বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
ঢাকার একটি ফ্ল্যাট বাসার ঘটনা । ঐ বাসার একটি ফ্ল্যাটের ছেলের সাথে অন্য ফ্ল্যাটেরএকটি মেয়ের রিলেশন ছিল । বিষয়টি তাদের পরিবার জেনে যায় । ছেলের সাথে মেয়েরদেখা সাক্ষাত্ বন্ধ হয়ে যায় । মোবাইলেতাদের কথা হতো । একরাতে তারা সিদ্ধান্ত নিলো রাতে যখন পরিবারের সবাই ঘুমিয়ে পড়বে, তখন তারা ছাদে গিয়ে একজন আরেকজনের সাথে দেখা করবে । মেসেজের মাধ্যমে মেয়েটা সময় জানিয়ে দেবে ।
নির্ধারিত দিনে সন্ধ্যাবেলা মেয়েটা ছেলেকে মেদিয়ে বলে যে ," বাসায় একটু সমস্যা হয়েছে । আজ দেখা করতে পারবো না । অন্যদিন দেখা করবো ।" সময় যেতে লাগলো । হঠাত্ রাত ৯টার পর মেয়েটা আবার ছেলেকে মেসেজদিয়ে বলে ," ঝামেলা মিটে গেছে । ১টার দিকে ছাদে চলে এসো ।" ঠিক আছে , ছেলে তো মহাখুশী !! ছেলের বাসার সবাই১১টার দিকে ঘুমাতে চলে গেল । ছেলে আরেকটু অপেক্ষা করে রাত ১২:৩০ এছাদে চলে এলো ,যাতে মেয়েটাকে চমকে দিতে পারে !রাতের আকাশে হালকা চাঁদের আভা ছিলো ।
মেঘলা একটা ভাব আকাশজুড়ে ।
ঠান্ডা বাতাসে শরীর জুড়িয়ে যায় । ছেলেটা অপেক্ষা করতে লাগলো । ঘড়ির কাঁটা ১টা পার হলো । মেয়ে যে আসেনা !! ছাদে একটা বিশাল বড় ট্যাঙ্কি ছিলো সিমেন্টের । হঠাত্ ট্যাঙ্কির পিছনের খোলা জায়গাতে একটা খসখস শব্দ !ছেলেটার কানখাড়া হয়ে গেলো ! কেওখানে ?!
মেয়েটা কি তবে ছেলের আগেই এসে বসে ছিলো এতক্ষণ?! দেখা দরকার। ছেলেটা উঠে ট্যাঙ্কির পিছনের দিকে যেতে লাগলো । খসখস শব্দটা আবার শোনা গেল ! ছাদের ফ্লোরে জুতার ঘষা খেলে যেমন শব্দ হয় , ঠিকতেমনটি । যেন কেউ দ্রুত পায়ে ট্যাঙ্কির পেছন থেকে সরে যেতে চাইছে!! ছেলেটি উকি দিলো ঐ ট্যাঙ্কির পেছনের জায়গায় । পানি পড়তে পড়তে একটা স্যাঁতস্যাঁতেভা জায়গাটাতে । ছেলের উত্তেজনা কমে গেলো ।
সে কাউকে পাবার আশা করছিল সেখানে । সেখানে কেউই ছিলোনা!! হঠাত্ ছেলেটার পিছন থেকে মেয়েলী কিন্তু ঘড়ঘড়ে গলার একটা কন্ঠ বলে উঠলো ," এতক্ষণ পর এলে ? আমিসেই কখন থেকে তোমার জন্য বসে ছিলাম !!" পাই করে ছেলেটা ঘুরেতাকালো ! একটা সাদা ঝলসানো মুখ তারদিকে তাকিয়ে আছে ! চোখের জায়গায় চোখ নেই ! ঐ জায়গা সাদা হয়ে আছে ! আর অনেক ছোট ছোটা পোকা ঐখানে কিলবিল করছে !
ঠিক একটা পাউরুটির উপরএকমুঠো পিঁপড়া ছেড়ে দিলে যেমনটা দেখ তেমনটা ! ছেলেটার আর কিছু মনেনেই । সে জ্ঞানহারিয়ে ফেলে ! সকালে জ্ঞান ফেরার পর ছেলেটা দেখতে পেলো , বাসার সকল মানুষ তারদিকে তাকিয়ে আছে । কাজেরবুয়া ছাদে কাপড়নাড়তে এসে ছেলেটাকে অচেতনদেখতে পেয়ে সবাইকে খবর দেয় । ছেলেটা রাতের ঘটনা খুলে বলে সবাইকে ।
মেয়েটাও উপস্থিত ছিলো । মেয়েটা রাত ৯টা বাজে মেসেজ দেয়ার কথা অস্বীকার করে এবং এও বলে যে ছাদে রাতে আসেই নি !তাহলে ছেলেটাকে মেসেজ কে দিলো ?! ছাদেই বা ঐটা কে ছিলো ?! ছেলে মোবাইল চেক করে। ইনবক্সে মেয়েটার পাঠানো সন্ধ্যার মেসেজের পর আর কোন মেসেজআসেনি !পরবর্তীতে অনেক ঝামেলার পর ছেলেটার সাথে মেয়েটার বিয়ে হয় । তারা প্রায়ই রাতের বেলা ছাদে একসাথে হাতে হাত রেখে হাটে । ট্যাঙ্কির সাইডে এলেই মেয়েটা মাঝে মাঝে একটু চঞ্চল হয়ে উঠে ! ছেলেটার হাত ধরে টানদিয়ে বলে ," চলোনা ঐ ট্যাঙ্কির পিছনটাতে যাই ?!" ছেলেটা হাতটেনে ধরে রাখে । অনেক শক্ত করে !
অজানা এক আতংকে ! অচেনা এক ভয়ে !ভালোলাগলে জানাবেন ।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now