বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
গ্রিফিনোঃদ্য গার্ডিয়ান অফ ইজিপ্সিয়ান ট্রেজার - পর্ব ১
X
গ্রিফিনোঃদ্য গার্ডিয়ান অফ ইজিপ্সিয়ান ট্রেজার
জাকিউল অন্তু
পর্ব ১
ভার্সিটির ক্লাস সেরে রুমের দিকে ফিরছি। মনটা খারাপ। আজ ক্লাসে বেশ অপদস্থ হতে হয়েছে,তেমন কোন কারণ ছাড়াই।
না পড়া পারিনি বা স্যাররা আমার খারাপ রেজাল্ট নিয়ে আবারো বকেছেন ব্যপারটা তেমন নয়। আমি খুব ভালো করেই জানি ভালো রেজাল্ট করার মতো ছাত্র আমি কোনকালেই ছিলাম না আর ভবিষ্যৎ এ হবো ও না।
আর স্যারদের অপমান শেষ কবে গায়ে মেখেছি সেটাও মনে নেই। মন খারাপের আসল কারন হলো ক্লাস শেষে ক্লাসরুমে বসেই আমরা বন্ধুরা মিলে যে গ্রুপ স্টাডি বা সহজ বাংলায় বলতে গেলে পড়ার ছলে যে আড্ডা টা দিই সেটা নিয়ে।
প্রতিদিনের মতই আগে ক্লাসের সবচেয়ে ভালো ছাত্রটার কাছ থেকে প্রয়োজনীয় নোটস গুলো সংগ্রহ করে নিলাম।
তারপর আজকের ক্লাসের সমস্ত পড়াগুলো বুঝে নেয়ার চেষ্টা করলাম। কতকটা মাথায় ঢুকলো আর কতকটা মাথার ভেতর হয়ে কান গলে বাইরে চলে গেলো।
শুধু আমি না। আমার সাথে আরো চারজন প্রতিদিন ক্লাস শেষে বসি জিতুর কাছে। ক্লাসের টপার ও। আমাদের চারজনের ই রেজাল্ট খারাপ বলে ক্লাসটিচার নিজে উদ্যোগ নিয়ে এই গ্রুপ স্টাডির ব্যবস্থা করে দিয়েছেন।
আমাদের আদেশ করেছেন আমরা যেন মনযোগ দিয়ে জিতুর লেকচার শুনি এবং আদব কায়দা আর পড়াশোনায় ওর মতই আদর্শ ছাত্র হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে পারি।
কিন্তু কথায় আছে "যার নয়ে হয়না তার নব্বুই এ ও হয়না "! আর চারজনের দলের মধ্যে আমিই বোধহয় একমাত্র ছাত্র যার নব্বুই না একশতেও হবেনা।
তবুও স্যারের নির্দেশ মেনে চলি প্রতিদিন। নিজেকে তখন ভার্সিটি না প্রাইমারী স্কুলের বাচ্চা মনে হয়। সারাদিন ক্লাসের যন্ত্রনার পর এই বাড়তি যন্ত্রনা আমাদের কারুর ই ভালো লাগেনা।
আমরা নাহয় খারাপ ছাত্র। প্রতিবার রেজাল্ট খারাপ করি তাই শাস্তি পেতে হয়। আমরা এটা সহজভাবে মেনেও নিয়েছি।কিন্তু জিতু তো ভালো ছাত্র। ওর তো কোন দোষ নেই।
তবুও আমাদের গ্রুপ স্টাডির লিডার হিসেবে ওকেও থাকতে হয় ছুটির পর। বেচারা! ক্লাসের সবচেয়ে ভালো ছাত্র হয়েও বিপদে পড়েছে।
স্যারের ধারনা ওর সংস্পর্শে থাকলে আমরাও ভালো হয়ে যাবো। কিন্তু উনি তো আর জানেন না যে আমাদের সাথে থাকলে উল্টো জিতুর ই খারাপ হয়ে যাবার সম্ভাবনা বেশী।
এই তো রেজাল্টের পর সপ্তাহখানেক হলো আমরা গ্রুপ স্টাডি শুরু করেছি কিন্তু গ্রুপ বা দলগত হয়ে একত্রিত হলেও স্টাডি বা পড়াশোনার ধারেকাছে যেতে পারেনি দলের কোন সদস্যই।
ওদিকে জিতুর সব পরিশ্রম মাঠে মারা যাচ্ছে। ও যখন আমাদের কোন বিষয় নিয়ে বোঝাতে আসে আমরা বিশেষ করে আমি আবোলতাবোল প্রশ্ন করে ওকে ঝামেলায় ফেলে দিই। কি করবো? পড়াশোনা ভালো লাগতে তো পড়বো।
