বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

হিমুদের হাতে অসংখ্য নীলপদ্ম—০১

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X হিমুদের হাতে অসংখ্য নীলপদ্ম ---------------------------------- যে কাঁথাটা দিয়ে শরীর মুড়িয়ে রেখেছি সেটা শতচ্ছিন্ন। শতচ্ছিন্ন বললে কম বলা হবে। বলা উচিৎ সহস্রচ্ছিন্ন। সেই কাঁথার বিভিন্ন ফাঁক-ফোকর দিয়ে আলো-বাতাস-মশাদের অবাধ যাতায়াত। কানের কাছে দুইটা মশা উড়ছে। মনে হচ্ছে সুর করে নাম ধরে ডাকছে। 'হিমুউউউ। হিমুউউউ।' সর্বনাশ। পাগল-টাগল হয়ে যাচ্ছি নাকি? মশা-মাছির ডাকাডাকি শুনতে হচ্ছে। শুনেছিলাম নবী সোলায়মান পশু-পাখির ভাষা বুঝতেন। কিন্তু আমিতো আর নবী সোলায়মান না। তা না হলে মশাদের সাথে হয়ত হালকা কথাবার্তা বলা যেতো। 'এই মশারা তোরা কি চাস?' 'আমরা কিছু চাই না। অল্প একটু রক্ত চুষতে চাই। ডিম পারার জন্য মেয়ে মশাদের রক্ত দরকার হয়।' 'ও তাই নাকি। তাহলে রক্ত চুষে বিদায় নে। খবরদার গুন গুন করবি না। খুব বিরক্ত লাগে।' 'কিন্তু গান না গাইলেতো আমাদের পেটের রক্ত হজম হয় না' মশাদের সাথে কথাবার্তার এই পর্যায়ে কাঁথাটা ধরে কে যেন হালকা ঝাঁকি দিল। মশারা চাদর ধরে টানাটানি করবে না। তবে অসংখ্য মশা টানতে পারে। একসাথে বার লাখ মশা একজন মানুষের সব রক্ত খেয়ে ফেলার ক্ষমতা রাখে। যে কোনো জমায়েতের শক্তি বিশাল। চাদরের টানাটানি পাত্তা না দিয়ে ঠান্ডা মাথায় ভাবতে চাইলাম। আজ শুক্রবার। সবার মত আজ আমারো সাপ্তাহিক ছুটি। শুক্রবারে আমি হলুদ পাঞ্জাবী পরে খালি পায়ে হাঁটিহাঁটি করি না। পরের ছয়দিনের জন্য শরীরটাকে বিশ্রাম দেই। মহাপুরুষদের বিশ্রামের প্রয়োজন আছে। তাছাড়া সপ্তাহের এই দিনে ঢাকার রাস্তায় জুতা পড়েই পা ফেলা যায় না; খালিপায়ে হাঁটারতো প্রশ্নই ওঠে না। আউট অফ সিলেবাস। চাদর টানাটানি আরো বেড়েছে। মশাদের ডাকও জোরালো হচ্ছে। 'হিঁমুউউ। বাবা হিঁমুউউ।' কি ব্যাপার? মশারা আমাকে বাবা ডাকবে কেন? নাহ। কাঁথা সরিয়ে দেখতে হয়। ঘুমটাকে 'স্ট্যান্ডবাই মুড' এ নিলাম। এই মুড থেকে জেগে ওঠা যায়। বা দরকার পড়লে আবার ঘুমিয়ে পড়া যায়। কাঁথার নিচ দিয়ে এক চোখে উঁকি দিয়ে দেখি খাটের এক কোণায় বাবা বসে আছেন। তার হাতে একটা পাউরুটির টুকরা, পানিতে ভিজিয়ে চপ চপ করে খাচ্ছেন। খাওয়ার ফাঁকে ফাঁকে চাদর নিয়ে টানাটানি করছেন। বাবা প্রায়ই স্বপ্নে দেখা দেন। এটা তার রুটিন-ওয়ার্ক। কিন্তু কখনো কাঁথা ধরে টানাটানি করেন না। আজকে কি হলো কে জানে। আমাকে দেখে বাবা হাসলেন। 'উঠেছিস?' 'না উঠিনি। তুমি যাওতো বাবা। ঘুমাতে দাও।' 