বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

যেদিন আমি মাঠে নামলাম

"ছোটদের গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X ‘ধ্যাত, এই খেলায় হেরে গেছি’, বলতে বলতে হাতে ধরে রাখা বলটা একরকম রাগে ছুড়ে ফেলে দিল অন্তু। বলটা এত জোরে ছুড়ল যে আরেকটু হলে রাহাতের চশমাটা প্রায় ভেঙেই গিয়েছিল! সেও বিষণ্ন মুখে বসে আছে। তার পাশেই মুখ কালো করে দাঁড়িয়ে আছে আদিব। ক্যাপ্টেন সাদাতের কপালেও চিন্তার ভাঁজ। আমার দিকে ব্যাটটা বাড়িয়ে দিয়ে বলল, ‘রাহুল এখন সবকিছু তোর ওপর নির্ভর করছে। ভালো করে খেলিস।’ আমি একবার হাতের হ্যাম বার্গার আরেকবার ব্যাটটার দিকে তাকিয়ে উদাসভাবে বললাম, ‘আমাকে দিয়ে ক্রিকেট হবে না।’ বলেই বার্গারটায় একটা কামড় বসিয়ে দিলাম। মনে হয় দলের সবাই নিশ্চিত যে আমাকে দিয়ে ক্রিকেট হবে না। কারণ আমার মতো একটা পাহাড়ের মাঠে নামতেই লাগে কয়েক মিনিট। যতটা সময় নিয়ে আমি ১ রান নিই, ততটা সময়ে পুরো মাঠটাই একবার ঘুরে আসা যাবে। কারণ আমার এই বিশাল দেহ নিয়ে দৌড়ানো অসম্ভব। আমি নিজে কখনো ৩-এর বেশি রান করতে না পারলেও, আমার ওজন কিছুদিনের মধ্যেই সেঞ্চুরি করবে বলে মনে হয়! তা ছাড়া আমার মাপের জামাকাপড় কোথাও পাওয়া যায় না বলে আমার সব জামাকাপড় অর্ডার করে বানানো। আমি রিকশায়ও উঠি খুব কম। একবার এক রিকশাওয়ালাকে বললাম, ‘মামা গ্রিনরোড যাবেন?’ সে উদাসভাবে বলল, ‘যামু, তয় ভাড়া হইলো ২০০ ট্যাকা। আপনার ওইখানে পৌঁছানোর পর রিকশার যে ক্ষতি হইব, সেইটা সাড়াইতে ২০০০ ট্যাকা লাগব।’ আমি কিছু না বলে হাঁটতে থাকি। সবাই আমাকে নিয়ে নানান মন্তব্য করে। আমাদের পাড়ার ছোট ছেলেমেয়েরা যদি ঘুমাতে না চায়, তাহলে আমার কথা বলে ভয় দেখানো হয়! স্কুলে সবাই বসে তিনজন করে এক বেঞ্চে। আমি একাই একটা বেঞ্চে বসি! এমনকি ক্লাসের মেয়েরা আমাকে ‘তুলতুল রাতুল’ বলে খ্যাপায়, কী যে করি! আনিকা তাহসীনযা-ই হোক, এখন খেলার কথায় আসি। আমাদের দল প্রথমে ভালো করেছিল। শিমুলপাড়া করেছে ১১০ রান। ওপেনার রাহাত আর নিলয় ৮০ রান করে আমাদের জয়টা প্রায় নিশ্চিত করে ফেলেছিল। কিন্তু কাশেমের বলে সব নষ্ট হয়ে গেল। সে একে একে অন্তু, বজলু, আদিব, সাদাত সবাইকে আউট করে দিল। বাকিরাও ৪-৫ রান করে পগারপার। সব মিলিয়ে আমাদের স্কোর ১০৪/৯। আর ৩ বল বাকি। কিছু করার নেই বলে আমি ব্যাট হাতে মাঠে নামলাম। সঙ্গে সঙ্গে আমাকে দেখে সবাই মিটিমিটি হাসতে শুরু করল। উইকেটকিপার রাশেদ বলল, ‘ভাই এটা ক্রিকেট, সুমো রেসলিং নয়, হাহা! আমি অপমানটুকু সহ্য করে ব্যাটিং পজিশন নিলাম। বোলার কাশেম দৌড়ে এসে বল করল। আমি স্ট্রাইক করার জন্য ব্যাট ঘুরালাম, কিন্তু বলটা পাস কাটিয়ে উইকেটকিপারের হাতে পড়ল। একটা বল মিস! ২ বলে ৬ রান দরকার। আবার বল এল, আমি মারব, কিন্তু পারলাম না। আরেকটা বল মিস! আমি আশা ছেড়েই দিলাম। যে-ই আমি ৫০ বলেও ৬ করতে পারলাম না কোনোদিন, সেই আমি কীভাবে ১টা বলেই ৬ পেটাব? আমি তাই অপেক্ষা করছি খেলা শেষ হওয়ার জন্য। কাশেম দৌড়ে এসে এখনই বল করবে। হঠাৎ সাদাত চিত্কার করে বলল, ‘রাতুল, ছক্কা পেটাতে পারলে তোকে আমি ১০টা বার্গার দেব...।’ কী? ১০টা বার্গার! শুধুই আমার! আমি নিজেকে থামাতে পারলাম না। আমাকে ৬ রান করতেই হবে। ১০টা বার্গার পেতেই হবে। কাশেম বল করল। আমি একটু এগিয়ে এসে ব্যাটটা পেছন থেকে সব শক্তি দিয়ে ঘুরালাম। আর...আমি ভারসাম্য রাখতে পারলাম না। সোজা মাটি! একেবারে ধপাস! কখন যে জ্ঞান হারিয়ে ফেললাম বুঝলামই না। আমার আর ম্যাচ জেতা হলো না! উফ, ১০টা বার্গার... যখন চোখ খুললাম, দেখলাম আমার চারপাশে বসে সবাই আমাকে ডাকছে। আমি বসলাম। সঙ্গে সঙ্গে সাদাত আমার দিকে অনেকগুলো বার্গার এগিয়ে দিয়ে বলল, ‘কংগ্রেচুলেশন রাতুল, তুই পড়ে যাওয়ার সময় ব্যাটটা এত জোরে ঘুরেছিল যে বলটা ব্যাটে লেগে সোজা বাউন্ডারি! অসাম!!’ আমি তো অবাক! আমি দলকে জিতিয়ে দিয়েছি? এই বার্গারগুলো এখন আমার? আমার চোখে পানি চলে এল। ওদিকে টিমকে ডেকেছে ট্রফি নিতে। কিন্তু আমি কিছু শুনলাম না, একেবারে ঝাঁপিয়ে পড়লাম বার্গারগুলোর ওপর। আনিকা তাহসীন সপ্তম শ্রেণি, ময়মনসিংহ গার্লস ক্যাডেট কলেজ


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১২৮ জন


এ জাতীয় গল্প

→ যেদিন আমি মাঠে নামলাম

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now