বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

হ্যারি পটার ফ্যানফিক--গুপ্তধন

"ফ্যান্টাসি" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X হ্যারি পটার ফ্যানফিক গুপ্তধন সালেহ আহমেদ মুবিন প্রফেসর ম্যাকগোনাগল প্রফেসর মুপিনের উপর অতিশয় বিরক্ত। তাকে ঠিকঠাক সময়ে ক্লাসে পাওয়া যায় না। প্রফেসর মুপিন হচ্ছেন হগওয়ার্টসের পোশন টিচার। তার আরেক পরিচয় তিনি রেমাস লুপিনের বাবার দাদার ছোট ভাইয়ের চাচার ছেলের নাতির ভাই। সম্পর্ক হিসেব করতে গিয়ে প্রফেসর মুপিনের ঝাকরা মাথার দু দুটো চুল পেকে গেছে। অবশেষে হিসেব ছেড়ে লুপিনকে চাচা মামা খালা নয়, বরং বড় ভাই হিসেবে মেনে নিয়েছেন তিনি। লুপিনকে বেশিদিন ভাই ডাকার সুযোগ অবশ্য তার হয়নি। সে যাই হোক, প্রফেসর মুপিন সাধারণত বাংলাদেশে তার বাসাতে একাকীই থাকেন। শুধুমাত্র ক্লাস এবং অন্যান্য বিশেষ সময়ে অ্যাপারেট করে আসেন হগওয়ার্টসে। প্রফেসর খুবই আরামপ্রিয় মানুষ। সারাদিন নাক ডেকে ঘুমান। মাঝেমধ্যে হগওয়ার্টসের জরুরী তলব পেয়ে ঘুম ভাঙে তার। ঘুম থেকে ভ্যাবাচেকা খেয়ে উঠে বসেন। দীর্ঘক্ষণ চিন্তা ভাবনা করে শেষতক মনে পড়ে আজকে তৃতীয় পিরিয়ডে তার প্রথম বর্ষের সাথে পোশন ক্লাস আছে। তড়িঘড়ি করে ছুটে যান হগওয়ার্টসে। ক্লাসে এসে একটা হুংকার ছাড়েন। এরপর তীব্র চোখে তাকান ছাত্রছাত্রীদের দিকে। অতঃপর ডেস্কে মাথা রেখে আবার ঘুমিয়ে পড়েন। এই প্রফেসর মুপিনই হঠাৎ একদিন গুপ্তধনের খোঁজ পেয়ে গেলেন। এই ঘটনাই খুলে বলব এবার। দিনটা ছিল মঙ্গলবার। কোন খেয়ালের বশে যেন প্রফেসর মুপিন নিষিদ্ধ বনের মধ্যে ঘুরতে গেলেন। তার প্রায়ই মনে হয় বনের মধ্যে একটা পার্ক বানালে মন্দ হতো না। প্রাতরাশের আগে ঘন্টাখানেক আরাম করে জগিং করা যেত। মাঝেমধ্যে অবশ্য গুটিকয়েক ভয়াল জন্তুর তাড়া খেয়ে অটো জগিং হয়ে যাবার সমূহ সম্ভাবনা থাকত। তাও মন্দ কি! মাথাভরা বিশাল মস্তিষ্কে এরকম নানা উচ্চমার্গের চিন্তা ভাবনা করতে করতে বনের নির্দিষ্ট অংশে এসে থামলেন তিনি। এ অংশটা বেশ ফাকা ফাকা। বন উজারের জোয়ার এই নিষিদ্ধ বনেও লেগেছে খানিকটা। এ অংশটাও তাই। ঘন বনের বৃহৎ গাছপালার মাঝে এ অংশে অনেক গাছই কেটে ফেলা হয়েছে। মাঝে সৃষ্টি হয়েছে বিশাল ফাকা জায়গার। মাথার