বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
- দোস্ত তুই না কি বিয়ে করতেছিস? শুনলাম এ বিয়েতে তোর মত নাই?।(সিফাত)
- হুম.... ঠিক'ই শুনেছিস।(রেহান)
- তাহলে বিয়েতে রাজি হইলি কেনো? (সিফাত)
- তুই তো জানিস আমি মা-বাবার কথা ফেলতে পারি না(রেহান)
- হুম.... ভালো করেই জানি। দোস্ত মা-বাবা যা করে সন্তানের ভালোর জন্যেই করে তুই কোনো চিন্তা করিস না আজ নাহয় কাল বিয়ে তো করতেই হবে। (সিফাত)
- তোর কথা শুনে একটু শান্তি পেলাম।(রেহান)
- বিয়ে কত তারিখে?(সিফাত)
- এইতো পরশুদিন, তুই কালকেই আমাদের বাসায় আসবি ঠিক আছে?(রেহান)
- আচ্ছা ঠিক আছে।(সিফাত)
.
আমি আনমনা হয়ে দাঁড়িয়ে ভাবতেছি কাকে বিয়ে করবো?সেই মেয়ে কি আমাকে মেনে নিতে পারবে না কি পারবে না? যাই হোক সেটা পরে দেখা যাবে। পরশুদিন বিয়ে অথচ আমার কাছে মনেই হচ্ছে না।
.
বিয়ের দিন...
আনন্দ,উল্লাসে মেতে উঠেছে রেহানের বিয়ে। অথচ রেহানকে কেনো জানি চিন্তিত মনে হচ্ছে। অনেকদিন পর মা-বাবার মুখে হাসি দেখে রেহান কেঁদে ফেলে। এমন ভাবে কখনও তাঁর মা-বাবার মুখে হাসি দেখেনি।
.
বাসর রাত...
- কি ব্যাপার আপনার শরীর কাঁপতেছে কেন? আপনি কি অসুস্থতা বোধ করতেছেন?(মারিয়া)
- প্রথম বিয়ে তো তাই (রেহান)
- তাঁর মানে আপনি আরো বিয়ে করবেন? হায় আল্লাহ্ এ আমি কাকে বিয়ে করলাম? (মারিয়া)
- আমি সেটা বলতে চাইনি আপনি আমায় ভুল বুঝতেছেন।(রেহান)
- আমি ভুল বুঝি না আপনি ভুল বুঝেন।(মারিয়া)
.
বিয়ে হতে না হতেই চিন্তায় পড়ে গেলাম। মা-বাবা এ আমাকে কার হাতে তুলে দিলো..। না কি এটাই হবার ছিল? ভেবেছিলাম স্বামী আর সংসার নিয়ে বাকি জীবনটা এভাবেই কাটিয়ে দিবো কিন্তু তা আর মনে হয় হবে না। মা-বাবার কথামত বিয়ে করলাম শেষে এমন পরিণতি হবে ভাবিনি। যাই হোক কপালের লেখা ছিলো তাই এমন হয়েছে। আর একটা লোককে ভালোভাবে না জেনে এমন মন্তব্য করা ঠিক না। হয়তো লোকটা ভালো হয়তো না..। সেটা সময়'ই বলে দিবে ভালো না খারাপ।
.
পরেরদিন ভোরবেলা রেহান আযান শুনেই ঘুম থেকে উঠলো।...
- এইযে শুনছো আমি ওযু করে নামাজ পড়তে গেলাম তুমিও এসো। কি হলো নামাজ পড়বা না মারিয়া?(রেহান)
- না পড়বো না।(মারিয়া)
- তা পড়বা কেন। নামাজ পড়লে তো ভালো হয়ে যাবে,থাক তোমার ভালো হওয়ার দরকার নেই।(রেহান)
- কি বললেন আমি খারাপ? যতবড় মুখ না ততবড় কথা।(মারিয়া)
- মারিয়া তুমি কিন্তু অযথা বকছো। স্বামীকে কেউ এইভাবে বকে না বুঝেছো? কারন স্বামীর পায়ের নিচেই স্ত্রীর বেহেস্ত।
.
অনেক্ষন ধরে চলতেছে তাঁদের অনবরত কথার কাটাকাটি পাশের রুম থেকে রেহানের মা-বাবা তাঁদের ঝগড়া শুনে বিস্মিত। বিয়ের প্রথমদিনেই ঝগড়াঝাঁটি বাকি দিন কেমনে যায় একমাত্র আল্লাই জানে।
.
- অফিসে গেলাম বাই।(রেহান)
- নাস্তা না খেয়েই চলে যাবেন?(মারিয়া)
- বকা খেয়েই তো পেট ভরে গিয়েছে নাস্তা খেতে হবে কেনো।(রেহান)
.
