বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

গুলাগ থেকে টুইনটাওয়ার চ্যাপ্টার- ৪

"সাইমুম সিরিজ" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X ৪ সান্তাসিমা উপত্যকার পাশে হাইওয়ে থেকে একটু নেমে গাড়ি দাঁড়িয়ে পড়ল। গাড়ির ড্রাইভিং সিট থেকে প্রথমে নামল হাসান তারিক। আহমদ মুসাও নামল তার পরে পাশের সিট থেকে। ‘ঠিক এখান দিয়েই সুলিভানের গাড়িকে রাস্তায় উঠতে দেখেছিলাম।’ বলল হাসান তারিক। আহমদ মুসা চারদিকে তাকাল। দেখল, তারা যেখানে দাঁড়িয়ে আছে সেখান থেকে বড় গাছ পালা মুক্ত একটা করিডোর এঁকে-বেঁকে সামনে এগিয়ে গেছে। তার দুপাশেই ঝোপ-ঝাড় ও গাছ-পালা। পাথরে-মাটিতে মেশানো ভূমি। ঘাসে ঢাকা। ‘সুলিভান নিশ্চয় গাড়িটা সড়ক থেকে দেখা যাবে এমন জায়গায় পার্ক করেনি। মনে হয় যতটা পেরেছে ভেতরে নিয়েছে। এখন দেখ, গাড়ি যাওয়ার চিহ্নটা খুঁজে পাওয়া যায় কিনা। তাহলে কিছুটা অন্তত পরিষ্কার হবে যে, কেন সে এখানে এসেছিল? এদিকে তাদের নতুন কোন আস্তানা আছে কিনা।’ আহমদ মুসা বলল। আহমদ মুসা ও হাসান তারিক দুজনেই গাড়ির চাকার চিহ্ন খুঁজতে লাগল। যে গাড়ি সুলিভান ব্যবহার করেছিল তা বড় গাড়ি না হলেও আমেরিকান কারটির ওজন কম নয়। এ ওজনের চাপে কচি ঘাস যে থেতলে যাবে, পাতা ছিঁড়ে যাবে, কচি গাছগুলো ভেঙে যাবে, তা খুবই সাধারন দৃশ্য। আহমদ মুসারা এই চিহ্নই সন্ধান করতে লাগল। অবাক হলো তারা সন্ধান করতে গিয়ে। দেখল, ঘাসে ঢাকা করিডোরটার মাঝামাঝি লম্বা-লম্বি গোটা জায়গারই ঘাস অনেকটা থেতলানো, পাতা ছেঁড়া এবং কচি গাছও মাঝে মাঝে পিষ্ট হওয়া। বিস্ময়ের ব্যাপার হলো, থেতলানো ও ছেঁড়া কোন ঘাস বা কচি গাছ মরে শুকিয়ে গেছে, কোনটা আবার থেতলানো ও ছেঁড়া হলেও ঐভাবে মরে যায়নি। বিস্মিত আহমদ মুসা বিষয়টার দিকে হাসান তারিকের দৃষ্টি আকর্ষণ করল। ভ্রুকুঞ্চিত হলো হাসান তারিকের। বলল, ‘ঠিক বলেছেন ভাইয়া। বিষয়টা এতক্ষণ আমি খেয়াল করিনি। এটা একটা বিরাট ব্যাপার। এর অর্থ হলো, শুধু সুলিভানের গাড়ি নয়, এ ধরনের গাড়ি এখানে আগেও এসেছে। হয়তো বার বারই এসেছে।’ ভাবছিল আহমদ মুসা। বলল, ‘আর সুলিভানদের মত গাড়ি বার বার আসার অর্থ হলো, সামনে এমন কিছু আছে, যেখানে গাড়িগুলো এসেছে।’ ‘ঠিক বলেছেন ভাইয়া। কিন্তু প্রশ্ন হলো, সান্তাসিমা উপত্যকার পাথুরে জেটি ছাড়াও তাদের আর কোন ঘাঁটি কি এদিকে আছে, কেলভিনের কথায় কিন্তু এটা বুঝা যায়নি।’ বলল হাসান তারিক। ‘সান্তাসিমার এ পাশটাকে সান্তাসিমা উপত্যকার বাইরে ধরছ কেন?’ আহমদ মুসা বলল। ‘তাও হতে পারে।’ ‘চল, গাড়ির এ ট্রাক ধরে আমরা এগিয়ে যাই।’ বলে হাঁটা শুরু করল আহমদ মুসা। হাসান তারিকও চলল পাশাপাশি। যতই সামনে, মানে উত্তরে এগুতে লাগল তারা, ততই এঁকে-বেঁকে অনেক ঝোপ-ঝাড় পাশ কাটিয়ে এগিয়ে যাওয়া ঘাসের করিডোরটায় ছোট-খাট আগাছা ও গাছ-গাছড়ার সংখ্যা বাড়তে লাগল। এখানে গাড়ি যাতায়াতের ট্রাকটা আরও ষ্পষ্ট হয়ে উঠেছে। বিস্ময় বাড়তে লাগল আহমদ মুসা ও হাসান তারিকের। জংগলের মধ্যে এভাবে গাড়ি নিয়ে আসার রহস্য কি! রহস্য কি না বুঝলেও কোন একটা বড় ব্যাপার আছে, সে বিষয়ে তারা নিশ্চিত হলো। একটা পাহাড়ের বড় টিলার গোড়ায় এসে তাদের এই যাত্রা শেষ হয়ে গেল। দেখল, টিলাটার গোড়ায় এসে গাড়ি চলার সেই ট্রাকটা শেষ হয়ে গেছে। আহমদ মুসারা থমকে দাঁড়াল সেখানে। চারদিকে তাকাল আহমদ মুসা। ‘ভাইয়া উপকূল কিন্তু খুব বেশি দূরে নয়।’ বলল হাসান তারিক। ‘কিন্তু সামনেটা আরও উঁচু হয়ে উঠেছে। সান্তাসিমা উপত্যকার মত ভূমি হঠাৎ নিচু হয়ে উপকূলের সমান্তরাল হয়ে যায়নি।’ আহমদ মুসা বলল। ‘হ্যাঁ ভাইয়া। আমার মনে হয় সামনের পাহাড়টা সাগর থেকে উঠে এসেছে। সেখানে হয়তো আমরা কোন নাব্য উপকূল পাব না।’ বলল হাসান তারিক। ‘আমরা উপকূলে যাচ্ছি না হাসান তারিক। গাড়ির লোকরা কোথায় এসেছিল সেটা খুঁজছি। আমার ধারণা এটা ওদের উপকূলে যাবার কোন রাস্তা নয়। মিনি-সাবের নোঙরের জন্যে তারা যে সান্তাসিমার পাথুরে জেটিটাকেই ব্যবহার করে, সেটা তো সেদিন আমরা নিজেদের চোখেই দেখিছি।’ আহমদ মুসা বলল। ‘এই জংগলে তাহলে তারা কেন আসবে?’ বলল হাসান তারিক। ভাবছিল আহমদ মুসা। বলল এক সময় সে উৎসাহিত কণ্ঠে, ‘খেয়াল করেছ হাসান তারিক, সেদিন মিনি-সাব যখন সান্তাসিমা জেটিতে এসেছিল, সে সময়টাতেই সুলিভান এই জংগলে বা এই এলাকায় ছিল।’ ‘ভাইয়া তাহলে আপনি বলতে চাচ্ছেন, মিনি-সাব নোঙর করা ও সুলিভান এখানে আসার মধ্যে একটা যোগসূত্র আছে।’ হাসান তারিক বলল। ‘যোগসূত্র না থাকলে ঠিক এ সময় সুলিভান এখানে এসেছিল কেন?’ স্বগত প্রশ্ন আহমদ মুসার। ‘জেটিতেই তো আমরা লুকিয়ে ছিলাম। সুলিভান তো সেখানে যায়নি।’ বলল হাসান তারিক। ‘হতে পারে সুলিভান বা মিনি-সাব আমাদের অবস্থান টের পেয়েছিল। সুলিভানও সেখানে যায়নি এবং মিনি সাবও জেটিতে নোঙর করেনি।’ বলে মুহূর্ত খানেক থামল আহমদ মুসা। তারপর আবার বলে উঠল, ‘কিন্তু এমন কিছু ঘটার অর্থ হলো, সুলিভান আমাদের অবস্থান টের পেয়েছিল। যদি তা পেয়ে থাকে, তাহলে সংগে সংগে তা ডেভিড ডেনিমদের জানাবার কথা। কিন্তু ডেভিড ডেনিমদের কথা বার্তায় এমন কিছু আঁচ করা যায়নি।’ ‘আমরা বিরাট ধাঁধায় পড়ে গেলাম ভাইয়া। কোনটাকে সত্য বলে গ্রহণ করব’। বলল হাসান তারিক। ‘সুলিভানদের গাড়ি এখানে বার বার আসে এটাকেই সত্য বলে গ্রহণ করব। এস, কেন এসেছিল এ সত্যটা বের করি, তাহলে সবকিছুই পরিষ্কার হয়ে যাবে।’ বলে আহমদ মুসা মনোযোগ নিবিষ্ট করল তার চারপাশে। বুঝার চেষ্টা করল, গাড়ি থেকে নেমে কোন দিকে গেছে। এ সময় হাসান তারিক একটু পুব দিকে এগিয়ে ঝুঁকে পড়ে একটা কচি চারা হাতে তুলে নিয়ে আহমদ মুসাকে দেখিয়ে বলল, ‘দেখুন এ চারা গাছটা গোড়া ভেঙে পড়েছিল, অনেকখানি শুকিয়ে গেছে।’ ‘আহমদ মুসার মুখ আনন্দে উজ্জ্বল হয়ে উঠল। বলল, ‘চল আমাদের ডান দিকেই এগুতে হবে।’ একটু এগিয়ে আহমদ মুসা দেখল, একটা পাথর তার জায়গা থেকে উপড়ে উল্টে আছে। আহমদ মুসা হাসান তারিককে পাথরটা দেখিয়ে বলল, ‘আমরা ঠিক পথেই এগুচ্ছি হাসান তারিক।’ আহমদ মুসারা এইভাবে ছোট-খাট চিহ্ন অনুসরণ করে টিলাটার দক্ষিণ পাশ হয়ে পূব পাশ ঘুরে উত্তর পাশে গিয়ে পৌছল। টিলাটার উত্তর পাশে একটা অগভীর উপত্যকা। উপত্যকাটার পরেই একটা পাথুরে পাহাড়। পাহাড়টার নিচের দিকটা জংগলে ঢাকা হলেও উপরের অংশ অনেকটাই নাংগা, সলিড পাথরের। মাঝে মাঝে গাছ আছে। আহমদ মুসারা চিহ্ন ধরে পাথুরে পাহাড়টারও উত্তর প্রান্তে গিয়ে পৌছল। সামনে তাকাতেই দেখতে পেল পাহাড়ের গোড়ায় একটা আগের মতই অগভীর, কিন্তু সংকীর্ণ উপত্যকা। উপত্যকার পরেই উঁচু হয়ে উঠেছে একটা উচ্চভূমি এবং ছাদের আকারে তা কিছুটা এগিয়ে গেছে। তার পরেই সাগর। নিচের সংকীর্ণ উপত্যকাটা ঘন গাছ-পালায় ঢাকা। জংগলের উপর চোখ পড়তেই একটা বিষয়ের প্রতি তার দৃষ্টি দারুণভাবে আকৃষ্ট হলো। দেখল, অনেকগুলো গাছের মধ্যে দাঁড়ানো একটা দেবদারুর মত সোজা লম্বা হয়ে ওঠা গাছের মাথাটা ভাঙা। ভাঙা মাথাটা ঝুলে আছে। ভাঙা অংশটা শুকিয়ে গেছে। আহমদ মুসার মুখটা উজ্জ্বল হয়ে উঠল। গাছের ভাঙা মাথাটা হাসান তারিককে দেখিয়ে বলল, ‘আমার মনে হয় ওটা একটা সংকেত হাসান তারিক।’ ‘আপনি মনে করেন, কেউ ডালটা ভেঙে রেখেছে?’ হাসান তারিক বলল। ‘আমার তাই মনে হয়।’ বলল আহমদ মুসা। ‘ঝড় বা অন্য কোন কারণেও তো ভাঙতে পারে?’ হাসান তারিক বলল। ‘দেখ, গাছটার পূব, পশ্চিম ও উত্তর সব দিকেই গাছের প্রাচীর। দক্ষিণ দিকটা ফাঁকা। কিন্তু এদিকে আবার পাহাড়ের প্রাচীর। সুতরাং এই অবস্থায় অপেক্ষাকৃত ছোট গাছটা এইভাবে ভাঙতে পারে না।’ বলল আহমদ মুসা। ‘যুক্তিটা ঠিক ভাইয়া।’ হাসান তারিক বলল। ‘চল ওদিকে দেখি ব্যাপারটা কি?’ বলল আহমদ মুসা। বলে আহমদ মুসা পাহাড় থেকে উপত্যকার দিকে নামতে শুরু করল। সাথে হাসান তারিকও। উপত্যকায় নেমে এল আহমদ মুসারা। উপত্যকার তলাটা ঘন আগাছায় ভরা। ‘ভাইয়া এখানেও লোক চলাচলের চিহ্ন পাওয়া যাচ্ছে।’ হাসান তারিক বলল। ‘কিন্তু হাসান তারিক একটা জিনিস দেখ, পেছনে আমরা যেমনটা দেখে এসেছি, এখানকার ঘাস ও আগাছা সে রকম দলিত-মত্থিত নয়। এখানে চলাফেরা হয়েছে খুব সাবধানে।’ বলল আহমদ মুসা। ‘কারণ বোধ হয় এই যে, এখানে ওদের আগমন ওরা লুকাতে চেয়েছে। কিন্তু কেন?’ ‘ব্যাপারটা মনে হয় ঠিকানা লুকাবার মত। আমরা হয়তো ওদের গুরুত্বপূর্ণ কোন কিছুর কাছাকাছি পৌছে গেছি।’ আহমদ মুসা বলল। আহমদ মুসা ও হাসান তারিক দুজনেই চারদিকে সতর্কভাবে চোখ বুলাতে লাগল। কিন্তু দৃষ্টি আকর্ষণের মত কোন কিছুই কোথাও দেখল না। ‘চল আমরা মাথা ভাঙা গাছটার দিকে আগাই।’ আহমদ মুসা বলল। গাছের গোড়ায় পৌছার আগেই গাছের উত্তর পাশে গাছের নিচেই গাছ-আগাছার একটা বৃত্ত তার দৃষ্টি আকর্ষণ করল। বৃত্তটার বহিঃসীমা অস্পষ্ট হলেও বৃত্তটা চারপাশের জংগল থেকে আলাদা হয়ে গেছে তা একটু সতর্ক দৃষ্টিতেই চোখে পড়ে। বৃত্তের ভেতরের ঘাস-আগাছার জংগল প্রাকৃতিকভাবে বিন্যস্ত নয়, পরিকল্পিতভাবে সাজানো। এই পার্থক্যই বৃত্তকে আলাদা করেছে। আহমদ মুসা বৃত্তটা দেখাল হাসান তারিককে। বিস্মিত কণ্ঠে হাসান তারিক বলল, ‘উপরে গাছের ডাল ভেঙে রাখা, নিচে জংগলের একটা ম্যান-মেড বৃত্তের নিশ্চয় একটা অর্থ আছে ভাইয়া।’ আহমদ মুসা কোন জবাব দিল না। এগুলো গাছের গোড়ায় বৃত্তটার দিকে। হাসান তারিকও। বৃত্তটার পাশে পৌছতেই হাসান তারিক বলে উঠল, ‘বৃত্তটাকে এখন কিন্তু ভাইয়া চারদিক থেকে জংগল এলাকা থেকে আলাদা করা যাচ্ছে না।’ ‘হ্যাঁ তাই হয়। শিল্পীদের এক শ্রেণীর ছবিকে কাছ থেকে দেখালে তার কোন আকার বুঝা যায় না। কিন্তু দূর থেকে দেখলে আকার পরিষ্কার হয়ে ওঠে। এ ব্যাপারটাও সে রকম। এ বৃত্তটাকে অন্য মানুষের চোখ থেকে লুকাবার জন্যে এটা একটা কৌশল।’ বলেই আহমদ মুসা বৃত্তের চারদিকটা দেখতে লাগল। মাটির উপর ঝুঁকে পড়ে পরীক্ষা করতে গিয়ে আহমদ মুসা দেখল, ‘বাইরের সাথে বৃত্তের প্রান্ত বরাবর ফাটল এবং তার সাথে কিছুটা আলগা মাটিও ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা। ব্যাপারটা হাসান তারিকেরও নজরে পড়েছিল। সে বিস্মিত। বলল সে আহমদ মুসাকে লক্ষ্য করে, ‘ভাইয়া মনে হচ্ছে যেন বৃত্ত একটা আলগা জিনিস।’ ‘তোমার চিন্তায় আরেকটা বিষয়ও যোগ কর। দেখ বৃত্তের প্রান্ত ধুলি ধূসরিত হলেও খুব শক্ত। যেন সিমেন্টে তৈরী । তার অর্থ প্রান্তটা প্রাকৃতিক নয় বিশেষভাবে তৈরী করা হয়েছে।’ বলে উঠে দাঁড়াল আহমদ মুসা। তার কপাল কুঞ্চিত। ভাবছে আহমদ মুসা। হাসান তারিকও উঠে দাঁড়িয়েছে। তারও চোখে-মুখে বিস্ময়। আহমদ মুসা আবার ঘুরে এল বৃত্তটার কাছে। বলল, ‘বৃত্তটাকে ম্যানহোলের ঢাকনার মত কিছু বললে কেমন হয়?’ চোখ কপালে তুলল হাসান তারিক। তার মানে জংগল-ঢাকা এই গোটা বৃত্তটা সরানো যাবে?’ ‘প্রান্ত বরাবর আলগা মাটি দেখে মনে হচ্ছে এটা উঠেছে-নেমেছে।’ আহমদ মুসা বলল। ‘কিন্তু কিভাবে সম্ভব? কেনইবা উঠবে? এই জংগলে এমন বিদঘুটে জায়গায় কি থাকতে পারে?’ হাসান তারিক বলল। আহমদ মুসা ভাবছিল। তাকিয়েছিল পূব দিকে। বলল, ‘আমরা সান্তাসিমা পাথুরে জেটির প্রায় সমান্তরালে দাঁড়িয়ে আছি। এখান থেকে পাথুরে জেটিটা কতগজ হবে হাসান তারিক?’ হাসান তারিক পূব দিকটা একটু ভাল করে দেখে বলল, ‘ভাইয়া আমরা তো পাথুরে জেটিটার পাশেই দাঁড়িয়ে আছি। পাথুরে জেটির পশ্চিম পাশে যে পাথুরে দেয়াল দেখেছি, যাকে আমরা পাহাড় ভেবেছি, সেটা আমাদের সামনের উচ্চভূমির দেয়াল। আমাদের এখান থেকে সে দেয়ালের দূরত্ব বিশ-পঁচিশ গজের বেশি হবে না।’ আহমদ মুসার মুখ উজ্জ্বল হয়ে উঠল। বলল, ‘এই বৃত্তটা যদি কোন ঢাকনা জাতীয় কিছু হয়, তাহলে আমার মনে হচ্ছে এই হাইল্যান্ডের নিচে কোন স্থাপনা তৈরী করা হয়েছে যার সাথে পাথুরে জেটির সম্পর্ক আছে।’ হাসান তারিক সংগে সংগে কথা বলল না। তার চোখে-মুখে আনন্দ ও বিস্ময়ের সমাহার। পরে ধীরে ধীরে বলল, ‘তাহলে ভাইয়া, সান্তাসিমা উপত্যকার এই আসল ঘাঁটি। এখানে ঢোকার পথও তাহলে এই বৃত্ত-মুখটাই।’ বলে একটু থেমেই আবার বলা শুরু করল হাসান তারিক, ‘বৃত্তটা একটা ঢাকনা হলে বাইরে খোলার একটা পথ অবশ্যই থাকবে। সেটাই এখন আমাদের দেখা দরকার ভাইয়া।’ ‘হ্যাঁ, এটা কোন ঢাকনা হলে তা খোলার উপায় তো অবশ্যই থাকবে।’ বলে আহমদ মুসা বসে পড়ল। বৃত্তের উপর আবার চোখ বুলাতে লাগল। কিন্তু চারদিক ঘুরেও সন্দেহ করার মত কিছু পেল না। আহমদ মুসা নিশ্চিত যে, কোন ইলেক্ট্রনিক ব্যবস্থা ছাড়া এ ধরনের দৈত্যাকার ঢাকনা উঠানো নামানো সম্ভব নয়। ইলেক্ট্রনিক ব্যবস্থার সে ধরনের কৌশল খুঁজে পেল না আহমদ মুসা। কিন্তু মাথা ভাঙা গাছটার বরাবরে এসে আহমদ মুসা বৃত্তের বাইরে আগাছার ভেতর আলগা মাটির একটা অস্পষ্ট লাইন দেখতে পেল। আগাছার মধ্যে এ ধরনের আলগা মাটি অস্বাভাবিক। আহমদ মুসা দুহাতে আগাছা দুদিকে সরিয়ে ভালো করে দেখল আলগা মাটির লাইনটাকে। আলগা মাটির এ লাইনটি শুরু হয়েছে বৃত্তের প্রান্তের সাথে লেগে থাকা বাইরের মাটির প্রায় কোনা