বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

--হ্যাপি ওয়েডিং রাই এন্ড রাই স্কোয়ার--

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Bad Boy (০ পয়েন্ট)

X --হ্যাপি ওয়েডিং রাই এন্ড রাই স্কোয়ার-- . . রাইহান আমার কপালে ছোট্ট করে একটা চুমু এঁকে দিয়ে বুকে জড়িয়ে ধরলো। আমার ইচ্ছে হচ্ছে ওর বুকে মিশে যেতে।অদ্ভুত ভালোলাগা ঘিরে আছে আমাকে।শুধু আমাকে না যেন আমাদের এই রাতটাকে।সদ্য বিবাহিত দুজন নরনারীকে কিভাবে মহিত করে রেখেছে এই রাত।কই এর আগে তো রাইহানকে চিনতানও না আমি...!রাইহান আমাকে ছেড়ে দিয়ে বললো --আচ্ছা আমরা তুমি করে কথা বলি? কি উত্তর দেওয়া যায় ভাবছি।মনে মনে হাসি পাচ্ছে। --তো কি তুই করে বলবা? --ওবাবা তুমি দেখি তুমি করেই বলছো। --আচ্ছা আমাকে ওভাবে জড়িয়ে ধরলে কেনো? মুহূর্তের বেচারার কালো মুখ লজ্জায় আরো কালো হয়ে গেলো। --আসলে আমি দেখছিলাম তুমি স্বপ্ন নাকি সত্যি! --কেনো? --তোমাকে আমার জীবনসঙ্গীনি করে পাব আমি কখনো ভাবিনি। কিছু মনে না করলে আরেকবার জড়িয়ে ধরি? --হুম ধরো। শেষমেশ কি পাগলের পাল্লায় পড়লাম।আপাতত মাথায় কিছু আসছে না।বাসর রাতের কত প্লান ছিল আমার। স্বামীকে নিয়ে বাড়ির বাইরে বেরিয়ে আমার বাপের বাড়িতে বাসর রাত করবো। যদিও এটা খুবই বাড়াবাড়ি তবুও স্বপ্ন is স্বপ্ন। ওদিকে রাইহান গাধা জোকের মত লেগে আছে আমার সাথে।কথা বলবো তারও উপায় নেই। কখন ছাড়বে কে জানে! --রাইসা জানো তুমি খুব সুন্দর। --হুম জানি রাইহান সাহেব। --তোমাকে রাই বলে ডাকি রাইসা? --ডাকো।আমিও তোমাকে রাই বলে তাকবো। রাইহান থেকে রাই।উমমম নাহ রাই না আমি রাই আর তুমি রাই স্কোয়ার।হিহিহি --বাহ কি ভালো বুদ্ধি তোমার। আরেকবার জড়িয়ে ধরি?? --উফ কি লাগাইছ?লোকে বাসর রাতে কত কি করে আর ইনি একবার জড়িয়ে ধরছে আবার জড়িয়ে ধরছে।আমার অন্য প্লান আছে।আমরা এখন তোমার শ্বশুর বাড়ি যাব। --মানে?আমরা অন্য কিছু করবো না? --কি করবো? --এভাবে তাকাচ্ছ কেন?অবশ্য রাগলেও তোমাকে সুন্দর দেখাচ্ছে। --এখন তাড়াতাড়ি ড্রেস চেঞ্জ করে নাও রাই স্কোয়ার।আমরা এডভেঞ্চারে যাব --আমার কিন্তু ভয় লাগছে রাই। গেল বিদ্যুৎ চলে। ওমনি রাই স্কোয়ার আমাকে জড়িয়ে ধরলো।এটা কি হলো?সিনেমা বা গল্পে পড়েছি বিদ্যুৎ চলে গেলে মেয়ে জড়িয়ে ধরে ছেলেটাকে এখানে কাহিনি উল্টা কেনো। হঠাৎ হঠাৎ হঠাৎ ই আমার ঠোটে কারো ঠোটের স্পর্শ। হ্যা এটা চুমু তো। রাইহান আমাকে বোকা বানিয়েছে।বিদ্যুৎ চলে এসেছে।রাই স্কোয়ার আমাকে তার কোলে তুলে নিয়ে বিছানার দিকে নিয়ে যাচ্ছে।মুহূর্তেই কেঁদে দিলাম আমি। রাইহান আমাকে বিছানায় বসিয়ে নিচে আমার পায়ের কাছে বসে আমার দিকে তাকালো।আমি তাকাচ্ছি না ওর দিকে।কেঁদে চলেছি। --রাই কি হলো তোমার? --(--) --এই রাই বলোনা কাঁদছো কেনো? --(--) --আমার কষ্ট হচ্ছে রাই। বলোনা তোমার কি হয়েছে? --আমার বাসর রাতটাও কেন অন্য দের মত হবে বলতে পারো?আমি তো কত কিছু প্লান করেছিলাম।কেউ বাসর রাত গল্প করে কাটায়,কেউ চাঁদ দেখে কাটায়, কেউ কেউ শারীরিক সম্পর্কও শুরু করে দেয়,কেউ বলে যারা বাসর রাত ঘুমিয়ে কাটায় তারা নাকি হিজড়া।আচ্ছা আমি তো এসবের কোনোটাই চাই নি। আমি অন্য স্বপ্ন দেখেছিলাম।একটাই ইচ্ছে ছিল আমার।সেটাও কেন পূরণ হবে না বলতে পারো?? কাঁদতে লাগলাম আরো জোরে। কথাগুলা হজম করতে রাই স্কোয়ারের কিছুক্ষণ সময় লাগবে।আপাতত আমার দিকে বিমর্ষ হয়ে হা করে তাকিয়ে আছে।ইচ্ছে হচ্ছে মুখের ভিতর একটা কমলালেবু ঢুকিয়ে দিই কিন্তু না কমলালেবু কাউকে দিই না।