মাঝ থেকে এক খাবলা চুল ছিড়ে ফেললে যেমন হবে অনেকটা তেমন। প্রফেসর মুপিন চিন্তিত মুখে বন উজার নিয়ে ভাবতে শুরু করে দিলেন। তেমন কুলকিনারা অবশ্য করতে পারলেন না। এমন সময় মোটাসোটা কমবয়সী এক সেন্ট্যরকে দেখা গেল। অরেঞ্জ, তার নাম। মাথায় ঝাকড়া সোনালী চুল। দেহের কোমরের পর থেকে ঘোড়ার মত, লেজটা গাঢ় সোনালী। ফিচলে বুদ্ধির জন্য অরেঞ্জ সেন্ট্যর সমাজে বিখ্যাত। প্রফেসর মুপিনকে দেখেই তার চোখে ফুটে উঠল কৌতুক দৃষ্টি। হেলেদুলে সে প্রফেসর মুপিনের দিকে এগিয়ে এসে অভিবাদন জানাল। প্রফেসর গম্ভীর মুখে কায়দা করে আলখাল্লা দুলিয়ে অভিবাদন গ্রহণ করলেন। "প্রফেসর দিনকাল যাচ্ছে কেমন?" অরেঞ্জ উৎফুল্ল স্বরে বলল। "আর দিনকাল। হারামজাদা চোরাকারবারীগুলো বনটাকে একদম উজাড় করে দিচ্ছে। সবগুলোকে আজকাবানে পুরে রাখা উচিৎ।" সেন্ট্যর অরেঞ্জ জোড়ে মাথা দোলাল। এরপর চলে আসলো আসল প্রসঙ্গে। গলার স্বর নামিয়ে ফিসফিসিয়ে ষড়যন্ত্রকারীদের ভঙ্গীতে বলল, “প্রফেসর, আপনাকে একটা গোপন খবর দিতে চাচ্ছি।“ প্রফেসর মুপিন অবাক দৃষ্টিতে তাকালেন। এরপর তিনিও ফিসফিসিয়ে জানতে চাইলেন, “ কি খবর, অরেঞ্জ?” “সম্প্রতি বনে উত্তর প্রান্তে গিয়েছেন?” রহস্যময় ভঙ্গীতে অরেঞ্জ বলল, “ওই যে জন্তু জানোয়ারের আস্তানা যেখানে।” প্রফেসর মুপিন অরেঞ্জকে মানুষ ভাবার দৃঢ় চেষ্টা করতে করতে বললেন, “না তো। ওখানে যেতে ভয় লাগে না? মানে বলতে চাইছি আমি তো আর ভয়টয় পাই না। রোমানিয়ায় দশটা ড্রাগন মারার রেকর্ড আছে আমার বুঝলে। আমি এসব ভয় পাই না। কিন্তু ধর কোন জন্তু যদি আমাকে আক্রমণ করে বসে, আর আমি যদি সেটাকে মেরে ফেলি, তখন আমার জাদুকরী ফাইট দেখে আবার কেউ ভয় পেয়ে যায় কিনা তাই ভাবছিলাম। এজন্যই যাই না ওদিকটায়।” “তা বটে, তা বটে। তো প্রফেসর এখন যদি যান ওদিকে খুব লাভবান হবেন।” গলার স্বর আরেকটু নামিয়ে ফেলল অরেঞ্জ। “ওখানে এখন রাশি রাশি গুপ্তধন ছড়িয়ে আছে।” প্রফেসর চট করে তাকালেন অরেঞ্জের দিকে। এরপর অবাক স্বরে বললেন, “বল কি? সত্যি নাকি?” অরেঞ্জ চওড়া হাসি ফুটিয়ে বলল, “হান্ড্রেড পার্সেন্ট সত্যি। একবার গিয়ে দেখেই আসুন না। রাশি রাশি স্বর্ণালি গুপ্তধন! আপনি প্রফেসর ভাল মানুষ বলেই আপনাকে বললাম।” প্রফেসরের চোখ চকচক করা শুরু করল। তিনি