বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
- সত্যি আমি আর পারছি না। -- এখন এসব বলে কি লাভ?? -- লাভ ক্ষতি কিছুই বুঝতে পারছি না। বিয়ের আগেই অনেক ভালো ছিলাম। -- এখন তো বলবাই……এখন তো আর বন্ধুদের সাথে ঘন্টার পর ঘন্টা আড্ডা দিতে পারো না। রাতে বাহিরে থাকতে পারো না। মেয়েদের সাথে ঘুড়তে যেতে পারোনা। টাকা নষ্ট করতে পারো না। -- আসলেই তোমার সাথে না সুখে শান্তিতে সংসার করা যায় না। -- কি বললে তুমি?? -- হ্যা ঠিকই বলেছি। তোমাকে বিয়ে করাই আমার ভুল হয়েছে। -- তো কেনো বিয়ে করলে??? আমি কি তোমাকে বিয়ে করতে বলেছিলাম??? -- তুমি বলোনি কিন্তু তোমার বাবা মা তো আমার সাথে তোমাকে বিয়ে দেয়ার জন্য পাগল হয়ে গেছিলো। এখন আমি কিছুই করতে পারছি না। না পারছি আমার কেরিয়ার গড়তে না পারছি সংসার সামলাতে। -- মানে কি?? -- মানেটা তুমি খুব ভালো করেই জানো। -- আমাকে বিয়ে করে তুমি তোমার কেরিয়ার নষ্ট করে ফেলেছো??? -- হ্যা……… আর এখন আমি আমার কেরিয়ার ছাড়া কোন কিছুই ভাবতে চাইনা। -- তো এখন তুমি কি চাইছো?? -- এসবের থেকে মুক্তি.……… মুক্তি চাই আমি। -- তার মানে ডিভোর্স চাইছো তুমি ?? -- হ্যা তাই। -- ওহ্ আমাদের এত দিনের সম্পর্কটা তোমার এখন আর ভালো লাগছে না। আমাকে তোমার জীবনে আর প্রয়োজন নেই তাই না…… বেশ…… আমি কালই বাবার বাসায় চলে যাবো। আর ডিভোর্সের কাগজ পাঠিয়ে দিও আমি সিগ্নেচার করে দিবো। . ইমন বারান্দায় গিয়ে একটা সিগারেট জ্বালিয়ে চেয়ারে বসল। আর নীলা বালিশ নিয়ে বিছানায় শুয়ে কাঁদতে লাগল। নীলা ভাবছে ইমন এভাবে পাল্টিয়ে যেতে পারলো। তাদের বিয়ের মাত্র দু'মাস হয়েছে। আর এর মধ্যেই ইমন ডিভোর্স চাইছে। নীলাকে নিয়ে নাকি সংসার করা যায় না। কথা গুলো মনে করেই নীলার চিৎকার করে কাঁদতে ইচ্ছে করছে। কিন্তু নীলা নিরবে চোখের জল ফেলছে। . একই ভার্সিটিতে দুজন পড়তো। সেখান থেকেই তাদের সম্পর্কের শুরু। ২ বছর খুব ভালোই কাটে তাদের সম্পর্কের দিন গুলো। এক সাথে রিকশায় ঘুড়ে বেড়ানো, খাওয়া দাওয়া, আড্ডা- গল্প গুজব। দিন গুলো কতই না সুখের ছিলো। হঠাৎ করেই নীলার বাসায় নীলার বিয়ের কথাবার্তা চলতে থাকে। নীলা কি করবে বুঝতে পারছিলো না। ইমনকে বললে ইমন বলে নিজে কথা বলে দেখবে। নীলার বাবা-মা আপত্তি করেননি সন্তানদের খুশির জন্য সব মেনে নেন। নীলার বাবা-মা হজ্জে যাবেন আর তাই তাড়াতাড়ি বিয়ের কাজটা সেরে ফেলেন। ইমন একটা প্রাইভেট কম্পানিতে জব করে ভালোই চলছিলো সব কিন্তু কেনো ইমন আজ হঠাৎ এসব কথা বলছে সেটাই ভেবে পাচ্ছে না নীলা। . পরেরদিন………… সকালে ইমন ঘুম থেকে উঠে দেখে নীলা ঘরে নেই। কোথাও নীলাকে পেলো না। খাবার টেবিলে একটা চিরকুট রেখে গেছে। তাতে লিখা ছিলো…… "নাস্তা বানানো আছে, ফ্রেশ হয়ে নাস্তা করে অফিসে যেও। না খেয়ে যেও না কিন্তু। সময় মতো সব কিছু করে নিও আমি তো আর নেই যে সময় মতো সব কিছু বার বার বলে করাবো। আমি চলে