বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
রম্য সায়েন্স ফিকশন
১.
বিশাল ল্যাবরেটরীতে চুপচাপ চিন্তিত মুখে বসে আছেন বিশিষ্ট বিজ্ঞানী আকবর পোদ্দার। বিশিষ্ট মহলে উনি আক্কু পোদ্দার হিসেবেই বেশি সমাদৃত। আর ভক্তরা তাকে আক্কুস্টাইন বলে ডাকতেই বেশি পছন্দ করে। গত বছর নোবেল প্রাইজ পেয়েছিলেন। কিন্তু সময় মত ঘুম থেকে উঠতে না পারায় ফাইট মিস হয়ে যায়। ফলে পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে উপস্থিত হতে পারেন নাই। নোবেল কমিটি বিরক্ত হয়ে পুরস্কার তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী জাপানি বিজ্ঞানী দিশিহারা হাগুমুতুকে দিয়ে দিয়েছে। এতে অবশ্য তিনি বেশি অখুশি না, কারণ নোবেল প্রাইজকে তিনি বেল দেন না।
আক্কু পোদ্দারের চিন্তিত মুখ দেখে তার সহকারী মকবুল আরো বেশি চিন্তিত হয়ে পড়ল। কারণ আক্কু র চিন্তিত মুখ মানেই নতুন কিছু আবিষ্কার। আর নতুন কিছু আবিষ্কার মানেই নতুন কোনো ঝামেলা।
এইতো কয়েকদিন আগেই আক্কু পোদ্দার আবিষ্কার করেছিলেন চুলকানির মলম। চুলকানির অব্যর্থ ওষুধ, কিন্তু সমস্যা হল, মাথা বাদে আর যেখানেই লাগানো হয় সেখানেই কয়েক মাস পর চুল গজায়। কয়েকজন মহিলা মলম লাগানোর পর ভুলক্রমে মুখে হাত মুছে ফেলায়, তাদের দাড়ি গজিয়ে যায়। তখন আবার টাক পড়ার ওষুধ আবিষ্কার করে তাদের ঠান্ডা করতে হয়।
কিংবা অটোমেটিক হাড়ি পাতিল। একটা হাড়ির হাত এবং পা সবই আছে। সে নিজেই হাত দিয়ে চাল নেয় ডাল নেয়, সেগুলো ধোয়, তারপর নিজেই হেটে গিয়ে চুলার উপর বসে পড়ে। সবই ঠিক ছিল এটাকে আরো উন্নত করার ইচ্ছা ছিল। কিন্তু হঠাৎ একদিন চুলার হিট বেশি হয়ে যাওয়ায়, হাড়িটা যখন ঘুষি দিয়ে আক্কুর চাপার দুটো দাঁত নড়িয়ে দিল, তখন সেই চিন্তা বাদ দিয়েছিল।
এছাড়াও আরো অনেক উদাহরণ আছে, যেগুলো দিতে গেলে আমার কলমের কালি শেষ হয়ে যেতে পারে। প্রতি বার সমস্ত সমস্যার ধকল বেশির ভাগই মকবুলের উপর দিয়ে যায়। এ জন্যই সে চাচ্ছে না যে, আক্কু নতুন কিছু আবিস্কার করুক।
-“মকু, এই মকু”- আক্কুর ডাক শোনা যায়, সে মববুলকে ছোট করে মকু ডাকে। পুরোটা ডাকতে নাকি তার কষ্ট হয়।
-“ইয়েস বস” মকবুল এগিয়ে যায়।
-“আচ্ছা, আমি এই যে সারাদিন এতো হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রম করি, যদি এদেশের সকল মানুষ এতো পরিশ্রম করতো, তাহলে দেশের কতই না উন্নতি হতো, ঠিক না?”
মকবুল একবার আক্কুর হাড়ভাঙ্গা রুটিনটা মনে করার চেষ্টা করে। ১০টার দিকে ঘুম থেকে উঠে ঘন্টাখানেক সময় ব্যয় করে খাওয়া দাওয়া করা, তারপর কম্পিউটারে “virtual cop” খেলা, যার প্রতিটি স্টেজেই মকবুলকে হেল্প করতে হয়। এরপর আবার দুপুরের খাওয়া। উপর্যপুরি গেমস এবং খাওয়ার ধকল সামলাতে আবার ঘুম। ঘুম থেকে উঠে ঘুমজনিত পরিশ্রমের ধাক্কা সামলাতে নাস্তা। নাস্তার পর কিছুণ ল্যাবরেটরীতে খুটখাট করতেই তিনি হাপিয়ে যান। তারপর আবার রাতের খাওয়া। সারাদিনের কাজকর্মের একঘেয়েমি থেকে মুক্তি পেতে এরপর রাত জেগে কার্টুন দেখেন, আর কার্টুনে যেসব অদ্ভুত জিনিস দেখেন, তা আবিষ্কার করার চেষ্টা করেন। প্রচন্ড পরিশ্রমই বটে, তাই মকবুল সায় দেয়,
-“সিউর বস”।
-“তোমার কি মনে হয় না যে, এই জাতিকে উন্নতির চরম বন্দরে পৌছে দেবার একমাত্র উপায় হল একে পরিশ্রমি বানানো”?
