বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

যকের ধন ------- (পর্ব ৫)

"রোমাঞ্চকর গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X " যকের ধন " হেমেন্দ্রকুমার রায় ---------------- (পর্ব ৫) ▪▪▪পরামর্শ▪▪▪ আমি বললুম, মড়ার মাথা কি করে চুরি গেল, বিমল? বিমল বললে, জানি না। সকালে উঠে দেখলুম, আমার পড়বার ঘরের দরজাটা খোলা, রাত্রে তালা-চাবি ভেঙে কেউ ঘরের ভিতর ঢুকেছে! বুকটা অমনি ধড়াস করে উঠল! মড়ার মাথাটা আমি টেবিলের টানার ভেতরে চাবি বন্ধ করে রেখেছিলুম। ছুটে গিয়ে দেখি, টানাটাও খোলা রয়েছে, আর তার ভেতরে মড়ার মাথা নেই। আমি বলে উঠলুম, এ নিশ্চয়ই করালী মুখুয্যের কীর্তি। সেই-ই লোক পাঠিয়ে মড়ার মাথ চুরি করেছে। কিন্তু এই ভেবে আমি আশ্চর্য হচ্ছি, করালী কি করে জানলে যে মড়ার মাথাটা তোমার বাড়ীতে আছে? বিমল বললে, করালী নিশ্চয়ই চারিদিকে চর রেখেছে! আমরা কি করছি, না করছি, সব সে জানে। আমি বললুম, কিন্তু খালি মড়ার মাথাটা নিয়ে সে কি করবে? সঙ্কেতের মানে তো সে জানে না! বিমল বললে, কুমার, শক্রকে কখনো বোকা মনে কোরো না! আমরা যখন সঙ্কেত বুঝতে পেরেছি, তখন চেষ্টা করলে করালাই বা তা বুঝতে পারবে না কেন? আমি বললুম, কিন্তু সঙ্কেতের সবটাও যে আর মড়ার মাথার ওপরে নেই। মনে নেই, আমার হাত থেকে পড়ে কাল মড়ার মাথাট। চটে গিয়েছে? বিমল কি যেন ভাবতে ভাবতে বললে, তবু বিশ্বাস নেই! হঠাৎ আমার আর একটা কথা মনে পড়ল। আমি তাড়াতাড়ি জিজ্ঞাসা করলুম, আচ্ছ, ঠাকুরদার পকেট-বইখানাও কি চুরি গেছে? বিমল বললে, ‘না, এইটুকুই যা আশার কথা। পকেট-বইখানা কাল রাত্রে আমি আর একবার ভালো করে পড়বার জন্যে উপরে নিয়ে গিয়েছিলুম। ঘুমোবার আগে সেখানা আমার মাথার তলায় বালিশের নীচে রেখে শুয়েছিলুম—চোর তা নিয়ে যেতে পারেনি। আমি কতকটা নিশ্চিন্ত হয়ে বললুম, যাক, তবু রক্ষে ভাই! যকের ধনের ঠিকানা আছে সেই পকেট-বইয়ের মধ্যে। ঠিকানাটা না জানলে করালী সঙ্কেত জেনেও কিছু করতে পারবে না! কিন্তু খুব সাবধান বিমল! পকেট-বইখানা যেন আবার চুরি না যায়। বিমল বললে, সে বন্দোবস্ত আজকেই করব। পকেট-বইয়ের যেখানে যেখানে পথের কথা আর ঠিকানা আছে, সেসব জায়গা আমি কালি দিয়ে এমন করে কেটে দেব যে, কেউ তা আর পড়তে পারবে না। আমি বললুম, তাহলে আমরাও মুস্কিলে পড়ব যে ! বিমল হেসে বললে, কোন ভয় নেই! ঠিকানা আর পথের বর্ণনা আর-একখানা আলাদা কাগজে নতুন একরকম সাঙ্কেতিক কথাতে আমি টুকে রাখব,—সে সঙ্কেত আমি ছাড়া আর কেউ জানে না। খানিকক্ষণ চুপ করে থাকবার পর আমি বললুম, এখন আমরা কি করব? বিমল বললে, আগে মড়ার মাথাটা উদ্ধার করতে হবে? আমি আশ্চর্য হয়ে বললুম, কি