আজ বোধহয় একটু বাড়াবাড়ি করে ফেলেছিলাম। জিতু লেকচার দেবার সময় এতটাই অপ্রাসঙ্গিক প্রশ্ন করে ফেলেছি যে ওর মত শান্তশিষ্ট ছেলেটাও রেগে আগুন হয়ে গেছে।
সেই আগুনের ওপর ঘি ঢালার কাজটাও আমিই করেছি। দুষ্টুমি করে ওর নতুন সাইকেলের চাকার হাওয়া ছেড়ে দিয়েছি। আর সেটা ও কেমন করে যেন দেখে ফেলেছে।
ব্যাস! আমাকে একগাদা কথা শুনিয়ে দিলো। সহপাঠী হয়েও অপমান করে বসলো। বুঝিয়ে দিলো যে ওর অবস্থান আমার চেয়ে কতটা উপরে। শেষমেশ এটাও বলে দিলো যে এরপর এমন কিছু করলে স্যার কে বলে দিয়ে আমার ছাত্রত্ব বাতিল করানো ব্যবস্থা করে দেবে।
কোন মানে হয়?কিসের এত দম্ভ ওর? ভালো ছাত্র ! তাই বলে কি খারাপ ছাত্রদের অপমান করে বেড়াবে?
সুযোগ পেলে ওকে বেশ ভালোভাবে ই দেখে নেবো ভাবতে ভাবতে কখন যে রুমে এসে পৌঁছেছি বুঝতেই পারিনি।
শরীর এমনিতেই ক্লান্ত তারসাথে মনখারাপ জিনিসটা যুক্ত হয়ে বিদঘুটে একটা পরিবেশ তৈরি করে দিয়েছে । দুপুরের খাবারটাও ঠিকমতন খেতে পারলাম না। কোনরকমে হাত মুখ ধুয়ে বিছানায় শরীর এলিয়ে দিলাম।
চোখদুটো ঘুমে প্রায় বন্ধ হয়ে এসেছে ঠিক তক্ষুনি মনে হলো ঘরের ভেতর একটা অদ্ভুত এবং সম্পূর্ন অপরিচিত একটা শব্দ শুনতে পেলাম যেন।
প্রথমে ভাবলাম হয়তো পাশের রুমের কেউ গান শুনছে অথবা আলনায় ঝোলানো প্যান্টের পকেটে আমার মোবাইলের রিংটোন বাজছে। কিন্তু পরে মনে হলো আমার মোবাইল তো সেই কখন চার্জ শেষ হয়ে বন্ধ হয়ে গেছে।
শব্দটা ধীরেধীরে বাড়ছে। শব্দটা তেমন জোরালো না হলেও বেশ অস্বস্তি বোধ করছিলাম । তাই একরাশ বিরক্তি নিয়ে বিছানা থেকে নেমে দরজা খুলে পাশের রুমের দিকে এগোলাম।
কিন্তু গিয়ে দেখি ওখানে আওয়াজ করার মত কেউ নেই কারণ রুমের দরজায় তালা দেয়া।
আমার রুম থেকে বেরুনোর পর শব্দের মাত্রা কমে গেছে।তাহলে নিশ্চই বিল্ডিং এর বাইরের রাস্তা থেকে শব্দটা আসছে।
তাই যদি হয় তবে আমার রুমের জানালা দিয়ে তাকালে শব্দের উৎসটা দেখা যাবে। তড়িঘড়ি করে আবার রুমে ঢুকলাম। আর শব্দের মাত্রাটা ততক্ষণাৎ বেড়ে গেলো।
জানালা দিয়ে উঁকি দিয়ে দেখি রাস্তা প্রায় ফাঁকা। দুই একটা রিকশা, ভ্যান ছাড়া তেমন কোন যানবাহন ই নেই। মাঝেমাঝে দু একটা বাস অথবা ট্রাক হুশ করে ছুটে যাচ্ছে আর খানিক দূরের মোড়ে গিয়ে হর্ন বাজিয়ে রাস্তাবদল করছে।
রাস্তার পাশে মেস থাকায় ভারী যানবাহনের বা মোটরসাইকেল এর হর্ন, রিকশা, ভ্যান, বা বাইসাইকেল এর টুংটাং শব্দ রোজই শুনতে পাই। ওতে আমাদের বোর্ডারদের অভ্যাস হয়ে গেছে।
কাজেই ঘুমে ব্যাঘাত হয়না ওসব শব্দে। কিন্তু এখন যে হালকা শব্দটা ভেসে আসছে সেটাই ঘুমের বারোটা বাজিয়ে দিয়েছে এতক্ষণে। তাহলে কি রুমের ভেতরেই কোথাও আছে এই অপরিচিত শব্দের উৎপত্তি স্থল?
