বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
২.
যেটা কিনা আমার আম্মুর কাছে ঘটনা, আর আমার জানামতে শুধুই একটা মিথ্যা সেটা সম্পর্কে আপনি জানলেন। অথচ আমার আম্মু আমার কথা বিশ্বাস করে না। উনাকে আমি অনেকবার বলেছি যে ঘটনাটা আমার তৈরি ছিল কিন্তু তিনি মনে করেন যে আমি তখন ছোট ছিলাম তাই আমার মনে নেই। ভীষণ বিরক্তিকর একটা ব্যাপার। আবার মাঝে মাঝে মজাও লাগে যে আমি কি আশ্চর্য বিশ্বাসযোগ্যভাবে গল্প বানাতে পারি। কিন্তু যখন আমি আম্মুকে বোঝাতে যাই, আর উনি বুঝতে চান নাহ তখন বিরক্ত লাগে খুব।
ইফতারের সময় এটা নিয়ে কথা হচ্ছিল, আম্মু বরাবরের মত উড়িয়ে দিলো। আবার সেহরীতেও এটা নিয়ে কথা উঠল। তাই আমি এবার কিছুটা রাফভাবেই আম্মুকে বোঝাতে চাইলাম যে ঘটনাটা মিথ্যা। কিন্তু গত কয়েকশ’বারের মত এবারও ব্যর্থ হলাম। ভীষণ মেজাজ খারাপ হল। এমনিতেও কাল থেকে আমার আংটিটা খুঁজে পাচ্ছিনা। আবার আজকে ভার্সিটিতে যেতে হবে তাই মেজাজ আগে থেকেই খারাপ ছিল।
রোজা রেখে ক্লাস করে খুব ক্লান্ত লাগছিল। ফেরার সময় বাসে সামনের একটা সিটে বসলাম। ধাক্কাটা তখনই লাগল। মোমের মত সাদা একটা মেয়ে জানালার দিকের সিটে বসে আছে। ঘন কালো কোকড়ানো চুল সাদা ওড়নার ফাঁক দিয়ে কিছুটা কপালে এসে পড়েছে। মেয়েটার ঠোঁট জোড়া টকটকে গোলাপি, সুস্বাস্থ্যের¬ লক্ষণ। কিন্তু মেয়েটার চামড়া এতটাই সাদা যে সেখানে রক্ত চলাচলের কোন চিহ্নই নেই। সবথেকে অস্বস্থিকর বিষয় মেয়েটা সোজা আমার দিকে তাকিয়ে ছিল। সুরমা টানা দু’চোখের মণিগুলো সবুজ আর দৃষ্টি যেন কেমন জ্বলজ্বলে। সারাটা রাস্তা ক্ষীণ একটা অস্বস্তিবোধ হল আমার। মেয়েটা আমার সাথেই বাস থেকে নামলো। সাধারণ বাঙ্গালী মেয়ের তুলনায় সে অনেক বেশিই লম্বা। নেমে বাসায় চলে আসছি। আমার রুমে ঢুকে দেখি মেয়েটা পিঠ খাড়া করে বসে সেই জ্বলজ্বলে দৃষ্টিতে আমার দিকে চেয়ে আছে। তাৎক্ষনিকভাবে চমকে গেলেও ভাবলাম হয়তো আপুর কোন বান্ধবী হবে। আপুর বান্ধবী বা অন্য কেউ এলে আমার রুমে প্রায়ই এসে বসে থাকে। আমার রুম এ বাড়ির গণরুম।
কিছুক্ষণ অন্যঘরে ঘোরাফেরা করে এসে দেখি মেয়েটা তখনো আমার ঘরেই বসে আছে। ঘরে হালকা আতরের ঘ্রাণ। আমি তার দিকে তাকিয়ে অবাক হচ্ছি যে কেন সে এভাবে জ্বলজ্বলে চোখে আমার দিকে চেয়ে আছে।
হঠাৎ সে কথা বলে উঠল, "চিনতে পারছো আমাকে?"
আমি অস্বস্তিভরে বলি, "নাহ।" ভাবি তাকে কি আমার চেনার কথা?
"আমি বানা" গোলাপি ঠোঁট ফাঁক করে সে হাসে। তার গোলাপি জিভ আর ঝকঝকে কিছুটা সুচালো দাঁতের সারি দেখা যায়, "প্রিয় বান্ধবী! অনেকগুলো বছর তো তোমাকে ছাড়া থাকলাম। ভেবেছিলাম তুমি আমাকে মনে রাখবে। কিন্তু রাখোনি। বিস্মৃতির অতলে চলে গিয়েছে আমার স্মৃতি। তাই আমায় আসতেই হল।
এখন থেকে আবার আমরা একসাথেই থাকবো। ঠিক আগেরমত।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now