বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

হলুদ পাগড়ির শিষ।। ১ম অংশ

"ইসলামিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Sayemus Suhan (০ পয়েন্ট)

X খুব কম বয়স। একেবারেই কিশোর। কিন্তু শরীরে যেমন স্বাস্থ্য, তেমনি শক্তি। তাজি ঘোড়ার মত টগবগ করে ছুটে বেড়ান তিনি। কাউকে পরোয়া করেন না। সাহসের তেজ ঠিকরে বের হয়ে আসে তার দেহ থেকে। সমবয়সী তো দূরে থাক, অনেক বড় পালোয়ানও হার মানে তার সাথে মল্লযুদ্ধে। সে এক অবাক করার মত দুঃসাহসী শক্তিশালী কিশোর। নাম ‍যুবাইর ইবনুল আওয়াম। রাসূলের (সা) দাওয়াতের তখন মুখরিত চারদিক। নবীজীর ডাকে সাড়া দিতে দলে দলে লোক ছুটে আসছে তাঁর কাফেলার দিকে। পুরো মক্কায় তখন ইসলামের দাওয়াতী আওয়াজ ছড়িয়ে পড়েছে। চারপাশে তার মৌ মৌ গন্ধ। শান্তির সৌরভে ক্রমশ ভরে উঠছে বিশ্বাসীদের হৃদয়ের চাতাল। যুবাইরও দেখছেন। দেখছেন আর শুনছেন ফিসফিস মধুর গুঞ্জন। তারও কানে বেজে উঠছে রাসূলের (সা) কণ্ঠ নিঃসৃত সেই মধুর এবং শাশ্বত ছন্দমুখর আহ্বান। এসো আলোর পথে। এসো সুন্দরের পথে। এসো আল্লাহর পথে। এসো রাসূলের (সা) পথে। যুবাইরের বয়স তখন মাত্র ষোল। বয়সে কিশোর। কিন্তু তার শরীরে বইছে যৌবনের জোয়ার। যে কোনো যুবকের চেয়েও তিনি অনেক বেশি সবল এবং সাহসী। কান খাড়া করে যুবাইর শুনলেন রাসূলের (সা) আহবান। আর দেরি নয়। সাথে সাথে তিনি কবুল করলেন ইসলাম। দয়ার নবীজীর ডাকে সাড়া দিয়ে আশ্রয় গ্রহণ করলেন এক পরম প্রশান্তির ছায়ায়। রাসূলও তাকে স্থান দিলেন স্নেহের বাহুডোরে। রাসূলের (সা) প্রতি যুবাইরের ভালোবাসা ছিল অপরিসীম। সেই ভালোবাসার কোনো তুলনা চলে না। একবার কে যেন রটিয়ে দিল, মুশরিকরা বন্দী অথবা হত্যা করেছে প্রাণপ্রিয় নবীকে। একথা শুনার সাথে সাথেই বয়স্কদের মত জ্বলে উঠলেন যুবাইর। অসম্ভব! অসম্ভব এ দুঃসাহস! আমার নবীজীকে কেউ হত্যা করতে পারে না। তিনি একটানে কোষমুক্ত করলেন তার তরবারি। তারপর যাবতীয় ভিড় ঠেলে, উর্ধশ্বাসে ছুটে গেলেন নবীজীর কাছে। রাসূল তাকালেন যুবাইরের দিকে। তিনি বুঝে গেলেন যুবাইরের হৃদয়ের ভষা। তিনি হাসলেন। জিজ্ঞেস করলেন, কী হয়েছে যুবাইর? যুবাইরের ভেতর তখনও বয়ে যাচ্ছে ক্রোধের কম্পন। তিনি বললেন, ‘হে রাসূল! খবর পেলাম, আপনি বন্দী অথবা নিহত হয়েছেন!’ রাসুল খুশি হলেন যুবাইরের আত্মত্যাগ আর ভালোবাসার নজির দেখে। তিনি খুশি হয়ে দোয়া করলেন তার জন্য। এটাই ছিল প্রথম তরবারি, যা জীবন ‍উৎসর্গের জন্য প্রথম একজন কিশোর কোষমুক্ত করেছিলেন। ইসলাম গ্রহণের কারণে যুবাইরের ওপরও নেমে এসেছিল অকথ্য নির্যাতন। তার চাচা- যে চাচাকে তিনি শ্রদ্ধা করতেন প্রাণ দিযে, সেও মুহূর্তে শত্রু হয়ে গেল কেবল সত্য গ্রহণের কারণে। পাপিষ্ঠ চাচা! নিষ্ঠুর চাচা! হিংস্র পশুকেও ছাড়িয়ে গিয়েছিল সে। গরম, উত্তপ্ত পাথর! যে পাথরের ওপর ধান ছিটিয়ে দিলেও খই হয়ে যায়। এমন গরম পাথরের ওপর চিৎ করে শুইয়ে দিত ভাতিজা যুবাইরকে। আর বলতো ইসলাম ত্যাগ করার জন্র। কিন্তু একবার যে পেয়ে গেছে সত্যের পরশ, সে কি আর বিভ্রান্ত হতে পারে কোনো অত্যাচার আর নির্যাতনে? না! যুবাইরও চুল পরিমাণ সরে আসেননি তার বিশ্বাস থেকে। তার সত্য থেকে। বরং নির্যাতন যত বেড়ে যেত, ততোই বেড়ে যেত তার আত্মবিশ্বাস আর সাহসের মাত্রা। তিনি কঠিন সময়েও পরীক্ষা দিতেন ঈমান আর ধৈর্যের। তিনি ছিলেন হরিণের চেয়েও ক্ষিপ্রগতি, আর বাঘের চেয়েও দুঃসাহসী। বদর যুদ্ধে দেখা গেল যুবাইয়ের সেই ভয়ঙ্কর চেহারা। মুশরিকদের জন্য সেদিন ছিলেন বিভীষিকার চেয়েও ভয়ানক। সেদিন মুশরিকদের সুদৃঢ় প্রতিরোধ প্রাচীল ভেঙ্গে তছনছ করে দেন তিনি। একজন মুশরিকদের সৈনিক কৌশলে উঠে গেছে একটি টিলার ওপর। সেখঅন থেকে সেই ধূর্ত চিৎকার করে যুবাইরকে আহবান জানালো মল্ল যুদ্ধের। ইচ্ছা ছিল যুবাইরকে পরাস্ত করা। তার আহবানে সাড়া দিলেন যুবাইর। উঠে গেলেন টিলার ওপর। তারপর তাকে জাফটে ধরলেন আচ্ছা করে। দু’জন টিলা থেকে গড়িয়ে নিচে। রাসুল (সা) দেখছেন সবই। বললেন, “এদের মধ্যে যে প্রথশ ভূমিতে পড়বে, নিহত হবে সেই।” কী আশ্চর্য!


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৩৩ জন


এ জাতীয় গল্প

→ হলুদ পাগড়ির শিষ।। ২য় অংশ
→ হলুদ পাগড়ির শিষ।। ১ম অংশ

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now