বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
ইচ্ছাপূরণের লেমোনাইড
অশ্রু হাসান
কক্সবাজারের মারমেইড ক্যাফেতে খাওয়া সেই লেমোনাইডের স্বাদ মাঝে মাঝে মনে এসে মিহিতের ঠোঁটে জানান দেয় আবার তার স্বাদ আস্বাদন করার। বেচারার একঘেয়ামি একঘরে হয়ে থাকার জীবনে এতো আলসেমি সারা শরীরে জড়িয়ে থাকার পরেও যখন এই ইচ্ছাটা মনে আসে তখন সে যেভাবেই হউক হন্যি হয়ে খুঁজে লেমোনাইড। দামী ফাস্ট ফুডের দোকান ছাড়া খুব একটা খাবারের দোকানে এটা পাওয়া যায় না তাই যখন এই শিশুসুলভ ইচ্ছা হয় তার তখন তাকে এটা খুঁজে বের করে স্বাদ আস্বাদন করতে ভীষণ বেগ পেতে হয় মিহিতের। আর যখন সে খুঁজে পায় তৃপ্তির মোহে স্ট্রতে ঠোঁট লাগিয়ে এক চুমুক দেয় চোখ বুজে তখন যেন এ জীবনে বেঁচে থাকার স্বাদ ঠোঁটে এসে ধরা দিয়ে বুকে গিয়ে প্রশান্তির বার্তা জানান দেয়।
এখন সবে আষাঢ় শুরু, প্রত্যেক ঋতুর শুরুর সময়টা বা শেষের সময়টা মিহিতের খুব সচেতন থাকতে হয়। ঋতু বদলের পরিক্রমায় আবহাওয়ায় যে পরিবর্তন আসে তা সে লিকলিকে শরীরে ছোটবেলা থেকেই মানিয়ে নিতে পারে না, যার দরুন কিছুদিনের জন্যে তাকে জ্বরের আতিথ্য গ্রহণ করতে হয়। আর এবারেও যার ব্যতিক্রম হয় নাই যা কিনা একপ্রকার এখন স্বাভাবিক নিয়মে এসে দাঁড়িয়েছে তার জীবনে।
সকালে মিহিতের বাবা অফিসে যাওয়ার সময় ছেলেকে কিছুটা স্বাভাবিক দেখতে পেলেন, ভাবলেন জ্বরটা ছেলের শরীর থেকে নেমেই বুঝি গিয়েছে এবার, কিন্তু বিধি বাম বিকালে মিহিতের বন্ধুর ফোনে ছেলের জন্যে চিন্তিত মনে বাসায় আসার জন্যে রওনা দিলেন, পথিমধ্যে আবার ফোন, এবার গলা শুনলেন ছেলের;
- আব্বু!
- বল, কি অবস্থা তোর এখন? আমি কি এ্যাম্বুলেন্স ডাকবো?
- লেমোনাইড নিয়ে আসতে পারবা?
- এটা কি রে বাপজান? ঔষধ?
- হম, আমার জন্যে অন্তত।
- তুই ফোনটা তাহিরকে(বন্ধু) দে।
- হ্যা আঙ্কেল, আপনি এটা বেইলি রোড হয়ে আসলে যেকোনো ভালো ফাস্ট ফুডের দোকানে পাবেন, এক প্রকার লেবুর সরবত এটা, তবে সাধারণ লেবুর সরবতের মতো না পথেঘাটে যেগুলো পাওয়া যায়।
- আচ্ছা আচ্ছা আনছি আমি।
সাথে প্রাইভেট গাড়ি থাকার কারণে লেমোনাইড যোগাড় করে নিয়ে আসতে অসুবিধা হয় নাই মিহিতের বাবার। বাসায় আনার সাথে সাথে ছেলের কাছে বিছানায় ছুটে গেলেন;
- আব্বু! আনছো লেমোনাইড!
- তোর জ্বরের কি অবস্থা?
- নাই, নেমে গেছে, তুমি আনো নাই?
- হ্যা আনছি রে বাপ, তুই বলবি তোর বাপ আনবে না দুনিয়াতে কিছু আছে নাকি? তাহির ধরো তো বাবা নাও, তুমি আর তোমার বন্ধু খাও, আমি ফ্রেশ হয়ে আসছি।
এতো সামান্য আবদার মেটাতে পেরে বিন্দু বিন্দু ঘামের সারামুখে যখন ছেলের তৃপ্তির হাসি দেখতে পেলেন তখন নিজেকে আবেগে ধরে রাখতে না পেরে ওদের সামনে থাকার সাহস করতে পারলো না মিহিতের বাবা। এই পৃথিবীতে মায়েরা খুব সহজেই ছেলের সামনে আবেগে চোখের জল ফেলতে পারে, কিন্তু বাবারা তা পারে না, পাছে ছেলে আবার ভেঙ্গে না পড়ে বাবার আবেগের প্রকাশ দেখে।
বাবাদের আবেগের জল ফেলা হয় তাই আড়ালে,
দেখতে যেন পায় না তা কেউ রাখে তা খেয়ালে।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now