বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
এই ডায়রী যখন কারো হাতে যাবে হয়তো তখন তার মুখে
আমার ক্ষুরার হাড্ডি থাকবে।সে হাড্ডি চিবাতে
চিবাতে আমার
জীবন কাহিনী পড়বে।
বয়স যখন আমার বছর ২,তখন ই আমার মা ঠাডা পরে মরে
যায়। আমার
একমাত্র বোন গুরি আর আব্বাকেনিয়েই আমাদের গোয়াল
চলতেছিল বেশ।
মা মরার ৩মাসের মাথায় ই আব্বাকে কোরবানির জন্য
হাঁটে নেয়া হয়।
আমি আর আমার বোন খালি দোয়া করতাম,আব্বাকে যেন
কেউ না
কিনে নেয়।শেষ যেদিন আব্বাকে হাঁটে নেয়া হয়, আমার
বোন
আর আমি কাঁদতেছিলাম,আব্বা বলছিল,কাঁদিস না,এটা
আমাদের
কপাল,মেনে নিতে হবে।
সেই যে আব্বা গিয়েছিল,আর আসেনি।মালিক আমার আর
আমার বোন
এর সামনেই আমার আব্বাকে বিক্রি করা টাকা
গুনতেছিল।
আব্বার কত আশা ছিল,আমার আর আমার বোন এর বিয়ে
দিয়ে
মরবে,আমার বাচ্চাদের মুখ আর দেখা হলোনা।আব্বাকে
আর
ফেরানো যাবেনা তবে মালিক এর টাকা গোনার অট্ট
হাসি আমার
কানে বাজতে রইল।সে পরের বছর আমাকে আর
আমার বোন কে বিক্রি করার কথাও ভেবে ফেললো।
পরের দিন আমাকে আর আমার বোন কে যখন ঘাস
খাওয়ানোর
জন্য নিল,আমি কায়দা করে বোনকে নিয়ে পাশের হিন্দু
গ্রাম এ
চলে গেলাম।এক হিন্দু মালিক এর রান্নাঘর এ দুজন আশ্রয়
নিলাম।
সকালে আমাদের দেখা মাত্রই অনেক কদর।খুব শান্তি
লাগছিল,একটা নিরাপদ আশ্রয় পেয়ে।
কিছুদিন খুব আনন্দেই ভাই বোন এর কেটে গেল।বোন কে
পাশের বাড়ির মতিন এর গরু গোবিন্দ এর সাথে বিয়ে
দিলাম।
কয়েকদিন আগে আমার মালিক একটা ছাগী কিনে আনে।
প্রথম
দেখায় আমার বেশ লাগে।ভালোবাসাটাপ্রথম হয়েছিল
তার
কোমল কন্ঠ শুনে।ম্যা..ম্যাশুনেই পাগল হয়ে যাই। আজীবন
হাম্বা হাম্বা শুনতে শুনতে বোরিং হয়ে গেছি।গায়ের
বর্ন খয়ের
এর কালার।যেদিন প্রথম ছাগীর সামনে কাঁঠাল পাতা
এনেছিলাম,সে
মুচকি হেসেছিল।এক তোরা ঘাস দিয়ে বলেছিলাম,ছাগী
আজীবন একসাথে ঘাস খেতে রাজি তুমি?ও আমার দিকে
তাকিয়ে
বললো,হুম তবে তোমার সাথে কিন্তু পানি খাব না।পানি
আমারবেশ
অপছন্দ।ওর জন্য আমি পানি খাওয়া ছেড়ে দিতে পারি।
ভালোবেসে সব পারা যায়। গরু থেকে ছাগল ও হওয়া যায়।
ভালোবেসে আমায় গুলু বলে ডাকতো।আর আমি ছাগু।
৫দিনের মধ্যে বিয়ে করবো ভাবছি।ভেবেছিলাম
,আমাদের বাচ্চার
নাম দিব "গোছা"হঠাৎ মালিক এর মনে হল আমায় দিয়ে
কাজ হয়না।তাই
বিক্রি করে দিবে কৃষক এর কাছে।আমায় যখন কিনতে
এলো
আমি বেহুশ এর ভান ধরে চিৎ হয়ে রইলাম।তারা আমায়
রোগা ভেবে
আর কিনে নায়।ছাগী কে ছাড়া কি করে যেতাম! একদিন
মাঠ
থেকে বাড়ি ফিরে দেখি ছাগী কে দেখিনা।আমি
হয়রান হয়ে
যাই খুঁজতে খুঁজতে। কিছুক্ষন পর চোখ পরলো কাঁঠাল গাছ
এ
ঝুলছে আমার ছাগী। মৃত,পা উলটা করে গাছ এ ঝুলিয়ে ওর
চামড়া
আলাদা করছে।কি নির্দয়!আমি এ হত্যার প্রতিশোধ
নিতে পারবোনা
সেটা ভেবে নিজের প্রতি লজ্জা লাগছে।
ছাগীর দিকে তাকিয়ে বললাম,ছাগী পরের জন্মে কিন্তু
আমরা
মশা হয়ে জন্মাবো।
যারা আমাদের মিলন হতে দিলনা তাদের রক্ত পান করে
তৃষ্না
মিটাবো।
তুমি মশা,মাছি,সাপ,কুকুর যাই হও আমায় পাবে তোমার
মেইল ভার্শন
হিসেবে।চিন্তা করোনা আমি আসবো।
কখনই মানুষ হয়ে জন্মাতে চেওনা যেন, এদের হৃদয় নেই।
তুমি আর কিছু না পারো,পেটে গিয়ে ব্লাড প্রেশার হাই
করে
দিতে ভুলোনা।
ভাবলাম,এখন আর বেঁচে কি লাভ।সুইসাইড করার ও উপায়
নাই।
আর এমন কপাল,হিন্দু মালিক আমাকে মারবেও না।এখন
আর বাচার
ইচ্ছে ও নাই।কিছুদিন পর কোরবানীর হাঁট।রাস্তা দিয়ে
অনেকগুলি
গরু নিয়ে যাচ্ছে, সুযোগ বুঝে তাদের মধ্যে ঢুকে পরলাম।
তারপর আমায় কিনে আনলেন এই যে আপনি,যে এখন
আমাকে
খাচ্ছেন আর আমার ডায়রি পড়ছেন।ডায়রিটা যত্ন করে
রাখবেন।এটা
আমার স্মৃতি।আর হাড্ডিতে কামড় একটু আস্তে দেন,দাঁত
রে হাতুরি
ভাইবেন না।
মাংস দেখে খান,মাংসে মাছি পরছে,ওটা কিন্তু আমার
আব্বার আত্মা।
আমাকে মুক্তি দিয়েছেন,তাই আপনাকে অভিশাপ দিলাম
না।আমায় খাবার আগে গ্যাস এর
ওষুধ নিতে ভুলবেন না যেন।
# আবার আসিব ফিরে চিকুনগুনিয়ার বেশে এই বাংলায়।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now