বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

হোপ্রিম-০১

"সাইন্স ফিকশন" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X হোপ্রিম মোঃ আসিফ উর রহমান ১. মৃদু কর্কশ একটা শব্দে ঘুম ভেঙ্গে গেল। চোখ খুলতেই বুকটা ধরাস করে উঠলো। মাথার উপর পরিচিত ছাদটা নাই।মনে হচ্ছে যেন বিশাল এক হলরুমে আছি। শহরতলির এক আকাশছোঁয়া গিঞ্জি অ্যাপার্টমেন্টের ১২৩ তালায় থাকি আমি,সিলিং বলা যায় মাথা ছুঁইছুঁই থাকে সব সময়।আমি এবার সাবধানে চার পাশে চোখ বুলালাম...আসলেই বিশাল এক হলরুমে আছি,অনেক দূর পর্যন্ত সাড়িসাড়ি সাদা বিছানা।দেখে মনে হয় কোনো ধরণের স্বাস্থ্যকেন্দ্র এটা। শরীরে ঘুম জড়িত কোনো ক্লান্তি নেই।তারপরও ধীরে ধীরে উঠে বসলাম। আমার চারপাশের কোনো বিছানাতেই কেউ নাই। মনে হচ্ছে এই বিশাল ঘরটিতে আমি একা... গতকাল রাতের কথা মনে করতে চেষ্টা করলাম। রাত ২টায় ইরিনাকে তার বাসায় নামিয়ে দিয়ে হেঁটে হেঁটে বাসায় ফিরেছিলাম। ফিরেই ঘুম। উত্তেজক পানীয় গুলোর কার্য ক্ষমতা পেরিয়ে গেলে ভয়ানক ক্লান্তি লাগে। এই জায়গায় আসলাম কি ভাবে,কিছুতেই বুঝতে পারলাম না। আমার বিছানার পাশেই ছোটো একটা ফাইবার গ্লাসের টেবিল। ওটার উপরে কিছু নেই। ডান পাশে ছোট মনিটর একটা,অন্ধকার।ওটার নিচে ছোটো একটা কন্ট্রোল মডিউল। আমার গায়ে কাল একটা টিশার্ট আর জিন্স ছিল। এখন দেখি অত্যন্ত দামি নিওপলিমারের গাউন।বেশ কোমল। আমি বিছানা থেকে নেমে দাঁড়ালাম।ঠিক তখনই আমার পেছনে একটা দরজা খুলে গেল। মধ্যবয়স্ক দুইজন লোক আর একটি চতুর্থ প্রজন্মের কিউ-১২ রোবট প্রবেশ করল। কিউ-১২কে দেখে চমকালাম। অত্যন্ত উন্নত রোবট। এদের কপোট্রনে নিউরাল নেটওয়ার্ক আছে। অপেক্ষাকৃত লম্বা লোকটি আমার কাছে এসে হাত বাড়িয়ে বললেন,"আরান রাফিস,আমি ক্লিহান,কিহানুস ক্লিহান।'' তাঁর মুখে মৃদু হাসি। আমি বাড়ানো হাতটা দেখতে পাচ্ছিলাম না। মহামতি ক্লিহান আমার সামনে দাঁড়িয়ে? উনার নামই শুনেছি,কখনও দেখি নি।বেশির ভাগ মানুষই তাঁকে দেখে নি।উনি কখনও মিডিয়াতে আসেন না,তাঁর সব ছবি অপসারণ করা হয়েছে যাতে উনার পরিচয় শত্রুদের কাছে গোপন থাকে। একবিংশ শতাব্দির শেষের দিকে এসে মানুষের অব্যাহত কৌতুহল তাদের এক ভয়াবহ সংকটের সামনে দাঁড় করিয়ে দেয়।প্রজেক্ট অতিমানবি নামক একটা প্রজেক্টে ক্লোন করে কয়েকজন অতিমানবি তৈরী করা হয়েছিল,যাদের চিন্তাতীত ক্ষমতা ছিল। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে সেই প্রজেক্টের হেড কোয়ার্টার সহ সব কিছু ধ্বংস হয়ে যায়। কিন্তু একটি ক্রিমিনাল সিন্ডিকেট আবার এ প্রজেক্ট হাতে নেয়। তারা এবার ভাল মানবিক বোধ অপসারণ করে চতুর ও হিন্স্র টাইপের একটা প্রজাতি তৈরী করার চেষ্টা করে ও প্রায় সফল হয়। সেই প্রজেক্টে তৈরী হওয়া পঞ্চাশটি অতিমানব একপর্যায়ে সঙ্ঘটিত হয়ে পালিয়ে যায়। তারা প্রত্যান্ত অঞ্চলে নিজেদের একটা টেরিটরি তৈরী করে এবং নিজেদের ক্লোন করতে থাকে। ধারণা করা হয়,ক্রাইম সিন্ডিকেটের সাথে তাদের যোগাযোগ আছে,তবে তারা স্বাধীন। এই অতিমানবেরা নিজেদের প্রজাতির নাম "হোমো সুপ্রিম" সংক্ষেপে হোপ্রিম নাম দিয়েছে। এদিকে সারা পৃথিবীতে ফেডারেশন তাদের শাসন কায়েম করে,ফলে রাষ্ট্র ব্যাপারটা উঠে যায়। পৃথিবীতে এখন দুটো পক্ষ,মানুষ আর হোপ্রিম। হোপ্রিমদের ক্ষমতা অনেক হলেও তারা সরাসরি সংঘাতে যেতে পারছে না কারণ তাদের লোকবল অনেক কম। ১৫বিলিওন মানুষের সাথে কয়েক হাজার হোপ্রিম পারবে না,কিন্তু তারা স্বয়ংসম্পূর্ণ হচ্ছে। তাদের টেরিটরিটা মূলত দক্ষিণ আমেরিকায়। সেটা শক্তি বলয় দিয়ে ঘেরা কয়েক লক্ষ বর্গ কিলোমিটার এলাকা। মানুষ চাইলেও পারমাণবিক হামলা চালাতে পারছে না। হোপ্রিমরা মানুষের বেশে সারা পৃথিবীতে লুকিয়ে আছে। প্রায়ই মূল্যবান ফর্মূলা তারা চুরি করে। হোপ্রিমদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ফেডারেশন কর্তৃপক্ষের সর্বচ্চ ক্ষমতা এই কিহানুস ক্লিহানের হাতে। তিনি কেন্দ্রিয় বিজ্ঞান একাদেমীরও সদস্য। তিনি নিঃসন্দেহে হোপ্রিমদের হিট লিস্টে সবাড় উপরে আছেন। আমার সংবিত ফিরতেই বাড়ানো হাতটা ধরে ঝাঁকালাম,মুখের ভাষা হারিয়ে ফেলেছি। কয়েক মুহূর্ত পর বলতে পারলাম,"আপনার সাথে দেখা করতে পারাটা অত্যন্ত সম্মানের কিন্তু এখানে কি হচ্ছে কিছু বুঝতে..." ক্লিহান হেসে বললেন,"ঘটনা খুব সহজ,আমরা তোমাকে তোমার এপার্টমেন্ট থেকে নিয়ে এসেছি। এটা কেন্দ্রিয় বিজ্ঞান একাডেমী।'' "কিন্তু কেন?" ক্লিহান আমার চোখ থেকে চোখ সরিয়ে বললেন,"ইরিনা" আমার মাথাটা চক্কর দিয়ে ঊঠলো, আমি হা করে তাকিয়ে থাকলাম তাঁর দিকে। তিনি বলতে লাগলেন,"তুমি আমাদের ডিপওয়াচ লিস্টে প্রথম থেকেই ছিলে,ছিল তোমার প্রেমিকা ইরিনাও।তোমাদের আমরা কখনও ঘাটিনি। তুমি যে অনেক মেধাবী ও প্রতিভাবান,এটা আমরা জানি।তোমার মত ৫ জন একবার শ্যালক্স গ্রুনের হাত থেকে পৃথিবী বাঁচিয়ে ছিল। তুমি কখনো তোমার মেধা ব্যাবহার করনি,খুব সাদামাটা থেকেছ।কিন্তু তোমার প্রেমিকা ইরিনার বেশ কিছু ব্যাপারে আমাদের হিসেব মিলছিলনা। সে সকল জায়গায় তথ্য দিয়েছে,সে উত্তর ইউরোপ থেকে এসেছে,কিন্তু আমরা চেক করে দেখছি,তার সকল কাগজ ভুয়া,যদিও সাধারণ প্রযুক্তিতে ধরা যেতনা।আমাদের সন্দেহ আরো শক্ত হয় যখন দেখলাম, সে তার মেধা খরচ করে বিভিন্ন প্রতিরক্ষা সংস্থার এডমিন্সট্রেশনে যোগদানে ব্যাবহার করছে,যেখানে ইচ্ছা করলেই সে বিজ্ঞানী হিসেবে যোগ দিতে পারতো।গত কিছুদিন ধরে ওই সংস্থা হতে বেশ কিছু ডকুমেন্ট খোয়া যায়। গত পরশু ইনফ্রা রেড ক্যামেরায় ইরিনা কে দেখা গেছে কিছু ডকুমেন্ট সরাতে...'' "আপনিকি বলতে চাচ্ছেন,ইরিনা একজন হোপ্রিম?" আমার গলার কাছে কি যেন আটকে আছে। "জানি তোমার খারাপ লাগছে খুব,কিন্তু এটাই সত্যি রাফিস,সে একজন হোপ্রিম চর"..."কিন্তু কিভাবে আপনারা নিশ্চিত হলেন? আমি তাঁকে থামিয়ে জিজ্ঞেস করলাম। "তার ক্রোমজম ৪৭টা রাফিস" ক্লিহানের এই কথাটা আমার বুকটা ভেঙ্গে দিল।আমি মাথা নিচু করে বসে ধাক্কাটা হজম করতে চাইলাম।অবশেষে আমি বল্লাম,''আমি কিভাবে সাহাজ্য করতে পারি বলুন।" ক্লিহান একটু অবাক হলেন মনে হল এত সহজে মেনে নিলাম ব্যাপারটা দেখে।তিনি পিছনে ফিরে অপর লোক আর কিউ রোবোটের দিকে তাকিয়ে বললেন ,"ম্যক্স আর কিষুন তোমাকে ব্রিফ করবে।সব প্রস্তুত করাই আছে"। আমি একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে হাত দিয়ে মুখ ঢাকলাম।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৩৫ জন


এ জাতীয় গল্প

→ হোপ্রিম-০১

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now