থেকে। আর শেষ হয়েছে গাছের গোড়ায় গিয়ে। আহমদ মুসা মাটির ট্রাকটি অনুসরণ করে গাছের গোড়ায় গিয়ে পৌছল। ঘাস ও আগাছার ভিড়ে গাছের গোড়াটা দেখাই যায় না। আহমদ মুসা আলগা মাটির লাইন সোজা গাছের জায়গাটার আগাছার ফাঁক দিয়ে তাকাল গাছের গোড়ার দিকে। দেখতে পেল মাটি থেকে পাঁচ-ছয় ইঞ্চি উপরে গাছের গোড়ার একটা জায়গা চার বর্গ ইঞ্চি আকারে গোল করে কাটা এবং মাটি থেকে কাটা পর্যন্ত জায়গাটা গাছের পাতা দিয়ে ঢেকে দেয়া। আহমদ মুসা ডান হাতে জংগল ফাঁক করে রেখে বাঁ হাত দিয়ে পাতাগুলো সরিয়ে ফেলল। সংগে সংগেই তার নজরে পড়ল গাছের গা বেয়ে মাটি থেকে উঠে আসা একটা বিদ্যুতের তার। দুচোখ উজ্জ্বল হয়ে উঠল আহমদ মুসার। কাটা অংশটা ধরে টান দিল। হাতের সাথে কাটা অংশটা উঠে এল। কাটা অংশটা ছিল ঢাকনার মত লাগানো। ঢাকনা তুলতেই দেখা গেল প্লাষ্টিকের একটা ক্ষুদ্র সুইচ বক্স। সুইচ প্যানেলের একটা প্রান্ত নীল, অন্য প্রান্তটা লাল। সুইচটা নীল প্রান্তে টেনে দেয়া আছে। আহমদ মুসা সোজা হয়ে দাঁড়াল। পেছনেই দাঁড়িয়েছিল হাসান তারিক। হাসান তারিকও দেখতে পেয়েছিল সবকিছু। আহমদ মুসা উঠে দাঁড়াতেই হাসান তারিক বলে উঠল, ‘ভাইয়া, সত্যিই আমরা ঠিক জায়গায় এসে গেছি। এখানে সুইচ টিপেই এই দৈত্যাকার ঢাকনাটা খোলা যাবে।’ ‘হ্যাঁ হাসান তারিক। সুইচটা নীল প্রান্ত থেকে লাল প্রান্তে আনলেই সিঁড়ি বা গুহা মুখের ঢাকনাটা খুলে যাবে। কিন্তু আমি ভাবছি হাসান তারিক, এটা দরজা খোলার সুইচ, না দরজা খোলার জন্যে সংকেত পৌছাবার সুইচ।’ চিন্তা জড়িত কণ্ঠে বলল আহমদ মুসা। ‘যেটাই হোক ভাইয়া, সুইচ টিপলে দরজা খুলে যাবে।’ বলল হাসান তারিক। ‘তা ঠিক। কিন্তু এটা দরজা খোলার সংকেত হলে, দরজার মুখেই লোক থাকবে আমাদের স্বাগত জানানোর জন্যে।’ ‘এর পরেও তো আমাদের সামনে এগুতে হবে ভাইয়া।’ হাসান তারিক বলল। ‘হ্যাঁ হাসান তারিক তৈরী হও। রিভলবারটা হাতে নাও। ঢাকনাটার প্রান্তে গিয়ে দাঁড়াও। আমি সুইচ টিপছি।’ বলে আহমদ মুসা হাত বাড়াল সুইচের দিকে। আর বাম হাত দিয়ে পকেট থেকে তুলে নিল মেশিন রিভলবার। অন্যদিকে হাসান তারিক পকেট থেকে রিভলবার তুলে নিয়ে ছুটল ঢাকনার প্রান্তে। আহমদ মুসা সুইচ বক্সের সাদা বোতামটাকে টেনে আনল নীল প্রান্ত থেকে লাল প্রান্তে। সংগে সংগে শীষ দেয়ার মত একটা শব্দ হলো। আহমদ মুসা তাকাল বৃত্তাকার ঢাকনার দিকে। দেখল বৃত্তাকার ঢাকনা নিচে নেমে যাচ্ছে। ফুট দুয়েক নামার পর ঢাকনাটা দ্রুত পাশে সরে গেল। আহমদ মুসা দৌড়ে গিয়ে হাসান তারিকের পাশে দাঁড়াল। দেখল, তারা একটা সিঁড়ির মুখে দাঁড়িয়ে। সিঁড়ির গোড়াটা একটা আলোকিত ঘরে। পাথুরে মেঝের একটা ঘর ওটা। আহমদ মুসা সিঁড়িতে পা রেখে বলল, ‘আমি নামছি, তুমি এস।’ আহমদ মুসা ও হাসান তারিক দুজনেই তরতর করে সিঁড়ি দিয়ে নেমে গেল। আহমদ মুসারা পা রাখল ঘরে। চতুষ্কোণ একটা ঘর। পাথুরে মেঝে, পাথুরে ছাদ। পাশের দেয়াল ছোট-বড় পাথর গেঁথে তৈরী। ঘরে জানালা নেই, একটি দরজা। ঘরটা শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত। ঘরে কোন আসবাবপত্র নেই। তবে সিঁড়ির পেছনের দেয়ালে অনেকগুলো বাক্স সাজিয়ে রাখা। ‘বাক্সগুলো একটু দেখা দরকার।’ ফিসফিস করে বলল আহমদ মুসা । সংগে সংগেই হাসান তারিক ছুটল বাক্সগুলোর দিকে। পকেট থেকে ছুরি বের করে একটা বাক্সের উপরের কভারটা কেটে ফেলল। বাক্সে বই ভর্তি। একটা বই হাতে তুলে নিল আহমদ মুসা। নজর বুলাল শিরোনামের উপর ঃ ‘বাইফেইথ ইসলামিষ্টস আর টেররিষ্ট’। ইংরেজী ভাষার এ গ্রন্থ লিখেছেন ‘ এ গ্রুপ অব ইউরোপীয়ান পিপল।’ প্রকাশকের জায়গায় লেখা ‘ক্রিশ্চিয়ান চ্যারিটি প্রেস, বেলফার্ষ্ট, উত্তর আয়ারল্যান্ড।’ প্রকাশকের বক্তব্য যিনি দিয়েছেন, তার নাম ‘মেরি ক্রিশ্চিয়ানা’। তার ঠিকানা লেখা হয়েছে ‘রোম, ইটালী।’ হাসল আহমদ মুসা। বলল, ‘বইটা লিখেছে, ছেপেছে ও ছড়াচ্ছে ইহুদীরা, কিন্তু দেখানো হচ্ছে বইটা খৃষ্টানরা লিখেছে, ছেপেছে এবং তাই তারাই প্রচার করছে।’ ‘নতুন কি ভাইয়া, ইহুদীবাদীরা খৃষ্টানবাদের ঘাড়ে বন্দুক রেখেই তো শিকার করে চলেছে।’ হাসান তারিক বলল। ‘এত বই এখানে কেন?’ অনেকটা স্বগত প্রশ্ন আহমদ মুসার। ‘আমার মনে হয় ভাইয়া, বইগুলো এখানে আনা হয়েছে উত্তর আজোরসের দ্বীপগুলোর জন্যে।’ ‘মনে হয় হারতাকেই ওরা উত্তর আজোরসের ঘাঁটি বানিয়েছে।’ আহমদ মুসা বলল। ‘তাহলে সাও তোরাহ কি?’ জিজ্ঞাসা হাসান তারিকের। ‘সাও তোরাহ ওদের ভয়াবহ এক জেলখানা, ঠিক আলেকজান্ডার সোলঝেনিৎসিনের ‘গোলাগ’ দ্বীপের মত।’ আহমদম মুসা কথা শেষ করেই এগুতে লাগল দরজার দিকে। সাথে সাথে চলল হাসান তারিকও। দরজাটা ষ্টিলের। দরজার এপারে হুক আছে, লক সিষ্টেমও রয়েছে। হুক খোলা। লক করা থাকতেও পারে, না থাকতেও পারে। ‘লক করা না থাকুক’ আহমদ মুসা কামনা করল। ডান হাতে মেশিন রিভলবার ধরে বাম হাতে দরজার হাতলে চাপ দিল আহমদ মুসা। নিশব্দে ঘুরে গেল হাতল। সেই সাথে কিঞ্চিত সরে এল দরজা। লক করা নেই বুঝল আহমদ মুসা। পরক্ষণেই এক ঝটকায় খুলে ফেলল দরজা। মেশিন রিভলবার বাগিয়ে আহমদ মুসা ও হাসান তারিক দুজনেই দরজা থেকে মুখ বাড়িয়ে চারদিকে তাকাল। দরজার বাইরে ওটা কোন ঘর নয়, একটা প্রশস্ত করিডোর। তার দুদিকেই ঘরের সারি। আহমদ মুসা ও হাসান তারিক দুজনেই অনেকক্ষণ অপেক্ষা করল দরজায়। কিন্তু কাউকে দেখল না। এমনকি কোন দিক থেকে কোন সাড়াশব্দও পেল না। ‘আমার মনে হয়, এখন কেউ নেই। প্রয়োজনের সময়ই শুধু ওরা আসে হয়তো।’ ফিসফিসে কণ্ঠে বলল হাসান তারিক। ‘চল সার্চ করে দেখা যাক।’ বলে আহমদ মুসা সাবধানে পা ফেলল করিডোরে। হাসান তারিকও করিডোরে নেমে এল। ‘চল আগে করিডোর ঘুরে সবটা দেখে আসি। তারপর সব সার্চ করা যাবে। আগে আমাদের দেখা দরকার মিনি-সাবমেরিনের সংযোগটা কিভাবে। এখন আমার মনে হচ্ছে, সেই রাতে দুটি মিনি সাবমেরিনকে জেটিতে আধাডোবা অবস্থায় অপেক্ষা করে চলে যেতে দেখেছিলাম। ওরা কিন্তু অপেক্ষা করে ফিরে যায়নি। কাজ সম্পন্ন করেই তারা চলে যায়। শেখুল ইসলামকে এক মিনি সাবমেরিন এসে রেখে যায়, পরের মিনি সাব মেরিনটা এসে তাকে নিয়ে যায়। পানির ভেতরে হস্তান্তরটা কিভাবে করেছিল সেটা আমাদের জানা দরকার।’ ফিস ফিসিয়ে কথাগুলো বলল আহমদ মুসা হাসান তারিককে। দরজা থেকে বের হবার পর হাতের ডান দিকে মানে দক্ষিণে করিডোরটা ছয়সাত গজের বেশি এগোয়নি। অতএব আহমদ মুসারা হাঁটছিল করিডোর ধরে উত্তর দিকে। দু’পাশেই ঘর। কয়েকটা ঘর পেরুতেই পূর্বমুখী আরেকটা করিডোরের সংযোস্থলে তারা গিয়ে পৌছল। সেখান থেকে মূল করিডোরটা আরও উত্তরে এগিয়ে গেছে। আর পূবমুখী শাখা করিডোরটা পনের বিশ গজ পূবে গিয়েই শেষ হয়ে গেছে। ‘আমাদেরকে উত্তরেই এগুতে হবে।’ বলে আহমদ মুসা মূল করিডোর ধরে সামনে এগুল। হাসান তারিকও তার পাশাপাশি হাঁটছিল। আহমদ মুসারা ত্রিমুখী করিডোরের সংযোগস্থলের মাঝখানে এসে পৌছেছে, এ সময় চারদিক থেকে অনেকগুলো ফাঁস এসে তাদের জড়িয়ে ফেলল। ফাঁসগুলো তাদের গলা এবং হাতসহ বুক বরাবর দেহকে কঠিনভাবে বেঁধে ফেলল। আত্মরক্ষার কোন চেষ্টা করার আগেই মাটিতে আছড়ে পড়ে গেল তারা। আহমদ মুসাদের উপর ফাঁস নিক্ষেপ করেছিল ছাদের চারদিকের ব্যালকনি থেকে। আহমদ মুসারা করিডোরে ঢোকার পর ঘর ও করিডোরের দিকেই শুধু নজর রেখেছে, উপরে তাকায়নি। উপরে ছাদের চারদিক ঘিরে ব্যালকনি। ব্যালকনির রেলিং-এ পর্দা টাঙানো। এরই আড়ালে লুকিয়ে ছিল ওরা ছয়জন। প্রত্যেকের হাতেই ষ্টেনগান। কিন্তু ওরা গুলী করে চোখের পলকে শত্রু মারার চেয়ে ফাঁসিতে আটকে খেলিয়ে মারার মধ্যেই আনন্দ খুঁজে পেয়েছে। ফাঁসিতে আটকে আহমদ মুসাদের মেঝেতে আছড়ে ফেলার পর ওরা ছয়জন লাফিয়ে নেমে এল মেঝেতে। ওরা ফাঁস ধরে টেনে আহমদ মুসা ও হাসান তারিককে ত্রিমুখী করিডোরের সংযোগ স্থলের উত্তর পাশের বড় একটা ঘরে নিয়ে এল। ঘরটা অনেকটা মিডিয়া রুমের মত। অনেকগুলো লাল-কাল টেলিফোন, ফ্যাক্স, টিভি ও কম্পিউটারে সজ্জিত ঘরটা। বসার জন্যে সোফা-চেয়ারও আছে অনেকগুলো। ঘরে ঢুকিয়েই একজন মোবাইল নিয়ে কোথাও কল করল। সংযোগ হতেই টেলিফোনকারী লোকটি শরীরটা সামনে বেঁকিয়ে মাথা নিচু করে বিনীত কণ্ঠে বলল, ‘এক্সিলেন্সি, আমাদের এই ঘাঁটিতে দুজন লোক প্রবেশ করেছিল। আমরা তাদের ধরে ফেলেছি। আমাদের নির্দেশ নিয়ম অনুসারে ওদের খুন করাই একমাত্র শাস্তি। তবু মনে হলো আপনাকে জানিয়ে তবেই কিছু করা দরকার। আপনি নির্দেশ করুন।’ ওপারের কথা শুনে লোকটি বলল, ‘হ্যাঁ দুজনেই বিদেশী।’ কথঅ শেষ করে ওপারের কথঅ শুনল। শুনেই তার দুচোখ বিস্ময়ে ছানাবড়া হয়ে উঠল। বলল, ‘সাংঘাতিক এক্সিলেন্সি, আমরা তো এতটা ভাবিনি। আমরা ভালোভাবে ওদের বেঁধে রেখেছি।’ ওপারের কথা শুনল আবার সে। তারপর বলল, ‘ঠিক আছে এক্সিলেন্সি। বুঝতে পেরেছি। আপনি যেভাবে বলেছেন, সেভাবেই ওদের রাখব। আপনারা কখন আসছেন? এখনি যাত্রা করছেন? ঠিক আছে এক্সিলেন্সি। আমরা হুশিয়ার থাকব।’ কথা শেষ করে মোবাইল অফ করে রেখে দিয়ে উঠে দাঁড়াল লোকটা। তার চোখে হিং¯্র দৃষ্টি। সে তার লোকদের উদ্দেশ্য করে বলল, ‘জানো এই দুজন লোক আমাদের অসংখ্য লোককে খুন করেছে। আমাদের কর্তারা যাদের হন্যে হয়ে খুঁজছেন, সেই আহমদ মুসা এরা হতে পারে। মিনি-সাব নিয়ে কর্তারা এখনি যাত্রা করছেন। কয়েক ঘণ্টার মধ্যে এসে যাবেন। এখন এদের ব্যাপারে আমাদের খুব সাবধান থাকতে হবে।’ লোকটি থেমেই আবার বলে উঠল, ‘তোমরা ওদের সব অস্ত্র কেড়ে নিয়েছ তো?’ একজন উত্তরে বলল, ‘হ্যাঁ, ওদের কাছে আর কিছুই নেই।’ ‘ঠিক আছে, এখনই ওদের দুপা বেঁধে ফেল, দুহাত যেভাবে দেহের ফাঁসে বাঁধা পড়েছে, সেটাকে আরও শক্ত করো। ওদের চোখ বেঁধে ফেল এবং মুখও আটকে দাও টেপ দিয়ে। বলে লোকটি আহমদ মুসার দিকে এগিয়ে এল। বলল, ‘আমরা তোমাদের শিকার বানাতে পারলাম না। তোমরা যাদের শিকার তারা আসছে। তোমরা আমাদের ডেভিড ডেনিম, সুলিভান, কেলভিনসহ বহুলোককে হত্যা করেছ। তার ফল তোমাদেরকে তিল তিল করে ভোগ করতে হবে।’ কথা শেষ করেই হেসে উঠল লোকটি। বলল, ‘তোমরা বোকার মত ঢুকেছিল এ ঘাঁটিতে। মনে করেছিলে বোধ হয় তোমাদের চেয়ে বুদ্ধিমান আর কেউ নেই। কিন্তু জানতে না তোমরা, গাছের সুইচে চাপ দেবার সংগে সংগে শুধু সিড়ির দরজাটাই খুলে যায়নি ভেতরে এলার্মও বেজে উঠেছিল। সংগে আমাদের এই টিভিতে তোমাদের ছবি ভেসে উঠেছিল। টিভি ক্যামেরা লুকানো ছিল বৃত্তাকার ঢাকনার কৃত্রিম গাছ-গাছড়ার মধ্যে। আমরা ভেতরে তোমাদের জন্যে ফাঁদ পেতে বসেছিলাম। ফাঁদে তোমরা পরিকল্পনা মোতাবেকই ধরা পড়েছ। এখানে কেউ ঢুকলে তার জন্যে মৃত্যু ছাড়া দ্বিতীয় আর কোন পথ থাকে না। এতক্ষণ তোমরা লাশ হয়ে যেতে, কিন্তু তোমাদের মৃত্যুটা লেখা আছে আরও উপরের কর্তাদের হাতে। তার আগে তোমাদের নিয়ে নাকি অনেক কাজ আছে।’ কথা শেষ করে হঠাৎ সে চমকে উঠার মত সোজা হয়ে দাঁড়াল। বলল একজনকে লক্ষ্য করে, ‘ভেতরের সুইচ টিপে সিঁড়ির দরজা কি বন্ধ করে দেয়া হয়েছে?’ ওরা পাঁচজন আহমদ মুসা ও হাসান তারিককে বাধার কাজে ব্যস্ত ছিল। হাত-পা ওদের নতুন করে বাঁধা হয়ে গিয়েছিল। চোখ-মুখ বাঁধতে যাচ্ছিল ওদের। নেতা লোকটির কথা শুনে ওরা পাঁচজনই অপরাধীর মত উঠে দাঁড়াল। বলল একজন, ‘আমরা এদের ধরে সোজা এখানে নিয়ে এসেছি। ভুলেই গেছি আমরা সিঁড়ির দরজার কথা।’ বলে এ লোকটিসহ আরও একজন ঘর থেকে বেরিয়ে ছুটল সিঁড়ি ঘরের দিকে। আহমদ মুসা লোকটির টেলিফোন আলাপ শুনে এবং আজর ওয়াইজম্যানদের কেউ তাদেরকে এখান থেকে নিয়ে যাবার জন্যে আসছে জানতে পেরে খুশি হয়ে উঠেছিল। সে মনে মনে প্রার্থনা করছিল তাদেরকে যেন সাও তোরাহ দ্বীপে নিয়ে যাওয়া হয়। বন্দী হয়ে যাওয়ার মধ্যে ঝুঁকি আছে, কিন্তু আরও মন্দের চেয়ে এটা তো ভালো। বলল আহমদ মুসা লোকটিকে লক্ষ্য করে, ‘তোমার কর্তারা আমাদের কোথায় নিয়ে যেতে চান? তোমাদের কর্তারা থাকেন কোথায়? তোমাদের কর্তারা আমাদের এত ভয় করেন? আর তোমাদের এত দূর্বল ভাবেন যে, আমাদের সাথে কথা বললেই তোমাদের আমরা পটিয়ে ফেলব?’ লোকটি কোন কথা বলল না। যে চেয়ার থেকে উঠে এসেছিল সেই চেয়ারে গিয়ে বসল। আহমদ মুসাই আবার কথা বলল, ‘তোমাদের কর্তারা বলছেন, আমরা তোমাদের অনেক লোককে হত্যা করেছি। কিন্তু তোমরা নিশ্চয় জান, বাড়িতে ডাকাত পরলে ডাকাতকে হত্যা করা অপরাধ নয়, কিন্তু ডাকাতরা যদি হত্যা করে সেটা অপরাধ। তোমাদের কর্তারা কত লোককে খুন করেছে, কত লোককে সাও তোরাহতে এনে পশুর মত নির্যাতন করছে তা তোমাদের অবশ্যই জানার কথা।’ ক্রোধে জ্বলে উঠল চেয়ারে বসা লোকটা, কিছু বলতে যাচ্ছিল আহমদ মুসাদের পাশে দঁড়ানো লোকদের উদ্দেশ্যে। কিন্তু তার আগেই ওদের একজন বলে উঠল, ‘সিঁড়ির দরজা বন্ধ হওয়ার শব্দ তো এখনো আমরা পেলাম না। দেখে আসি ওরা কি করছে।’ ‘তাই তো, এতক্ষণ ওদের ফেরার কথা।’ বলল একজন। ‘যাও তোমরা দুজন ওদিকে। হাওয়া খেতে দেখলে ঘাড় ধরে নিয়ে এস।’ উত্তরে বলল চেয়ারে বসা লোকটি। নির্দেশ পেয়ে দুজন বেরিয়ে গেল ঘর থেকে। চেয়ারে বসা লোকটি কাল টেলিফোনটা টেনে নিয়ে একটা টেলিফোন করা নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ল। মিনিট তিনেক কেটে গেল তার টেলিফোন কলে। টেলিফোন রেখেই ভ্রুকুঞ্চিত করে লোকটা আহমদ মুসার পাশে দাঁড়ানো অবশিষ্ট লোকটিকে উদ্দেশ্য করে বলল, ‘ওরা কি শুরু করল? আরও কিছু জরুরী কাজ আছে। ওরা দেরি করছে কেন? যাও ডাক ওদের।’ লোকটি বেরিয়ে গেল। দুমিনিটেও যখন কেউ ফেরত এল না, তখন চেয়ারে বসা লোকটি অগ্নিমূর্তি হয়ে উঠে দাঁড়াল। চিৎকার করে উঠল, ‘সব অপদার্থের দল। সবাইকে পিটিয়ে আজ লাশ করে দেব।’ বলে সে ষ্টেনগানটা তুলে নিয়ে দরজার দিকে হাঁটা শুরু করল। কিন্তু দরজার মুখোমুখি হতেই তার দুচোখ ছানা বড়া হয়ে গেল। কাল প্যান্ট, কাল সার্ট ও কাল হ্যাট পরা দুজন লোক দরজায় যমদূতের মত দাঁড়িয়ে। কিন্তু প্রথম দেখার চমক কাটিয়ে উঠেই লোকটি তার ষ্টেনগান তুলছিল দরজার দাঁড়ানো আগন্তুকদের উদ্দেশ্যে। কিন্তু আগন্তুক দুজনের দুহাত বিদ্যুত বেগে উঠে এল এবং এক সাথেই গুলী বর্ষিত হলো তাদের দুই রিভলবার থেকে। লোকটির ষ্টেনগান মাঝপথেই থেমে গেল এবং বুকে একসাথে দুই গুলী খেয়ে ছিটকে পড়ল তার দেহটা দরজার এক পাশে। দরজা থেকে কালো মূর্তি দুজন ঘরে ঢুকল। দুজনেই এসে দাঁড়াল আহমদ মুসাদের পাশে। তারপর দুজনেই একসাথে মাথার হ্যাট খুলে হেসে উঠল। বলল আহমদ মুসাদের লক্ষ্য করে, ‘আপনাদের এভাবে দেখতে মজাই লাগছে।’ আহমদ মুসাও হাসল। বলল, ‘পাঁচ কুমির ছানাকে দুই দুই এক করে তোমরা যে গ্রাস করলে তাও আমাদের মজা দিয়েছে। এখন বল সোফিয়া সুসান ও পলা জোনস, ওদের কাউকেই বাঁচিয়ে রাখনি কিছু জানার জন্যে?’ ‘স্যরি মি. আহমদ মুসা, ওদের মুখ বন্ধ করতে হলে ওদের না মেরে উপায় ছিল না।’ বলল সোফিয়া সুসান। ‘তার মানে এখানেও কাউকে জীবিত পাওয়া গেল না।’ বলল আহমদ মুসা। পলা জোনস আহমদ মুসাদের বাঁধন কাটা শুরু করে দিয়েছিল। সোফিয়া সুসানও তার সাথে যোগ দিল। বাঁধন মুক্ত হয়ে আহমদ মুসা উঠে দাঁড়াল। বলল, ‘সিঁড়ি মুখটা নিশ্চয় বন্ধ করে দেয়া হয়নি এখনও?’ ‘জি না, হয়নি। আমরা সে চেষ্টা করিনি। তার সময়ও হয়নি।’ বলল সোফিয়া সুসান। ‘হাসান তারিক তুমি যাও দরজাটা বন্ধ করে এস। সিঁড়ির শেষ ধাপের উপরের ধাপে সুইচ দেখতে পাবে।’ নির্দেশ দিল আহমদ মুসা। ‘জি ভাইয়া।’ বলে হাসান তারিক উঠে গেল। আহমদ মুসাও এগুল নিহত লোকটার সেই মোবাইলের দিকে। মোবাইলটি নিয়ে আহমদ মুসা ‘কল প্রেরণ’ উইনডোটা বের করল। আহমদ মুসার উদ্দেশ্য, কিছুক্ষণ আগে লোকটা তার যে কর্তাদের সাথে কথা বলল, তাদের অবস্থান কোথায়? সাও তোরাহ, না অন্য কোথাও। কিন্তু বের হলো একটা মোবাইল নাম্বার। আহমদ মুসা জিজ্ঞেস করল পলা জোনসদেরকে যে মোবাইল নাম্বার দেখে এলাকার পরিচয় জানা যাবে কিনা। কথা বলে উঠল সোফিয়া সুসান। বলল, ‘না সম্ভব নয় জনাব। আজোরস দ্বীপপুঞ্জের মোবাইলগুলো সেন্ট্রালি এ্যালোট করা।’ মিনিট খানেক না যেতেই হাসান তারিক ফিরে এল। বলল, ‘হ্যাঁ ভাইয়া দরজা বন্ধ করেছি।’ বলেই তাকাল হাসান তারিক পলা জোনসের দিকে। বলল, ‘ছুরি দিয়ে আপনারা কাবু করেছেন পাঁচজনকে!’ ‘এক সাথে তো নয় তিনবারে। গুলী করা সম্ভব ছিল না অন্যেরা সাবধান হবে এই ভয়ে। অসুবিধা হয়নি। সোফিয়া সুসান তো কমান্ডো। সেই কাজ করেছে আমি সাথে ছিলাম।’ পলা জোনস বলল। ‘আমরা ধরা পড়ার কথা কি আপনারা জেনেছিলেন?’ বলল হাসান তারিক। ‘জেনেছিলাম নয়, দেখেছিলাম।’ পলা জোনস বলল। ‘আপনারা কি আমাদের পেছনে পেছনেই ভেতরে ঢুকেন?’ বলল হাসান তারিক। ‘হ্যাঁ। তবে ততটা পেছনে, যতটা পেছনে থাকলে আপনাদের চোখে পড়া থেকে বাঁচা যায়। আপনারা করিডোরে ঢোকার পর আমরা সিঁড়ি ঘরে নেমে আসি।’ পলা জোনস বলল। ‘আমার বিস্ময় লাগছে, আহমদ মুসা ভাইকে না জানিয়ে এমন সিদ্ধান্ত আপনারা নিলেন কি করে!’ অনেকটা স্বগতকণ্ঠে বলল হাসান তারিক। ‘আমরা এসেছি ঈশ্বরের নির্দেশে। মি. আহমদ মুসা অবশ্যই আমাদের মাফ করবেন।’ বলল সোফিয়া সুসান। তার ঠোঁটে এক টুকরো হাসি। আহমদ মুসা মোবাইলটা রেখে দিয়ে একটা চেয়ারে বসেছিল। তার মুখেও হাসি ফুটে উঠল। বলল, ‘ঈশ্বরের নির্দেশে আসলে আহমদ মুসার কাছে মাফ চাওয়ার প্রয়োজন কি?’ ‘ঈশ্বরেরই তো নির্দেশ নেতার আনুগত্য করতে হবে।’ বলল সোফিয়া সুসান। ‘আমি আপনার নেতা হলাম কবে?’ আহমদ মুসা বলল। তার কণ্ঠে কৃত্রিম বিস্ময়ের সুর। ‘আপনি হননি, আপনাকে নেতা বানিয়েছি। আর এই আনুগত্য আমার একান্তই পারসোনাল ব্যাপার।’ বলল সোফিয়া সুসান। তার চোখে-মুখে একটা ঔজ্জ্বল্য। ‘ভাইয়া, সোফিয়া সুসান শুধু যে এক বাপের এক মেয়ে তা নয়। আপনি জানেন না হারতা ও পাশের নেসকুইন দ্বীপের সবচেয়ে দীর্ঘদিন রাজত্বকারী আলতামোরা রাজবংশের একমাত্র মেয়ে। সে যা ইচ্ছা করে তাই করে থাকে। সুখের জীবন বাদ দিয়ে কমান্ডো বাহিনীতে সে যোগ দিয়েছে নিজের জেদেই। সে আমাকে জোর করে সাথে নিয়ে এসেছে ভাইয়া।’ ‘না, এবার জেদের বশে নয়, ঈশ্বরের নির্দেশ পেয়ে এসেছে ও।’ হেসে বলল আহমদ মুসা। একটু থেমেই আবার বলে উঠল, ‘তোমাদের দুজনকেই ধন্যবাদ। এখন কাজের কথায় আসি।’ বলে একটু থামল আহমদ মুসা। একটু ভাবল। তারপর শুরু করল, ওরা মিনি-সাব নিয়ে আমাকে ও হাসান তারিককে নিতে আসছে। কতক্ষণে ওরা পৌছবে জানি না। ওদের মধ্যে আজর ওয়াইজম্যান থাকবে বলে মনে হয় না। তবে তাদের লোকরাই আসছে। আমাদের জন্য এটা একটা মহা সুযোগ। আমরা যদি ওদের মিনি-সাব দখল করতে পারি, তাহলে সাও তোরাহ পৌছা অনেক সহজ হয়ে যাবে। কিন্তু এ জন্যে অনেকগুলো কাজ আমাদের করতে হবে। প্রথমত মিনি সাবের সাথে কিভাবে এই ঘাঁটির সংযোগ হবে, কোন পথে কিভাবে মিনি-সাব থেকে এখানে নামার ব্যবস্থা হবে তা আমরা জানি না, দ্বিতীয়ত ওদের সন্দেহমুক্ত ভাবে কিভাবে এই ঘাঁটিতে নিয়ে আসা হবে এবং তৃতীয় কাজটা হলো মিনি-সাবটা দখল করা। তৃতীয় কাজটা অবস্থার বিচারে করা হবে, কিন্তু প্রথম দুটো কাজ নিয়ে আমাদের অনেক ভাবতে হবে। এই ভাবনার জন্যে আমি তোমাদের আহ্বান জানাচ্ছি।’ থামল আহমদ মুসা। কথা বলে উঠল হাসান তারিক, ‘ওদের কথা থেকে বুঝা গেছে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরার মাধ্যমে বাইরের দৃশ্য মনিটর করা হয়। সুতরাং আমরা বন্দী অবস্থায় ওদের যে আলোচনা শুনেছি এবং টিভি মনিটরিং-এর মাধ্যমে যা আমরা দেখব তার ভিত্তিতে প্রাথমিক যোগাযোগের কাজ হয়তো করা যাবে। কিন্তু ওদের মনে যাতে সন্দেহের সৃষ্টি না হয় এ জন্যে ওদেরকে মিনি-সাব থেকে ঘাঁটির ভেতরে আনার কাজটা কিভাবে স্বাভাবিক করা যাবে সেটা নিয়ে আরও ভাবতে হবে। কিন্তু প্রথমত ঘাঁটি অনুসন্ধান করে দেখা প্রয়োজন কোন ক্লু পাওয়া যায় কিনা, সাহায্য পাওয়া যেতে পারে এমন কিছু পাওয়া যায় কিনা।’ ‘ঠিক বলেছ, চল সার্চটা শুরু করা যাক।’ বলেই উঠে দাঁড়াল আহমদ মুসা। ঘর থেকে বেরিয়ে যাওয়ার আগে সোফিয়া সুসান ও পলা জোনসকে বলল, ‘তোমরা টিভি মনিটরিং এবং ফ্যাক্স ও টেলিফোনগুলোর উপর নজর রাখ।’ আহমদ মুসারা ঘাঁটির প্রতিটি ঘর সার্চ করল। প্রয়োজনীয় তথ্য গুলো সংগ্রহ করল। অবশেষে তারা উত্তর প্রান্তের প্রশস্ত করিডোরটি দিয়ে একটা তালাবদ্ধ ঘরের সামনে এসে দাঁড়াল। আহমদ মুসা পকেট থেকে ষ্টিলের একটা তার বের করে তালাটা খুলে ফেলল। বেশ বড় ঘর। ঘরের পূব দেয়ালের দিকে তাকিয়ে তারা বিস্মিত হলো। দেয়ালে পাঁচ ফুট উঁচু ও চার ফুঁট প্রস্তের একটা কাঠামো। ঠিক প্লেন বা স্পেসশীপের দরজার মত। আহমদ মুসা ও হাসান তারিক দুজন দুজনের দিকে তাকাল। দুজনেরই চোখ উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে আনন্দে। প্রথম আহমদ মুসা কথা বলল, ‘কি বুঝছ হাসান তারিক?’ ‘মিনি সাবমেরিন ও ঘাঁটির মধ্যেকার গ্যাংওয়ের এটা এপাশের দরজা ভাইয়া।’ আনন্দের সাথে বলল হাসান তারিক। ‘আলহামদুলিল্লাহ, এক রহস্যের উন্মোচন হলো হাসান তারিক। দরজাটা যন্ত্র নিয়ন্ত্রিত তা বুঝাই যাচ্ছে। ঐ দেখো দরজার পাশে ডিজিটাল প্যানেল দেখা যাচ্ছে। এসো দেখি।’ কথাগুলো বলে আহমদ মুসা দরজার দিকে হাঁটতে লাগল।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৭৫ জন


এ জাতীয় গল্প

→ গুলাগ থেকে টুইনটাওয়ার চ্যাপ্টার-১
→ গুলাগ থেকে টুইনটাওয়ার চ্যাপ্টার-১ বাকি অংশ
→ গুলাগ থেকে টুইনটাওয়ার চ্যাপ্টার- ২
→ গুলাগ থেকে টুইনটাওয়ার চ্যাপ্টার- ৩
→ গুলাগ থেকে টুইনটাওয়ার চ্যাপ্টার- ৩ ২য় অংশ
→ গুলাগ থেকে টুইনটাওয়ার চ্যাপ্টার- ৩ বাকি অংশ
→ গুলাগ থেকে টুইনটাওয়ার চ্যাপ্টার- ৪
→ গুলাগ থেকে টুইনটাওয়ার চ্যাপ্টার- ৪ বাকি অংশ
→ গুলাগ থেকে টুইনটাওয়ার চ্যাপ্টার- ৫
→ গুলাগ থেকে টুইনটাওয়ার চ্যাপ্টার- ৬
→ গুলাগ থেকে টুইনটাওয়ার চ্যাপ্টার- ৭ (শেষ)

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now