-“অবশ্যই বস।”
-“এইতো তোমাকেই দেখো, যা-ই জিজ্ঞাসা করি, মাত্র দুই শব্দেই তুমি সেরে ফেলছো। একটু বিস্তারিত পরামর্শও দিচ্ছ না। যে জাতির লোকজন কথা বলতেও আলসেমি করে, তারা কিভাবে এগুবে? উফ! ভাবতে ভাবতে আমি ক্লান্ত হয়ে পড়েছি। আমার বিশ্রাম প্রয়োজন।”
-“কিন্তু বস, আপনি না বললেন বেশি বেশি কাজ করা প্রয়োজন?”
-“ওহ! মকু, তুমি কি ভুলে গেছ,
বিশ্রাম কাজের অঙ্গ, একসাথে গাথা
পৌষ মাসে যেমন করে, গায়ে দিতে হয় কাথা।”
বলে আক্কু হাততালি দিলেন। বিছানা নিজে হেটে চলে এল তার কাছে। তিনি কাথা গায়ে ঘুমিয়ে পড়লেন।
২.
গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন বিজ্ঞানী আক্কু পোদ্দার। তিনি স্বপ্নে দেখছেন। তার স্বপ্ন কিন্তু যেন তেন স্বপ্ন না। তার বেশিরভাগ আবিষ্কার তিনি স্বপ্নেই করেছেন। আজকে তিনি স্বপ্নে দেখছেন তিনি এক আজব শহরে উপস্থিত। সেই শহরে কেউ মানুষ নয়, সবাই নানান প্রাণী এবং ওখানকার বেশিরভাগ প্রাণীই অলস। ঘুরতে ঘুরতে তিনি শহরের মাঝখানে চলে এলেন। সেখানে এক অদ্ভূত প্রতিযোগিতা হচ্ছে। তা হচ্ছে শহরের সবচেয়ে পরিশ্রমি প্রাণী নির্বাচন। খুবই সহজ প্রতিযোগিতা। কিছু বোঝাঁ দেয়া আছে। সেগুলো বয়ে নিয়ে যেহে হবে। কিন্তু, তা-ই কেউ পারছে না। কেউ কেউ তো এতো অলস যে, এমনকি এগুলো তুলতেই পারছে না। এটাতো আক্কুর জন্য খুবই সহজ কাজ। তিনিও প্রতিযোগিতায় অংশ নিলেন এবং অনায়াসে পুরো রাস্তা পেরিয়ে এলেন।
সাথে সাথে তুমুল ক্ষুরতালি শোনা গেল(কারণ বেশির প্রাণীরই ক্ষুর ছিল)।
সাথে মাইকে ঘোষিত হল, “আজকের প্রতিযোগিতার সবচেয়ে পরিশ্রমী প্রাণী নির্বাচিত হয়েছে গাধা, গাধা, গাধা।”
অ্যা, গাধা। এতণে আক্কু নিজের দিকে নজর দিলেন। আরে, তিনি তো মানুষ নেই, তিনি আসলে একটা গাধা।
তিনি হতভম্ব হয়ে গেলেন। হতভম্ব অবস্থাতেই তাকে চ্যাম্পিয়ন’স ট্রফি ধরিয়ে দেয়া হল। আর গ্যালারিতো ফেটে পড়ছে, গাধা গাধা চিৎকারে। এর মধ্যে তার হঠাৎ চোখ পড়ল একটা শেয়ালের উপর। আক্কু প্রতিযোগিতায় না আসলে শেয়ালটাই চ্যাম্পিয়ন হতো। শেয়ালটা ক্রুর দৃষ্টিতে তার দিকে তাকিয়ে থেকে চলে গেল। চেহারাটা খুবই চেনা চেনা লাগল। মনে আসছে না, আসছে না , ........... হঠাৎ মনে পড়ল
ই-উ-রে-কা................
শুধু স্বপ্নেই না, বাস্তবে ও আক্কু এই চিৎকার দিয়ে জেগে উঠলেন।
মকবুল দৌড়ে এল। এটা তার জন্য নতুন কিছু না, বেশির ভাগ সময়ই এ রকম হয়।
-“মকু, মকু, আমি পেয়ে গেছি”।
-“কি পেয়েছেন বস্”
-“বাঙ্গালিদের পরিশ্রমী করে গড়ে তুলে ওই শিয়ালের বাচ্চা হাগুমুতু সহ সব জাপানিজগুলোকে একটা শিক্ষা দেওয়ার মন্ত্র”
-“তাই নাকি, কি মন্ত্র বস্”?
- “আরে গাধা, গাধা”
-“ গাধা! খামাখা গাধা বলতেছেন কেন বস্। কি করলাম আমি?”
- “আরে তুমি গাধা না, কিন্তু তুমারে গাধা আমি বানাবো।”
-“ আয় হায় কি এমন অপরাধ করলাম আমি?”
-“ আরে ধূর, তুমারে বুঝানোর টাইম নাই, আমাকে এখন প্রচুর কাজ করতে হবে। দেরি করলেই late হবে। যত তাড়াতাড়ি আমি জিনিসটা বানাবো, তত তাড়াতাড়ি দেশটা উন্নত হবে।”
-“ইয়েস বস, বলেন আপনার কি কি লাগবে ?”
-“ প্রচুর পরিশ্রম করার জন্য, প্রথমেই দরকার প্রচুর শক্তি। আর শক্তি সঞ্চয়ের জন্য আমাকে প্রথমেই পর্যাপ্ত ঘুমাতে হবে। আগামী ১২ ঘন্টা কেউ যেন আমাকে বিরক্ত না করে।"
বলেই তিনি আবার ঘুমিয়ে পড়লেন।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now