বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
হ্যারি পটার ফ্যানফিকশন
বাকবিক
সালেহ আহমেদ মুবিন
তৃতীয় পর্ব
মধ্যরাতে হগওয়ার্টস ক্যাসেলে আশ্চর্য নিস্তব্ধতা নেমে আসে। শুধু মাঝে মধ্যে সিড়িগুলোর ক্যাচক্যাচ শব্দ আর আওলারি থেকে ভেসে আসে পেঁচার আর্ত ডাক। গভীর মনোযোগে কান পাতলে ক্যাসেলের ভূতদের ফিসফিসানিও শোনা যায়। মধ্যরাতের একমাত্র করণীয় হচ্ছে ঘুমানো কিংবা পড়াশোনা। কিন্তু সিরিয়াস নিয়মের ধার ধারার প্রয়োজনীয়তা কখনোই অনুভব করেনি। ক্রিস্টমাসে বন্ধ শেষ হবার পর থেকেই এই সময়ের অপেক্ষায় ছিল সে। প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে পা টিপে ছেলেদের ডর্মিটরি থেকে বেরিয়ে আসল সিরিয়াস। কমনরুম পেরিয়ে আস্তে করে দরজা খুলে সিঁড়ি দিয়ে নিচে এসে দাঁড়াল। চারপাশে একবার সতর্ক দৃষ্টি বুলিয়ে নেয় সে। কাউকে দেখা যাচ্ছে না আশেপাশে। ইনভিসিবিলিটি ক্লোকটা আগেই গায়ে চাপানো উচিৎ ছিল। কিন্তু তাতে তেমন কোন কৃতিত্ব থাকে না। তবে এখন পরিস্থিতি একটু ভিন্ন। কোনরকম বিপদে না পড়ে কাজটা শেষ করা খুব জরুরী। সুতরাং ক্লোকটা গায়ে চাপানোর সিদ্ধান্ত নিল সে। হঠাৎ পিছনে মৃদু শব্দ হতেই নিঃশ্বাস আটকে ফেলল। চট করে পিছনে তাকাতেই চোখ কপালে উঠে গেল সিরিয়াসের। র্যাচেল! ভ্রূ কুচকে সে সিরিয়াসকে বলল, 'এত রাতে করিডরে কি করছ? দ্রুত উঠে এস। গ্রিফিন্ডরকে তুমি রীতিমত বিপদে ফেলবে।' চারপাশ নিরব থাকায় কথাগুলো অবচেতনভাবেই ফিসফিসিয়ে বলল সে। কিন্তু বলা বাহুল্য কথাটা সিরিয়াসের মনে ধরল না। এই মেয়ে তাকে ডর্মিটরি থেকে বেরুতে দেখল কিভাবে? ঝামেলা।
'র্যাচেল আমার মনে হয় তোমার উচিৎ ডর্মিটরিতে ফিরে যাওয়া। আমার ছোট একটা কাজ আছে। কিছুক্ষণ পরে যাব আমি।'
চোখ পাকিয়ে তাকাল র্যাচেল। 'যদি কোন প্রফেসরের চোখে পড় নিশ্চিত বড় ধরণের পয়েন্ট হারাব আমরা। এখনো সময় আছে রুমে ফিরে যাও।'
হাত নাড়িয়ে র্যাচেলের কথা উড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা করল সিরিয়াস। 'চিন্তার কিছু নেই। তুমি নিশ্চিত থাকতে পার কেউ দেখতে পাবে না আমাকে। যদি....'