করে? বিমল বললে, যেমন করে তারা মড়ার মাথা আমাদের কাছ থেকে নিয়ে গেছে? আমি বললুম, চোরের উপর বাটপাড়ি? বিমল বললে, তাছাড়া আর উপায় কি? আজ রাত্রেই আমি করালীর বাড়ীতে যেমন করে পারি ঢুকব! আমার সঙ্গে থাকবে তুমি? আমি একটু ভেবড়ে গিয়ে বললুম, কিন্তু করালী যদি জানতে পারে, আমাদের চোর বলে ধরিয়ে দেবে যে! সে-ই যে মড়ার মাথাটা চুরি করেছে, তারও তো কোন প্রমাণ নেই?  বিমল মরিয়ার মত বললে, কপালে যা আছে তা হবে। তবে এটা ঠিক, আমি বেঁচে থাকতে করালী আমাদের কারুকে ধরতে পারবে না। মনকে তবু বুঝ মানাতে না পেরে আমি বললুম, না ভাই, দরকার নেই। শেষটা কি পাড়ায় একটা কেলেঙ্কারি হবে? বিমল বেজায় চটে গিয়ে বললে, ‘দূর ভীতু কোথাকার। এই সাহস নিয়ে তুমি যাবে রূপনাথের গুহায় যকের, ধন আনতে? তার চেয়ে মায়ের কোলের আদুরে খোকাটি হয়ে বাড়ীতে বসে থাক— তোমার পকেট-বই এখনি আমি ফিরিয়ে দিয়ে যাচ্ছি—এই বলেই বিমল হন হন করে দরজার দিকে এগিয়ে গেল। আমি তাড়াতাড়ি বিমলকে আবার ফিরিয়ে এনে বললুম, বিমল, তুমি ভুল বুঝছ—আমি একটুও ভয় পাইনি! আমি বলছিলুম কি— বিমল আমাকে বাধা দিয়ে বললে, তুমি কি বলছ, আমি তা শুনতে চাই না। স্পষ্ট করে বল, আজ রাত্রে আমার সঙ্গে তুমি করালীর বাড়ীতে যেতে রাজি আছ কি না? আমি জবাব দিলুম—‘আছি।’ বিমল খুশি হয়ে আমার হাতদুটো আচ্ছা করে নেড়ে দিয়ে বললে, ‘হু, এই তো ‘গুড বয়ে’ র মত কথা। যদি মানুষ হতে চাও, ডানপিটে হও। আমি হেসে বললুম, কিন্তু ডানপিটের মরণ যে গাছের আগায়? এই সাহস নিসে তুমি যাবে রূপনাথের গুহায় যকের ধন আনতে! বিমল বললে, বিছানায় শুয়ে থাকলেও মানুষ তো যমকে কলা দেখাতে পারে না। মরতেই যখন হবে, তখন বিছানায় শুয়ে মরার চেয়ে বীরের মত মরাই ভালো। তোমরা যাদের ভালো ছেলে বলসেই গোবর-গণেশ মিনমিনে ননীর পুতুলগুলোকে আমি দু-চোখে দেখতে পারি না। সায়েবের জুতো খেয়ে তাদেরই পিলে ফাটে, বিপদে পড়লে তারাই আর বাঁচে না, মরে বটে—তাও কাপুরুষের মত। এরাই বাঙালীর কলঙ্ক জগতে যেসব জাতি আজ মাথা তুলে বড় হয়ে আছে—বিপদের ভেতর দিয়ে, মরণের কুছ-পরোয় না রেখে তারা সবাই শ্রেষ্ঠ হতে পেরেছে। বুঝলে কুমার? বিপদ দেখলে আমার আনন্দ হয়। (ক্রমশ) --------


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১০১ জন


এ জাতীয় গল্প

→ যকের ধন -------- (পর্ব ২১)
→ যকের ধন ------- (পর্ব ১৬)
→ " যকের ধন " ------- (পর্ব ১৩)
→ " যকের ধন " ------- (পর্ব ১২)
→ যকের ধন ------- (পর্ব ৬)
→ যকের ধন ------- (পর্ব ৫)
→ যকের ধন ------- (পর্ব ৩)
→ যকের ধন -------- (পর্ব ২)

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now