মুখের ভাষা হারিয়ে ফেলেছি কি বলবো বুঝতেছি না। আমার ভাবনাচিন্তা পুরোটাই ভুল যেমন স্বামী চেয়েছি ঠিক তেমন'ই স্বামী পেয়েছি। অযথা বাসর রাতে উনাকে নিয়ে ভুল ভেবেছি। যেভাবেই হোক উনার কাছ থেকে মাফ চেয়ে নিতে হবে। ফোন দিয়ে জিজ্ঞেস করি নাস্তা খেয়েছে কি না।
.
- হ্যালো, নাস্তা খেয়েছেন?(মারিয়া)
- না খাইনি আর খাবোও না। (রেহান)
- কেনো? তাহলে আমিও কিন্তু নাস্তা করবো না।(মারিয়া)
- আরে বাবা নাস্তা করেছি,এমনি তোমার সাথে ফাজলামো করলাম। আর তুমি এক্ষুনি নাস্তা করে নাও, ঠিক আছে??(রেহান)
- আচ্ছা, আমি আপনাকে ভুল বুঝেছি, অযথা বকাবকি করেছি সেই জন্য আমি অনুতপ্ত,আমাকে ক্ষমা করে দিন।(মারিয়া)
- মানুষ অপরাধ করে ভুল স্বীকার করলে তাঁর থেকে বড় ক্ষমা আর কি হতে পারে। আচ্ছা বাবা তোমার সব অপরাধ চোখ বুঝে মাফ করে দিলাম।(রেহান)
- তোমারে এত্তগুলা ভালোবাসা দিলাম।(মারিয়া)
- তোমারেও।(রেহান)
.
ফোন কাটার সাথে সাথে জোরে একটা নিশ্বাস নিলাম। যাই হোক ভুল বুঝেছে এটাই সবচেয়ে বড়। আমি ত ভেবেছি অফিস থেকে ফিরলেই আবার আনলিমিটেড ঝগড়া হবে তারপর একপর্যায়ে তালাক দেওয়ার কথা বলবে। মেয়েটার যত রাগ তাঁর থেকে ভালোবাসা দ্বিগুণ।
.
পরেরদিন অফিসের যাবার জন্য প্রস্তুত হচ্ছে ঠিক সেই সময় পাশের রুমের এক মেয়ে এসে কলিং বেল বাজালো। দরোজা খুলতেই...
.
- ভাবি রেহান ভাই কি অফিসে যাবে না?(রুপা)
মারিয়া উত্তর দেওয়ার আগে মাঝখান থেকে রেহান বলে..
- হ অফিসে যাব। রুপা তোমাকে না আজকে অনেক সুন্দর লাগতেছে।(রেহান)
- ধন্যবাদ।(রুপা)
- কিহ! এই মেয়ে তুমি চলে যাও রেহান আজকে অফিসে যাবে না।(মারিয়া)
-আচ্ছা ঠিক আছে।(রুপা)
- অই তুই এই মেয়েকে সুন্দর বললি কেনো? ও আমাকে বুঝি বুড়ি লাগে হ্যাঁ?(মারিয়া) (রাগান্বিত কন্ঠে)
- সুন্দর কে সুন্দর বলবো না তো কি বলবো? তুমি আমাকে ভুল বুঝতেছো মারিয়া।
- আবার মুখে মুখে তর্ক করে,তুই একটা চরিত্রহীন, লম্পট তুই আর অফিসে যাবি না। মেয়ে দেখলেই রোমান্টিক ভাব আসে।
.
প্রতিনিয়ত'ই তাঁরা কিছু না কিছু নিয়ে ঝগড়া লাগতো আবার একটু পর ঠিকও হয়ে যেতো। এই ঝগড়ার ভিতরে লুকিয়ে আছে অসীম ভালোবাসা। আসলে আমরা ঝগড়াটাই দেখি ভালোবাসাটা কেউ দেখি না। অনেক মেয়ে আছে নিজের স্বামীকে সবসময় দোষারোপ করে,সন্দেহ করে। যেমন অফিসে তো তোমার মত অনেক কাজের লোক আছে এত লোক থাকতে মেয়েরা তোমাকেই ফোন দেয় কেনো তোমাদের অফিসে কি ছেলে নাই। এসব কথা সব মেয়েরাই বলবে কারন কোনো স্ত্রী চায় না তাঁর স্বামী অন্য মেয়ের সাথে অফিসে কিংবা ফোনে কথা বলুক। এটাই হলো স্বামীর প্রতি স্ত্রীর মায়া,মোহাব্বত। পরিশেষে একটা কথা বলতে চাই মেয়েরা হলো মায়ের জাত আর মা কখন'ই ছেলের অমঙ্গল চায় না। একটা মেয়ে তাঁর স্বামীকে যতই বকাবকি,ঝগড়াঝাঁটি করুক না কেন দিনশেষে দেখবেন ভুল বুঝতে পেরে আবার সেই স্বামীর কাছেই ক্ষমা চাইতে আসবে।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now