থাকলে সেটা কোথায়? এসব ভাবছি হঠাৎ চোখ চলে গেলো রুমের এক কোণায় দেয়ালের সাথে পেরেক দিয়ে লাগানো হ্যাঙ্গারের দিকে। আমার কিছু পুরনো কাপড়চোপড় আর একটা ব্যাগ
ঝুলিয়ে রেখেছি ওটায়।
মনে হলো ব্যাগের ঠিক পেছনে কিছু একটা জ্বলজ্বল করে জ্বলছে। দূর থেকেও সেই আলোর তেজ বেশ বোঝা যাচ্ছে। আমি গুটিগুটি পায়ে এগিয়ে গেলাম সেটা ভালোভাবে দেখার জন্য। যত এগুচ্ছি শব্দটা তত স্পষ্ট হচ্ছে, সাথে বাড়ছে আলোর তীব্রতা । মনে হয় ঐ আলোটার কাছেই শব্দটা হচ্ছে। কাছে গিয়ে ব্যাগটা সরাতেই চোখে পড়লো একটা অদ্ভুত দৃশ্য।
ব্যাগের পেছনে হ্যাঙ্গারের পাশের দেয়ালে একটা মাঝারি আকৃতির গর্ত সৃষ্টি হয়েছে আর সেখান থেকে ঠিকরে বেরুচ্ছে একটা উজ্জ্বল হলুদাভ আলো। শব্দটাও আসছে ঐ গর্ত থেকেই।বেশ ভয় পেয়ে গেলাম। ওটা কিসের গর্ত?
একবার মনে হলো সারাদিন ক্লাস করে ক্লান্ত আর অবসন্ন আমি বোধহয় হ্যালুসিনেট করছি। কিন্তু পরক্ষনেই মনে হলো হ্যালুসিনেশন হলে তো আলোর তাপ বা শব্দ কোনটাই এত কাছ থেকে অনুভব করতে পারতাম না।
ঐ উজ্জ্বল আলো থেকে হালকা তাপ এসে লাগছে আমার মুখে আর শব্দটা যেন কানের একেবারে ভেতরে ঢুকে যাচ্ছে। অনেক মানুষ একত্রিত যেন গুনগুন করে একটা মায়াবী সুর তুলছে তাদের কন্ঠে। ভেতরে ভেতরে ভয়টা আছে।তবুও সেই মায়াবী সুরটা আরো ভালো করে শোনার ইচ্ছে হচ্ছিলো। আলোকিত ঐ গহ্বর থেকে কারা যেন ডাকছে আমাকে। আমি সম্মোহিতের মত এগিয়ে যাচ্ছি তাদের ডাক শুনে। পিছনে তাকানোর সময় বা সুযোগ কোনটাই নেই আমার কাছে।
হঠাৎ আমি কিছু বুঝে ওঠার আগেই আলোর গর্তটা বড় হতে লাগলো,বেড়ে গেলো শব্দের মাত্রা,আগের শব্দের সাথে যুক্ত হলো আরেকটা শব্দ। দ্বিতীয় শব্দটা মন দিয়ে শুনলে বোঝা যাবে একটা ঈগল তারস্বরে চেঁচাচ্ছে আর তার কাছাকাছি একটা সিংহ বিকট শব্দে বারবার গর্জন করে উঠছে। আকাশে উড়তে থাকা বড় কোন ঈগল যেন তীরবেগে উড়ে এসে ঠোকর দিচ্ছে বলশালী কোন সিংহের কেশরযুক্ত ঘাড়ে!তাই সিংহটা রাগে গজরাচ্ছে!