যাচ্ছি তোমার জীবন থেকে। তুমি তোমার কেরিয়ার, জীবন নিজের মতো করে গুছিয়ে নিও। ভালো থেকো"। ইতি তোমার …………… . ইমন চিরকুটটি পড়ে একটা দীর্ঘ নিশ্বাঃস ছাড়ে। চিরকুটটি টেবিলের উপর রেখে রেডি হয়ে অফিসে চলে যায়। নাস্তা টেবিলেই পড়ে থাকে। নীলা তার বাবার বাসায় চলে যায়। নীলার ভাই-ভাবী নীলাকে দেখে অবাক হয়। -- নীলা তুই হঠাৎ কোন কিছু না জানিয়ে? -- কেনো না জানিয়ে কি আসা যায় না?? -- আসা যাবে না কেনো পাগলী?? ইমন কোথায়? ইমন আসেনি?? -- না। -- ইমন কখন আসবে? -- সময় হলে। নীলা আর কিছু না বলে তার রুমে চলে যায়। নীলার ভাই-ভাবী কিছুই বুঝলো না। নীলার ভাবী বলল…… -- হয়তো ওদের মধ্যে কিছু একটা হয়েছে। তুমি রেডি হয়ে অফিসে যাও আমি পরে নীলার কাছ থেকে জেনে নিবো। -- আচ্ছা। . রাতে বাসায় ফিরে ইমন নীলাকে ডাকতে লাগল হঠাৎ মনে হলো নীলা যে নেই। বাড়িটা শূন্য শূন্য লাগছে ইমনের। না খেয়েই বিছানায় শুয়ে পড়ে ইমন। সকালেও একই অবস্থা কোন কিছুই ঠিক মতো করতে পারছে না ইমন। বার বার নীলার কথাই মনে হচ্ছে। নীলাকে ছাড়া ১দিনই চলতে পারছে না, সারাজীবন কিভাবে চলবে সে? এদিকে নীলাও ইমনের কথা ভাবে আর কাঁদে। দেখতে দেখতে ৩দিন হয়ে গেলো কিন্তু ইমন এলো না। দুজনই ফোন হাতে নেয় কিন্তু কেউ কাওকে ফোন দেয় না। . সন্ধ্যায় নীলার নামে একটা কাগজ আসে। নীলা বুঝতে পারে ডিভোর্সের কাগজ পাঠিয়েছে ইমন। নীলা কান্নার মাত্রা আরো বাড়িয়ে দেয়, পাশে এসে নীলার ভাবী বসে বলল…… -- কাগজটা খুলে দেখ আগে। কিসের কাগজ? -- জানি এটা ডিভোর্সেরই কাগজ। ইমন সত্যি সত্যি ডিভোর্স চাইছে। ভেবে ছিলাম সব ঠিক হয়ে যাবে কিছু দিন যদি আমরা দূরত্ব বজায় রাখি। কিন্তু না ইমন সত্যি ডিভোর্সের কাগজ পাঠালো। -- নীলা কান্না থামা……… এভাবে কাঁদিস না। নীলা কাঁদতে কাঁদতে কাগজের প্যাকেটটা খুলল। . নীলা…… "ভেবে ছিলাম কেরিয়ারটা গড়ে তুলে জীবনটা সুন্দর করে সাজাবো। কিন্তু সত্যি বলতে আমার জীবন সুন্দর করে সাজাতে চাইলে তোমাকে আমার পাশে চাই। তুমি আমার প্রয়োজন না অভ্যাস হয়ে গেছো। তোমাকে ছাড়া আমি ১টা দিনই কাটাতে পারি না সারাজীবন কিভাবে কাটাবো? হয়তো তোমাকে অনেক ভালোবাসি আর তাই তোমাকে আমি আবার চাই, চাই আমার জীবনে তুমি সব সময় থাকো। এই ৩দিন অনেক কষ্টে কেটেছে তোমাকে বুঝাতে পারবো না কতটা মিস করেছি তোমাকে। সব কিছুর জন্য আমি দুঃখিত প্লিজ আমাকে ক্ষমা করে তুমি ফিরে এসো"। তোমার অপেক্ষায়……… তোমার "পাগল" নীলা চিরকুটটি পড়ে আবার কান্না জুড়ে দেয়। নীলার ভাবী হেসে বলল…… -- যাও পাগলী তোমার অপেক্ষায় তোমার পাগল। নীলা লজ্জা পেয়ে ভাবীকে জড়িয়ে ধরে। . পরেরদিন…… -- এই নীলা আমার তোয়ালেটা দিয়ে যাও। -- আবার ভুলে গেছো। -- হুম মনে থাকলে ও নিবো না। নইলে তোমার অভ্যাস হবে কিভাবে? নীলা মুচকি হেসে দেয়। নীলার সাথে ইমন ও হেসে উঠে। .
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now