বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

গোয়েন্দা নাবিন ববি (৪)

"গোয়েন্দা কাহিনি" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান হেলাল নিরব (০ পয়েন্ট)

X ফোন এলো বড় খালার। ঢোক গিলল ববি। খালা বেশ জাঁদরেল গোছের। হাঁপাচ্ছেন খুব। কয়েক রাস্তা পরেই থাকেন। ‘ববি, তুই কাজে যাসনি আজ?’ ‘না, খালা। বলুন কী হয়েছে।’ ‘সকালে ব্যাংক থেকে ত্রিশ হাজার টাকা তুলেছি। কেউ জানত না। যখন টাকা তুলে ড্রয়ারে রেখেছি, তখনো কাউকে দেখাইনি। দুপুরের দিকে এসে দেখি, স্ট্যাপলার মারা নতুন ত্রিশটা নোট হাওয়া! তুই আমার বাসায় আয়। চোর ধরে দিবি।’ ‘কে কে ছিল বাসায়? বাইরের কেউ এসেছিল? হ্যাঁ, টয়লেটের লাইট লাগাতে দারোয়ান এসেছিল। আমি ওর সঙ্গেই ছিলাম।’ তাহলে কাকে সন্দেহ করছেন? ‘আমার গুণধর ছোট ছেলে আতিকের কথা তো জানিস। ইদানীং পাগলামি বেড়েছে। আমার কথা তো কানেই নেয় না। কিছু বললে চেঁচিয়ে কান ফাটায়। আমি ওর সঙ্গে পারি না।’ ‘নেশাটেশা শুরু করেছে নাকি? আগেও তো অনেকবার টাকা সরাতে শুনেছি। তা সোহেল ভাইও কিছু বলছে না?’ ‘ও নামেই বড় ছেলে। এমনিতে ভিজা বিড়াল। কাউকে কিছু বলে না।’ ‘ওকে। আমি আসছি। সরেজমিনে তদন্ত হোক।’ ববি আসার পরই প্রথমে হানা দিল আতিকের রুমে। রুমটা বাইরে থেকে লক করে রাখা হয়। দরজা খুলল ববি। চেঁচাতে গিয়েও থেমে গেল আতিক। পুরো ঘরে বালিশের তুলা ছড়ানো। আগেই ড্রয়ারটা চেক করল। কিছু ভাঁজ করা কাগজ আর খুচরা পয়সা। এতক্ষণ তুলকালাম করা ছেলেটা শান্ত স্বরে বলল, ‘বিশ্বাস করো ববি ভাই, টাকা আমি নিই নাই। কিন্তু আমাকে এক হাজার টাকা দিতে বলো। তা না হলে সব ভেঙে ফেলব।’ ‘ঠিক আছে, ভাঙবি। কী কী ভাঙতে ইচ্ছা করছে তোর? গ্লাস, প্লেট এনে দেব?’ ‘বিশ্বাস করো, টাকা নিই নাই। রুনাকে ডাক দাও। ও নাকি আমাকে ঘুমাতে দেখেছে।’ দরজা আবার বন্ধ করে ববি আর বড় খালা গেল ড্রয়িংরুমে। সেখানে পত্রিকা পড়ছে বড় খালার ছোট মেয়ে কেয়া। পাশে কাঁচুমাচু হয়ে দাঁড়িয়ে আছে গৃহকর্মী রুনা। সরু চোখে ববির দিকে তাকাল কেয়া। ‘তুই ওকে ঘুমোতে দেখেছিস?’ ‘ওই অ্যাডিকটেডটাকে বিশ্বাস করছ কেন! রুনাকে যখন ডাকছিল, আমিই গিয়েছিলাম। রুনা ঘর ঝাড়ু দিচ্ছিল। আমি ঢুকে দেখি এক হাতে এক তাড়া টাকা, আরেক হাতে একটা কাঁচি। সব চকচকে হাজার টাকার নোট। দেখেই বুঝতে পেরেছি, ব্যাংক থেকে আনা। আমি দরজা খুলতেই টাকাগুলো নিয়ে ছুটে গেল বাথরুমে। যাওয়ার আগে আমাকে বলল চা বানিয়ে দিতে। আমি রুনাকে ডাক দিয়ে বলি, চা তুই বানিয়ে নিয়ে আয়। তখন সম্ভবত টাকাগুলো কুচি কুচি করে কমোডে ফেলেছে।’ ‘আজ আতিককে খুন করব আমি! ববি তুই পুলিশে খবর দে! ওকে মেরে আমি জেলে যেতে চাই!’ ‘এক মিনিট, বড় খালা। রুনা তুমি চা দেওয়ার সময় কী করছিল ও?’ ‘আমি দেখি, আতিক ভাই চুপচাপ ঘুমাইয়া আছে।’ ‘ওকে জিজ্ঞেস করে লাভ নাই। টাকা আমার গুণধর পুত্রই নিয়েছে।’ ভাবল গোয়েন্দা ববি। বড় খালাকে বলল, চুরি আতিক করেনি। আমি জানি কে করেছে। ববির দিকে কটমট করে তাকাল কেয়া। ববিও স্থির চোখে তাকিয়ে আছে কেয়ার দিকে। কেয়া বুঝতে পারল, বেশিক্ষণ অভিনয় চালিয়ে যেতে পারবে না। কান্নায় ভেঙে পড়ল। ‘আমি চুরি করতে চাইনি, আম্মু! কিন্তু তোমাকে বললে তো তুমি পিকনিকের টাকা দেবে না। সবাই যাবে, তাই আমিও...।’ বাকিটা শোনার আগেই ঘটনাস্থল থেকে চায়ের কাপ হাতে পালাল ববি। যেতে না যেতেই কানে এলো বড় খালার তুমুল গর্জন। এবার বলো, গোয়েন্দা ববি কিভাবে বুঝল, টাকা কেয়া চুরি করেছে? (গল্পটি দৈনিক কালের কন্ঠ পত্রিকায় ‘চকচকে নোট’ শিরোনামে প্রকাশিত।)


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮৮ জন


এ জাতীয় গল্প

→ গোয়েন্দা নাবিন ববি (৪)

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now