বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
৪.
কাণ্ড দেখে মকবুল দৌড়ে যায়, যদিও সে বেশিরভাগ ঘটনাই আচ করতে পেরেছে। তবুও পুরোটা আবার আক্কুর কাছ থেকে শুনে নেয়। এ ধরণের সংকটজনক পরিস্থিতিতে সাধারণত আক্কুর ঘুম বেড়ে যায় এবং যথারীতি সমস্ত পরিস্থিতি মকবুলকেই সামলাতে হয়। তাই বেশি ঘাবড়ে গেল না। সে আক্কুকে বুঝিয়ে শুনিয়ে ঘুম পাড়িয়ে দিল । তারপর ভাবতে বসল যে, কি করা যায়। হাগুমুতু বলেছে যে, ওর কাছে অ্যান্টিডোট আছে । অবশ্য আক্কুও তা বের করে ফেলতে পারবে, কিন্তু কয়দিন লাগে তা কে জানে? ততদিনতো এভাবে থাকা সম্ভব না তাছাড়া এই ওষুধ খেয়ে আক্কুর ব্রেন আগের মত শার্প আছে না গাধার মত ডাল হয়ে গেছে তা কে জানে! তই সহজ সমাধান হল হাগুমুতুরটাই কেড়ে নিতে হবে। কিন্তু সমস্যা হল, হাগুমুতু কোথায় আছে কিভাবে জানা যাবে?
একথা ভাবতেই ওর মাথায় চিন্তা আসল, আক্কু যে এই বিষয়ে গবেষণা করছে, তা হাগুমুতু জানল কিভাবে? এ কথাতো ওরা দুজন বাদে আর কেউ জানে না। নিশ্চয়ই ঘরে কোনো বাগ (লুকানো মাইক্রো ক্যামেরা) আছে, কিন্তু সারা ঘর তন্ন তন্ন করে খুজে ও কোনো বাগ পেল না। গেল মেজাজ খারাপ হয়ে। হঠাৎ সে দ্যাখে এক মাকড়শা, সমস্ত রাগ গিয়ে পড়ল ওটার উপর। দিলো এক ঘুষি। ঘুষি খেয়ে মাকড়শাটারতো কিছু হলই না, উল্টো মকবুলই বাবাগো, মাগো বলে পিছিয়ে গেল। এত শক্ত মাকড়শা। ওটা ছুটে পালাতে চেষ্টা করতেই মকবুল ওটাকে আলতো করে ধরে ফেলল। ধরেই বুঝল, আসলে ওটাই বাগ। এইটাই যত নষ্টের গোড়া। দ্রুত বাগের স্ক্রু খুলে, ক্যামেরাটা বের করল, দেখল ভিতরে মেমোরি কার্ড। ইনফিনিট মেমোরি। শালার জাপানিগুলোর মাথার বুদ্ধিও সেই রকম। কম্পিউটারে মেমোরি কার্ডটা লাগিয়ে দেখল গত ৪ মাসের সব ভিডিওই আছে।
সেদিন আবিষ্কারের পর আক্কু যখন মকবুলের কোলে উঠতে গিয়ে পড়ে গিয়েছিল, তখনই গাধা আগামাথা অষুধ বদল করে চম্পট দিয়েছে।
সবইতো জানা গেল, কিন্তু হাগুমুতুকে পায় কোথায়?