'আমি স্বপ্নে আসি নাই হাঁদারাম। উঠে তৈরী হয়ে নে।' গালি শুনে আমি চোখ রগড়ে ভালভাবে তাকালাম। আসলেই বাবা স্বপ্নে আসেন নি। স্বপ্নে গন্ধ পাওয়া যায় না। তার গা হতে ভুর ভুর করে জর্দার গন্ধ আসছে। বাবার পাঞ্জাবীর এক জায়গায় ঝোলের হলুদ দাগ। 'কি ব্যাপার বাবা?' আমি যথাসম্ভব অবাক না হওয়ার ভান করি। 'ব্যাপার পরে জানিস। আগে চট করে রেডি হয়ে নে। যেতে হবে।' আমি লুঙ্গি ঠিক করতে করতে মেসের বাথরুমের দিকে এগোলাম। আজ ছুটির দিন। মেসের বাথরুমের লাইন বেশি লম্বা হবার কথা না। এটা একটা আশার কথা। *** দরজা খুলে মাজেদা খালা বাসায় র‍্যাব দেখার মত চমকে উঠলেন। 'কিরে হিমু। তুই? গত দেড়মাস ধরে তোকে খুঁজে পাই না।' আমি কিছু না বলে মুচকি হেসে ঘরে ঢুকলাম। 'খালা নাস্তা খেতে এসেছি। আগে একটা ফোন করব।' 'ঐ ঘরে আছে। বেশি বকবক করিস না আবার। গত মাসে বিল এসেছে দশ হাজার টাকা। আমরা মোটে তিনজন মানুষ। বিল হয়েছে দশ হাজার। চিন্তা কর।' আমি খালার দিকে একটা মধুর হাসি দিয়ে হাঁটা দিলাম। 'হ্যালো' 'রূপা, কেমন আছ?' 'খারাপ না খুব একটা। আজ না তোমার ঘুম দিবস। ঘুম কেটে গেছে?' 'হু। রূপা, আমি চলে যাচ্ছি।' 'তাই নাকি। কোথায় যাচ্ছ? হিমালয়ে? লোটা হাতে তপস্যা করবে সেখানে?' 'আমি সত্যিই জানি না। শুধু এটা জানি যে আর কখনো ফেরা হবে না।' রূপা চুপ। 'শেষ একটা কথা বলি রূপা'। থামলাম। 'ভাল থেকো।' এবার রূপা কিছু একটা আঁচ করতে পেরেছে হয়ত। চেঁচিয়ে উঠলো। 'না না। কোথায় আছো তুমি? বল। আমি আসছি। শোন ফোন রাখবে না...' আমি করুণ চোখে রিসিভারটা নামিয়ে রাখলাম। খালা মনে হয় নাস্তা নিয়ে বসেই ছিলেন। পরোটা- গোস্ত। একটা বাটিতে লেবু, কাঁচামরিচ আর পেঁয়াজ। মোঘলাই নাস্তা। খেতে খেতে খালাকে বললাম- বাবা এসেছেন। শুনে খালা গম্ভীর হয়ে বকবকানি থামিয়ে দিলো। মাজেদা খালাকে এতটা চুপ হয়ে যেতে আগে কখনো দেখিনি। 'খালা আমি যাই।' খালা দরজা ধরে দাঁড়িয়ে আছেন। কিছু বললেন না। খালার চোখ বন্যার পূর্বাভাস দিচ্ছে। আমি অন্যদিকে তাকালাম। চোখের পানি একটি সংক্রামক দুর্যোগ। খালা শাড়ির আঁচল দিয়ে চোখ মুছলেন। 'হিমু, বাবা, ভাল থাকিস' 'আমি ভাল থাকব খালা' রাস্তায় নেমে পড়লাম। মেয়েজাতি খুব খারাপ। কেউ একজন তাদেরকে মায়ার চৌবাচ্চা করে পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন। যার কাছে বাকী পৃথিবী নস্যি; অর্থহীন হয়ে পড়ে।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১২৮ জন


এ জাতীয় গল্প

→ হিমুদের হাতে অসংখ্য নীলপদ্ম—০১

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now