শব্দ যত বাড়ছে এসব অস্বাভাবিক ঘটনা যেন ততই চোখের সামনে ফুটে উঠছে।
ইতিমধ্যে আলোর গর্তটা আমার সমান বড় হয়ে গেছে। আমি প্রবল চেষ্টা করেও ওটা থেকে দূরে সরে যেতে পারছিনা। এবার ঈগল আর সিংহের ডাক তীব্র থেকে তীব্রতর হতে লাগলো আর একটা মারাত্মক বিস্ফোরনের সাথে সাথে আমাকে সম্পূর্ণরূপে গ্রাস করে ফেললো আলোকিত সেই গহ্বর! তারপর আর কিছু মনে নেই।
যখন জ্ঞান ফিরলো তখন নিজেকে আবিষ্কার করলাম একটা সোনালী বালুকাময় মরুভূমির মাঝখানে শোয়া অবস্থায়।
কোথায় আছি বুঝতে বেশ খানিকটা সময় লাগলো। উঠে বসতে চেষ্টা করলাম। কিন্তু বেজায় ব্যথা করছে শরীরটা। ওঠার জন্য পর্যাপ্ত শক্তি পর্যন্ত পাচ্ছিনা। তবুও মনের জোর খাটিয়ে শেষপর্যন্ত উঠে বসতে পারলাম। কিন্তু উঠেই চোখের সামনে যেটা দেখলাম সেটা কল্পনার ও অতীত।
আমি বসে আছি একটা বিশাল পিরামিড এর ঠিক সামনে। সূর্যের প্রখর দ্বীপ্তিতে সোনা দিয়ে মোড়ানো একটা বিরাট কীর্তির মত দেখাচ্ছে ওটাকে।
কিন্তু আমি এখানে এলাম কি করে?এবার ধীরেধীরে মনে পড়তে থাকলো আগের ঘটনাগুলো। আমার রুমে একটা আলোকিত গহ্বর আমাকে গ্রাস করে ফেলেছিল। সেটাই কি আমাকে এই পিরামিডের কাছে এনে ফেলেছে?
এটা কোন দুঃস্বপ্ন নয় তো?
হয়তো এই আলোর গর্ত বা শব্দ কিছুই ছিলনা। আমি হয়তো বিছানায় শুতেই ঘুমিয়ে পড়ছি আর ঘুমের ঘোরে স্বপ্নে দেখছি এইসব আজব ঘটনা।
কিন্তু কিছুক্ষণ পর বাতাসের ঝাপটায় একরাশ বালি এসে যখন আমার চোখের ভেতরে ঢুকে পড়লো আর চোখদুটো খচখচ করতে লাগলো তখন বুঝলাম এটা স্বপ্ন নয় বাস্তব।
গায়ের ধুলো ঝাড়তে ঝাড়তে উঠে দাড়ালাম। তারপর চারদিকে চোখ বুলিয়ে দেখি একটা প্রানীও নেই আশেপাশে। চারদিকে ধু ধু মরুভূমি। ঘরবাড়ি তো দূরে থাক একটা ছোট ঝুপড়ি পর্যন্ত চোখে পড়ছেনা ।
শুধু পিরামিডের দিকে সোজাসুজি তাকালে ঠিক পেছনে বেশ দূরে পরপর দুটো পিরামিড আবছাভাবে দেখা যাচ্ছে। আমি তাহলে কোন একটা আশ্চর্য কারনে প্রাচীন মিশর শহরে এসে পড়েছি। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে কেন?
