বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

(হরর ফ্যান্টাসী) বান্ধবী-০১

"ফ্যান্টাসি" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X বান্ধবী - নাফিয়া সাদেকা মম ১. - “দ্যাখো মা! কথাগুলা সব মিথ্যা ছিল।“ কয়েকশ’বারের মত বললাম আমি। গত পনেরো বছর থেকে এই পর্যন্ত কমপক্ষে কয়েকশ’বার এই কথাগুলো বলেছি বলে আমার ধারণা। - “তুমি বললেই তো হবেনা। অবশ্যই সেটা সত্যি ছিল।“ মা বললো দ্বিগুণ তেজে। - “আচ্ছা মা! ব্যপারটা আমার। আমি জানিনা আর তুমি আমার থেকে বেশি জানো? অবশ্যই সেটা মিথ্যা ছিলো। আমি বানায় বানায় কথা বলতাম।“ শেষ বাক্যটাও কয়েকশ’ বার বলা হয়েছে। বিরক্ত হয়ে ভাবলাম আমি। - “তুমি ছোট ছিলা। তোমার মনে নাই।“ প্রতিবারের মত মা উড়িয়ে দিল আমার কথা। এখানেই এই প্রসঙ্গের ইতি ঘটে। কারণ একবার কেউ কিছু বিশ্বাস করে ফেললে আর সেটা থেকে তাকে টলানো যায়না, বিশেষ করে যদি ব্যাপারটা অতিপ্রাকৃতিক কিছু হয়। প্রায় পনেরো-ষোল বছর আগে আমার বয়স ছিল তিন-চার বছর। ঘটনাটা সেই সময়ের। কিন্তু ঘটনা পর্যন্ত যাওয়ার আগে কিছু বর্ণনা দেওয়া প্রয়োজন। একটি প্রায় আট তলা বিল্ডিং-এর ছয় তলার একটা ফ্ল্যাটে আমার বাবা-মা, বড় বোন, কাজে সাহায্যকারী একজন এবং আমি থাকি। আমার বড় বোন আমার থেকে আট বছরের বড়। সে তার পড়া-লেখা নিয়ে ব্যস্ত থাকে। সে কর্তৃত্বপরায়ণ স্বভাবের ও বদমেজাজী। আমাদের বাসার কাজে সাহায্যকারী মেয়েটিকে আমি বুবু ডাকি। বুবু আপুর থেকেও বড়। সে সারাদিন কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকে। আমাদের বাসায় মাঝে মাঝে আত্মীয়-স্বজন আসে। তারাও বেশি সময় থাকেনা। আমি একা একা বড় হচ্ছি। খুব সকালে আমি ঘুম থেকে উঠে পড়ি। খেলার জন্য আমার আছে হাড়ি-পাতিল। একা একা হাড়ি-পাতিল নিয়ে রান্না রান্না খেলি। বড় বোন বাসায় না থাকলে তার পুতুল ধরি মাঝে মাঝে ভয়ে ভয়ে। সে টের পেয়ে যায়। কখনো কখনো মার খেতে হয় সেজন্য। বিকেলে পুরো বিল্ডিং এর বাচ্চারা ছাদে অথবা নিচে খেলতে যায়। আমার সমবয়সী একজন বাচ্চা আছে, বাড়িওয়ালার মেয়ে আদুরী। সে খুব কম খেলতে বাইরে আসে। তবে তার বাসায় গিয়ে খেলা যায়। আদুরীর ঘর ভর্তি খেলনা। খেলতে খেলতেই সময় কেটে যায়। আর আমার শুধুই হাড়ি-পাতিল, তাই আদুরীও খুব কম আসে। তাছাড়া ও বাড়িওয়ালার মেয়ে, এটাও একটা কারণ। আমাকেও বেশি বাইরে খেলতে যেতে দেওয়া হয়না। মাঝে মাঝে খুব ঘ্যানঘ্যান করে আমি বাইরে খেলার অনুমতি পাই। কিন্তু কিছুটা বড় বাচ্চারা আমাকে খেলতে নেয়না সাধারণত। আমি