সিরিয়াস কথা শেষ করতে পারল না। খুব কাছে কোথাও মৃদু একটা শব্দ শোনা গেল। চারপাশ নিস্তব্ধ থাকায় এই মৃদু শব্দও স্নায়ুতে ফেলে দিল প্রচন্ড চাপ। সিরিয়াস দ্রুত কয়েক রকমের সম্ভাবনার কথা হিসেব করে ফেলল। সে পকেট থেকে বের করল একটা পার্চমেন্ট। অন্য হাতে উঠে এল তার ওয়ান্ড। এরপর মৃদু শব্দে কিছু শব্দ আওড়াল। 'আমি কসম খেয়ে বলছি আমার কোন ভাল উদ্দেশ্য নেই।'
চোখ বড় বড় হয়ে গেল র্যাচেলের। 'আমি জানতাম তোমার কোন ভাল উদ্দেশ্য নেই। আমার মনে হচ্ছে আমার প্রফেসর ম্যাকগোনাগলকে জানানো উচিৎ।'
সিরিয়াস মনে মনে বলল, ঝামেলা। ভেবে পেল না এই মেয়েকে বিষয়টা কিভাবে বোঝাবে। ইতোমধ্যেই মরেডার্স ম্যাপটায় চিহ্ন ফুটে উঠতে শুধু করেছে। হগওয়ার্টসের সম্পূর্ণ অবয়ব ভেসে উঠেছে সিরিয়াসের চোখের সামনে। সিরিয়াস নিঃশ্বাস আটকে ফেলল। ফিলচকে দেখা যাচ্ছে এদিকেই আসছে। শুধুমাত্র আরেকটু এগিয়ে বাম দিকে মোড় নিলেই দেখে ফেলবে তাদেরকে। র্যাচেল এখনো তার নীতিকথা থামায় নি। সিরিয়াস কোনভাবে ম্যাপে ফিলচের নাম দেখিয়ে চুপ করতে বলল তাকে। সে কি বুঝল ককে জানে। ফিলচ একদম কাছে এসে গেছে। হাতে সময় নেই। ইনভিসিবিলিটি ক্লোকটার ভাজ খুলে পড়তে পড়তে অনেক দেরি হয়ে যাবে। বেচারার খুব বয়স হয়ে গেলেও এতটুকু তেজ কমেনি। সিরিয়াস আচমকা র্যাচেলের হাত ধরে ডাকদিকে ছোটা শুরু করল। অল্প কথায় সিরিয়াস তাকে পরিস্থিতিটা বোঝানোর চেষ্টা করল। র্যাচেল কিছু বুঝল বলে মনে হল না। ঘটনার আকস্মিকতায় হতভম্ব সে।
' র্যাচেল এই রুমটায়। দ্রুত ঢুক। ফিলচ নিশ্চয়ই আমাদের পায়ের শব্দ শুনেছে। তার কাছে ধরা পড়লে খবর আছে।'
তারা গুটিকয়েক রুমে ঢুকে অন্যপাশ দিয়ে আবার বেরিয়ে আসল। পিছনে কোন পায়ের শব্দ পাওয়া যাচ্ছে না। সিরিয়াস ম্যাপটা চেক করে দেখল। নাহ কেউ নেই পিছনে। একটু থেমে দম ফিরিয়ে আনল তারা। র্যাচেল হতবাক হয়ে গেছে। এর আগে তার সাথে এমন কিছু ঘটেনি। হগওয়ার্টসের কোন নিয়মই সে ভাঙেনি। মধ্যরাতে করিডর ধরে দৌড়ানো তো বহু দুরের ব্যাপার। সে হতভম্ব গলায় বলল, "জেমস, তুমি করছটা কি?"
সিরিয়াস বিস্মিত দৃষ্টিতে তাকাল। র্যাচেল আর কিছু জিজ্ঞেস করার সাহস করল না। সিরিয়াস দ্রুত হাতে ক্লোকটা ছড়িয়ে দিল তাদের দুজনের উপর। অল্প কথায় এর কার্যকারীতা বুঝিয়ে বলল সে। এরপর ধীরে ধীরে এগোতে শুরু করল। পথঘাট পুরোপুরি গুলিয়ে গেছে। ম্যাপটা দেখে রাস্তা ঠিক করার চেষ্টা শুরু করল সিরিয়াস। সামনে গিয়ে ডান দিকের করিডর ধরে এগিয়ে যেতে হবে। কিন্তু ডান দিকে বাক নিতেই চমকে উঠল তারা। মিসেস নরিস! বলে রাখা ভাল মিসেস নরিস ফিলচের দ্বিতীয় বিড়াল। প্রথম মিসেস নরিস মারা গেছে অনেক কাল হয়ে গিয়েছে। পরবর্তীতে