এবার আরো একটা অবাক করা কান্ড ঘটলো। স্পষ্ট শুনতে পেলাম পাশের বৃহদাকার পিরামিডের ভেতর থেকে ঘন্টার ঢং ঢং আওয়াজ আসছে।সাথে মানুষজনের হইচই এর শব্দ! আমি যতটুকু জানি বহুকাল থেকেই ফারাও রাজাদের কবর হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে মিশরের এই পিরামিড গুলো।
রাজাদের মৃতদেহ মমি করা দেহ সংরক্ষণ করাই পিরামিড তৈরির আসল উদ্দেশ্য।রাজাদের মমির পাশাপাশি তাদের ব্যবহৃত পোশাক পরিচ্ছদ, বাসনকোসন এবং প্রচুর ধনরাশি জমা করা হয়েছিল পিরামিড এর ভেতরে।কিন্তু কোনরকম ঘন্টা বা অন্য কোন বাদ্যযন্ত্রের কথা তো শুনিনি কোনদিন। আর সর্বসাধারণ এর জন্য তো উন্মুক্ত নয় পিরামিড। একবার অবশ্য পেপারে পড়েছিলাম মিশরের দু একটা পিরামিডের ভেতরে খুব অল্প সময়ের জন্য প্রত্নতাত্ত্বিক আর দর্শনার্থী রা ঢুকতে পারেন।
ওরাই কি পিরামিডের ভেতরে বসে ঘন্টা বাজাচ্ছে?হতে পারে আজ মিশরে কোন বড় উৎসব হচ্ছে। সেটার কেন্দ্রস্থল এই পিরামিড। তাই পিরামিডের ভেতর থেকে উৎসবের আমেজ চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে। আর আমি সেটার শব্দই শুনতে পাচ্ছি।
পিরামিডের দরজাটা আমার থেকে হাতদশেক দূরে। ভেতরে কি চলছে সেটা দেখার কৌতুহল দমন করতে না পেরে আমি মন্ত্রমুগ্ধের মত এগিয়ে যেতে লাগলাম দরজা লক্ষ্য করে। ভুলে গেলাম যে আমি এমনিতেই একটা বড় বিপদের মধ্যে আছি। পিরামিডের ভেতরে ঢুকলে বিপদ আরো বাড়তে পারে!
আমি ভেতরে ঢুকতেই ঘন্টার ধ্বনি হুট করে থেমে গেলো। তারসাথে হইচই এর শব্দটাও। নিদারুণ একটা নির্জনতা আর গা ছমছমে পরিবেশ তৈরি হলো নিমেষেই।
দরজা থেকে সামনের দিকে সুড়ঙ্গের মত পথ চলে গেছে একেবেকে। সেই পথ ধরে একটু এগোতেই পিছনে ভারী কোন পাথরজাতীয় একটা কিছু গড়িয়ে যাওয়ার শব্দ পেলাম। আতংকিত হয়ে পিছে তাকিয়ে দেখি যে দরজা দিয়ে আমি ভেতরে ঢুকেছি সেটা কোন একটা অজানা কারনে বন্ধ হয়ে গেছে। সেটার শব্দই পেয়েছি আমি।
দরজা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ভেতরে যে সামান্য আলোটুকু ঢুকছিলো সেটার রাস্তাও বন্ধ হয়ে গেলো। নিকষ অন্ধকারে গা ছমছমে ভাবটা বেড়ে গেলো। কিছুই দেখা যাচ্ছেনা স্পষ্ট করে। সামনে এগিয়ে যাবো না পিছিয়ে গিয়ে দরজাটা খোলার চেষ্টা করবো সেটাও বুঝতে পারছিনা।
হাত পা ভয়ে অবশ হয়ে গেছে। যদি আর বেরুতে না পারি অভিশপ্ত রাজাদের মস্ত বড় এই কবর থেকে?এখন নাহয় দিন,রাত হলেই যদি রাজাদের অশরীরী আত্মারা আমায় আক্রমণ করে?
এইরকম নানা বিদঘুটে চিন্তা দানা বাধতে থাকলো মনের ভেতর। আমি বন্দী হয়ে গেছি। কেউ জানতেও পারবেনা আমি এখানে। কোন দোষের শাস্তি পাচ্ছি জানিনা।
কেন যে এই পিরামিডের ভেতরে ঢুকেছিলাম?
এবার আরো একটা ব্যপার হলো যা আমার ভয়ের মাত্রাকে মারাত্মকভাবে বাড়িয়ে দিলো। আমার রুমে আবির্ভূত সেই আলোর গর্ত আমাকে গ্রাস করার সময় ঈগল আর সিংহের যে ভয়ানক ডাকটা শুনতে পেয়েছিলাম ঠিক সেই একই ডাক শুনতে পেলাম আবার।
এই পিরামিডের মধ্যে!এবং সেটা আমার কাছাকাছি কোথাও। তারসাথে যুক্ত হলো বিশালদেহী কোন চতুস্পদ প্রাণীর ভারী পায়ের থপথপ শব্দ। গোটা পিরামিড কাঁপিয়ে আমার দিকে এগিয়ে আসছে দানবীয় কোন প্রাণী!
কি ওটা?
(পরের পর্ব আগামিকাল রাত ৯টায়)
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now