গদগদ স্বরে বললেন, “হ্যাঁ তা ঠিকই বলেছ। তবে চল এখনই গুপ্তধনগুলো দেখে আসা যাক। শুভ কাজে দেরি করতে নেই।” অরেঞ্জের হাসি দপ করে নিভে গেল। “আরে প্রফেসর এখন গিয়ে কি করবেন। তার চেয়ে বরং পরে যুদ্ধসাজে সজ্জিত হয়ে একাকী যাবেন। ভংকর প্রাণীদের এলাকায় আমার যাওয়া ঠিক হবে না।” প্রফেসর হাত নাড়িয়ে বললেন, “আরে ধুর। আমি একা যাব নাকি? মানে বলতে চাইছি যে আমি তো আছিই। তোমার আর চিন্তার কিসের! চল যাওয়া যাক।” প্রফেসরের জোড়াজুড়িতে নিতান্ত অনিচ্ছায় বনের উত্তর প্রান্তের দিকে নিয়ে চলল অরেঞ্জ। প্রফেসর সারাক্ষণ তটস্থ। একবার বলেই ফেললেন, “অরেঞ্জ, তুমি বরং সামনে সামনে যাও। বুঝোই তো হিংস্র জন্তু আমাকে আগেভাগেই আক্রমণ করলে তুমি বড় বিপদে পড়বে।” এরপর কাপতে কাপতে এগিয়ে চললেন। অবশেষে কোন বিপদ আপদ ছাড়াই বনের উত্তরে পৌছলেন তারা। জন্তু জানোয়ার সব সম্ভবত শিকারে গেছে। এ জায়গাটায় তারা শিকার করে না। পরে বিশেষ এক সময়ে তাদের পদচারণা ঘটে এখানে। অরেঞ্জ যে জায়গাটা দেখাল সেটা খানিকটা কম ঘন। মোটামুটি খোলামেলা। আশেপাশে কোন জন্তু জানোয়ারের নিশানা পাওয়া গেল না। আশ্বস্ত হয়ে প্রফেসর দৃঢ় পায়ে প্রান্তরটার কাছাকাছি পৌছে গেলেন। অরেঞ্জ ঠিকই বলেছে। প্রান্তরটায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে রাশি রাশি স্যাতস্যাতে নরম পদার্থ। প্রফেসর মুপিন নিজেকে মনে করিয়ে দিলেন ‘চকচক করলেই সোনা হয় না’। সুতরাং চকচক না করায় এগুলো মূল্যবান হতে বাধ্য। কেমন কটু গন্ধও আসছে। সেটাও কোন ব্যাপার না। গুপ্তধনে কটু গন্ধ থাকবে না তো কিসে থাকবে? অরেঞ্জ আবার ষড়যন্ত্রকারীদের মত গলা নামিয়ে বলল, “প্রফেসর এগুলো সব জানোয়ারেরা পাহাড়া দিয়ে রাখে। আপনার জন্যই খুঁজে বের করেছি এগুলো। সময় থাকতেই নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে ফেলুন।” প্রফেসর বিরক্ত দৃষ্টিতে তাকাল। “তুমি তো বলেছিলে গুপ্তধন। কিন্তু এগুলো তো গুপ্ত নয়, বরং উন্মুক্ত।” অরেঞ্জ ভ্যাবাচেকা খেয়ে গেল। এরপর নিজেকে সামলে নিয়ে বলল, “প্রফেসর, আপনিই এগুলোকে গুপ্তধন বানিয়ে ফেলুন। এগুলো তুলে নিয়ে বন উজাড় প্রান্তটায় গর্ত খুড়ে রেখে আসুন। এতে এগুলো হয়ে যাবে ‘গুপ্তধন’, সেই সাথে নিরাপদও থাকবে।” প্রফেসরের