ফিলচ আরেকটা বিড়াল পালা শুরু করে। প্রথম বিড়ালের প্রতি শ্রদ্ধা দেখিয়েই বোধহয় এটার নামও মিসেস নরিস রাখে সে। বিড়াল তার নামের মর্যাদা রেখেছে। এটাও আগের মিসেস নরিসের মত একইরকম খবিস! ম্যাপে বিড়ালটাকে আগেই দেখার কথা। কিন্তু সিরিয়াস পথ ঠিক করতে এতটাই মনোযোগী ছিল খেয়াল করেনি সেটা। সে ব্যাপারটা পাত্তা না দেয়ার চেষ্টা করল। সে জানে তারা এখন অদৃশ্য। কিন্তু মিসেস নরিস তীক্ষ্মদৃষ্টিতে ঠিক তাদের দিকেই তাকিয়ে আছে। সিরিয়াস চেষ্টা করল ধীরে ধীরে বিড়ালটাকে এড়িয়ে যেতে। কিন্তু দুঃখজনক ব্যাপার হচ্ছে বিড়ালটার প্রবৃত্তি খুবই প্রখর। হঠাৎ করেই তীব্র কন্ঠে 'ম্যাও' বলে চিৎকার করে উঠল সেটা। সাথে সাথে দ্রুত পদশব্দ এগিয়ে আসার শব্দ শোনা গেল। কারও বুঝতে অসুবিধা হল না পদশব্দটা কার। নিজেদেরকে আর নিরাপদ মনে হলো না সিরিয়াস- র্যাচেলের। উল্টো ঘুরে আবার দৌড় শুরু করল তারা। বড়সড় একটা দরজা পেয়ে দ্রুত ঢুকে পড়ল ভিতরে। কিন্তু তারা অবাক হয়ে আবিষ্কার করল তারা কোন রুমের ভিতরে ঢুকে পড়েনি। বরং হগওয়ার্টস ক্যাসেলের বাইরে এসে গেছে। অনেকটা এক্সিট ডোরের মত। এর আগে কখনো এই দরজা দেখেনি সে। বাইরে এসে সিরিয়াস হালকা আশাহতই হল। সে চাইছিল র্যাচেলকে রেখে এসে সে তার কাজ করবে। কিন্তু একবার বাইরে এসে যাওয়ার আবার ভিতরে যাবার প্রশ্নই আসে না। এই রিস্কটুকু নিতেই হবে। দৌড়ানো থামিয়ে ধীরে ধীরে হাঁটতে শুরু করল তারা। ফিলচ নিশ্চয়ই ক্যাসেলের বাইরে খুঁজতে আসবে না। সিরিয়াস হঠাৎ একটা বিষয় খেয়াল করল। ইনভিসিবিলিটি ক্লোকের কারনে র্যাচেল তার খুব বেশি কাছাকাছি। ব্যাপারটা এতক্ষণ মাথায় আসেনি। খেয়াল হতেই সিরিয়াস অস্বস্তির মধ্যে পড়ে গেল। আড়চোখে দেখল র্যাচেলের গালও লাল হয়ে গেছে। তবে সেটা ঠান্ডায় নাকি অন্য কোন কারনে সেটা ঠিক বুঝে উঠতে পারল না। চাঁদের মৃদু আলোয় কেমন অদ্ভূত দেখাচ্ছে তাকে। সিরিয়াস অনেক কষ্টে তার চোখ ফিরিয়ে নিল। র্যাচেল আপনমনেই বলল, 'আমি বিশ্বাস করতে পারছি না এই মধ্যরাতে আমি ক্যাসেলের বাইরে। যদি ধরা পড়ি নিশ্চিত এক্সপেল।'
সিরিয়াস শান্তনা দেয়ার চেষ্টা করল, 'চিন্তা করো না। কাজটা শেষ করেই ফিরে যাব।'
ভ্রূ কুচকে সিরিয়াসের দিকে তাকাল র্যাচেল , 'এর মানে আমাকেও তোমার সাথে যেতে হবে? ওহ্ না!'
সিরিয়াস নির্বিকারভাবে বলল, 'ইচ্ছে হলে চলে যেতে পার। আমার কোন সমস্যা নেই। বরং আরও ভাল হয় তাতে।'
সে ক্লোকটা তাদের গা থেকে সরিয়ে নিয়ে ভাজ করে ফেলল। এরপর রওনা দিল হগওয়ার্টসের লেকের দিকে। র্যাচেল কোন উপায় না পেয়ে শেষ পর্যন্ত সিরিয়াসকে ফলো করা শুরু করল। বিড়বিড় করে বলতে শুরু করল যে কিভাবে ছেলেরা সবকিছুতেই ভজকট পাকিয়ে ফেলে।
.