মন খারাপ করে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে খেলা দেখি। বিকেল খুব তাড়াতাড়ি শেষ হয়ে যায়। আরো বড় বাচ্চারা আমাকে চিমটি দেয়, ফেলে দেয় মজা করার জন্য। কখনো কখনো আমার বড় বোন থাকে। মনে চাইলে সেও অংশ নেয় খেলায়। এভাবেই সবার মধ্যে একা একা আমি বড় হচ্ছি। একদিন হঠাৎ আমার বাসার মানুষজন লক্ষ্য করলো, আমি একা একা কথা বলছি। কার সাথে কথা বলি- বড় বোন জানতে চাইলো। "আমার বন্ধুর সাথে" আমি জানালাম। বড় বোন মজা পেল। কি নাম, জানতে চাইল। আমি জানালাম যে আমার বন্ধুর নাম “বানা লুবু” এটা কেমন নাম, বলে বিস্ময় প্রকাশ করে আমার বোন জানতে চাইলো যে সে কেন বানা’কে দেখতে পাচ্ছে না। তখন আমি জানালাম যে আমার বন্ধু একজন জ্বীন। আমার বোন অবাক হল। কারণ সবাই আমাকে হাবা-গোবা বলে জানে। তারা আমার সাথে মজা নেয়। অথচ এখন আমি মজা নেবার চেষ্টা করছি। সে ক্ষুব্ধ হয়ে আম্মুর কাছে ছুটল নালিশ করার জন্য। কিছুক্ষণের মধ্যে আমি আম্মুকে ছুটে আসতে দেখলাম। সাথে বড় বোন। আমার আম্মু আমাকে আবার সব জিজ্ঞেস করলেন। আমি গম্ভীর মুখে জানালাম, “আমার একজন নতুন বন্ধু হয়েছে। তার নাম বানা লুবু। সে একজন মেয়ে জ্বীন। সে মাদ্রাসায় পড়ে। আমাকে ছাড়া কোন মানুষের সামনে যায়না।“ আমার আম্মু চিন্তিত হয়ে গেলেন। এর মধ্যে আমার ছোট মামা এসে জানালেন যে কুরআন শরীফে পৃথক ভাবে "বানা" এবং "লুবু" শব্দ দুটো আছে। আমার আম্মু খুব বেশি চিন্তিত হয়ে পড়লেন। আমার বোন যদিও ব্যাপারটা উড়িয়ে দেবার চেষ্টা করছিল কিন্তু বড়রা বেশি পাত্তা দিচ্ছে তাই সে মাঝে চোখ সরু করে তাকানো ছাড়া আর কিছু করলো না। তবে মাঝে মাঝে বন্ধুসুলভ ভাবে জানতে চাইলো যে "আমি কি মিথ্যা বলছি? আমি তাকে বলতে পারি।" সে কাউকে বলবেনা। কিন্তু আমি বানা’কে নিয়ে আর একটি গল্প বলা শুরু করলাম। আমার রাতে বিছানা ভেজানোর অভ্যাস ছিল। তাই কাঁথা বিছিয়ে আমাকে শোওয়ানো হত। রাতে কাঁথা ভিজে গেলে কেউ পাল্টিয়ে দিতো। একদিন সকালে মা দেখলো ভেজা কাঁথা পাল্টিয়ে আমি শুয়ে আছি। আমাকে জিজ্ঞেস করলো, "তুমি একা একা রাতে কিভাবে কাথা পাল্টালে?" আমার মাথায় ‘একা’ শব্দটা আঘাত করলো। আমি জানালাম একা না মোটেও, বানা আমাকে কাঁথা পাল্টাতে সাহায্য করেছে। আমার মা দুঃশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ে বিভিন্ন আমল শুরু করলেন। আমাকে তাবিজ পরানো হলো। কিছুদিনের মধ্যে আমি জানালাম যে আমাকে একটা নীল পাথরের আংটি কিনে দিলে বানা চলে যাবে। একটা নীল পোখরাজের আংটি কিনে দেওয়া হল। আমি