সৌদি সরকার আনন্দের সাথে সবটাই গ্রহণ করেছেন।’ বলে হাসল বুমেদীন বিল্লাহ। তারপর পকেট থেকে একটা চিঠি বের করল। বলল, ‘এ দাওয়াতপত্র ড. হাইম হাইকেলের পরিবারের জন্যে। অন্যদের দাওয়াত পৌছে যাচ্ছে বা পৌছে গেছে।’ ‘বলতো অন্যদের মধ্যে কারা আছেন? দেখি সবাই তার মধ্যে আছেন কিনা?’ বলল আহমদ মুসা। ‘ইউরোপ থেকে স্পুটনিকের ছয় গোয়েন্দা এবং তাদের সব পরিবারকেই দাওয়াত করা হয়েছে। আজোরস দ্বীপপুঞ্জের গনজালো, পলা জোনস ও সোফিয়া সুসান পরিবার, টার্কস দ্বীপের লায়লা জেনিফারের পরিবার, বাহামা’র শিলা সুসানের পরিবার, সান ওয়াকার-মেরী রোজদের পরিবার, নিউইয়র্কের ড. আয়াজ ইয়াহুদের পরিবার, প্রফেসর আরাপাহোর পরিবার, মরিস মরগ্যানের পরিবার, ড. হাইম হাইকেলের পরিবার, ভার্জিনিয়ার জেফারসন পরিবার এবং জর্জ আব্রাহাম জনসনসহ প্রস্তাবিত সব লোক সৌদি আরব সফর ও ওমরার দাওয়াত পেয়েছেন। আর আমি ও জনাব সুলাইমান ও তার পরিবার তো আপনার সাথে আজ মদিনায় যাচ্ছি। বুমেদীন বিল্লাহ কথা শেষ করল। ‘এবং এদের সফর ও ওমরার দাওয়াত তো এ মাসেই? এটাই আমি বলেছিলাম।’ বলল আহমদ মুসা। ‘হ্যাঁ ভাইয়া।’ বুমেদীন বিল্লাহ বলল। ‘আল-হামদুলিল্লাহ। আমি ওদিকে ফিলিস্তিন, মধ্যএশিয়া, সিংকিয়াং, মিন্দানাও, ইত্যাদি থেকেও বন্ধুদের দাওয়াত করেছি এ সময় সৌদি আরব সফর ও ওমরায় আসার জন্যে। বিরাট একটা সম্মেলন হবে। এটাই হবে নতুন অতিথি আহমদ আবদুল্লাহর আকিকা উৎসব।’ চোখ-মুখ উজ্জ্বল হয়ে উঠল ঘরে উপস্থিত ড. হাইম হাইকেল, সুলাইমান ও বুমেদীন বিল্লাহ সকলের। বলল ড. হাইম হাইকেল বুমেদীন বিল্লাহকে লক্ষ্য করে, ‘আমার তর সইছে না। আমার সৌভাগ্যের দাওয়াতপত্রটা দাও দেখি।’ বুমেদীন বিল্লাহ হেসে তার হাতে দিল চিঠিটা। পড়ল সে চিঠিটা। পড়তে পড়তে তার মুখ গম্ভীর হয়ে উঠল। তার চোখের দু’কোণায় অশ্রু এসে জমল। চিঠিতে একটা চুমু খেয়ে চিঠি বন্ধ করে স্বগত কণ্ঠে বলে উঠল, ‘আল্লাহর রসূলের কবর জিয়ারত করার এবং কাবা তাওয়াফের সুযোগ হবে এত তাড়াতাড়ি, আল্লাহ এর ব্যবস্থা এত তাড়াতাড়ি করে দেবেন, স্বপ্নেও ভাবতে পারিনি! ধন্যবাদ সৌদি সরকারকে। ধন্যবাদ আহমদ মুসা তোমাকে।’ কান্না ও আবেগে রুদ্ধ হয়ে গেল ড. হাইম হাইকেলের কথা। টেলিফোন বেজে উঠল আহমদ মুসার। ড. হাইম হাইকেল চোখ মুছে বিল্লাহ ও সুলাইমানকে লক্ষ্য করে বলল, ‘চল আমরা বাইরে গিয়ে বসি। উনি টেলিফোন সেরে নিন।’ বলে ড. হাইম হাইকেল বাইরে বেরুবার জন্যে হাঁটা শুরু করল। তার সাথে সুলাইমান, বুমেদীন বিল্লাহ, হাইম বেঞ্জামিন, ম্যাডাম হাইম ও বারবারা ব্রাউন সকলে। মোবাইলটা মুখের সামনে তুলতেই দেখল কলটা এসেছে মিসেস জর্জ জনসনের কাছ থেকে। খুশি হয়ে আহমদ মুসা মোবাইল মুখের কাছে নিয়ে সালাম দিল। বলল, ‘আম্মা, কেমন আছেন?’ ‘ওয়া আলাইকুম সালাম, বেটা। আমরা সকলে ভাল আছি। তোমার আংকেল এবং আমাদের পরিবারের সকলের তরফ থেকে শুকরিয়া জানানোর জন্যে এই টেলিফোন করছি। আমরা সৌদি সরকারের কাছ থেকে সৌদি আবর সফর ও ওমরার দাওয়াত পেয়ে ভীষণ খুশি হয়েছি। কিন্তু বেটা, সেদিন তোমার সাথে কত কথা হলো, কিন্তু তুমি এত বড় খবর সম্পর্কে তো কোন ইংগিত দাওনি!’ ‘আম্মা, দাওয়াত সৌদি সরকারের তরফ থেকে। সেজন্যে আমি আগাম কিছু বলতে চাইনি। আম্মা, এখন জানিয়ে দিচ্ছি আরো একটা খবর, আমি মদিনায় ফেরার পর আমাদের তরফ থেকেও একটা দাওয়াত আপনাদের কাছে আসবে।’ আহমদ মুসা বলল। ‘কিসের দাওয়াত বেটা?’ ‘আপনার নাতি আহমদ আবদুল্লাহর আকিকা অনুষ্ঠান হবে। সেখানে আমি গোটা দুনিয়ায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা আমার বন্ধু-বান্ধব ও গুরুজনদের আমন্ত্রণ জানাব। সেখানে আপনারা অবশ্যই থাকবেন।’ ‘ও বেটা! ধন্যবাদ। সেটা তো হবে এক মহাব্যাপার! আর সেটা আমাদের জন্যে সৌভাগ্যের। তোমার দাওয়াত আসার আগেই গ্রহণ করলাম।’ বলে একটু থামল মিসেস জনসন। তারপর বলল, ‘বেটা, তোমার আংকেল ওমরার প্রস্তুতির ব্যাপারে জানতে চেয়েছেন। কোন অভিজ্ঞতা তো এ ব্যাপারে আমাদের কারো নেই।’ ‘কোন চিন্তা নেই আম্মা। আপনারা প্রথমে মদিনা যাচ্ছেন। সুতরাং এ ব্যাপারে আগাম কোন চিন্তার প্রয়োজন নেই। আমি সব ব্যবস্থা মদিনায় করে রাখব। মদিনা থেকে মক্কায় যাবেন ওমরা করতে।’ আহমদ মুসা বলল। ‘ধন্যবাদ বেটা। তুমি বেরুচ্ছ কখন?’ ‘এই তো কাপড় গোছ-গাছ করছি। অল্প কিছুক্ষণের মধ্যেই বেরুবো।’ ‘তোমাকে তাহলে আর আটকাব না। তোমার সফরকে আল্লাহ সুন্দর ও নিরাপদ করুন। আমি রাখছি। আস্সালাম। বাই।’ ‘ওয়াস্সালাম। দেখা হবে মদিনায়। বাই আম্মা।’ আহমদ মুসা কলটি অফ করে দিয়েই টেলিফোন করলো কামাল সুলাইমানকে। বলল, ‘শোন সুলাইমান, আমেরিকা, ক্যারিবিয়ান ও আজোরস-এর যারা সৌদি আরব সফর ও ওমরার দাওয়াত পেয়েছে, তাদের সকলকে টেলিফোন করে আমার সালাম দাও। দাওয়াতের চিঠি পেয়েছে কিনা দেখ। তারপর ওদের জানাও, তাদের প্রথমে মদিনায় নেয়া হবে। সেখান থেকে তাঁরা ওমরা করতে মক্কায় যাবেন। তাদের কোন চিন্তা করতে হবে না। ওমরার সব প্রস্তুতি মদিনায় থাকবে। ঠিক আছে, বলে দাও এখনি। বিল্লাহর কাছে টেলিফোন নাম্বার আছে। তাকেও বল কিছু টেলিফোন করতে।’ আহমদ মুসা কথা শেষ করে মোবাইল রাখতে যাচ্ছিল। আবার বেজে উঠল টেলিফোন। মোবাইলটি সামনে এনে দেখল সারা জেফারসনের মা জিনা জেফারসনের টেলিফোন। বিস্মিত হলো আহমদ মুসা, মিসেস জিনা জেফারসন তার এই গোপন টেলিফোন নাম্বার পেলেন কিভাবে!’ দ্রুত টেলিফোনটা মুখের কাছে তুলল আহমদ মুসা। বলল, ‘আস্সালামু আলাইকুম। খালাম্মা, কেমন আছেন আপনি? সব ভাল তো?’ ‘ওয়া আলাইকুম সালাম। আমি ভাল আছি, মাই সান। কতদিন পর তোমার ডাক শুনলাম বলত? খালাম্মার উপর রাগ করেছ বুঝি! মায়েরা সব সময় সন্তানদের ভাল চায় বেটা।’ ‘জানি খালাম্মা। আমি দুঃখিত, এবার এসে খুব ব্যস্ত অবস্থায় আছি। কিন্তু সব সময় আপনাকে মনে করি খালাম্মা।’ ‘জানি বাছা। তোমাকে অনেক দিন দেখি না। কিন্তু মনে হয় তুমি আমার চোখের সামনেই আছ। অন্তরে তোমার স্পর্শ পাই। তোমার মত ছেলে চোখের আড়াল হলেও মনের আড়াল হবার মত নয়।’ ‘এমন ¯েœহ পাওয়া সৌভাগ্যের খালাম্মা।’ বলে আহমদ মুসা একটু থেমে আবার বলে উঠল, ‘খালাম্মা, আপনি কি সৌদি সরকারের একটা দাওয়াত পেয়েছেন সৌদি আরব সফর ও ওমরা করার জন্যে?’ ‘হ্যাঁ বেটা। এ জন্যেই তো তোমাকে টেলিফোন করেছি। সারা আমাকে তোমার সাথে আলোচনা করতে বলেছে। আমি দাওয়াত পত্রটা পাওয়ার পরেই সারাকে টেলিফোন করেছিলাম। সারা কি একটা সর্ট কোর্স করছে ইস্তাম্বুল বিশ্ববিদ্যালয়ে। সে যেতে পারবে না।’ ‘সে ভাল আছে খালাম্মা?’ ‘সে সব অবস্থায় বলে, ভাল আছি। নিজের অসুবিধার কথা সে কোন সময়ই জানায় না। এই অভ্যেস তার এখন আরও বেড়েছে। তাই তাকে নিয়ে আমার খুব ভয় বেটা।’ ‘ভাববেন না খালাম্মা। আল্লাহ সাহায্য করবেন।’ বলে একটু থামল তারপর আবার বলল, ‘আপনি আসুন খালাম্মা। শুধু সৌদি সরকার নয় আমরা খুশি হবো আপনাকে পেলে। আমি মদিনায় ফিরে আপনাকে চিঠি লিখব। তাতে আমি আপনার সফরের সব ব্যবস্থার কথা জানাব।’ ‘ধন্যবাদ বেটা। আমি কি ওখান থেকে পরে সারার কাছে যেতে পারব? আরও তো প্রায় আড়াই মাস সে তুরষ্কে থাকছে। আমি ওদিক হয়ে তাকে দেখে আসতে চাই।’ বলল জিনা জেফারসন, সারা জেফারসনের মা। ‘কোন অসুবিধা হবে না। আমি সব ব্যবস্থা করে দেব। তাছাড়া মদিনায় আমাদের অনুষ্ঠানে তুরষ্ক থেকেও আমার বন্ধু-মুরুব্বীরা আসবেন।’ ‘তাহলে খুবই ভাল হবে বাছা। ঠিক আছে, রাখি। তুমি ভাল থাক বেটা। আসসালামু আলাইকুম। বাই।’ সালাম নিয়ে আহমদ মুসা ফোন রেখে দিল। আহমদ মুসা মোবাইল রেখে সোজা হয়ে দাঁড়াতেই দৌড়ে কামাল সুলাইমান প্রবেশ করল আহমদ মুসার ঘরে। তার হাতে মোবাইল। বলল সে দ্রুত কণ্ঠে, ‘ভাইয়া টেলিফোন নিন, ভাবী লাইনে আছে।’ বলে আহমদ মুসার হাতে তার মোবাইলটি তুলে দিয়ে দ্রুত ঘর থেকে বেরিয়ে গেল দরজাটা বন্ধ করে। টেলিফোন মুখের কাছে তুলে নিয়েই আহমদ মুসা বলে উঠল, ‘আসসালামু আলাইকুম। কেমন আছ জোসেফাইন?’ ‘ওয়া আলাইকুম সালাম। ভাল আছি। তুমি?’ ‘খুব ভাল।’ ‘ভাল’র আগে ‘খুব’ লাগালে কেন?’ ‘দেখ, এশিয়ানরা সাধারণত ঘরমুখো। সুতরাং ঘরে ফেরার সময় তারা বাড়তি আনন্দে থাকে।’ ‘তুমি বলতে চাচ্ছ নন-এশিয়ানরা বাহির-মুখো। না?’ ‘স্যরি, কথা তুলে নিচ্ছি। তুমি যে ইউরোপীয়ান ভুলে গিয়েছিলাম। তবে...............।’ ‘আর কথা নয়। বল, টেলিফোন কি এতক্ষণ কেউ এনগেজ রাখে? আমি কখন থেকে চেষ্টা করছি।’ ‘স্যরি। আমি কাপড়-চোপড় গুছিয়ে ব্যাগে ভরছিলাম। এই সময় কয়েকটা টেলিফোন এল। কথাটা একটু দীর্ঘ হয়ে গেছে।’ ‘সবে ব্যাগেজ গোছাতে শুরু করেছ? ও! না! তুমি তো ওখানে নয় ঘণ্টা পেছনে। আর কতক্ষণে তুমি যাত্রা করছ?’ ‘এই ধরো দশ মিনিট। ওরা সবাই লাগেজ নিয়ে নিচে নেমে গেছে। আমি হাত ব্যাগটা গুছাচ্ছি। আমিও এখনি বেরুব।’ ‘জান, তুমি আসার এখন আয়োজন করছ এটা ভেবেই আমার পালস বীট আজ সকাল থেকে বেড়ে গেছে। তুমি আসলে কি হবে তাই ভাবছি।’ ‘দেখ, তোমার শরীর দূর্বল। তুমি বেশি টেনশন করো না। ক্ষতি হবে।’ ‘তুমি বোকা। এটা টেনশন নয়। এ অস্থিরতা আনন্দের, আনন্দের হৃদ-কম্পন এটা। এতে ক্ষতি হয় না, শক্তি ও সুস্থতা আরও বাড়ে।’ ‘তাহলে ঠিক আছে। ধন্যবাদ। তোমার পালস বীট আরও বাড়.............’ কথা শেষ করতে পারল না আহমদ মুসা। তাকে বাধা দিয়ে ডোনা জোসেফাইন বলে উঠল, ‘বাজে কথা আর বাড়িয়ো না। তোমার সময় কম। শোন, তোমাকে দুটো অনুরোধ করব বলে এ টেলিফোন করেছি।’ ‘বল।’ ‘বলছি। তার আগে শোন, আজ সকালে আমি আহমদ আবদুল্লাহকে নিয়ে মেইলিগুলো আপার কবরে গিয়েছিলাম। আহমদের কচি হাতে একটা ফুল ধরিয়ে ওঁর কবরে রেখে এসেছি। আমি আহমদকে বলেছি, এ তোমার বড় মায়ের কবর। যে মা তোমার জন্মের আগেই তোমাকে ভালবেসেছেন, অজ¯্র টাকার একটা গিফট তোমার জন্যে ব্যাংকে রেখে গেছেন। মনে হয় আমার কথা সে বুঝেছে। হেসে হাত-পা নেড়ে আনন্দ প্রকাশ করেছে সে।’ বলল ডোনা জোসেফাইন। ‘ভাল করেছো জোসেফাইন। ধন্যবাদ। ওঁর আত্মা খুশি হবে। একটি স্বপ্ন পূরণ করেছ তুমি তাঁর।’ কথা শেষ করেই আহমদ মুসা আবার বলে উঠল, ‘নির্দেশটা এবার বল।’ ‘নির্দেশ নয়, অনুরোধ।’ ‘ঠিক আছে বল।’ দুটি অনুরোধ। একটি হলো, ‘তুমি আন্দামান যাওয়ার আগে আমরা দু’জনে সুইজারল্যান্ডে তাতিয়ানার কবর জেয়ারতে যাব। খুব ইচ্ছা হচ্ছে, তাতিয়ানার বোন রুশ সম্রাজ্ঞী ক্যাথেরীনকে আমাদের অনুষ্ঠানে দাওয়াত করার। কিন্তু সেটা তো সম্ভব নয়। আমার দ্বিতীয় অনুরোধ হলো, ‘তুমি সারা জেফারসনকে অনুরোধ করবে আমাদের অনুষ্ঠানে আসার জন্যে। আমি তাকে টেলিফোন করেছিলাম। সে বলেছে, তার একটা শর্ট কোর্স চলছে। কিছুতেই তার পক্ষে সময় বের করা সম্ভব হবে না। তুমি যদি তাকে অনুরোধ কর, তাহলে আমাদের দুজনের অনুরোধ সে ফেলতে পারবে না।’ ‘তোমাকে আবারও ধন্যবাদ জোসেফাইন। তাতিয়ানার কবর জেয়ারতে এ সময় আমাদের যাওয়া উচিত। তুমি স্মরণ করিয়ে ভাল করেছ। আমরা যাব। আর রুশ সম্রাজ্ঞী ক্যাথেরীনকে আমরা দাওয়াত করতেই পারি। তিনি আসতে পারবেন না সেটা ভিন্ন কথা। অন্তত এ অনুষ্ঠান সম্পর্কে তাঁর জানার অধিকারটা তো পূরণ হবে! তোমার দ্বিতীয় অনুরোধ আমি রাখতে পারছি না জোসেফাইন। সারাকে তার মত করে চলতে দেয়ার মধ্যেই তার কল্যাণ আছে। কোন কিছুতেই আমাদের তাকে বাধ্য করা ঠিক নয়। সে অত্যন্ত সচেতন ও বুদ্ধিমান। সে নিজের জন্যে যেটাকে ঠিক মনে করেছে, তার বাইরে তাকে টানাকে আমি উচিত মনে করছি না।’ ‘তোমার কথার মধ্যে যুক্তি আছে। হয় তো এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু তোমার এ কথা ঠিক নয় যে, সারা জেফারসন যা করছে এটাই তার জন্যে ঠিক। আমি এটা মেনে নেব না।’ ‘জোসেফাইন, তুমি যেটা বলছ, সেটাও একটা দিক। কিন্তু অলটারনেটিভগুলোর মধ্যে যেটা স্বাভাবিক সেটাই গ্রহণ করতে হবে।’ ‘আমি আগেই বলেছি যে, হয়তো এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু এ ব্যাপারে আমার দ্বিমত আছে। তবে এ নিয়ে আমি কথা বাড়াতে চাই না। তোমাকে কি এটুকু অনুরোধ করতে পারি যে, তুমি শুধু একবার তাকে বল, তুমি ও আমি তাকে ওয়েলকাম করছি আমাদের এ অনুষ্ঠানে। তাহলেও আমি মনে একটু শান্তি পাব। তা না হলে সবাই আসবে, আর একা সারাই বাইরে থাকবে, এটা আমি সহ্য করতে পারবো না।’ বলতে গিয়ে জোসেফাইনের শেষ কথাগুলো আবেগে রুদ্ধ হয়ে গেল। আহমদ মুসা সংগে সংগেই জবাব দিল না। একটু ভাবল। তারপর বলল, ‘জোসেফাইন, তোমার কষ্ট তো আমাকেও কষ্ট দেবে। ঠিক আছে তুমি যেভাবে যা বলতে বলেছ আমি তা সারাকে বলব। খুশি?’ ‘খুশি। অনেক ধন্যবাদ তোমাকে। এস তুমি। রাখি এখন?’ ‘ঠিক আছে জোসেফাইন। ভাল থেক। আল্লাহ হাফেজ। আসসালামু আলাইকুম।’ ‘ওয়া আলাইকুম সালাম’ বলে ওপার থেকে জোসফোইন টেলিফোন রেখে দিল। আহমদ মুসা কল অফ করে দিয়ে মোবাইল রেখে আবার ব্যাগ গুছিয়ে নেয়ায় মনোযোগ দিল। আহমদ মুসারা গ্যাংওয়ের দিকে এগুচ্ছিল। তার সাথে হাঁটছে কামাল সুলাইমান, মিসেস সুলাইমান, বুমেদীন বিল্লাহ ছাড়াও তাদেরকে ‘সি অফ’ করতে আসা ড. ইয়াহুদ, ম্যাডাম ইয়াহুদ, নুমা ইয়াহুদ, নিউইয়র্কের মুসলিম কম্যুনিটির নেতৃবৃন্দ এবং নিউইয়র্কের এফ.বি.আই চীফ ও নিউইয়র্ক ষ্টেটের প্রধান প্রটোকল অফিসার। গ্যাংওয়েতে ঢোকার আগে আহমদ মুসা ঘুরে দাঁড়িয়ে সবার সাথে বিদায়ী হ্যান্ডশেক করল। একপাশে দাঁড়িয়ে নুমা ইয়াহুদ ও বুমেদীন বিল্লাহ একান্তে আলাপ করছিল। আহমদ মুসার হ্যান্ডশেক শেষ হতেই নুমা ইয়াহুদ ও বুমেদীন বিল্লাহ একসাথে এগিয়ে এল আহমদ মুসার কাছে। আহমদ মুসা একটু হেসে বলল, ‘কি দুজনের তরফ থেকে কোন সুখবর আছে?’ নুমা ইয়াহুদের মুখ লাল হয়ে উঠল লজ্জায়। আহমদ মুসাকে সালাম দিয়ে আহমদ মুসার হাতে একটা ছোট্ট ইনভেলাপ তুলে দিয়ে ছুটে পালাল। আহমদ মুসা ঘুরে দাঁড়িয়ে আবার হাঁটা শুরু করল। তার সাথে কামাল সুলাইমানরা। এফ.বি.আই অফিসার আহমদ মুসার পিছনে হাঁটতে হাঁটতে বলল, ‘স্যার, আমার উপর হুকুম প্লেনে উঠা পর্যন্ত আপনার সাথে থাকার এবং প্লেন ‘টেক অফ’ করা পর্যন্ত অপেক্ষা করার। ‘ধন্যবাদ জনাব।’ বলল আহমদ মুসা। প্লেনে উঠল আহমদ মুসা। সৌদি আরবের আল-মদিনা এয়ার লাইন্সের বিশেষ ফ্লাইট এটা। বিমানটি নন-ষ্টপ উড়ে একেবারে গিয়ে ল্যান্ড করবে মদিনা ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টে। প্লেনের দরজায় আহমদ মুসাকে স্বাগত জানিয়ে জড়িয়ে ধরল ফ্লাইটের ক্যাপ্টেন। তার ক্রুরা সহাস্যে পরমাত্মীয়ের মত স্বাগত জানাল আহমদ মুসাকে। ক্যাপ্টেন বলল, ‘আমাদের সৌভাগ্য, এই ফ্লাইটের সৌভাগ্য যে, আপনার মত এক মহান ভাইকে আতিথ্য দেবার ভাগ্য আমাদের হয়েছে।’ সবাইকে মোবারকবাদ দিয়ে আহমদ মুসা বসল গিয়ে তার সিটে। প্লেন উড়তে শুরু করলে আহমদ মুসা নুমা ইয়াহুদের দেয়া চিঠি বের করল। ইনভেলাপ থেকে একটা ছোট্ট ই-মেইল বের হলো। দেখল, ই-মেইলটি সারা জেফারসনের। পড়ল: ‘আসসালামু আলাইকুম। টেলিফোনে তাৎক্ষণিকভাবে উত্তরটা দিতে পারিনি বলে দুঃখিত। আমি বিশ্ববিদ্যালয়ে খোঁজ নিয়ে দেখলাম, শর্ট কোর্সটিতে কয়েক দিনের ব্রেক হলে কোর্সটাই অর্থহীন হয়ে যাবে। তাই আপনাদের আমন্ত্রণে ‘না’ বলারই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। দূরে থাকলেও আমাদের নতুন ‘সোনামণি’র জন্যে থাকবে আমার এক বুক ভালবাসা ও দোয়া। ওয়াস্সালাম। -সারা।’ ই-মেইল পড়া শেষ করে আহমদ মুসা তা আবার ইনভেলাপে পুরে ইনভেলাপটি পকেটে রাখল। মনে মনে বলল, ‘ই-মেইলটি জোসেফাইনের পড়া দরকার। কারণ তার অনুরোধেই সে সারাকে টেলিফোন করেছিল।’ আরও কিছু চিন্তা ও আরও কিছু কথা চারদিক থেকে ছুটে আসছিল মাথায়। আহমদ মুসা তাড়াতাড়ি মাথাটা সিটে এলিয়ে দিয়ে মাথাটাকে শূন্য করার উদ্যোগ নিল। বুজল সে তার চোখ। অন্য সবাইও নীরব। নীরবতা নেমেছে প্লেনের প্রথম শ্রেণীর এ কক্ষটিতে। প্লেনের বাতাস কেটে সাঁতরে চলার শব্দ ছাড়া আর কোন শব্দ কোথাও নেই। ছুটে চলছে প্লেন মদিনার উদ্দেশ্যে।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৯৯ জন


এ জাতীয় গল্প

→ কালাপানির আন্দামানে চ্যাপ্টার- ১ বাকি অংশ
→ কালাপানির আন্দামানে চ্যাপ্টার- ২ বাকি অংশ
→ কালাপানির আন্দামানে চ্যাপ্টার- ৩ বাকি অংশ
→ কালাপানির আন্দামানে চ্যাপ্টার- ৪ বাকি অংশ
→ কালাপানির আন্দামানে চ্যাপ্টার- ৫ বাকি অংশ
→ কালাপানির আন্দামানে চ্যাপ্টার- ৬ বাকি অংশ

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now