বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
জেলের গল্প
এই পৃথিবীর কোন এক প্রান্তে এক দেশ ছিল। সেই দেশে বাস করত আবুল নামের এক লোক, সহজ সরল তবে একটু বোকা টাইপের। কোন কাজ কাম করত না সারাদিন শুধু বড়শি নিয়ে পুকুর ধারে বসে থাকতো। কারন বড়শি দিয়ে মাছ ধরা ছিল তার নেশা। সে মাছ মেরে বিক্রি করত না তবে মাছ গুলোকে সে শুটকি বানাতো। শুটকি গুলো সে তার ঘরের দেয়ালে ঝুলিয়া রাখতো আর প্রতিবেশি সবাই কে দেখাত। কারণ সে সবাই কে দেখিয়ে খুব আনন্দ পেত আর সবাই তার মাছ মারার বাহাদুরী দেখে খুব প্রসংশা করতো। একদিন হল কি, মাছ মারতে মারতে তার বাড়ীর পাসের সব পুকুরের সব মাছ ফুরিয়ে গেল, কিন্তু মাছ মারা তার নেশা। মাস না মারা পর্যন্ত তার শান্তি নাই মাছ তাকে মারতেই হবে। তাই সে বের হল পুকুরে খোঁজে হাঁটতে হাঁটতে তার পাশের গ্রামে একটা পুকুর খুঁজে পেলো, কিন্তু পুকুর এর কাসে গিয়ে দেখে এক বাউন্ডুলে টাইপে এক লোক বড়শি দিয়া মাস মারছে সে দূর থেকে দাড়িয়ে দাড়িয়ে দেখছিল। বাউন্ডুলে টাইপ এর লোকটা তাকে কাছে ডেকে নিয়ে জিঙ্গাসা করল, কি হে ! তোমার প্রশংসা তো সারা গ্রামে, সবাই বলে তুমি নাকি খুব ভালো মারতে পারো, মাছ মারবে আমার সাথে? তোমার মত একজন লোক আমার ভীষণ দরকার। আমি এখানকার এক মাছের আড়তে চাকুরি করি। তোমাকে টাকা দেবো, কি মাছ মারবে আমার সাথে? আবুল মিয়া এই কথা শুনে খুশিতে গদগদ এটা যেন তারঁ কাছে মেঘ না চাইতেই বৃষ্টি। কত টাকাদিবে কি সমাচার সে কিছুই জিজ্ঞাসা করল না কথা তার ধারনা ভাল-ই পাবে। লোকটির মুখের কথা শুনে এক বুক আশা নিয়ে সে বাড়ী ফিরে এলো। এর পর থেকে দুজনে মিলে মাছ মারতে সুরু করল। এ ভাবে বেশ কিছু দিন কেঁটে গেল। পুকুর পারের সরা গাছে যে ভুত থাকতো সে কথা কেউ জানতো না। একদিন হলো কি মাছের কাঁচা গন্ধে থাকতে না পেরে সরা গাছ থেকে একটা ভুত বের হয়ে এলো। ভুতটা বের হয়েই, মাছ খাব! মাছ খাব! বলে চিৎকার চেচামেচি সুরু করে দিল। ভয়ে বাউন্ডুলে লোকটা ভুতের সামনে আবুল কে এগিয়ে দিয়ে মাস গুলো নিয়ে মারলো এক দৌড়। পিছন থেকে আবুল মিয়া অসহায়ের বাউন্ডুলেকে ডাকতে লাগলো, কিন্তু কেউ তার ডাকে সারা দিল না, এমন কি বাউন্ডুলেও না, সে কোথায় গিয়া পালাল সেটা কেউ জানে না। আবুল মিয়া তখন ভুতের ভয়ে থর থর কাপছিল। ভুতটা তখন চিৎকার করছিল আর মুখ দিয়ে আগুন বের করছিল, সজরে এক হুঙ্কার দিতে-ই আবুল মিয়া পুকুরের গভীর গর্তে পা ফস্কে পরে গেলো। পুকুর টা এতটাই গর্ত ছিল যে কেউ একবার পরে গেলে তার আর রক্ষা নাই নির্ঘাত মরতে হবে, এতটাই গভীর, পুকুরটা অনেকটা কুয়োর মত। আবুল মিয়া ঠিক মত সাঁতারও জানেনা, পুকুরের পঁচা পানিতে হাবুদুবু খাচ্ছিল। কারন পুকুরে এত তাই পানি ছিল যে সেখানে দাড়ানোর জন্য তার ঠাই হচ্ছিল না। এখন