লেক পর্যন্ত তেমন কোন কথা হলো না আর। আশেপাশের নিস্তব্ধতা তাদের মধ্যেও এক ধরণের নির্বাক অনুভূতি এনে দিল। চাঁদের অস্বচ্ছ আলোয় জায়গাটাকে কেমন রহস্যময় বলে মনে হচ্ছে। গাছের ফাকফোকরে মাঝে মধ্যে ডেকে উঠছে অচেনা কোন পাখি। পরিবেশটা মনে কেমন তরল একটা অনুভূতি এনে দেয়।
'আচ্ছা তোমার কাজটা কী?' অবশেষে জিজ্ঞেস করল র্যাচেল।
'আমার কাজ আর যাই হোক খারাপ কিছুইনা এটুকু জেনে রাখ।'
'ওহ'
আবার ফিরে এল অস্বস্তিকর নিরবতা। ঝোপঝাড় ভেঙে হাঁটতে শুরু করল তারা। কিছুক্ষণ পর থেমে গেল সিরিয়াস। র্যাচেল আশপাশটা দেখার চেষ্টা করল। চাঁদের আলো থাকা সত্তেও ঠিকঠাক বুঝতে পারল না তারা কোথায় আছে। চাঁদের আলো এক ধরণের বিভ্রমের সৃষ্টি করে। তবে ক্যাসেলটা খুব বেশি দুরে না। সামনে জলাশয় মত কিছু একটা দেখা যাচ্ছে। র্যাচেল বুঝতে পারল তারা হগওয়ার্ট লেকে এসে গেছে। সিরিয়াস হঠাৎ ঘুরে র্যাচেলের উদ্দেশ্য গম্ভীরভাবে কিছু কথা বলল, 'সত্যি বলতে কাজটা খুবই জঘন্য আর বিপজ্জনক। তোমাকে অনুরোধ করব তুমি কোন চেচামেচি করবে না। এবং ঘটনাটা আর কাউকে বলবে না। এইটুকু বিশ্বাস তোমার উপর রাখছি আমি।'
দ্বিধান্বিতভাবে মাথা নাড়ল র্যাচেল। ঘুরে দাঁড়িয়ে জাদুদন্ড বের করল সিরিয়াস। এরপর সে একটা অদ্ভূত কাজ করল। র্যাচেল সত্যিকার ভাবেই বিস্মিত হয়ে গেল এবার। সিরিয়াস ফিসফিসিয়ে চিৎকার করে উঠল, 'বোম্বার্ডো!'
কিছু একটা ভাঙার শব্দ পাওয়া গেল। র্যাচেল এবার ভালভাবে খেয়াল করে দেখল তাদের সামনে উঁচু বেদীর মত কিছু একটা। সাথে সাথে ব্যাপারটা মাথায় আঘাত করল র্যাচেলের । প্রফেসর ডাম্বলডোরের কবর এটা। সিরিয়াস কবরটা ভেঙে ফেলেছে!
র্যাচেল হাত দিয়ে মুখ ঢাকল। হতভম্ব হয়ে গেছে সে।
.
সিরিয়াস ধীরে ধীরে ভাঙা টুকরা সরিয়ে একটা নিঃশ্বাস নিল। এরপর সর্বোচ্চ সহনশীলতা এক করে হালকা ঝুকে কবরটায় ঢুকিয়ে দিল তার একটা হাত। এক মুহুর্ত পরেই দ্রুত হাতটা তুলে এনে ছিটকে সরে আসল কবরটা থেকে। তার হাতে একটা দন্ড দেখা যাচ্ছে। কারুকাজ করা একটা ওয়ান্ড। পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী জাদুদন্ড। এল্ডার ওয়ান্ড! সিরিয়াস র্যাচেলের দিকে তাকিয়ে বিব্রত একটা হাসি দেয়ার চেষ্টা করল। 'ভয়ের কিছু নেই। তোমাকে পরে সব কিছু ব্যাখ্যা করছি।' সিরিয়াস খেয়াল করল র্যাচেল এখনো অবাক দৃষ্টিতে ভাঙা কবরটার দিকে তাকিয়ে আছে। সম্ভবত এখনও বিষয়টা হজম করে উঠতে পারেনি। গত দুই দশকে এই নিয়ে দ্বিতীয়বারের মত কবরটা ভাঙা হল। প্রথমবার ভাঙা হয়েছিল ক্ষমতার জন্য, দ্বিতীয়বার একজন্য টিনেজ জাদুকরের একটা স্টুপিড প্ল্যানের জন্য। তবে সিরিয়াস জানে র্যাচেলকে এখন কবরটার দিকে তাকিয়ে থাকতে দেয়া যাবে না। এতে সবকিছু পুরোপুরি গোলমেলে হয়ে যাবে। সে র্যাচেলের মনোযোগ অন্যদিকে সরানোর চেষ্টা করল।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now