বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

হোটেল ব্যানারদিয়া

"ছোট গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X আজ একটা বিশেষ দিন। আজ আমি রক্ত দেব। প্রতি চার মাস পর আমি রক্ত দিই। রক্ত দেওয়ার মধ্যে একধরনের সুখ আছে। এই সুখ আমি বারবার পেতে চাই। আজ আমি ইউসুফ মিয়ার বউয়ের জন্য রক্ত দেব। ইউসুফ মিয়া একজন রিকশাওয়ালা। সে আমাদের মেসের বুয়ার বড় ভাই। সকালবেলা বুয়া এসে বলল, ‘ভাইজান, আমার মেলা বিপদ। আমার ভাবির আজকা ডেলিভারি। রক্তের ব্যবস্থা কইরা দেন, নইলে পাক বন্ধ।’ বুয়ার এটা একটা কমন ডায়ালগ। কিছু হলেই সে বলবে, ‘আজকা পাক বন্ধ।’ পাক বন্ধ বলেই সে আবার রান্না করা শুরু করবে। তবে আজকে আসলেই পাক বন্ধ। বুয়া বলল, ‘আমি হাসপাতালে যামু। আপনারা হোটেলে খাইয়া নিয়েন আজকা।’ আমি বুয়ার সঙ্গে বের হলাম। পিজি হাসপাতালের গেটের সামনে ইউসুফ মিয়া বসে আছেন। আখের শরবত বিক্রেতার কাছ থেকে এক টুকরো বরফ চেয়ে নিয়ে সেটা মাথায় ডলে মাথা ঠান্ডা করছেন। হাসি হাসি মুখে এগিয়ে গিয়ে সাবিনা বুয়া বলল, ‘মিয়া ভাই, হেয় রক্ত দিব। হেগো মেসেই আমি পাক করি।’ আমি মনেপ্রাণে যেটা চাচ্ছিলাম সেটাই হলো, রক্তের গ্রুপ মিলে গেল। আমি রক্ত দিলাম। রক্ত চাওয়ার একটা নির্দিষ্ট নিয়ম আছে। বলতে হবে, একজন মুমূর্ষু রোগীর জন্য রক্তের প্রয়োজন, রক্তের গ্রুপ ও পজিটিভ। তবে রক্ত দেওয়ার কোনো নির্দিষ্ট নিয়ম নেই। বিরক্তিতে ভরা নার্সের সুন্দর চেহারার দিকে ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে থেকেও রক্ত দেওয়া যায়। ‘ভাইজান, আপনারে যে কী বইলা ধন্যবাদ দিব বুঝতে পারতেছি না।’ ‘ধন্যবাদ দেওয়া লাগবে না ইউসুফ ভাই। চলেন একসঙ্গে চা খাই, আমি বিদেয় হব।’ ‘না ভাইজান, শুধু চা খাইলে হইব না, আমি আপনারে আজকা লাঞ্চ করামু। কোন হোটেলে খাইবেন, শুধু নাম বলেন।’ ‘আমার কোনো পছন্দের হোটেল নেই। তার চেয়ে বরং আপনার পছন্দের একটা হোটেলে যাই, চলেন।’ ‘আপনি ভদ্রলোকের সন্তান। আমার পছন্দের হোটেলে খাইতে পারবেন বইলা মনে হয় না। তবু যখন ইচ্ছা করছেন, আপনারে নিয়া যাব। আজকার দিনের জন্য আমি আপনার কেনা গোলাম। আপনি যা বলবেন, আমি সেইটাই করব। আপনারে নীলক্ষেতের একটা স্পেশাল হোটেলে নিয়া যাব। হোটেলের নাম হইল “হোটেল ব্যানারদিয়া”। হোটেলের মালিক ছেঁচড়া হইলেও লোক ভালো, রাস্তার ব্যানার চুরি কইরা হোটেলের বেড়া দিছে। দুপুরবেলা ডিমের তরকারি পাকায়। স্বাদের কথা কী কমু ভাইজান, ভাত খাওয়ার পর আর হাত ধুইতে ইচ্ছা করে না, সারা দিন সেই হাত চাটতে ইচ্ছা হয়। রিকশায় উঠেন ভাইজান, কোন রাস্তা দিয়া যাব, বলেন।’ ‘কাঁটাবনের ভেতর দিয়া যাই, চলেন। কাঁটাবনের সবুর ভাইয়ের পাখির দোকানে একটা নতুন পাখি এসেছে। পাখির নাম “রকতি পাখি”। সেই পাখি ইঁদুরের রক্ত খায়। আজকে রকতি পাখির ডিম ফুটে বাচ্চা হবে।’ ‘ভাইজান, যাওনের আগে চলেন এক কাপ চা আর একটা বিড়ি টাইনা নেই।’ রাস্তার পাশের একটা চায়ের দোকানে আমরা বসলাম। ইউসুফ মিয়াকে এখন আর মোটেও চিন্তিত মনে হচ্ছে না। রক্তের ব্যবস্থা যখন হয়েছে, বাকিটা আল্লাহর ওপর ছেড়ে দিয়ে সে এখন শান্তিতে সিগারেট টানছে। ‘ইউসুফ ভাই, আপনার বাচ্চা হবে। আপনার এখন ভাবির পাশে থাকা উচিত। আমরা বরং অন্য একদিন হোটেল ব্যানারদিয়ায় ভাত খেতে যাব।’ ‘না ভাইজান, আপনেরে আমি ছাড়ুম না। আর ডেলিভারির সময় পুরুষ লোকের না থাকনই ভালো। এইসব দেখবে মেয়েছেলেরা। ভাইজান, আমার মন বলতেছে, আমার কন্যাসন্তান হইব। আপনি আমার কন্যার একটা নাম ঠিক কইরা দেন।’ ‘আজকে আপনারও যেমন বাচ্চা হবে, রকতি পাখিরও বাচ্চা হবে। আমি আপনার মেয়ের নাম রাখলাম রকতি। নাম আপনার পছন্দ হয়েছে?’ ‘ফাসকেলাস নাম হইছে, ভাইজান। আপনি যদি অনুমতি দেন, তাইলে এই দোকানদারের কাছ থেইকা চায়ের কেটলিডা আইনা গলায় ঢাইলা দেই। আমার গলায় চা আটকাইয়া গেছে। এত সুন্দর একটা নাম শুইনা গলায় খালি চা আটকাইয়া গেছে—এইটা মাইনা নেয়া যায় না, গলায় কেটলি আটকাইয়া যাওয়া উচিত আছিল।’ তানভীর মেহেদী শান্তিনগর, ঘাটাইল, টাঙ্গাইল।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৩১ জন


এ জাতীয় গল্প

→ হোটেল ব্যানারদিয়া

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now