আরে, গাধা আগামাথাইতো সমাধান। সে নিশ্চয়ই ওটা নিয়ে সরাসরি হাগুমুতুর আস্তানায় গেছে। আর পথে ছড়িয়ে গেছে ওর গন্ধ। আক্কুর আর একটা যুগান্তকারী আবিষ্কার গন্ধ ডিটেক্টর। কুকুরের অলফ্যাক্টরি নার্ভ দিয়ে তৈরি কিন্তু ১০০ গুণ শক্তিশালী।
সে দ্রুত গিয়ে আক্কুর ঘুম ভাঙ্গাল।
-“বস ওঠেন, হাগুমুতুকে ধরতে হবে”
-“অ্যা, হাগুমুতু, কোথায় সে”
-“ কোথায় এখনও জানি না, তবে দ্রুত খুজে বের করব। তাড়াতাড়ি রেডি হন।”
বলে সে যন্ত্রপাতি যোগাড় করতে বের হয়। জোগাড় করে এসে দ্যাখে আক্কু জুতো পরেছে উল্টো করে, ফিতে বাধতেই পারেনি। প্যান্টের এক পায়ে নিজের দু'পা ঢুকিয়ে টানাটানি করছে।
যা আশংকা করেছিল, তা-ই হয়েছে। ওষুধটা আক্কুর শুধু কান না, মাথাকেও গাধা করে দিচ্ছে। দ্রুত নিজেই আক্কুকে রেডি করে নিয়ে আক্কুর হাই স্পিড স্পেশাল মোটর সাইকেলে করে বেরিয়ে পড়ল। এর বৈশিষ্ট্য হল এর দুপাশে দুটো লম্বা দন্ড আছে। যেগুলো ইচ্ছামত লম্বা করা যায়। ফলে জ্যামে পড়লেও সহজেই অন্যান্য গাড়ির উপর দিয়ে চলে যাওয়া যায়। ফলে গন্ধ ডিটেক্টরের ডাইরেকশনে খুব ভালমতই ছুটে যেতে লাগল। যেতে যেতে হঠাৎ সিগন্যাল গায়েব হয়ে গেল। আবার ঘুরপথে ফিরে এসে দেখল একটা ম্যানহোলের ভিতর সিগন্যাল পাওয়া যাচ্ছে। ম্যানহোলের ঢাকনা নেই ফলে সহজেই ঢুকে যাওয়া গেল। কিছুদূর এগুতেই দেখা গেল, ম্যানহোলের ভিতরের দিকে একটা দরজা। অবাক করা ব্যাপার হল দরজার খোলা। দরজা দিয়ে ভিতরে প্রবেশ করল ওরা। কয়েকটা রুম পেরুতেই দেখল ভিতর থেকে অট্টাহাসির শব্দ ভেসে আসছে। লাথি দিয়ে দরজা খুলেই মকবুল হাগুমুতুর দিকে আক্কুর বানানো স্পাইডার গান তাক করল। এই বন্দুক দিয়ে গুলির বদলে দড়ি বেরোয় আর লক্ষ্যকে বেধে ফেলে । হাগুমুতুর হাতে একটা গ্লাস। মাত্র মুখে দিতে গিয়ে ছিল। মকবুলের চিৎকারে গ্লাসটা পড়তে পড়তে সামলালো।
-“তোমরা! ঢুকলে কিভাবে?”
-“হা হা হা, শয়তান, তোর এখানে ঢোকা তো বাম হাতের খোলা” বলে নিজেই একটা শয়তানি হাসি দিল।
হাগুমুতু কি একটা বলতে গিয়ে হঠাৎ আগামাথার দিকে তাকাল, আগামাথা ভয়ে কুকড়ে গেল।
-“গাধার বাচ্চা, আবার তুই দরজা খোলা রেখে চলে এসেছিস, আগের বার দরজা খোলা রাখায় ম্যানহোলের সব ময়লা ল্যাবে ঢুকে পড়েছিল।
দাড়া, তোর বিচার পরে করব, আগে এই নতুন গাদ্ধু দুটোকে শায়েস্তা করি”।
গাদ্ধু শুনে মকবুল আরো ক্ষেপে গেল।
-“গাদ্ধু আমি না, তুই, তোর বাপ, তোর চৌদ্দগুষ্ঠী। এখন তুই দ্রুত অ্যান্টিডোটটা দিয়ে দে।”
-“হেহ্ হে! এত সোজা! মামার বাড়ি বেড়াতে আসছিস নাকি! শর্ত কি দিছিলাম মনে নাই?"