সে উভয় সংকটে পরেছে উপরে ভুত আর পায়ের নিচে মানুষ খেকো মাছ। কোনটা নীচ থেকে তাঁকে কামরাচ্ছিল, কোনটাআবার শিং ফুটিয়ে দিচ্ছিল আবার কোনটা তাকে প্রাণে মেরে ফেলার ভয় দেখাচ্ছিল। তার এই বিপদের সময় সে তার আরৎদার মহাজন সবাইকেই ডাকছিল কিন্তু সবাই তখন ব্যস্তছিল। তার বিপদের সময় কেউ পাসে এসে দাড়ায়নি। সে খুব কান্না কাঁটি করছিল তখন। পানিতে সাঁতার কাঁটতে কাঁটতে কিছুক্ষণ পর পায়ের নিচে একটুকরো মাটি খুঁজে পেলো এটি-ই তাঁর বেঁচে থাকার শেষ ভরসা। অন্যদিকে ভুতটা রেগে গিয়ে চিৎকার-চেচামেচি করে সারা দেশ মাথা তুললো! ভুতের অভিযোগ মাছের গন্ধে তার ঘুমের বেঘাত ঘটানো হয়েছে। চাচা আপন প্রাণ বাঁচা বলে আরৎদার- মহাজন ভুতের পা ধরে মাফ চাইল । এবং ভুতকে খুশি করার জন্য তারা ঘোষণা দিলো যে আবুল মিয়া কে দিয়া তাঁরা আর কখনও তাদের পুকুরে মাছ মারাইবে না এবং তাঁকে বহিস্কার করা হইল। ভুতকে খুশি করার জন্য তাঁরা আরও বহু প্রতিশ্রুতি দিল। এদিকে আবুল বেচারার আবস্হা কাহিল চিন্তায় চিন্তায় সে সুকিয়ে কাঠ হয়ে গেছে ঠিকমত খাওয়া দাওয়া করে না। বিপদ থেকে সে কখনও রক্ষা পাবে কি না সেটা সে নিজেও জানে না, সব সময় শুধু আকাশের দিকে সে তাকিয়ে থাকে আর কাঁদে। এমন ভাবেই তার দিন কাটছিলো। কিছু দিন পর পুকুরের পাশ দিয়ে যাচ্ছিল কাল পোষাক পরা এক দল পরোপকারী মানুষ, আবুল কে দেখে তাদের খুব মায়া হলো, তাই তারা পুকুরে একটা লম্বা দড়ি নামিয়ে দিলো, এবং আবুল সেই দড়ি ধরেই উপরে উঠে এলো। ছয় মাস দুই দিন পর সে জল থেকে ডাঙ্গায় উঠলো। সে নতুন জীবন ফিরে পেল । কিন্তু আবুলের মন থেকে ভুতের ভয় দূর হয়না, সে সারাদিন ঘরের কোণে বসে থাকে। ভুত গুলো তাকে সবসময় তারা করে ফেরে। এদিকে কঠোর বাস্তবতা। কোন রকম আয় উপার্জন নাই তাই সে কাজে খোঁজে ঘর হতে বের হয়, রাস্তায় রাস্তায় ঘোরে, কিন্তু কেউ তাকে কোন কাজ দেয় না, সবাই ভয় পায়, চাকরি দিলে ভুত যদি তাদের উপর আক্রমন করে। এ দিকে যাদের সাথে কাজ করতো তাদের কেউ আর তাঁর কোন খোঁজ খবর নেয় না। প্রয়োজনও মনে করে না। একদিন আরৎদারের ম্যানেজারর চক্রবর্তী সাহেবের সাথে তার দেখা, চক্রবর্তী সাহেব তাকে কাছে বসিয়ে বলল, আবুল আমরা তো তোমার সাথে অন্যায় করে ফেলেছি, তা কি করলে তুমি আমাদের ক্ষমা করবে বলো? কি করলে তুমি খুশি হবে? আমরা তো ঘোষণা দিয়েছি আমরা তোমাকে দিয়ে আর কখনও মাছ ধরাবোনা, ঠিক আছে তুমি কোন চিন্তা কোরোনা আমরা তোমাকে একটা নতুন কাজ জোগার করেদেব। পুকুরে থাকতে তো বহুত শাপলা-শালুক খেয়েছো, এই নাও আমার হাতের RC আর বিরিয়ানি খাও। পরে তোমার সাথে যোগাযোগ করব। বলে চক্রবর্তী সাহেব আর সি আর বিরিয়ানি তার সামনে রেখে চলে গেল। পরে সে আর কখনও যোগাযোগ করেনি। আবুল নিজ থেকেও চেস্টা করেছে বহুবার কিন্তু