বললাম, "বানা মাদ্রাসা থেকে চলে গেছে। অনেক দূরে, তাই সে আর আসবেনা।" বাসার সবাই স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললো। কিন্তু কিছু দিনের মধ্যে অথবা আর কখনোই বানাকে নিয়ে কিছু বললাম নাহ। বরং আমার আম্মু এই বিষয়টা নিয়ে অন্যদের সাথে গল্প করা শুরু করলেন। আমার মেমরি বেশ ভালো। এখনো আমি ঘটনাগুলো মনে করতে পারি। তাছাড়া বড় হবার পর আমি যুক্তি দিয়ে সব বিচার করতে শিখেছি। ঘটনাটা আমার তৈরি ছিল। আর এটা থেকে ধারনা করা যায় যে কোন কারনে অমাকে হাবা-গোবা দেখালেও আমি সবসময়ই বুদ্ধিমান এবং জটিল চিন্তার অধিকারী একজন ছিলাম, আছি। মাঝে মাঝে দরকার হলে এখনো আমি বানিয়ে বানিয়ে কিছু বলি। বানিয়ে অথবা মিথ্যা বলার পূর্ব শর্ত হল সবসময় একই কথা বলতে হবে এবং প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত একই কথার উপর স্থির থাকতে হবে। এভাবেই বিশ্বাসযোগ্য মিথ্যা তৈরী করা যায়। অতীতের এই ঘটনাতেও আমি ঠিক তাই করেছি, যা আমি বিশ্বাস করি। মিথ্যা একটা বাচ্চা কখন বলে? আমার অপশনাল একটি বিষয় এখন চাইল্ড ডেভেলপমেন্ট। সেখানে লেখা আছে, "একজন বাচ্চা বাহাদুরী নিতে অথবা অন্যের দৃষ্টি আকর্ষনের জন্য মিথ্যা বলতে পারে।" আমার ব্যপারটাও ঠিক তাই ছিল। সেটা বোঝানোর জন্য আমি আগেই বলেছি কিছুটা বর্ণনার প্রয়োজন। এবার আসি জ্বীনের ব্যাপারটায়। "বানা লুবু" একটা চার বছরের বাচ্চার আন্দাজে যথেষ্ট আনকমন নাম। আরবী শব্দের সাথে মিলে যাওয়াটা কাকতালীয়। জ্বীন মেয়ে প্রজাতীর। আমিও তাই। জ্বীন মাদ্রাসায় পড়ে। আমার বড় বোনও, আমি তখনও স্কুলে যাওয়া শুরু করিনি। সবশেষে আংটির ঘটনা। খুবই দুর্বল কারণ জ্বীন যাবার জন্য। এটাই ছিল এই ঘটনার দুর্বল দিক। একজন বাচ্চা যদি সবকিছুই সুন্দর করে সাজাতে পারতো তবে তো সে আর বাচ্চা থাকতো না। আমি নীল পাথরের আংটি চেয়েছি। নীল আমার প্রিয় রং। আর আমার স্বর্নের অথবা রূপার গহনা ভালো লাগেনা। আমি পাথরের প্রতি প্রচন্ড আকর্ষণ অনুভব করি। প্রতিটা জিনিসের পেছনে যুক্তি আছে। সবশেষে হয়তো বলবেন, আমি কেন এই মজার খেলাটা শেষ করে দিলাম। আমি কখনো কাউকে টেনশনে দেখতে পছন্দ করিনা। এখনো, আর তখন দেখলাম আমার আম্মু অনেক বেশি চিন্তাগ্রস্থ, তখন ব্যপারটা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব ছিলনা। আর এক খেলা বেশি দিন কে-ইবা খেলে।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৭৭ জন


এ জাতীয় গল্প

→ (হরর ফ্যান্টাসী) বান্ধবী-০১

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now