চোখ উজ্জ্বল হয়ে উঠল। “দারুন অরেঞ্জ। তোমাকে হর্স অভ দি ইয়ারের পুরষ্কার দেয়া উচিত।” দাঁত বের হয়ে গেল অরেঞ্জের। “আপনার মেহেরবান।” এরপর প্রফেসর ‘গুপ্তধন’গুলোর দিকে তাকিয়ে বললেন, “ইয়ে অরেঞ্জ, তুমি শিওর তো এগুলো খুব মূল্যবান গুপ্তধন, তাই না?” অরেঞ্জ হাতে কিল দিয়ে বলল, “হান্ড্রেড পার্সেন্ট শিওর, প্রফেসর। বিশ্বাস না হলে পিভসকে জিজ্ঞেস করে দেখতে পারেন।” প্রফেসর খুশিতে উজ্জ্বল হয়ে উঠলেন। অরেঞ্জ অনেক কষ্টে নিজের হাসি চেপে বলল, “আমি যাই তবে, প্রফেসর। আপনি এগুলো হাতে তুলে জমা করুন বরং।” এরপর সে দ্রুত বনের মধ্যে হারিয়ে গেল। তাড়াতাড়ি অন্যদের খবরটা জানিয়ে একচোট হাসা যাবে! এদিকে প্রফেসর আশেপাশে তড়িৎ নজর বুলিয়ে এগিয়ে গেলেন ‘গুপ্তধন’গুলোর দিকে। সারাটা জায়গায় স্যাতস্যাতে নরম ‘গুপ্তধন’ ছড়ানো। তিনি সেগুলোর কটু গন্ধ সহ্য করে দু হাত ভর্তি ‘গুপ্তধন’ নিয়ে বন উজাড় প্রান্তে আসলেন। এরপর গর্ত করে লুকিয়ে রাখলেন সেগুলো। কয়েকবার এই পদ্ধতি অনুসরণ করতে দেখা গেল তাকে। অবশেষে সেদিনের মত ক্ষান্ত দিলেন। ইতোমধ্যে তিনি মাখামাখি হয়ে গেছেন ‘গুপ্তধনে’। ‘গুপ্তধনে’ মাখমাখি হতেও আনন্দ! এভাবে টানা কয়েকদিন গুপ্তধন পাচার করলেন প্রফেসর। জন্তু জানোয়ারগুলো যখন শিকারে চলে যায় ঠিক তখনই সুযোগ বুঝে সুড়ুৎ করে বনে ঢুকে পড়েন তিনি। হঠাৎ একদিন খেয়াল করলেন তিনি ‘গুপ্তধন’ পাচার করলেও জাদুর মত সেগুলো আবার বেড়ে যাচ্ছে। খুশিতে গদগদ হয়ে গেলেন তিনি। মাঝে একদিন পিভসকে খুঁজে বের করলেন। একটা খালি ক্লাসরুমে সে ব্ল্যাকবোর্ডে শিক্ষকদের নামে জঘন্য কিছু ব্যাপার স্যাপার লিখছিল আর সেই সাথে গানও গাইছিল উচ্চ স্বরে। প্রফেসর মুপিনের নামে ব্ল্যাকবোর্ডে খুব অশ্লীল একটা কথা লেখা। সেটা পাত্তা না দিয়ে প্রফেসর মধুর স্বরে ডাক দিলেন পিভসকে। প্রফেসরকে দেখে ফিচলে হাসি ফুটে উঠল তার মুখে। প্রফেসর জিজ্ঞেস করলেন, “আচ্ছা পিভস, নিষিদ্ধ বনে নাকি গুপ্তধন আছে?” বিভ্রান্ত দৃষ্টিতে তাকাল পিভস। প্রফেসর সেটা খেয়াল করে দ্রুত যোগ করলেন, “ঐ যে কটু গন্ধযুক্ত গুপ্তধন।” কয়েক মুহুর্ত চিন্তা করল পিভস। এরপর হঠাৎই তার মুখে হাসি ফুটে উঠল। “প্রফেসর ঠিক বলেছ। ওখানে দুনিয়ার সবচেয়ে মূল্যবান ‘গুপ্তধন’ আছে। তোমার মগজের মতই অমূল্য!” এরপর সে খ্যাক খ্যাক করে হাসতে হাসতে রুম ত্যাগ করল। প্রফেসর অবশ্য সন্তুষ্ট বোধ করলেন। ওগুলো সত্যিই তবে গুপ্তধন। তিনি প্রতিদিনই ‘গুপ্তধন’গুলো হাত ভর্তি করে তুলে এনে পুতে ফেলেন বন উজাড় প্রান্তে। কাজ শেষে বিশ্রী কটু দুর্গন্ধযুক্ত শরীর নিয়ে খুশিমনে ক্যাসেলে ফিরে যান। তিনি এ কদিন এমনকি হগওয়ার্টসেই থেকে গেলেন। এজন্য ক্লাসেও ঠিকঠাক দেখা গেল তাকে। ব্যাপারটা নিঃসন্দেহে অদ্ভুত। বিষয়টা প্রথম খেয়াল করল হ্যাগ্রিড। প্রফেসর মুপিনের মত মানুষকে প্রতিদিন নিষিদ্ধ বনের মত জায়গায় ঢুকতে দেখা আশ্চর্যেরই বৈকি। পরদিনই হগ্রিড ক্যাক করে ধরলেন প্রফেসর মুপিনকে। “কি হে প্রফেসর, কোথায় যাওয়া হচ্ছে?” প্রফেসর চমকে উঠলেন। “ইয়ে মানে, মূত্র বিসর্জন করতে।“ মুখ ফসকে বলে ফেললেন প্রফেসর মুপিন। “হগওয়ার্টসে কি টয়লেটের অভাব নাকি?” “হ্যাগ্রিড, তুমি তো জানোই হগওয়ার্টসের টয়লেটগুলো ট্রলের আক্রমণের জন্য বিখ্যাত।“ গম্ভীর কন্ঠে বললেন প্রফেসর মুপিন। “এখন ধর আমি টয়লেটে গেলাম,বাই চান্স একটা ট্রল এসে হানা দিল টয়লেটে, কি হবে ভেবেছ? আমাকে দেখেই ট্রলটা নিশ্চিত ভয়ে মূর্ছা যাবে। এত বড় জন্তুটা সরাতে কি কেলেংকারি হবে চিন্তা করেছ?” “তোমাকে মেয়েদের টয়লেটে যেতে বলছে কে?” “ইয়ে মানে আসলে হয়েছে....ইয়ে..” হ্যাগ্রিড হুংকার দিয়ে বলল, “প্রফেসর, কি লুকাচ্ছ তুমি? ঝেড়ে কাশ।” প্রফেসর একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে হাল ছেড়ে দিল। ‘গুপ্তধন’গুলো বোধ হয় আর একা ভোগ করা হচ্ছে না। তিনি হ্যাগ্রিডকে খুলে বললেন সব ঘটনা। অরেঞ্জ আর বনের উত্তর প্রান্তের কথা শুনে ভ্রূ কোচকাল হ্যাগ্রিড। “চাইলে তুমি নিজ চোখে দেখে আসতে পারো। আমি ‘গুপ্তধন’গুলো গত কয়েকদিন ধরে নিজ হাতে মাটিতে লুকাচ্ছি।” হ্যাগ্রিড মাথা নাড়ল। অতঃপর সে আর প্রফেসর মুপিন রওনা দিল বনের উত্তর প্রান্তের দিকে। জানা অজানা লম্বা বড় বড় গাছগুলো পেরিয়ে চললেন তারা। দিনের বেলাতেও বনে কেমন অস্বচ্ছ অন্ধকার। উত্তর প্রান্তে পৌছাতেই ‘গুপ্তধন’গুলো নজরে আসল। প্রফেসর উৎফুল্ল কন্ঠে বললেন, “দেখ হ্যাগ্রিড। কত ‘গুপ্তধন’! ম্যাজিকের মত প্রতিদিন এগুলো বেড়েই চলেছে।” হ্যাগ্রিড কয়েক মুহুর্ত তাকিয়ে রইলেন ‘গুপ্তধন’গুলোর দিকে। এরপর প্রফেসর মুপিনের দিকে ধীরে ধীরে তাকিয়ে বললেন, “প্রফেসর, তুমি কি নিজ হাতে প্রতিদিন এগুলো স্থানান্তর করেছ?” বুক ফুলিয়ে মাথা নাড়লেন প্রফেসর। “আচ্ছা প্রফেসর, তুমি কি ড্রাগন চেন?” এমন অদ্ভুত প্রশ্নে কিঞ্চিত বিরক্ত হয়ে তাকালেন প্রফেসর। এরপর মুখে গাম্ভীর্য এনে বললেন, “কি যে বল! খালি হাতে মেরেছি দশটাকে।” “ওহ আচ্ছা”, একঘেয়ে স্বরে বলল হ্যাগ্রিড। “কিন্তু দুঃখজনক ব্যাপারটা হচ্ছে তুমি এখনও ড্রাগনের বিষ্ঠা চেন না।” “কি যে বল। নিজ হাতে একসময় ড্রাগনের বিষ্ঠা পরিষ্কার করেছি।” চট করে থেমে গেলেন তিনি।ভ্রূ কুচকে হ্যাগ্রিডের দিকে তাকালেন। সম্ভবত ধরতে পেরেছেন ব্যাপারটা। “হ্যাঁ”, বললেন হ্যাগ্রিড। “তোমার গুপ্তধনগুলো ড্রাগনের কাচা পায়খানা ব্যাতীত আর কিছু না! অভিনন্দন তোমাকে, প্রফেসর!” হ্যাগ্রিড নিজের হাসি আড়ালের কোন চেষ্টাই করল না। প্রফেসর মুপিন নিজের বিব্রতভাব অনেক কষ্টে গোপন করার চেষ্টা করলেন। এরপর বিরক্তস্বরে বিড়বিড় করলেন, “তাই তো বলি এমন উৎকট দুর্গন্ধ কেন!” . অতঃপর প্রফেসর মুপিন বিনা নোটিশে হগওয়ার্টস ত্যাগ করলেন। টানা এক সপ্তাহ তাকে ড্রাগন খোঁজা খুঁজেও কোথাও পাওয়া গেল না। এরইমধ্যে খুব স্বাভাবিকভাবেই প্রফেসর মুপিনের কাহিনী পরিণত হলো হগওয়ার্টসের সবচেয়ে বড় বিনোদনে। এক সপ্তাহ পর হার্বোলজির প্রফেসর নেভিল লংবটম ভ্যালেরিয়া আর জিলিউইড গাছ যোগাড় করার জন্য নিষিদ্ধ বনের দিকে গেলেন। ছাতা ফুলেরও প্রয়োজন তার। গ্রিন হাউজের সিলিঙে লাগাতে হবে। তিনি বনে ঢুকেই অবাক হয়ে আবিষ্কার করলেন যেখানে বন উজাড় হচ্ছিল সেখানে এখন ঘন গাছপালায় ভরপুর। একদম নিশ্ছিদ্র গাছের চাদর যেন। নানান ধরণের গাছপালা গজিয়েছে। গুটিকয়েক বৃহৎ ছাতাফুল বৃক্ষও দেখা গেল। ম্যাপল গাছও আছে গুটিকয়েক। বেশ বড় হয়ে উঠেছে এ কদিনেই। প্রফেসর লংবটম একেবারে হা হয়ে গেলেন। কিছুক্ষন পর তার মনে পড়ল ড্রাগনের বিষ্ঠা অতি চমৎকার জৈব সার। তিনি হাসিমুখে গাছপালা যোগাড় করে ক্যাসেলে ফিরলেন। এ খবরও খুব দ্রুত ছড়িয়ে গেল স্কুলে। হঠাৎ করেই প্রফেসর মুপিনকে বাহবা দিতে শুরু করল সবাই। অতঃপর অবশেষে প্রফেসরকে পরদিন বুক ফুলিয়ে স্কুলে আসতে দেখা গেল। প্রফেসর ব্লোফিস হাপ ছাড়লেন। ডিফেন্স