বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
স্যার একটা কথা কমু?
কি বল?
আইজ আমারে দেড়টায় ছুটি দেবেন?
কেন?কি করবি?
বাসায় গিয়া ভাত খামু।পেটে খুব ক্ষিধা
লাগছে।
কেন সকালে খেয়ে আসিস নি স্কুলে?
জ্বি না।
কেন?
স্যার তরকারি নাই।আর লবণ দিয়া ভাত
খাইতে পারি না।তাই খাইতে পারি নাই।
কথাটা শুনতেই বুকের মধ্যে কেমন যেন
�লাগল?
রাতে কি খেয়েছিস?
ডাইল দিয়া ভাত।
এখন কি দিয়ে খাবি?
মায় কইছে ইস্কুল ছুটির পর গেলে কচু রাইন্ধা
রাখব।হেইডা দিয়া মজা কইরা ভাত খামু।
মায় খুব মজা কইরা কচু রানবার পারে।
কখন যে চোখটা ঝাপসা হয়ে আসল বুঝতে
পারিনি।
একদিন তোর মায়ের হাতের রান্না করা কচু
খেয়ে আসব।নিবি তোর বাসায়?
যাইবেন স্যার সত্য?
হ্যাঁ যাব।যা বাসায় গিয়ে পেট ভরে ভাত
খা।
মুখে পৃথিবী জয় করা হাসি নিয়ে বই হাতে
নিয়ে তার চলে যাওয়ার দিকে মন্ত্রমুগ্ধের
মত তাকিয়ে রইল স্যার ।
তরকারির জন্য ভাত খেতে পারছে না।অথচ
আমাদের এই সমাজে কত মানুষ আছে যাদের
খাবারের মেনুতে কত আইটেম থাকে।যা
তারা খেয়ে শেষ করতে পারে না।উচ্ছিষ্ট
অংশ চলে যায় ডাস্টবিনে।
এমন অনেক বাবা মা আছেন যারা ছেলেকে
ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে পড়ান।গাড়ি করে
নিয়ে যান।ছেলের কত আবদার!সব পূরণ
করতে ব্যস্ত।অথচ রাস্তায় পড়ে থাকা
মানুষগুলোর দিকে ফিরেও তাকান না।
তাকাবেন কেন?তাকালেই তো ঘাড়ে এসে
পড়বে।আমরা তো নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত।
হাজার টাকার বডি স্প্রে গায়ে দিয়ে ঘুরে
বেড়াই।ঈদ আসলে ব্যস্ত হয়ে পড়ি শপিং
নামক টাকা উড়ানোর খেলায়।কেউ
পাখি,কেউ কিরণমালা,কেউ শীলা কি
জাওয়ানি নামক উদ্ভট সব পোশাক কিনতে
ব্যস্ত হয়ে পড়ি।কিন্তু বুঝতে চাই না এই
বাইরের পোশাকগুলোতে আমাকে কি
মানাচ্ছে?অথচ একটা গরীব লোক এসে
বলছে-দুইটা টাকা দেন।তখন বলি-ভাংতি
নাই।মাফ কর।
গার্লফ্রেন্ডকে নিয়ে চাইনিজ এ যাই।কত
টাকা খরচ হয় হিসাব রাখি না।অথচ গরীব
রিক্সাচালক যখন বলে-পাঁচটা টাকা
বাড়াইয়া দেন।তখন তার গায়ে হাত তুলতে
দ্বিধাবোধ করি না
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now