সে পারেনি। কারন তারা বড়লোক উপর তলার মানুষ, তারা সব সময় বাস্ত্য থাকে তাছাড়া প্রয়োজন মনে না করলে সবার সাথে তারা কথা বলেন না। এভাবে অনেক দিন কেটে গেল এক সময় চক্রবর্তী সাহেব তাঁর দেয়া কথাও ভুলে গেল। বহুদিন কারও সাথে কোন যোগাযোগ নাই তাই আবুল মিয়া নিজে থেকেই বাউন্ডুলে কে একটা কল দিল তার ফোনে, উত্তরে বাউন্ডুলে বলল ভাই আমি খুব অসুস্থ সকালে হাস্পাতালে ভর্তি হইছি। শুনে আবুল বলল, আমি আপনাকে দেখতে আসি? বাউন্ডুলে বলল, আসেন! তার বিপদে বাউন্ডুলে তাকে দেখতে আসেনি তাতে কি হয়েছে, সে তাকে দেখতে যাবে, তার বিপদে পাশে গিয়ে দাড়াবে কারন তার মধ্যে মানবতা আছে। তার জন্য কে কি করল সেতা তার দেখার বিষয় নয়। আবুল তার সামর্থ মত ফল কিনে হাস্পাতালে বাউন্ডুলে কে দেখতে গেল। বাউন্ডুলে হাসপাতালে আবুলকে দেখে তাকে জরিয়ে ধরে হাউমাউ করে কাঁদতে লাগলো। একদিন দেশে রাজার মৃত সন্তানদের স্মরনে এক মেলার আয়োজন করা হল। মেলা সবার জন্য উন্মুক্ত ছিল, সেখানে দেশ বিদেশ থেকে বহু লোক জন আসতো, আবুল সেখানে গিয়ে হাজির হলো। মেলায় ঘুরতে ঘুরতে হঠাৎ বাউন্ডুলেকে সে দেখতে পেলো। লম্বা একটা সালাম দিয়ে সে বাউন্ডুলের সামনে গিয়ে হাজির হল, সঙ্গে সঙ্গে বাউন্ডুলে বলে উঠলো, আরে আপনি? আপনাকে খুব চেনা চেনা লাগছে আপনাকে কোথায় যেন দেখেছি? ঠিক মনে পরছে না! আপনাকে কোথায় দেখেছি বলুনতো? বাউন্ডুলের মুখে এরকম কথা শুনে সে খুব অবাক হচ্ছিলো, সে বলল ভাইয়া আমাকে চিন্তে পারছেন না? আমি আবুল! মনে মনে সে বলল, এক সঙ্গে এতদিন কাজ করলাম, হাসপাতালে দেখতে গেলাম সব কিছু সে এত তারাতারি ভুলে গেল? উত্তরে বাউন্ডুলে বলল, আরে আবুল আপনি? আপনি ভাল আছেন? কি করতাসেন এখন? কখন আসছেন? তা চক্রবর্তী সাহেবের সাথে দেখা হইছে আপনার? সেও তো মেলাতে আসছে! দেখা হইছে? আবুল এতগুলো প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে একটা উত্তর দিলো, না দেখা হয় নাই! বাউন্ডুলে আবুল কে নিয়ে চক্রবর্তী সাহেবের কাছে এলো। কফি শপের সামনে দাড়িয়ে সে কিছু লোকের সাথে গল্প করছিল। বাউন্ডুলে বল্ল চক্রবর্তী ভাই দেখছেন কে এসেছে? উত্তরে চক্রবর্তী, কে যেন? ঠিক চিন্তে পারছিনা? বাউন্ডুলে বল্ল, চিনতে পারেন নাই ও আবুল, আমাদের সেই আবুল! মুখ ভরা হাসি নিয়ে চক্রবর্তী বলল ওহ! আবুল! ভাল আছ? এই দোকানদার আবুল কে কফি দাও! নাও আবুল কফি খাও! কফি শেষ হতে না হতে-ই আবুল আবিস্কার করল নিজেকে, সে একা দারিয়ে আছে কফি শপের সামনে, সবাই যার যার মত কাজে চলে গেছে। কফির কাপটা হাতে নিয়ে আবুল মনে মনে ভাবছিল, কত সহযেই মানুষ বদলে যায়, মানুষ কত অদ্ভুত! একবুক কষ্ট নিয়ে সে বের হয় রাস্তায় একটি নিরাপদ জীবন ও কাজের সন্ধানে...।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now