আমি একা খাই। এখন একটা কমলালেবু খেতে পারলে ভালো হত। --তুমি কি করতে চাও বলো রাই আমি আছি তোমার সাথে। কান্না থামিয়ে আস্তে করে বললাম --আমার বাপের বাড়িতে যেয়ে বাসর রাত করতে চাই। তুমি এখন আমাকে ওখানে নিয়ে যাবে --রাই এটা বেশি বাড়াবাড়ি হয়ে যাবে। --জানতাম এটাই বলবা।থাক করতে হবে না আমার ইচ্ছে পূরণ। --ওকে চেঞ্জ করে নাও। বেছে বেছে লাল পাখি ড্রেস টা পড়লাম।রাই স্কোয়ারকেও বাধ্য করলাম লাল শার্ট পরতে। কালো মানুষকে লাল রংএ বেশ লাগছে।আর লাল আমার পছন্দের রং।এটুকু সময়েই রাই স্কোয়ারকে আমার ভালো লাগতে শুরু করেছে।আসলে সত্যি কথা কি যে ছেলে একটা মেয়ের স্বপ্ন সত্যি করতে তার পাশে থাকে তাকে সে মেয়ের ভালো লাগবেই। লাগতে বাধ্য। . --রাই স্কোয়ার প্রাচিল টপকাতে পারো? --হুম --তাহলে টপকাও আমিও আসছি। আমাকে নিজের কাছের টেনে নিয়ে রাইহান বললো --পাগল হয়ে গেছো?তুমি টপকাবে প্রাচিল? --তা নয়তো কি।তোমাদের বাড়িতে এত লোকজন গেট খুললে টের পেয়ে যাবে। --আমার কাছে এক্সট্রা চাবি আছে আমি আস্তে খুলছি। ভোর হওয়ার আগেই ফেরত আসতে হবে কিন্তু --ওকে ডান। . আমাদের বাড়িতে আসতে সময় লাগলো ৪৩মিনিট। অবশ্য রাত ১২টার সময় গাড়ি পাওয়া যাবে ভাবতেই পারি নি।ভোরবেলা যাতে ওবাড়িতে পৌঁছে দেয় সেজন্য গাড়ি ঠিকও করলাম। . আম্মা আমাকে আর তার জামাইকে দেখে হা হয়ে গেছে।এমন করবো আগেই বলেছিলাম আম্মাকে।বাবা ঘুমের ওষুধ খায় তিনি মরার মত ঘুমুচ্ছেন। চলে এলাম আমার রুমে। আমার স্বপ্নের রুমে।আচ্ছা আপনারা কখনো শুনেছেন বউকে নিজের হাতে বাসর ঘর সাজাতে?নিশ্চয়ই বলবেন শুনেন নি! শুনেন নি তো কি এখন তো পড়ছেন তাইনা।আমার বিয়ের আগে আমি নিজের হাতে আমার বাসর ঘর সাজিয়েছি।কিছু লোক সহ্য না করতে পেরে বলবে এগুলা শুধু গল্পেই সম্ভব। ওলি বাবালে তো আমি কি বলছি এটা সত্যি কাহিনি!!যাইহোক আমার প্রিয় লাল রংএর যত ফুল আছে সেগুলো দিয়ে রুমটা সাজিয়েছি। রাই স্কোয়ারকে রুমে ঢুকিয়ে বললাম --সারপ্রাইজ............... ও কি করবে ভেবে পাচ্ছিল না।এই কাহিনির হিরো টা যেন আমি। আম্মুর সামনেই আমার গালে চকাস শব্দ করে একটা চুমু খেয়ে বসলো। নিজেরই লজ্জা লাগছে।আম্মা নাজানি কি ভাবছে। আম্মা বললো --তোরা থাক। যে কেক আনতে বলেছিলি সেটা নিয়ে আসছি আমি। আম্মা চলে যাওয়ার পর ওকে বললাম --এটা কি করলে তুমি? --তুমি এত পাগলি আমি ভাবতেও পারি নি।আমি সবসময় এমন একটা পাগলী বউ ই চাইতাম।জিএফ তো কখনো জুটে নি আমার কপালে। --এই এই মন খারাপ করে না।তাকাও আমার দিকে।আমি জুটেছি না....!!! দরজায় টোকা দিয়ে আম্মা বললো --এহেম এহেম..এই নিন আপনার কেক। হ্যাপি ওয়েডিং রাই এন্ড রাই স্কোয়ার। আম্মাকে জড়িয়ে ধরলাম। লম্বা একটা উম্মা দিয়ে থ্যাংকস দিলাম। সন্তানকে সাপোর্ট করতে আমার আম্মার মত কোনো মাকে দেখি নি। দরজা দিয়ে রাই স্কোয়ারের দিকে তাকালাম।ওনার চোখ পানিতে টইটম্বুর। ইচ্ছে হলে সাঁতার দেওয়া যাবে। --তুমি আগেই আমার নাম রাই স্কোয়ার রেখেছিলে? --হুম প্রথম যখন শুনি। --তখন থেকে এসব প্লান করছো? --হুম করছি।আমি চাই আমার বর আমার পাগলামীতে পাগল হয়ে যাক। রাই স্কোয়ার মুচকি হাসি দিল। একটা মুচকি হাসি অনেক কিছু বুঝিয়ে দিল। সে পাগল হয়ে গেছে আমার পাগলামীতে।আমার মনের পাগলীগারদে ভর্তি করার সময় এসে গেছে।হিহি...... . .


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮৩ জন


এ জাতীয় গল্প

→ --হ্যাপি ওয়েডিং রাই এন্ড রাই স্কোয়ার--

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now