একটা ছোটো শিশি হাতে নিয়ে আক্কুকে ইঙ্গিত করে বলে,
-“এই ভিডিও ক্যামেরার সামনে এসে নিজের কান দেখা আর স্বীকার কর যে, তুই একটা গাধা। আর আমি দুনিয়ার সেরা বৈজ্ঞানিক। তাহলেই এটা দিয়ে দেব ।”
এইবার আক্কু খেপে যায়, আর ক্ষ্যাপা গাধার মতই মাথাটা বাগিয়ে ছুটে যায়। কিন্তু হাগুমুতু রেডি ছিল। আক্কু এগুতেই সে অ্যান্টিডোটটা ছুড়ে দ্যায় আগামাথার দিকে। এইবার একই সঙ্গে অনেকগুলো ঘটনা ঘটে।
আক্কু ছুটে গিয়ে আঘাত করে হাগুমুতুর বুকে।
হাগুমুতুর হাত থেকে অষুধের বীকার ছুটে উপরে উঠে যায়।
ওদিকে হাগুমুতুর ছুড়ে দেয়া অ্যান্টিডোটের বোতল ছুটে যাচ্ছে আগামাথার দিকে। আগামাথা ক্যাচ ধরার জন্য উইকেট কিপারের মত ভঙ্গিতে দাড়িয়ে আছে।
এদিকে মকবুল ওই বোতলটাকে ল্ক্ষ্য করে বন্দুকের ট্রিগার টিপে দিয়েছে। মকবুলের ট্রিগার মাশাল্লাহ!! বোতলের ধারে কাছেও গেল না। সোজা গিয়ে আঘাত করল আগামাথার মুখে।
আগামাথা ধড়াম করে ঠ্যাং উল্টে পড়ে গেল ।
ঠ্যাং লাগল বোতলে, বোতল তীর বেগে উড়ে গিয়ে আঘাত করল উড়তে থাকা ওষুধের গ্লাসে ।
গ্লাস ফেটে ওষুধ পড়ে গেল। তা দেখে হাগুমুতু চিৎকার করার জন্য মুখ হা করল।
ভাঙ্গা গ্লাস থেকে পড়া ওষুধ, হা করা মুখে ঢুকে গেল। আর হাগুমুতু তা গিলে নিল।
এদিকে মকবুল আবার বোতল তাক করে বন্দুক টিপল।
এবার লাগল আক্কুর পশ্চাৎদেশে।
ধাক্কার চোটে আক্কু সামনের দিকে উড়ে গেল আর বোতল শুদ্ধ অ্যান্টিডোট কোত করে গিলে ফেলল।
পরিশিষ্ট.
ওই ঘটনার পর ৩ মাস কেটে গেছে।
অ্যান্টিডোটের বোতলটা পরদিনই বেরিয়ে গেছিল। (কোনদিক দিয়ে তা পাঠকই অনুমান করুক)
ফলে আক্কুর কোনো সমস্যা হয় নাই! মকবুল তাকে অনেক বুঝিয়ে আবিষ্কারের ধান্দা থেকে সরাতে পেরেছে। এখন সে বাচ্চাদের একটা স্কুলে পড়ায়।
আর হাগুমুতু !
তার হওয়ার কথা ছিল বিশ্বসেরা বৈজ্ঞানিক কিন্তু অষুধটা খাওয়ার পর থেকে সে হয়ে গেছে বিশ্বসেরা অলস।
সারাদিন খায় আর ঘুমায়। যা হওয়ার কথা ছিল, তার উল্টোটা ।
রহস্য বেশি ঘোলাটে না।
আক্কু যে গাধার জিন নিয়ে ওষুধটা বানিয়ে ছিল। সেটা ছিল আগামাথা। আর আগামাথা হল দুনিয়ার অলসতম লোকদের অন্যতম। তাই পরিশ্রমী না করে, অষুধটা হাগুমুতুকে অলস করে দিয়েছে। হাগুমুতু নিজেও সেটা বুঝেছে। কিন্তু আলসেমির কারণে এর প্রতিষেধক বের করার উৎসাহ পাচ্ছে না।
করারই বা কি দরকার।
আরামেই তো আছে।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now