এগেইনস্ট ডার্ক আর্টসের টিচার তিনি। এ কদিন প্রফেসর মুপিনের পোশন ক্লাসের প্রক্সি দিতে গিয়ে খবর হয়ে গেছে তার। পাতালে পোশনের ক্লাসরুমে গম্ভীরভাবে ঢুকলেন প্রফেসর মুপিন। প্রথম বর্ষের ক্লাস। স্লিদারিন আর গ্রিফিন্ডরের একসাথে। আলাদা ভাবে বসেছে দুই হাউজ। তাকে দেখেই সারা ক্লাস চিৎকার দিয়ে উঠল। এই ক্লাশ সবারই অতিশয় পছন্দের। একটা বিকট হুংকার ছেড়ে নিরবতা ফিরিয়ে আনলেন তিনি। এরপর গম্ভীর স্বরে বললেন, “বিচ্ছুর দল! সবাই ৩৯৪ পৃষ্ঠা বের কর।” ক্লাসের এককোণে স্লিদারিন অংশে বসেছে অ্যালবাস সেভেরাস পটার। সে দাঁত বের করে হেসে প্রফেসরের উদ্দেশ্যে বলল, “প্রফেসর মুপিন, আপনার ‘গুপ্তধনগুলোর খবর কি? সবাই বলছে ওগুলো নাকি আপনার মস্তিষ্কের মতই মহামূল্যবান!” হেসে উঠল সবাই। গ্রিফিন্ডর অংশ থেকে অ্যালবাসের কাজিন রোজ গ্র্যাঞ্জার উইজলি তার দিকে বিরক্ত দৃষ্টিতে তাকাল। টিচারদের অপমান সে ঠিক সহ্য করতে পারে না। অ্যালবাস ব্যাপারটা পাত্তা দিল না। তার পাশে বসা তার সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ বন্ধু স্করপিয়াস ম্যালফয়ের দিকে তাকিয়ে তাকিয়ে চোখ টিপে দিল। স্করপিয়াস অবশ্য খেয়াল করল না ব্যাপারটা। সে মুগ্ধ দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে রোজ উইজলির দিকে। প্রফেসর মুপিনের চোখ অবশ্য এড়াল না ব্যাপারটা। তিনি মনে মনে পিভসের চৌদ্দগুষ্টি উদ্ধার করে একখানা বিকট হুংকার ছাড়লেন। “খামোশ! পিচ্চি পটার। তোমরা সবাই মাথা মোটার দল।” এরপর তিনি আলখাল্লাটা কায়দা করে ঠিক করলেন। গম্ভীর স্বরে আবার বললেন, “আমি আসলে আগেই জানতাম ওগুলো খুব চমৎকার জৈব সার। এজন্যই তো ওগুলোকে বলেছি গুপ্তধন। দেখলে না কত সুন্দর আবার বন তার চিরায়ত রূপ ফিরে পেল। তোমরা কিচ্ছু বোঝ না। সবার মাথাভর্তি বিষ্ঠা!” পেছন থেকে কে যেন বলে উঠল, “ড্রাগনের বিষ্ঠা!” সারা ক্লাসে আবার বয়ে গেল বিকট হাসির জোয়ার। প্রফেসর মুপিন হতাশ দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলেন তার প্রিয় ছাত্রছাত্রীদের দিকে। (সমাপ্ত)


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৭৭ জন


এ জাতীয় গল্প

→ হ্যারি পটার ফ্যানফিক--গুপ্তধন

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now